📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আরবদের বাড়াবাড়ি

📄 আরবদের বাড়াবাড়ি


আরবদের বাড়াবাড়ি
ইবন ইসহাক বলেন : কুরায়শরা এরপর তাদের বৈষম্যপূর্ণ মতবাদে আরো গোঁড়ামি ও উগ্রতা সংযোজন করে । তারা ইরামরত অবস্থায় খাবারের পানির ব্যবহার করা , যে কোন ধরনের মাখন থেকে ঘি তৈরি করা , পশমের তৈরি তাঁবুতে প্রবেশ করা , এমন ঘরে প্রবেশ করা যা চামড়ার তৈরি , হারাম শরীফে বহিরাগত হাজীদের হারাম শরীফের বাইরে থেকে আনা খাদ্য খাওয়া এবং বাইরে থেকে আনা কাপড় পরে তওয়াফ করাও নিষিদ্ধ ঘোষণা করে । বরং তাদের হারাম শরীফের ভেতরে তৈরি খাবার খেতে হবে এবং ভেতর থেকে সংগৃহীত কাপড় পরতে হবে । কাপড় না পাওয়া গেলে নগ্ন হয়ে তওয়াফ করতে হবে । আর যদি কেউ আত্মমর্যাদাবশত যে কাপড় বাইর থেকে নিয়ে এসেছে , তা পরিধান করে তওয়াফ করে , তাহলে তওয়াফের পর তা পরিত্যাগ করতে হবে । ঐ কাপড় সে নিজে বা অন্য কেউ আর কখনো ব্যবহার করতে পারবে না ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আরবদের সমাজে লাকা প্রথার স্থান

📄 আরবদের সমাজে লাকা প্রথার স্থান


আরবদের সমাজে লাকা প্রথার স্থান
আরবরা এ কাপড়কে লাকা বলত । কুরায়শরা আরবদের এ প্রথা মানতে বাধ্য করে । তারা আরাফাতে অবস্থান করত এবং সেখান থেকে তওয়াফ করার জন্য মক্কায় আসত । পুরুষেরা উলঙ্গ হয়ে আল্লাহর ঘর তওয়াফ করত । আর মহিলারা শরীরের সমস্ত কাপড় খুলে ফেলে কেবল একটা ঢিলে জামা পরে তওয়াফ করত ।
এ অবস্থায় তওয়াফরত জনৈক আরব মহিলা কবি বলেন : “ আজ শরীরের অংশবিশেষ অথবা পুরোটাই প্রকাশিত হবে । যেটুকু প্রকাশিত হবে , তা কারো জন্য হালাল হতে দেব না ।
তওয়াফকারীদের মধ্যে যারা হারাম শরীফের বাইর থেকে কোন কাপড় নিয়ে আসত , তারা তা পরিত্যাগ করত এবং তা সে নিজেও ব্যবহার করত না , অন্যরাও না । জনৈক আরব যখন তার অতি প্রিয় পোশাক এভাবে পরিত্যাগ করল এবং তার কাছে যেতে পারল না , তখন সে দুঃখ করে বলল : “ এর পাশ দিয়ে বারবার যাতায়াত করায় আমার দুঃখ বেড়ে গেছে , যেন তা কেউ ব্যবহার করতে পারছে না । তওয়াফকারীদের সামনে নিক্ষিপ্ত কাপড় হিসাবে পড়ে রয়েছে । ” অথচ তওয়াফ সম্পর্কে ইসলামের বিধান এ হুমস নামক বৈষম্যমূলক প্রথা রহিত করে ।
এ সমস্ত কুসংস্কার চলতে থাকা অবস্থায় আল্লাহ্ তা'আলা মুহাম্মদ (সা:) -কে নবুওয়ত দান করেন , দীনকে তাঁর জন্য সুদৃঢ় করেন এবং হজ্জের বিধি - বিধান প্রবর্তন করেন । তখন আল্লাহ্ এ আয়াত নাযিল করেন : “ এরপর অন্যান্য লোক যেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করে , তোমরাও সে স্থান থেকে প্রত্যাবর্তন করবে । আর আল্লাহ্র নিকট ক্ষমা চাইবে , বস্তুত আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল পরম দয়ালু । ” ( ২ : ১৯৯ )
উক্ত আয়াতে ‘ তোমাদের ' দ্বারা কুরায়শদের এবং ‘ লোকদের ' দ্বারা অন্যান্য আরবদের বুঝান হয়েছে । এরপর তিনি (সা:) হজ্জের বছর সকলকে সঙ্গে নিয়ে আরাফাতে যান , সেখানে অবস্থান করেন এবং তওয়াফের জন্য সেখান থেকে মক্কায় যান ।
বায়তুল্লাহর কাছে লোকদের খানাপিনা ও পোশাক পরা নিষিদ্ধ করা , নগ্ন হয়ে তওয়াফ করতে বাধ্য করা এবং হারাম শরীফের বাইরে থেকে আনা খাবার খাওয়া নিষিদ্ধ করার কুরায়শী মনগড়া বিধি - নিষেধ আল্লাহ্ এ বলে রহিত করেন :
“ হে বনী আদম ! প্রত্যেক সালাতের সময় তোমরা সুন্দর পরিচ্ছদ পরিধান করবে । আহার করবে ও পান করবে । কিন্তু অপব্যয় করবে না । আল্লাহ অপব্যয়কারীকে পসন্দ করেন না । ( হে নবী , আপনি ) বলুন : আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের জন্য যেসব শোভার বস্তু ও বিশুদ্ধ জীবিকা সৃষ্টি করেছেন , তা কে নিষিদ্ধ করেছে ? বলুন , পার্থিব জীবনে বিশেষ করে কিয়ামতের দিনে এ সমস্ত তাদের জন্য , যারা ঈমান আনে । এরূপে জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য আমি নিদর্শন বিশদভাবে বর্ণনা করি । ” ( ৭ : ৩১-৩২ )
এরূপে আল্লাহ্ তাঁর রাসূল পাঠিয়ে ইসলামের মাধ্যমে কুরায়শরা লোকদের মাঝে ‘ হুমস ’ নামক যে কুপ্রথা চালু করেছিল , তা চিরতরে রহিত করেন ।
ইবন ইসহাক বলেন : আবদুল্লাহ ইব্‌ন আবূ বাকর ইব্‌ন মুহাম্মদ ইব্‌ন আমর ইব্‌ন হাযম ( র ) —উসমান ইবন আবু সুলায়মান ইবন জুবায়র ইব্‌ন মুতইম ( রা ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন , আমি ওহী নাযিল হওয়ার আগে রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -কে নিজের উটে আরোহণ করে সাধারণ মানুষের সাথে আরাফার ময়দানে অবস্থান করতে দেখেছি । এরপর আল্লাহ্র অনুগ্রহে তিনি (সা:) সকলকে নিয়ে সেখান থেকে চলে আসেন ।

**টিকাঃ**
যুবায়র ইবন মুতইম রাসূলুল্লাহ (সা:) -কে লোকদের সঙ্গে আরাফার ময়দানে অবস্থানরত দেখে বলেন : ইনি তো হারামের অধিবাসী , তিনি কেন হারামবাসীদের সঙ্গে হারামের ভেতর অবস্থান করলেন না ? ( দ্র . রওযুল উনুফ )

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00