📄 মূসেল শহরে সালমান ও তার সাথী
মূসেল শহরে সালমান ও তার সাথী ।
তাঁর মৃত্যুর পর আমি মূসেলের যাজকের কাছে গেলাম । তাকে বললাম : অমুক যাজক মৃত্যুর সময় আমাকে আপনার কাছে আসার জন্য ওসীয়ত করে গেছেন এবং আমাকে একথাও বলে গেছেন যে , আপনিও তার মত সত্য ধর্মের অনুসারী । তখন তিনি আমাকে তার কাছে থাকবার অনুমতি দিলেন ।
আমি তার কাছে থেকে গেলাম । দেখলাম , সত্যিই তিনি খুবই সৎলোক । কিন্তু অল্পদিনের মধ্যেই তিনি মারা গেলেন । মৃত্যুর পূর্বে আমি তাকেও জিজ্ঞেস করেছিলাম , হুযূর , অমুক ধর্মযাজক তো আমাকে আপনার কাছে আসার জন্য ওসীয়ত করেছিলেন । এখন তো আপনার শেষ সময় ঘনিয়ে এসেছে । আপনি আপনি আমাকে কার কাছে যেতে ওসীয়ত এবং কি করার নির্দেশ দেন ? তখন তিনি বললেন : বাবা , আমি যেমন সত্য ধর্মের অনুসারী ছিলাম এরূপ আর কেউ নেই । তবে নসীবায়নে অমুক লোক আছে , তুমি তার কাছে যাও ।
📄 নসীবায়নে সালমান ও তার সাথী
নসীবায়নে সালমান ও তার সাথী
যখন তিনি মারা গেলেন , তখন আমি নসীবায়নে সেই ধর্মযাজকের নিকট চলে গেলাম এবং তাকে আমার সমস্ত ব্যাপার খুলে বললাম । তিনি আমাকে থাকতে দিলেন । এ ব্যক্তিকেও আমি আগের দু'জনের মত সৎ ও নিষ্ঠাবান পেয়েছিলাম । কিন্তু অল্পদিনের মধ্যেই তিনিও মারা গেলেন । তার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলে , আমি তাকে বললাম , হুযূর , অমুক ধর্মযাজক তো আমাকে আপনার কাছে আসতে বলেন , এখন আপনি আমাকে কার কাছে যেতে বলেন এবং কি নির্দেশ দেন ? তিনি বললেন : আমার জানামতে এমন কেউ নেই , যে আমার মত সত্য ধর্মের ওপর প্রতিষ্ঠিত আছে , যার কাছে আমি তোমাকে যেতে বলতে পারি । তবে রোম দেশে আম্মুরিয়া নামক স্থানে এক ব্যক্তি আছেন , যিনি আমার মত । যদি তুমি চাও , তবে তার কাছে যেতে পার ।
📄 সালমান ও তার সাথী আম্মুরিয়ার
সালমান ও তার সাধী আম্বুরিয়ায়
তিনি যখন মারা গেলেন , তখন আমি আম্মুরিয়ার সাথীর নিকট গেলাম এবং তাকে আমার সব খবর জানালাম । তিনি আমাকে তাঁর কাছে থাকতে বললেন । আমি তাকে একজন সৎব্যক্তি হিসাবে পেলাম । এখানে আমি শুধু ধর্মীয় অনুশীলনেই ক্ষান্ত থাকিনি , অর্থোপার্জনের সুযোগও পেয়েছিলাম । আমার বহু গরু - ছাগল হয়েছিল ।
