📄 নক্ষত্র নিক্ষেপ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর ব্যাখ্যা
নক্ষত্র নিক্ষেপ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা:) -এর ব্যাখ্যা
ইবন ইসহাক বলেন : মুহাম্মদ ইব্ন মুসলিম ইন শিহাব যুহরী ( র ) আলী ইবনে হুসায়ন ইবনে আলী আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস ( রা ) সূত্রে কতিপয় আনসার থেকে বর্ণনা করেন যে , রাসূলাল্লাহ্ (সা:) আনসারদের জিজ্ঞেস করেন , এসব নিক্ষিপ্ত নক্ষত্র সম্পর্কে তোমরা কি বলতে ? তারা বললেন , ইয়া রাসূলুল্লাহ্ (সা:) ! আমরা তা নিক্ষিপ্ত হতে দেখলে বলতাম : কোন রাজা মারা গেছে , নতুন কেউ রাজা হয়েছেন , নতুন কোন সন্তান জন্ম নিয়েছে , অথবা কোন সন্তান মারা গেছে । রাসূলুল্লাহ্ (সা:) বলেন , আসল ব্যাপার তা নয় । আসল ব্যাপার এই যে , আল্লাহ্ যখন তাঁর সৃষ্টিজগত সম্পর্কে কোন সিদ্ধান্ত নেন , তখন আরশের বাহক ফেরেশতারা তা শ্রবণ করে এবং আল্লাহ্র তাসবীহ পাঠ ও গুণগান করে , তারপর তার নিচের আকাশের ফেরেশতারাও তাসবীহ পাঠ করে , তারপর তাদের অনুকরণে তার নিচের ফেরেশতারাও তাসবীহ পাঠ করে , এভাবে তাসবীহ পাঠের প্রক্রিয়া চলতে চলতে সর্বনিম্ন আকাশে এসে পৌঁছে । এখানকার ফেরেশতারাও তাসবীহ পাঠ করে । এরপর তারা একে অন্যকে জিজ্ঞেস করে যে , তোমরা কি জন্য তাসবীহ পাঠ করলে ? তারা বলে : ঊর্ধ্বতন আকাশের ফেরেশতারা তাসবীহ পাঠ করছেন , তাই আমরাও তাদের মত তাসবীহ পাঠ করছি । তারা বলেন : তোমাদের ঊর্ধ্বতন ফেরেশতাদের জিজ্ঞেস করনি যে , তারা কি কারণে তাসবীহ পাঠ করল ? তারা ঊর্ধ্বতন ফেরেশতাদের অনুরূপ প্রশ্ন করেন । এভাবে ক্রমান্বয়ে এ প্রশ্ন আরশের বাহকদের নিকট পর্যন্ত পৌঁছে । তখন তাদের বলা হয় : আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর সৃষ্টি সম্পর্কে অমুক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন । এরপর এ খবর এক আকাশ থেকে আর এক আকাশে নামতে নামতে সর্বনিম্ন আকাশে নেমে আসে । এখানে ফেরেশতারা এ বিষয়ে আলোচনা করেন । শয়তান তা আড়িপেতে শোনে , তবে অনেকাংশে অস্পষ্ট ও বিকৃতভাবে শোনে । তারপর তারা তা পৃথিবীর জ্যোতিষীদের কাছে পৌঁছায় । এর ভেতরে কিছু ভুল ও কিছু নির্ভুল থাকে । জ্যোতিষীরা আবার তা মানুষকে শোনায় । এতে কিছু কথা যথার্থ এবং কিছু কথা বিকৃত থাকে । এরপর আল্লাহ্ এ সব নক্ষত্র নিক্ষেপ করে শয়তানদের প্রতিহত করেন । তাই জ্যোতিষীদের তথ্য সরবারাহ এখন বন্ধ । এখন আর কোন জ্যোতিষবিদ্যার অস্তিত্ব নেই ?
