📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 কা'বার উচ্চতা

📄 কা'বার উচ্চতা


কা'বার উচ্চতা
রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর আমলে কা'বা শরীফের উচ্চতা ছিল ১৮ হাত । প্রথমে কুবাতা ' এবং পরে বুরূদ ' জাতীয় সাধারণ কাপড় দিয়ে কা'বার গেলাফ চড়ানো হত । সর্বপ্রথম রেশমী গেলাফ চড়ান হাজ্জাজ ইবন ইউসুফ ।

**টিকাঃ**
২. কুবাতা হল , মিসরে তৈরি এক ধরনের সাদা কাপড় ।
৩. বুরূদ হল , ইয়ামানে তৈরি এক প্রকার কাপড় ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 হুমসের বর্ণনা

📄 হুমসের বর্ণনা


হুমসের বর্ণনা ( কুরায়শদের মাঝে হুমস প্রথা )
ইবন ইসহাক বলেন কুরায়শরা ' ইমস ' নামক একটি মতবাদ উদ্ভাবন করেছিল । এটি তারা আবরাহার কা'বা অভিযানের আগে করেছিল না পরে , তা আমার জানা নেই । এ মতবাদটি তারা ব্যাপকভাবে প্রচারও করে । এ মতবাদের সারকথা হল , তারা দাবি করত যে , “ আমরা ইবরাহীমের বংশধর হিসাবে যাবতীয় মর্যাদা ও সম্মানের অধিকারী । আমরা কা'বা শরীফের তত্ত্বাবধায়ক , মক্কার অধিবাসী ও নেতা । সুতরাং আমাদের মর্যাদা ও অধিকার আরবের অন্য সকলের চেয়ে বেশি । আমাদের মত ব্যাপক খ্যাতি ও পরিচিতি আর কারো নেই । হারাম শরীফের ন্যায় মর্যাদা , হারাম শরীফ বহির্ভূত এলাকার নেই । তা যদি থাকে , তাহলে আরব জাতির ওপর কুরায়শের কোন শ্রেষ্ঠত্ব থাকবে না । ” তারা আরো বলত , আরবরা হারাম শরীফ ও তার বাইরের এলাকার মর্যাদা সমান করে ফেলেছে । সেজন্য আরাফাত ময়দানে অবস্থান এবং সেখান থেকে কা'বার দিকে যাত্রা করা তারা পরিত্যাগ করেছে । অথচ তারা জানে যে , এ কাজটা হজ্জ ও ইবরাহীম ( আ ) আনীত দীনের অন্তর্ভুক্ত । কুরায়শরা মনে করত , আরাফাত ময়দানে অবস্থান ও সেখান থেকে কা'বা অভিমুখে আসা অন্যান্য আরবদের দায়িত্ব , তাদের নয় । তারা মনে করত যে , “ আমরা হারাম শরীফের অধিবাসী । কাজেই আমাদের এখান থেকে বের হওয়া এবং হারাম শরীফের বহির্ভূত কোন স্থানকে হারাম শরীফের মত সম্মান দেয়া আমাদের কর্তব্য নয় । ” এরপর এ বৈষম্যমূলক ধ্যান - ধারণা তারা হারামবাসীর বংশধর এবং অ - হারামবাসীর বংশধরের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করে , নিছক জন্মের সূত্র ধরে । হারামবাসীর বংশধরের জন্য যেমন কিছু কাজ বৈধ ও কিছু কাজ অবৈধ সাব্যস্ত হতে থাকে , তেমনি হারাম শরীফ বহির্ভূতদের বংশধরদের জন্যও কিছু কাজ বৈধ ও কিছু কাজ অবৈধ বলে চিহ্নিত হতে থাকে ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 কুরায়শদের এ মতবাদে অন্যান্য গোত্রের সম্মতি

