📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 হাযরামীর বংশ পরিচয়

📄 হাযরামীর বংশ পরিচয়


হাযরামীর বংশ পরিচয়
ইবন হিশাম বলেন : হাযরামীর নাম আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আব্বাদ । ইনি সাদিফ গোত্রের সদস্য । সাদিফের পুরো নাম আমর ইব্‌ন মালিক । আর ইনি সাকুন ইব্‌ন আশরাস ইন কিন্দীর সদস্য । কারো মতে : কিন্দী নয় , বরং কিন্দা ইব্‌ন সাওর ইব্‌ন মুরাক্তি— ইব্‌ন উফায়র ইব্‌ন আদী ইবন হারিস ইব্‌ন মুররা ইব্‌ন উদাদা উন যায়দ ইব্‌ন মিসা— ইব্‌ন আমর ইব্‌ন আরীব ইব্‌ন যায়দ ইব্‌ন কাহলান ইব্‌ন সাবা । আবার কারো মতে : মুরতি— ইব্‌ন মালিক ইব্‌ন যায়দ ইব্‌ন কাহলান ইব্‌ন সাবা ৷

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 স্ত্রীর ভর্ৎসনায় যায়দের কবিতা

📄 স্ত্রীর ভর্ৎসনায় যায়দের কবিতা


স্ত্রীর ভর্ৎসনায় যায়দের কবিতা
ইবন ইসহাক বলেন : যায়দ ইব্‌ন আমর মক্কা থেকে বেরিয়ে ইবরাহীমের একত্ববাদী ধর্মের সন্ধানে বিশ্বভ্রমণ করতে বদ্ধপরিকর ছিলেন ।
কিন্তু সফিয়্যা বিন্ত হাযরামী যখনই তাকে বাড়ির বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে দেখত তখনই তা খাত্তাব ইব্‌ন নুফায়লকে জানিয়ে দিত । আর খাত্তাব ছিল তার চাচা ও বৈপিত্রেয় ভাই । সে স্বজাতির ধর্ম পরিত্যাগ করার জন্য সব সময় যায়দকে তিরস্কার করত । ( হযরত উমরের পিতা ) খাত্তাব ছিল যায়দ ইব্‌ন আমরের চাচা । যায়দ স্বজাতির ধর্ম ত্যাগ করায় খাত্তাব তাকে ভর্ৎসনা করত । অধিকন্তু যায়দের স্ত্রী সফিয়্যাকে সে তার প্রহরায় নিয়োজিত করেছিল এবং বলেছিল , যায়দ যখনই কোন কিছু করতে চাবে , তখন তা আমাকে আগে জানাবে । যায়দের সংকল্প স্ত্রী সফিয়্যার পক্ষ থেকে ক্রমাগত বাধাগ্রস্ত হওয়ায় যায়দ তাকে ভর্ৎসনা করে যে কবিতা রচনা করেন তা হল :
“ আমাকে এ অবমাননাকর জীবনে আবদ্ধ রেখ না । আমার পথের বাধা দূর করে দাও ৷ যখনই আমি অবমাননার আশংকা করি , তখনই আমি দুঃসাহসী হয়ে সকল বাধা গুঁড়িয়ে দেই । পুনঃ পুনঃ চেষ্টা করে আমি রাজার দরবারে পৌঁছতে সচেষ্ট । আমি প্রতিবন্ধকতা এড়িয়ে মুক্ত প্রান্তরে যেতে বদ্ধপরিকর । কোন সহযোগিতা ছাড়া আমি সকল উপায় - উপকরণ জয় করে থাকি । অবমাননা সহ্য করে শুধু সেই কাফেলা , যে নিজের চামড়াকে কষ্ট দিতে প্রস্তুত হয় এবং বলে , আমি শক্ত পেশীকে অবনমিত করব না । আমার বৈপিত্রেয় ভাই এবং চাচার কথাবার্তা আমার সহ্য হয় না । যখন সে আমাকে রূঢ় কথা বলে , তখন তার জবাবও দিতে পারি না । তবে আমি যদি চাই , তবে আমি এমন কথা বলতে পারি , যা আর কারো জানা নেই । ”

