📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 সত্য-দীনের অনুসন্ধানকারী চার ব্যক্তি

📄 সত্য-দীনের অনুসন্ধানকারী চার ব্যক্তি


সত্য - দীনের অনুসন্ধানকারী চার ব্যক্তি
ইবন ইসহাক বলেন : একদিন কুরায়শ নেতৃবৃন্দ তাদের এক জাতীয় উৎসব উপলক্ষে একটি প্রধান মূর্তির নিকট সমবেত হল । এটি ছিল তাদের বার্ষিক উৎসবের দিন । তারপর তাদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় চারজন নেতা গোপন বৈঠকে বসলেন । এরা হলেন , ওয়ারাকা ইব্‌ন নাওফাল ইব্‌ন আসাদ ইব্‌ন আবদুল উযযা ইব্‌ন কুসাই ইব্‌ন কিলাব ইব্‌ন মুরা ইব্‌ন কা'ব ইব্‌ন লুআঈ- ইনি খাদীজার আপন চাচাতো ভাই , উবায়দুল্লাহ্ ইব্‌ন জাহশ ইন রিআব ইব্‌ন ইয়া'মার ইবন সাব্রা ইব্‌ন মুরা ইব্‌ন গানম ইব্‌ন দূদান ইব্‌ন আসাদ ইব্‌ন খুযায়মা । তিনি ছিলেন আবদুল মুত্তালিবের কন্যা উমায়মার ছেলে ।
উসমান ইব্‌ন হুয়ায়রিস ইব্‌ন আসাদ ইব্‌ন আবদুল উযযা ইব্‌ন কুসাই ( খাদীজার এক চাচার ছেলে ) এবং যায়দ ইব্‌ন আমর ইবন নুফায়ল ইব্‌ন আবদুল উযযা ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন কুরত ইব্‌ন রিবাহ ইব্‌ন রিযাহ ইবন আদী ইব্‌ন কা'ব ইবন লুআঈ - ইনি ছিলেন উমর ( রা ) -এর আপন চাচাতো ভাই ।
প্রথমে তারা পরস্পরে এ মর্মে চুক্তিবদ্ধ হলেন যে , এ বৈঠকের কোন কথাবার্তা বাইরে প্রকাশ করা চলবে না । তারপর তারা পরস্পরে যে বিষয়ে আলোচনা করেন , তা হল : দেশের মানুষ যে ধর্ম পালন করছে , তার কোন ভিত্তি নেই । তারা ইবরাহীমের পবিত্র ধর্মকে বিকৃত করে ফেলেছে । এ সব প্রতিমা যাদের আমরা পূজা করি , নিছক জড় পাথর ছাড়া আর কিছুই নয় । এরা দেখে না , শোনে না , কারো ভালোমন্দ কিছুই করতে পারে না । তোমরা জনগণের প্রতিনিধি । তোমরা তোমাদের জাতির জন্য নতুন কিছু ভাবো । তোমরা যে পথে চলছ , তার কোন ভিত্তি নেই । এরপর তাঁরা দেশ - বিদেশে ছড়িয়ে পড়েন এবং ইবরাহীমের পবিত্র ধর্ম অনুসন্ধান করতে থাকেন ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 ওয়ারাকা ও ইব্‌ন জাহশের সিদ্ধান্ত

📄 ওয়ারাকা ও ইব্‌ন জাহশের সিদ্ধান্ত


ওয়ারাকা ও ইবন জাহশের সিদ্ধান্ত
এ অনুসন্ধানের ফলে অবস্থা এরূপ হয় যে , হযরত ঈসা ( আ ) -এর দীনের প্রতি ওয়ারাকার যে বিশ্বাস জন্মেছিল , তা আরো মযবৃত হয় । তিনি খ্রিস্টানদের কাছ থেকে ধর্মীয় পুস্তকাদি সংগ্রহ করে পড়াশুনা করতে থাকেন । আর উবায়দুল্লাহ্ ইবন জাহশ যে সংশয়ের মধ্যে ছিলেন , ইসলাম কবূল করার আগ পর্যন্ত তিনি তার ওপরই স্থির থাকেন । এরপর তিনি মুসলিম মুহাজিরদের সংগে আবিসিনিয়ায় হিজরত করেন । তার সাথে তার স্ত্রী উম্মে হাবীবা বিন্ত আবূ সুফানও ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তার সংগে হিজরত করেন । কিন্তু উবায়দুল্লাহ আবিসিনিয়ায় গিয়ে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং ইসলাম ত্যাগ করেন । পরে খ্রিস্টান থাকা অবস্থায়ই সেখানে মারা যান ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আবিসিনিয়ার মুসলমানদের প্রতি ইব্‌ন জাহশের দাওয়াত

📄 আবিসিনিয়ার মুসলমানদের প্রতি ইব্‌ন জাহশের দাওয়াত


আবিসিনিয়ার মুসলমানদের প্রতি ইব্‌ন জাহশের দাওয়াত
ইব্‌ন ইসহাক বলেন : উবায়দুল্লাহ্ ইব্‌ন জাহশ আবিসিনিয়ায় গিয়ে খ্রিস্টান হয়ে যাওয়ার পর সেখানে অবস্থানরত অন্যান্য মুহাজির সাহাবীদেরকেও ইসলাম ত্যাগ করে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করার দাওয়াত দিতেন । তিনি বলতেন , আমার চোখ খুলেছে । তোমাদের চোখ এখনো খুলেনি । অর্থাৎ আমি তো সত্যের সন্ধান লাভ করেছি । আর তোমরা এখনো সত্যের সন্ধানে আছ ৷

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 ইবন জাহশের স্ত্রীর সংগে রাসূলুল্লাহর বিয়ে

📄 ইবন জাহশের স্ত্রীর সংগে রাসূলুল্লাহর বিয়ে


ইবন জাহশের স্ত্রীর সংগে রাসূলুল্লাহ্র বিয়ে
ইবন ইসহাক বলেন : উবায়দুল্লাহ্ ইবনে জাহশের ইন্তিকালের পর রাসূলুল্লাহ্ (সা:) তার স্ত্রী উম্মে হাবীবা বিনত আবূ সুফিয়ান ইব্‌ন হারবকে বিয়ে করেন ।
ইবন ইসহাক বলেন : মুহাম্মদ ইব্‌ন আলী ইবন হুসায়ন আমাকে বলেছেন যে , রাসূলুল্লাহ্ (সা:) আমর ইবন উমায়্যা যামরী ( রা ) নামক সাহাবীকে এ ব্যাপারে নাজাশীর নিকট প্রেরণ করেন । আমরের নিকট রাসূলুল্লাহ (সা:) -এর বার্তা পেয়ে নাজাশী স্বয়ং উম্মে হাবীবার নিকট রাসূলুল্লাহ (সা:) -এর সংগে তাঁর বিয়ের প্রস্তাব দেন । এরপর তিনি তাঁকে রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর সংগে বিয়ে দেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে চারশ দীনার মোহরানা আদায় করেন । মুহাম্মদ ইব্‌ন আলী বলেন , আবদুল মালিক ইবন মারওয়ান যে পরবর্তীকালে মহিলাদের মোহরানা চারশ দীনার ধার্য করেন , তার দলীল হল এটা । রাসূলুল্লাহ (সা:) -এর পক্ষ থেকে যিনি উম্মে হাবীবাকে এই মোহরানা অর্পণ করেন , তিনি হলেন খালিদ ইবন সাঈদ ইব্‌ন আস ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00