📄 কুরায়শদের এ মতবাদে অন্যান্য গোত্রের সম্মতি


কুরায়শদের এ মতবাদে অন্যান্য গোত্রের সম্মতি
পরবর্তীকালে বনূ কিনানাও কুরায়শদের এ মতবাদ মেনে নেয় ।
উল্লিখিত বনূ আমির ইব্‌ন সা'সা'আ - এর সাথে বনূ হানযালা ইবন মালিক গোত্রের এক সংঘর্ষ ঘটে জাবালা নামক স্থানে এবং তাতে বনূ আমির বনু হানযালার ওপর জয়লাভ করে ।
ইন হিশাম বলেন : আবূ উবায়দা নাবী আমাকে জানিয়েছেন যে , বনূ আমির , ইন সা‘সা'আ ইব্‌ন মুআবিয়া ইবন বকর ইব্‌ন হাওয়াযিন পরবর্তীকালে এ মতবাদ মেনে নেয় । আবূ উবায়দা আমাকে আমর ইব্‌ন মা'দীকারিবের একটি কবিতা শোনান :
“ ওহে আব্বাস ইবন মিরদাস সুলামী ! আমাদের ঘোড়াগুলো যদি মোটাতাজা হত , তাহলে তাসলীসে তুমি বনূ আমির ইব্‌ন সা'সা আর সাথে যুদ্ধ লিপ্ত হতে না । এ উদ্দেশ্যে যে , উক্ত আব্বাস তাসলীস নামক স্থানে বনূ যুবায়দের ওপর হামলা চালিয়েছিল । ”
আর আবূ উবায়দা আমাকে লাকীত ইবন যারারা দারিমীর জাবালা যুদ্ধ সম্পর্কে কবিতা ( যা ইসলামের আবির্ভাবের চল্লিশ বছর আগে অনুষ্ঠিত হয় এবং এ যুদ্ধ ছিল রাসূলের জন্মের বছর শোনান : “ সাবধান , বনূ আস হচ্ছে হুমস মতবাদে বিশ্বাসীদের মধ্যে বিশেষ মর্যাদাবান গোষ্ঠী । কারণ জাবালার যুদ্ধে বনূ আস বনূ আমির ইব্‌ন সার্সা আর মিত্র ছিল । ”
আর সেদিন লাকীত ইবন যুরারা ইব্‌ন উদুস ( মতান্তরে আদাস ) নিহত এবং হাযিব ইন যুরারা ইব্‌ন উদুস , আমর ইবন আমর ইব্‌ন উদুস ইব্‌ন যায়দ ইব্‌ন আবদুল্লাহ ইব্‌ন দারিম ইব্‌ন মালিক ইব্‌ন হানযালা বন্দী হয় । এ সম্পর্কে কবি ফারাযদাকের কবিতা নিম্নরূপ :
“ তুমি বোধ হয় লাকীত , হাজিব ও আমর ইব্‌ন আমরকে দেখনি । যখন তারা দারিমকে ডেকেছিল । ” এটা ফারাযদাকের দীর্ঘ কবিতার অংশবিশেষ ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 যুনাজাবের যুদ্ধ

📄 যুনাজাবের যুদ্ধ


ঘৃনাজাবের যুদ্ধ
তারপর মাত্তায়ানের নিকটস্থ উপত্যকা ঘূনাজাবে যে যুদ্ধ হয় , তাতে বনূ ‘ আমিরের ওপর হানযালা গোত্র জয়ী হয় । সেদিন ইব্‌ন কাবশা নামে খ্যাত হাস্সান ইবন মুআবিয়া কিন্দী নিহত হন এবং ইয়াযীদ ইব্‌ন সাইক কিলাবী বন্দী হন । এ যুদ্ধে তুফায়ল ইব্‌ন মালিক ইব্‌ন জা'ফর ইব্‌ন কিলাব ও আবূ আমির ইব্‌ন তুফায়ল পরাজিত হয় । এ যুদ্ধ সম্পর্কে ফারাযদাকের কবিতা হল :
“ তুফায়ল ইব্‌ন মালিক যখন কুরফুল নামক ঘোড়ায় চড়ে পলায়নপর এক পরাজিত ব্যক্তিকে উদ্ধার করল , তখন আমরা ইব্‌ন খুওয়ায়লিদের গর্দান মেরে দিলাম । ফলে পেঁচার ( নিহতের সংখ্যা কেবল বাড়িয়েই দিলাম ।
আর জারীরের কবিতার অংশ নিম্নরূপ :
“ আমরা ইব্‌ন কাবশার মুকুটকে রক্তে রঞ্জিত করে দিলাম এবং সে ঘোড়ার আস্তাবলে মুখ থুবড়ে পড়ে গেল । ” আর জাবালা ও যূ - নাজাবের যুদ্ধের বৃত্তান্ত অনেক দীর্ঘ । ফিজার যুদ্ধের মত এ কাহিনীরও আমি এখানেই ইতি টানলাম , যাতে মূল সীরাত আলোচনায় ছেদ না পড়ে ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00