এরপর তারও মৃত্যুর সময় উপস্থিত হল । এ সময় আমি তাকে আমার অতীতের অভিজ্ঞতাসমূহ জানালাম । আমি তাকে বললাম , হুযূর ! আপনার মৃত্যুর সময় তো ঘনিয়ে এসেছে । আপনার মৃত্যুর পর আমি কোন্ ব্যক্তিকে ধর্মযাজক হিসাবে গ্রহণ করব । এ ব্যাপারে আপনি আমাকে কি নির্দেশ দেন ? তখন তিনি বললেন , বাবা , আল্লাহ্র কসম ! এখন আর আমাদের এই ধর্ম সঠিকভাবে অনুসরণ করে এমন কেউ আছে বলে আমার জানা নেই । তবে একজন নতূন নবীর আবির্ভাবের সময় ঘনিয়ে এসেছে । তিনি ইবরাহীম ( আ ) -এর ধর্মসহ প্রেরিত হবেন । তিনি আরবভূমিতে আবির্ভূত হবেন । দুই মরুর মাঝে খেজুর বাগানে পরিপূর্ণ এক জায়গায় তিনি হিজরত করবেন । তাঁর আলামতগুলো সুস্পষ্ট হবে । তিনি হাদিয়া নেবেন কিন্তু সাদকা গ্ৰহণ করবেন না । তার দুই কাঁধের মাঝখানে নবুওয়তের সীল থাকবে । তুমি যদি সেই দেশে যেতে পার , তবে সেখানে যাবে ।
📄 সালমান ও তার অপহরণকারীরা ওয়াদিল কুরায় ও সেখান থেকে মদীনায়
সালমান ও তার অপহরণকারীরা ওয়াদিল কুরায় ও সেখান থেকে মদীনায়
এরপর এ ব্যক্তি মারা গেলে আমি কিছুকাল আম্মুরিয়াতে অবস্থান করলাম । তখন বনূ কালবের একদল বণিক আমার কাছ দিয়ে যাচ্ছিল । তাদের আমি বললাম , তোমরা আমাকে আরব দেশে নিয়ে যাও এবং এর বিনিময়ে আমি তোমাদের এসব গবাদি পশু দিয়ে দেব । তারা এ প্রস্তাবে রাযী হল । আমি তাদের আমার গবাদি পশু দিলাম এবং তারা আমাকে তাদের সাথে নিয়ে চলল । কিন্তু ওয়াদিল কুরাতে পৌঁছার পর তারা আমার ওপর যুলুম করল এবং আমাকে জনৈক ইয়াহুদীর নিকট দাস হিসাবে বিক্রি করে ফেলল । আমি তার কাছে থাকতে লাগলাম । সেখানে খেজুর গাছ দেখে ভাবলাম , আম্বুরিয়ার পাদ্রীর কাছে যে জায়গার কথা শুনেছিলাম , এটা হয়তো সেই জায়গা । কিন্তু আমার কাছে এটা স্পষ্ট ছিল না ।
এ সময় মদীনার বনূ কুরায়যা গোত্র থেকে ঐ ইয়াহুদীর এক চাচাতো ভাই এল । সে আমাকে কিনে নিয়ে মদীনায় গেল । আল্লাহ্র কসম ! মদীনাকে দেখেই আমি চিনতে পারলাম যে , এটাই আমার আম্মুরিয়ার উস্তাদের বর্ণিত জায়গা । আমি সেখানে থাকতে লাগলাম , আর এ ততদিন সময় রাসূলুল্লাহ্ (সা:) নবৃওয়াতপ্রাপ্ত হন এবং যতদিন মক্কায় থাকার পরিবেশ ছিল , মক্কায় থাকেন । গোলাম থাকার কারণে তাঁর সম্পর্কে আমার পক্ষে আর কিছুই জানা সম্ভব হয়নি । তারপর তিনি মদীনায় হিজরত করে চলে আসেন ।
একদিন আমি একটি খেজুরভর্তি গাছের মাথায় উঠে আমার মনিবের জন্য কিছু কাজ করছিলাম । মনিব তখন আমার ঠিক নিচে বসা ছিলেন । সহসা তার এক চাচাতো ভাই এসে তাকে বলল : আল্লাহ্ কায়লার বংশধরকে ধ্বংস করুন ( আওস ও খাযরাজ এই দুই গোত্রের মাতার নাম কায়লা ) । ওরা এখন মক্কা থেকে আগত এক ব্যক্তির চার পাশে কুবা নামক স্থানে ভিড় জমিয়েছে । লোকটি আজই এসেছে । তারা ধারণা করে যে , সে নাকি নবী ।