📄 জিনদের ওপর নক্ষত্র নিক্ষিপ্ত হতে দেখে বনূ সাকীফের আতঙ্ক এবং এ বিষয়ে তাদের আমর ইবন উমায়্যাকে জিজ্ঞেস করা
জিনরা কুরআন শ্রবণের পর বুঝল যে , তাদের আকাশ পরিভ্রমণ এজন্যই বন্ধ হয়েছে , যেন আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত ওহীর বাণী আকাশের কোন উড়ো খবরের সাথে মিশ্রিত হয়ে জগদ্বাসীর কাছে সন্দেহজনক হয়ে না যায় এবং সম্পূর্ণ অকাট্য ও নির্ভেজাল ওহী তাদের কাছে পৌঁছে । এটা বুঝতে পারার পর তারা কুরআনের প্রতি ঈমান আনল এবং সত্য বলে বিশ্বাস করল । সূরা আহকাফে বলা হয়েছে যে , ( ঈমান আনার পর ) “ তারা তাদের সম্প্রদায়ের কাছে সতর্ককারীরূপে ফিরে গেল - তারা বলল , হে আমাদের সম্প্রদায় ! আমরা এমন এক কিতাবের পাঠ শ্রবণ করেছি , যা মুসার পরে অবতীর্ণ হয়েছে , যা তার পূর্ববর্তী কিতাবকে সমর্থন করে এবং সত্য ও সরল পথের দিকে পরিচালিত করে । ”
আর জিনদের কথা : আর কতিপয় মানুষ কতক জিনের আশ্রয় নিত ; ফলে তারা জিনদের অহংকার বাড়িয়ে দিত । কুরায়শ ও অন্যান্য আরবের কেউ কোন নির্জন মাঠে একাকী রাত যাপনের সময় বলত : আমি এ রাতে এখানে অবস্থানের জন্য এ স্থানের কর্তৃত্বশীল জিনের নিকট এ মাঠের যাবতীয় সম্ভাব্য অকল্যাণ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি ।
ইবন হিশাম বলেন : উপরোক্ত আয়াতে যে ' রাহাক ' শব্দটি আছে , এর অর্থ হচ্ছে অহংকার , একগুঁয়েমি , মূর্খতা এবং কোন জিনিসের অনুসন্ধানে ব্যাপৃত হওয়া এবং তা পাওয়ার কাছাকাছি হলে গ্রহণ ও বর্জনে দোদুল্যমান হওয়া ।
জিনদের ওপর নক্ষত্র নিক্ষিপ্ত হতে দেখে বনূ সাকীফের আতঙ্ক এবং এ বিষয়ে তাদের আমর ইবন উমায়্যাকে জিজ্ঞেস করা
ইবন ইসহাক বলেন : ইয়াকুব ইবন উতবা ইবন মুগীরা ইবন আখনাস আমাকে জানিয়েছেন যে , নক্ষত্র ছুঁড়ে মারা তথা উল্কাপাত দেখে বনূ সাফীকের একটি শাখা সর্বপ্রথম আতঙ্কগ্রস্ত হয় । তারা এ ঘটনা দেখে বনূ ইলাজ গোত্রের জীনক আমর ইবন উমায়্যার কাছে যায় । এ ব্যক্তি আরবের সবচেয়ে কর্কশভাষী ও অপ্রিয়ভাষী জ্যোতিষী হিসাবে খ্যাত ছিল । তারা তাকে বলল , হে আমর ! নক্ষত্র ছুঁড়ে মারার যে ঘটনা আকাশে ঘটে চলেছে , তা কি আপনি দেখেন নি ? সে বললো , হ্যাঁ , দেখেছি । তবে লক্ষ্য কর , যে নক্ষত্রগুলো দিগদর্শন হিসাবে পরিচিতি , জলস্থলে যা দেখে দিক নির্ণয় করা হয় এবং শীত ও গ্রীষ্ম ঋতুতে মানুষের কৃষি ও অন্যান্য পেশার ব্যাপারে বিভিন্ন সহায়ক তথ্য জানা যায় , তেমন কোন নক্ষত্র যদি ছুঁড়ে মারা হয় , তাহলে নিশ্চয়ই এটা এ পৃথিবী ও এ সৃষ্টি ধ্বংসের লক্ষণ । অন্যথায় এটা এ বিশ্ববাসীর জন্য আল্লাহ্র কোন নতুন ব্যবস্থার ইংগিতবহ । আসলে কোন্ ধরনের নক্ষত্র এগুলো ?