**টিকাঃ**
১ . এখন যে জিনিসটি বন্ধ হয়ে গেছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত বন্ধ থাকবে , তা হলো : জাহিলিয়াত যুগে শয়তানরা যে তথ্য জানতে পারত , তা আর জানতে পারবে না । সে সময় তারা আকাশ থেকে আড়িপেতে এ সবের কিছু কিছু যোগাড় করত । এ যুগের কিছু কিছু লোক জিনের কাছ থেকে কিছু কিছু তথ্য পেয়ে থাকে । এগুলো পৃথিবীতেই জিনেরা দেখে সংগ্রহ করে , যা মানুষেরা দেখতে পায় না । যেমন কে কার জিনিস চুরি করেছে ইত্যাদি । তারা যেসব ভবিষ্যদ্বাণী করে , তা হয় সম্পূর্ণ অনুমানভিত্তিক , নচেৎ মেঘের ভেতরে ফেরেশতারা যেসব কথাবার্তা বলেন , তা থেকে জিনদের সংগৃহীত । এর দু'একটা সঠিক হতে পারে এবং অধিকাংশই মিথ্যা ও ভূয়া । ( দ্র . রওযুল উনুফ )
📄 সাহম গোত্রের জ্যোতিষী গায়তালা
সাহম গোত্রের জ্যোতিষী গায়তালা
ইবন ইসহাক বলেন : কিছু বিদ্বান ব্যক্তি আমাকে জানিয়েছেন যে , জাহিলী যুগে বন্ সাহমের গায়তালা নাম্নী এক মহিলা জ্যোতিষী ছিল । তার কাছে জিন আসত । একদিন রাতে সে এসে যমীনের ওপর ধপাস করে পড়ে গেল এবং বলল , আমি এক বিশেষ দিন সম্পর্কে জানি , যা হবে আহত ও নিহত করার দিন । কুরায়শদের লোকেরা একথা শুনে বলল , সে কি বুঝাতে চায় ? পরদিন রাতে সে আবার এসে ধপাস করে যমীনের ওপর পড়ে গেল এবং বলল , গিরিপথ , কা'বের বংশধর গিরিপথে মরবে । ( কা'বের বংশধর অর্থাৎ কুরায়শ ) কথাটা যখন কুরায়শদের কানে গেল , তখন তারা এর মর্ম উদ্ধার করতে পারল না । পরে যখন বদর ও উহুদের যুদ্ধ গিরিপথে সংঘটিত হল এবং নেতৃস্থানীয় কুরায়শরা নিহত হল , তখন তারা কথাটার মর্ম বুঝল ।
📄 গায়তালার বংশ পরিচয়
গায়তালার বংশ পরিচয়
ইবন হিশাম বলেন : গায়তালা বনূ মুররা ইব্ন আবদে মানাত ইব্ন কিনানার মুদলিজ শাখার এক মহিলা । আবূ তালিব স্বীয় কবিতায় যে গায়তালীদের কথা বলেছেন , এ মহিলা তাদেরই মাতা ! আবূ তালিব বলেছেন : যারা গায়তালীদের কথায় বদলে যায় , তাদের আশা কখনো পূর্ণ হয় না । বনূ সাহম ইব্ন আমর ইব্ন হুসায়স গায়তালী গোত্র নামে খ্যাত ৷
📄 জাব গোত্রের জ্যোতিষী
জানব গোত্রের জ্যোতিষী
ইবন ইসহাক বলেন : আলী ইব্ন নাফে ' জুরাশী আমাকে বলেছেন যে , ইয়ামানের জাব গোত্রে জাহিলী যুগে একজন জ্যোতিষী ছিল । তারা যখন রাসূলুল্লাহ ( রা ) -এর ব্যাপারটা শুনতে পেল , তখন জানব গোত্রের লোকেরা তার কাছে জানতে চাইল যে , এ লোক [ মুহাম্মদ (সা:) ] - এর ভবিষ্যত কি ? এ বলে তারা সেই পাহাড়ের নীচে জমা হলো , যেখানে সে থাকত । যখন সূর্য উঠল , তখন সে তাদের কাছে আসল এবং ধনুকের ওপর ভর করে দাঁড়াল । এরপর অনেকক্ষণ আকাশের দিকে মাথা উঠিয়ে নাচানাচি করল । অবশেষে লোকদের লক্ষ্য করে বলল : হে লোক সকল ! আল্লাহ্ মুহাম্মদ (সা:) -কে সম্মানিত ও মনোনীত করেছেন । তিনি তাঁর অন্তরকে পবিত্ৰ করে নূর দিয়ে পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন । হে জনগণ ! সে তোমাদের মাঝে অল্পদিন অবস্থান করবে । এতটুকু বলেই পাহাড়ে চলে গেল ।