📄 সা'লাবা আসীদ ও আসাদ-এর ইসলাম গ্রহণ
সা'লাবা আসীদ ও আসাদ - এর ইসলাম গ্রহণ
ইব্ন হায়্যাবান নামক জনৈক ইয়াহুদীর কারণে বনূ কুরায়যা গোত্রের মিত্র বনূ হাদলের সা'লাবা আসীদ ইবন সায়ীয়া ও আসাদ ইবনে উবায়দ ( র ) ইসলাম গ্রহণ করেন ।
ইবন ইসহাক বলেন : আসীম ইবন ওমর ইবন কাতাদা বনূ কুরায়যার এক বৃদ্ধ থেকে বলেন : “ তুমি কি জান সালাবা ও আসীদ ইবনে সায়ীয়া ও আসাদ ইবন উবায়দ নামক বন্ কুরায়যার শাখা গোত্র বনূ হাদনের কিছু লোক কেন ইসলাম গ্রহণ করেছিল ? তারাও বনূ কুরায়যার সাথে জাহিলিয়াতে ছিল । তারপর তাদের নেতারা ইসলাম গ্রহণ করে ? ” ঐ বৃদ্ধ বলল : “ আমি বললাম , না । ” লোকটি বলল : সিরিয়ার অধিবাসী ইবনে হায়্যাবান ইসলামের অভ্যুদয়ের বহু বছর আগে বনূ হাদলের কাছে আসে । সে তাদের সাথে বসবাস করতে থাকে । আল্লাহ্র শপথ ! তার মত নিয়মিত উত্তমরূপে নামায পড়তে আর কাউকে দেখিনি । দেশে অজন্মা ও দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে বনূ হাদল তাকে দিয়ে ইসতিকার নামাযও পড়াত এবং তার কাছে ইসতিসকার নামাযের অনুরোধ করলে সে বলত , আল্লাহ্র কসম ! তোমরা সাদকা না দেয়া পর্যন্ত আমি পড়াব না । আমরা বলতাম কত ? এক সা ' ( ৩৩০০ গ্রাম ) খেজুর বা দুই ' মুদ ' যব ( ৫২০ দিরহাম পরিমাণ ) আমরা দিয়ে দেয়ার পর সে যখনই ইসতিকার নামায পড়ে বৃষ্টির দু'আ করত , তখনই বৃষ্টি হত । এ রকম ঘটনা একবার - দু'বার বা তিনবার নয় , বহুবার ঘটেছে । এরপর যখন তাঁর মৃত্যু ঘনিয়ে এলো , তখন সে মদীনার ইয়াহুদীদের ডেকে বলল , কি কারণে আমি সমৃদ্ধি ও প্রাচুর্যের দেশ থেকে এ ক্ষুধার দেশে এসেছি তা জান ? তারা বলল , তুমিই ভালো জান । সে বলল : একজন নবীর আগমনের প্রতীক্ষায় রয়েছি । তাঁর সময় আসন্ন । এ শহরে তিনি হিজরত করবেন । আমি আশা করেছিলাম , আমার জীবদ্দশায়ই তিনি আসবেন এবং আমি তাঁর অনুসারী হব । যদি আমি বেঁচে থাকতে তিনি না আসেন , তবে তিনি আসার পর তোমরা তাঁর ওপর ঈমান আনতে বিলম্ব করো না । কেননা , তাঁর হাতে তাঁর বিরোধীদের অনেকের রক্তপাত হবে , শিশু ও নারীরা বন্দী হবে । দেখ , তোমাদের আগে যেন অন্যরা তাঁর ওপর ঈমান না আনতে পারে ।