**টিকাঃ**
১ . আল - কুরআন , ৪৬ : ২৯-৩০ ।
২. বনূ সাকীফের আর একটি শাখা বনূ লিহব , খাতার নামক জ্যোতিষীর কাছে গিয়ে এ উল্কাপাত বা নক্ষত্র নিক্ষেপের ভয়ে ভীত হয়ে এর রহস্য জানতে চাইলে সে স্পষ্টতই একে নবুওয়তের লক্ষণ বলে অভিহিত করে । ( দ্র . রওযুল উনুফ )
📄 নক্ষত্র নিক্ষেপ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর ব্যাখ্যা
নক্ষত্র নিক্ষেপ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা:) -এর ব্যাখ্যা
ইবন ইসহাক বলেন : মুহাম্মদ ইব্ন মুসলিম ইন শিহাব যুহরী ( র ) আলী ইবনে হুসায়ন ইবনে আলী আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস ( রা ) সূত্রে কতিপয় আনসার থেকে বর্ণনা করেন যে , রাসূলাল্লাহ্ (সা:) আনসারদের জিজ্ঞেস করেন , এসব নিক্ষিপ্ত নক্ষত্র সম্পর্কে তোমরা কি বলতে ? তারা বললেন , ইয়া রাসূলুল্লাহ্ (সা:) ! আমরা তা নিক্ষিপ্ত হতে দেখলে বলতাম : কোন রাজা মারা গেছে , নতুন কেউ রাজা হয়েছেন , নতুন কোন সন্তান জন্ম নিয়েছে , অথবা কোন সন্তান মারা গেছে । রাসূলুল্লাহ্ (সা:) বলেন , আসল ব্যাপার তা নয় । আসল ব্যাপার এই যে , আল্লাহ্ যখন তাঁর সৃষ্টিজগত সম্পর্কে কোন সিদ্ধান্ত নেন , তখন আরশের বাহক ফেরেশতারা তা শ্রবণ করে এবং আল্লাহ্র তাসবীহ পাঠ ও গুণগান করে , তারপর তার নিচের আকাশের ফেরেশতারাও তাসবীহ পাঠ করে , তারপর তাদের অনুকরণে তার নিচের ফেরেশতারাও তাসবীহ পাঠ করে , এভাবে তাসবীহ পাঠের প্রক্রিয়া চলতে চলতে সর্বনিম্ন আকাশে এসে পৌঁছে । এখানকার ফেরেশতারাও তাসবীহ পাঠ করে । এরপর তারা একে অন্যকে জিজ্ঞেস করে যে , তোমরা কি জন্য তাসবীহ পাঠ করলে ? তারা বলে : ঊর্ধ্বতন আকাশের ফেরেশতারা তাসবীহ পাঠ করছেন , তাই আমরাও তাদের মত তাসবীহ পাঠ করছি । তারা বলেন : তোমাদের ঊর্ধ্বতন ফেরেশতাদের জিজ্ঞেস করনি যে , তারা কি কারণে তাসবীহ পাঠ করল ? তারা ঊর্ধ্বতন ফেরেশতাদের অনুরূপ প্রশ্ন করেন । এভাবে ক্রমান্বয়ে এ প্রশ্ন আরশের বাহকদের নিকট পর্যন্ত পৌঁছে । তখন তাদের বলা হয় : আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর সৃষ্টি সম্পর্কে অমুক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন । এরপর এ খবর এক আকাশ থেকে আর এক আকাশে নামতে নামতে সর্বনিম্ন আকাশে নেমে আসে । এখানে ফেরেশতারা এ বিষয়ে আলোচনা করেন । শয়তান তা আড়িপেতে শোনে , তবে অনেকাংশে অস্পষ্ট ও বিকৃতভাবে শোনে । তারপর তারা তা পৃথিবীর জ্যোতিষীদের কাছে পৌঁছায় । এর ভেতরে কিছু ভুল ও কিছু নির্ভুল থাকে । জ্যোতিষীরা আবার তা মানুষকে শোনায় । এতে কিছু কথা যথার্থ এবং কিছু কথা বিকৃত থাকে । এরপর আল্লাহ্ এ সব নক্ষত্র নিক্ষেপ করে শয়তানদের প্রতিহত করেন । তাই জ্যোতিষীদের তথ্য সরবারাহ এখন বন্ধ । এখন আর কোন জ্যোতিষবিদ্যার অস্তিত্ব নেই ?
