📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 জাব গোত্রের জ্যোতিষী

📄 জাব গোত্রের জ্যোতিষী


জানব গোত্রের জ্যোতিষী
ইবন ইসহাক বলেন : আলী ইব্‌ন নাফে ' জুরাশী আমাকে বলেছেন যে , ইয়ামানের জাব গোত্রে জাহিলী যুগে একজন জ্যোতিষী ছিল । তারা যখন রাসূলুল্লাহ ( রা ) -এর ব্যাপারটা শুনতে পেল , তখন জানব গোত্রের লোকেরা তার কাছে জানতে চাইল যে , এ লোক [ মুহাম্মদ (সা:) ] - এর ভবিষ্যত কি ? এ বলে তারা সেই পাহাড়ের নীচে জমা হলো , যেখানে সে থাকত । যখন সূর্য উঠল , তখন সে তাদের কাছে আসল এবং ধনুকের ওপর ভর করে দাঁড়াল । এরপর অনেকক্ষণ আকাশের দিকে মাথা উঠিয়ে নাচানাচি করল । অবশেষে লোকদের লক্ষ্য করে বলল : হে লোক সকল ! আল্লাহ্ মুহাম্মদ (সা:) -কে সম্মানিত ও মনোনীত করেছেন । তিনি তাঁর অন্তরকে পবিত্ৰ করে নূর দিয়ে পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন । হে জনগণ ! সে তোমাদের মাঝে অল্পদিন অবস্থান করবে । এতটুকু বলেই পাহাড়ে চলে গেল ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 উমর ইবন খাত্তাব ও সুওয়াদ ইব্‌ন কারিবের কথোপকথন

📄 উমর ইবন খাত্তাব ও সুওয়াদ ইব্‌ন কারিবের কথোপকথন


উমর ইব্‌ন খাত্তাব ও সুওয়াদ ই কারিবের কথোপকথন
ইবন ইসহাক বলেন : একবার হযরত উমর ( রা ) মসজিদে নববীতে বসে ছিলেন । এমন সময় ( সুওয়াদ ইব্‌ন কারিব নামক ) এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করল এবং তাঁর কাছে উপস্থিত হল । হযরত উমর ( রা ) তাকে দেখে বললেন , এ লোকটি তো এখনো শিরক ত্যাগ করেনি এবং সে জাহিলী যুগের জ্যোতিষী ছিল । লোকটি তৎক্ষণাৎ হযরত উমরকে সালাম করে বসল । হযরত উমর ( রা ) তাকে বললেন , তুমি কি ইসলাম গ্রহণ করেছে ? সে বলল : হ্যাঁ , হে আমীরুল মু'মিনীন ! তিনি তাকে বললেন : তুমি কি জাহিলী যুগের জ্যোতিষী ছিলে ? সে বলল : সুবহানাল্লাহ ! হে আমীরুল মু'মিনীন ! আপনি আমার ব্যাপারে অনুমান করেছেন । আপনি আমার সাথে এমন বিষয় আলোচনার অবতারণা করেছেন , যা আপনি খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণের পর , আপনার প্রজার মাঝে কারো সাথে আপনি আলোচনা করেননি । হযরত উমর বললেন : হে আল্লাহ্ , আমাকে মাফ কর । বস্তুত আমরা জাহিলী যুগে এর চেয়েও খারাপ কাজে লিপ্ত ছিলাম । মূর্তিপূজা করতাম । অবশেষে আল্লাহ্ আমাদের তাঁর রাসূল ও ইসলাম দিয়ে সম্মানিত করেছেন । সে বলল , সত্যিই আল্লাহ্র কসম ! হে আমীরুল মু'মিনীন ! আমি জাহিলী যুগে একজন জ্যোতিষী ছিলাম । হযরত উমর ( রা ) বললেন : তাহলে আমাকে বল , তোমার জিন সংগীটি তোমাকে কি কি খবর দিত ? সে বলল : ইসলামের আবির্ভাবের একমাস বা তার কিছু আগে আমার কাছে সে এসেছিল । বলল : জিনদের অধপতন , ধর্মে হতাশা এবং স্বপ্নভঙ্গ লক্ষ্য করছ না ?
ইবন হিশামের মতে , এ কথাটা কবিতা নয় , তবে ছন্দোবদ্ধ ছিল ।
আবদুল্লাহ ইব্‌ন কা'ব বলেন : তারপর হযরত উমর ( রা ) জনগণকে সম্বোধন করে বললেন : আল্লাহ্র কসম ! ইসলাম গ্রহণের একমাস আগে একবার আমি কতিপয় কুরায়শীর সাথে একটি মূর্তির সামনে উপস্থিত ছিলাম । তার আগেই জনৈক আরব এ মূর্তির সামনে একটি বাছুর বলি দিয়েছিল । আমরা সবাই ঐ বলির গোশতের অংশ লাভের অপেক্ষায় ছিলাম । এ সময় মৃত বাছুরটির পেট থেকে এমন আওয়াজ শুনলাম , যা থেকে বিকট আওয়াজ এর আগে আমি আর কখনো শুনিনি । আওয়াজ ছিল : হে যবেকৃত বাছুর । একটি সাফল্যজনক ব্যাপার আসন্ন । এক ব্যক্তি চিৎকার করে বলছে : লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ । আমি এ আওয়াজ খুবই স্পষ্টভাবে শুনেছিলাম ।
ইব্‌ন হিশাম বলেন : অন্য বর্ণনায় আছে , আওয়াজটা এরূপ ছিল যে , একজন লোক চিৎকার করে বিশুদ্ধ ভাষায় লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলছে । জনৈক কবি এ সম্পর্কে আমাকে বলেছেন : “ জিনদের হতাশা ও হিদায়াতের আশায় মক্কায় নেমে আসতে দেখে আমি অবাক হয়েছি । ”
ইবন ইসহাক বলেন : আরব জ্যোতিষীদের বিবরণ এটুকুই আমি পেয়েছি ।
রাসূল (সা:) সম্পর্কে ইয়াহুদীদের হুশিয়ারী

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00