📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 জনৈক ইয়াহূদী সম্পর্কে সালামার বর্ণনা

📄 জনৈক ইয়াহূদী সম্পর্কে সালামার বর্ণনা


জনৈক ইয়াহুদী সম্পর্কে সালামার বর্ণনা
ইবন ইসহাক বলেন : সালামা নামক এক বদরী সাহাবী বলেন যে , আবদে আশহাল গোত্রের এক ইয়াহুদী আমাদের প্রতিবেশী ছিল । একদিন সে তার বাড়ি থেকে বেরিয়ে বনূ আবদে আশহালের সামনে দাঁড়াল । সে সময় আমি ঐ বসতির সবচেয়ে অল্পবয়স্ক ছেলে ছিলাম । একটা চাদর গায়ে দিয়ে আমি ঘরের বারান্দায় শুয়েছিলাম । ইয়াহুদী লোকটি ওখানে দাঁড়িয়ে কিয়ামত , আখিরাত , হিসাব - নিকাশ , দাঁড়িপাল্লা , বেহেশত - দোযখ ইত্যাদি সম্পর্কে ভাষণ দিল ।
এসব কথা সে একটি মুশরিক ও পৌত্তলিক গোত্রের লোকদের সম্বোধন করে বলল , যারা মৃত্যুর পরে পুনরুজীবনে বিশ্বাস করত না । তারা তাকে ধমক দিয়ে বলল , তোমার জন্য আফসোস ! তুমি কি সব আবোল - তাবোল বকছ ? এসব কি সত্যিই হবে বলে তুমি মনে কর ? মৃত্যুর পরে কি মানুষ পুনরুজ্জীবিত হয়ে একটা নতুন জপতে একত্রিত হবে , যেখানে বেহেশত ও দোযখ থাকবে এবং প্রত্যেককে নিজ নিজ কাজের বিনিময় দেয়া হবে ? সে বলল , হ্যাঁ , এরূপই হবে । যারা এটা মানে না , তাদের জন্য সেখানে একটা বিশাল চুলো থাকবে , সেখানে তারা দগ্ধ হবে , তখন সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে চাইবে । লোকেরা বলল , বল কি ? তাহলে তার কিছু লক্ষণ বল । সে বলল , এই অঞ্চল থেকে অচিরেই একজন নবী আবির্ভূত হতে যাচ্ছেন । সে হাতের ইশারা দিয়ে মক্কা কিংবা ইয়ামানকে দেখাল । লোকেরা বলল , কতদিনের মধ্যে তিনি আসতে পারেন বলে তোমার ধারণা ? সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল , এই বালকটি যদি পূর্ণ আয়ু পায় , তাহলে সে তাঁকে দেখতে পাবে । সালামা বলেন : এর কিছুদিন পর আল্লাহ্ রাসূল (সা:) -কে পাঠালেন । আমরা তাঁর প্রতি ঈমান আনলাম কিন্তু ঐ ইয়াহুদীটি হিংসা ও বিদ্বেষবশত ঈমান আনল না । আমরা বললাম , কি হে তুমি না এইসব ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলে ? সে বলল : হ্যাঁ , করেছিলাম । তবে তিনি ইনি নন ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 সা'লাবা আসীদ ও আসাদ-এর ইসলাম গ্রহণ

📄 সা'লাবা আসীদ ও আসাদ-এর ইসলাম গ্রহণ


সা'লাবা আসীদ ও আসাদ - এর ইসলাম গ্রহণ
ইব্‌ন হায়্যাবান নামক জনৈক ইয়াহুদীর কারণে বনূ কুরায়যা গোত্রের মিত্র বনূ হাদলের সা'লাবা আসীদ ইবন সায়ীয়া ও আসাদ ইবনে উবায়দ ( র ) ইসলাম গ্রহণ করেন ।
ইবন ইসহাক বলেন : আসীম ইবন ওমর ইবন কাতাদা বনূ কুরায়যার এক বৃদ্ধ থেকে বলেন : “ তুমি কি জান সালাবা ও আসীদ ইবনে সায়ীয়া ও আসাদ ইবন উবায়দ নামক বন্‌ কুরায়যার শাখা গোত্র বনূ হাদনের কিছু লোক কেন ইসলাম গ্রহণ করেছিল ? তারাও বনূ কুরায়যার সাথে জাহিলিয়াতে ছিল । তারপর তাদের নেতারা ইসলাম গ্রহণ করে ? ” ঐ বৃদ্ধ বলল : “ আমি বললাম , না । ” লোকটি বলল : সিরিয়ার অধিবাসী ইবনে হায়্যাবান ইসলামের অভ্যুদয়ের বহু বছর আগে বনূ হাদলের কাছে আসে । সে তাদের সাথে বসবাস করতে থাকে । আল্লাহ্র শপথ ! তার মত নিয়মিত উত্তমরূপে নামায পড়তে আর কাউকে দেখিনি । দেশে অজন্মা ও দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে বনূ হাদল তাকে দিয়ে ইসতিকার নামাযও পড়াত এবং তার কাছে ইসতিসকার নামাযের অনুরোধ করলে সে বলত , আল্লাহ্র কসম ! তোমরা সাদকা না দেয়া পর্যন্ত আমি পড়াব না । আমরা বলতাম কত ? এক সা ' ( ৩৩০০ গ্রাম ) খেজুর বা দুই ' মুদ ' যব ( ৫২০ দিরহাম পরিমাণ ) আমরা দিয়ে দেয়ার পর সে যখনই ইসতিকার নামায পড়ে বৃষ্টির দু'আ করত , তখনই বৃষ্টি হত । এ রকম ঘটনা একবার - দু'বার বা তিনবার নয় , বহুবার ঘটেছে । এরপর যখন তাঁর মৃত্যু ঘনিয়ে এলো , তখন সে মদীনার ইয়াহুদীদের ডেকে বলল , কি কারণে আমি সমৃদ্ধি ও প্রাচুর্যের দেশ থেকে এ ক্ষুধার দেশে এসেছি তা জান ? তারা বলল , তুমিই ভালো জান । সে বলল : একজন নবীর আগমনের প্রতীক্ষায় রয়েছি । তাঁর সময় আসন্ন । এ শহরে তিনি হিজরত করবেন । আমি আশা করেছিলাম , আমার জীবদ্দশায়ই তিনি আসবেন এবং আমি তাঁর অনুসারী হব । যদি আমি বেঁচে থাকতে তিনি না আসেন , তবে তিনি আসার পর তোমরা তাঁর ওপর ঈমান আনতে বিলম্ব করো না । কেননা , তাঁর হাতে তাঁর বিরোধীদের অনেকের রক্তপাত হবে , শিশু ও নারীরা বন্দী হবে । দেখ , তোমাদের আগে যেন অন্যরা তাঁর ওপর ঈমান না আনতে পারে ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00