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 যায়দ কা'বার অভিমুখী হয়ে যে কবিতা বলেন

📄 যায়দ কা'বার অভিমুখী হয়ে যে কবিতা বলেন


যায়দ কা'বার অভিমুখী হয়ে যে কবিতা বলেন
ইবন ইসহাক বলেন : যায়দ ইব্‌ন আমর ইব্‌ নুফায়লের কোন কোন আত্মীয় - স্বজনের বরাতে আমাকে জানান হয়েছে যে , যায়দ ইব্‌ন আমর ইবন নুফায়ল যখন মসজিদের ভেতরে থেকে কা'বার দিকে মুখ করতেন , তখন তিনি বলতেন : লাব্বায়কা হাক্কান , হাক্কান , তা‘আবদান ও রিক্কান ( তোমার দরবারে আমি উপস্থিত , নিশ্চিতভাবে উপস্থিত , একনিষ্ঠভাবে উপস্থিত , দাসত্ব ও আনুগত্য সহকারে ) । তিনি আরো বলতেন :
ইবরাহীম কিবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে যাঁর আশ্রয় চাইতেন , আমি তাঁর আশ্রয় চাই । হে আল্লাহ্ ! আমি তোমার কাছে আনত , তোমার চির বশীভূত , তুমি যতই আমাকে কষ্ট দাও , আমি তা বরদাশত করতে প্রস্তুত । আমি সত্য ও ন্যায় চাই , অংহকার চাই না । যে ব্যক্তি দুপুরের সময় চলে , সে দুপুরে নিদ্রিত ব্যক্তির মত নয় ।
ইবন ইসহাক যায়দ ইবন আমর ইবন নুফায়লের নিম্নোক্ত কবিতাটি উদ্ধৃত করেছেন :
“ আমি সেই সত্তার কাছে নিজেকে সঁপে দিয়েছি , যাঁর সামনে ভারী ও সুদৃঢ় পৃথিবী অবনত হয়েছে । আল্লাহ্ পৃথিবীকে পানির ওপর বিস্তৃত করলেন । যখন তা স্থির হল , তখন তার ওপর পাহাড় স্থাপন করলেন । সুপেয় পানি বর্ষণকারী মেঘ যাঁর অনুগত হয়েছে , আমি তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করেছি । যখন মেঘকে কোন ভূখণ্ডের দিকে হাঁকিয়ে নেয়া হয় , তখন সে সেখানে মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করে । ”

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 খাত্তাব কর্তৃক যায়দ ইন্ন নুফায়লের ওপর নির্যাতন ও অবরোধ এবং যায়দের সিরিয়ায় পলায়ন ও মৃত্যু

📄 খাত্তাব কর্তৃক যায়দ ইন্ন নুফায়লের ওপর নির্যাতন ও অবরোধ এবং যায়দের সিরিয়ায় পলায়ন ও মৃত্যু