**টিকাঃ**
১ . এখন যে জিনিসটি বন্ধ হয়ে গেছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত বন্ধ থাকবে , তা হলো : জাহিলিয়াত যুগে শয়তানরা যে তথ্য জানতে পারত , তা আর জানতে পারবে না । সে সময় তারা আকাশ থেকে আড়িপেতে এ সবের কিছু কিছু যোগাড় করত । এ যুগের কিছু কিছু লোক জিনের কাছ থেকে কিছু কিছু তথ্য পেয়ে থাকে । এগুলো পৃথিবীতেই জিনেরা দেখে সংগ্রহ করে , যা মানুষেরা দেখতে পায় না । যেমন কে কার জিনিস চুরি করেছে ইত্যাদি । তারা যেসব ভবিষ্যদ্বাণী করে , তা হয় সম্পূর্ণ অনুমানভিত্তিক , নচেৎ মেঘের ভেতরে ফেরেশতারা যেসব কথাবার্তা বলেন , তা থেকে জিনদের সংগৃহীত । এর দু'একটা সঠিক হতে পারে এবং অধিকাংশই মিথ্যা ও ভূয়া । ( দ্র . রওযুল উনুফ )
📄 সাহম গোত্রের জ্যোতিষী গায়তালা
সাহম গোত্রের জ্যোতিষী গায়তালা
ইবন ইসহাক বলেন : কিছু বিদ্বান ব্যক্তি আমাকে জানিয়েছেন যে , জাহিলী যুগে বন্ সাহমের গায়তালা নাম্নী এক মহিলা জ্যোতিষী ছিল । তার কাছে জিন আসত । একদিন রাতে সে এসে যমীনের ওপর ধপাস করে পড়ে গেল এবং বলল , আমি এক বিশেষ দিন সম্পর্কে জানি , যা হবে আহত ও নিহত করার দিন । কুরায়শদের লোকেরা একথা শুনে বলল , সে কি বুঝাতে চায় ? পরদিন রাতে সে আবার এসে ধপাস করে যমীনের ওপর পড়ে গেল এবং বলল , গিরিপথ , কা'বের বংশধর গিরিপথে মরবে । ( কা'বের বংশধর অর্থাৎ কুরায়শ ) কথাটা যখন কুরায়শদের কানে গেল , তখন তারা এর মর্ম উদ্ধার করতে পারল না । পরে যখন বদর ও উহুদের যুদ্ধ গিরিপথে সংঘটিত হল এবং নেতৃস্থানীয় কুরায়শরা নিহত হল , তখন তারা কথাটার মর্ম বুঝল ।
📄 গায়তালার বংশ পরিচয়
গায়তালার বংশ পরিচয়
ইবন হিশাম বলেন : গায়তালা বনূ মুররা ইব্ন আবদে মানাত ইব্ন কিনানার মুদলিজ শাখার এক মহিলা । আবূ তালিব স্বীয় কবিতায় যে গায়তালীদের কথা বলেছেন , এ মহিলা তাদেরই মাতা ! আবূ তালিব বলেছেন : যারা গায়তালীদের কথায় বদলে যায় , তাদের আশা কখনো পূর্ণ হয় না । বনূ সাহম ইব্ন আমর ইব্ন হুসায়স গায়তালী গোত্র নামে খ্যাত ৷