খাত্তাব কর্তৃক যায়দ ইবন নুফায়লের ওপর নির্যাতন ও অবরোধ এবং যায়দের সিরিয়ায় পলায়ন ও মৃত্যু
খাত্তাব যায়দকে প্রায়ই নির্যাতন করত । শেষ পর্যন্ত মক্কাবাসীর ধর্ম নষ্ট হওয়ার ভয়ে সে যায়দকে মক্কার পার্শ্ববর্তী পাহাড়ে নির্বাসিত করে । মক্কার ঠিক বিপরীত দিকে হেরা পর্বতের ওপর তিনি থাকতে লাগলেন । কুরায়শ বংশের দুষ্ট প্রকৃতির একদল তরুণকে খাত্তাব যায়দের পাহারার কাজে নিয়োজিত করল এবং কিছুতেই যাতে যায়দ মক্কায় ঢুকতে না পারে , সেজন্য সর্বক্ষণ তাদের পাহারা দিতে বলল । মাঝে মাঝে যায়দ গোপনে মক্কায় ঢুকতেন । আর যুবকরা তা টের পেলেই খাত্তাবকে জানাত এবং তাকে নির্যাতন করে আবার বের করে দিত , যাতে মক্কাবাসীর ধর্ম নষ্ট না হয় এবং যায়দের কোন অনুসারী সৃষ্টি না হয় । এ জন্য যায়দ সব সময় আল্লাহ্র কাছে এ বলে ফরিয়াদ করতেন : “ হে আল্লাহ্ ! আমি তো হারাম শরীফেরই অধিবাসী , বহিরাগত নই , আমার ঘর ‘ মাহিল্লা'র মাঝে সাফার নিকটে অবস্থিত , যা বিভ্রান্তকারী ঘর নয় । ”
অবশেষে যায়দ হযরত ইবরাহীমের ধর্ম অনুসন্ধানের জন্য সফরে বেরিয়ে পড়েন এবং ধর্মীয় পণ্ডিত ও দরবেশদের খুঁজতে থাকেন । এ উদ্দেশ্যে তিনি ইরাক ও সমগ্র আরব উপদ্বীপ সফর করেন । তারপর চলে যান সিরিয়ায় । সেখানে এক পার্বত্য উপত্যকায় এক দরবেশের সাক্ষাত পান । এ স্থানটি সিরিয়ার বালকা অঞ্চলে অবস্থিত । জনশ্রুতি ছিল যে , ঐ দরবেশ খ্রিস্টধর্মের সবচেয়ে বড় বিদ্বান ছিলেন । যায়দ তাকে হযরত ইবরাহীমের আসল ধর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন । দরবেশ বললেন , তুমি যে দীনের অনুসন্ধান করছ , তা তোমাকে শিক্ষা দিতে পারে এমন কোন লোক তুমি এখন আর পাবে না । তবে তুমি যে দেশ থেকে এসেছ , সেখান থেকেই একজন নবীর আবির্ভাবের সময় ঘনিয়ে এসেছে । তিনি নবী ইবরাহীম ( আ ) -এর আসল ধর্মসহ প্রেরিত হবেন । তুমি তোমার দেশে চলে যাও । কেননা অচিরেই তিনি আবির্ভূত হবেন এবং এটাই তাঁর যুগ । ইতিপূর্বে তিনি ইয়াহুদী ও খ্রিস্টধর্ম সম্পর্কে অবহিত হয়েছিলেন , কিন্তু এর কোনটাই তার পসন্দ ছিল না । এরপর তিনি ঐ দরবেশের কথা শুনে সিরিয়া থেকে বেরিয়ে দ্রুত মক্কা অভিমুখে যাত্রা করেন । কিন্তু যখন তিনি বনূ লাখামের বস্তিতে পৌঁছান , তখন তারা তাঁর উপর হামলা করে তাঁকে মেরে ফেলে । এ খবর শুনে ওয়ারাকা ইবন নাওফাল ইন আসাদ যায়দের জন্য অনেক কাঁদেন এবং নিম্নোক্ত কবিতার মাধ্যমে শোক প্রকাশ করেন :
“ তুমি সঠিক পথ পেয়েছ , অনুগৃহীত হয়েছ , হে ইব্‌ন আমর , তুমি জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডকে দূরে রেখেছ , আর ধর্মদ্রোহিতামূলক মূর্তিপূজা পরিত্যাগ করেছ । যে ধর্মের সন্ধানে তুমি যত্নবান ছিলে , তা তুমি অর্জন করেছ , তুমি কখনো আল্লাহ্র একত্বের কথা ভোলনি । পরম সম্মানিত বাসস্থানে তুমি স্থান লাভ করেছ , যেখানে তুমি সম্মানের সাথে তোমার কৃতকর্মের ফল লাভ করবে । তুমি কখনো স্বেচ্ছাচারী ও যালিম ছিলে না , যার অবধারিত ঠিকানা হলো দোযখ । মানুষ অবশ্যই আল্লাহ্র রহমত লাভ করে , চাই সে যতই দুর্গম স্থানেই থাকুক । ”

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00