📄 কা'বাঘরের সাপ সম্পর্কে যুবায়রের কবিতা
কা'বা ঘরের সাপ সম্পর্কে যুবায়রের কবিতা
সংস্কার কাজটি সম্পন্ন হলে রাসূলুল্লাহ (সা:) -এর চাচা যুবায়র ইব্ন আবদুল মুত্তালিব ইতিপূর্বে কা'বার দেয়ালে যে সাপটি দেখে কুরায়শরা আতংকগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল , তা নিয়ে নিম্নোক্ত কবিতা রচনা করেন । তিনি বলেন :
“ যে সাপটি কুরায়শদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দেখা দিয়েছিল , একটি ঈগল কিরূপ নির্ভুলভাবে ছোঁ মেরে তাকে ধরে নিয়ে গেল ; তা দেখে আমি বিস্মিত হয়েছি । সাপটি কখনো কুণ্ডলী পাকিয়ে , কখনো ফণা তুলে ছোবল মারার ভঙ্গীতে থাকত । যখনই আমরা কা'বা সংস্কারে উদ্যোগ নিয়েছি , তখন - ই সে রুখে দাঁড়িয়েছে এবং তার স্বভাবসুলভ ভীতিপ্রদ ভঙ্গীতে ভয় দেখিয়েছে । আমরা যখন এই আপদের ভয়ে আড়ষ্ট হয়ে গেলাম , তখন এ ঈগলটি এসে আমাদের রক্ষা করল এবং সংস্কারের কাজে আমাদের আর কোন বাধা থাকল না । পরদিন আমরা সকলে নগ্ন হয়ে সংস্কার কজে লেগে গেলাম । মহান আল্লাহ্ এ কাজটি করার সুযোগ দিয়ে ধনু লুআই তথা আমাদের গৌরবান্বিত করলেন । তবে তাদের পরে বনু আদী , বনূ মুররাও একাজে উদ্যোগী হয়েছে । বনূ কিলাব ছিল একাজে তাদের চেয়েও অগ্রণী । আল্লাহ্ আমাদের সসম্মানে কা'বার নিকট বসবাসের অধিকারও দিয়েছেন । আশা করা যায় , এ কাজের প্রতিদান আল্লাহ্র কাছে পাওয়া যাবে । ”
**টিকাঃ**
১. সহীহ্ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে , কুরায়শরা সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে কা'বা সংস্কারের জন্য পাথর সংগ্রহ করেছিল এবং এটিকে তারা একটি পূণ্যের কাজ মনে করত ।
📄 কা'বার উচ্চতা
কা'বার উচ্চতা
রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর আমলে কা'বা শরীফের উচ্চতা ছিল ১৮ হাত । প্রথমে কুবাতা ' এবং পরে বুরূদ ' জাতীয় সাধারণ কাপড় দিয়ে কা'বার গেলাফ চড়ানো হত । সর্বপ্রথম রেশমী গেলাফ চড়ান হাজ্জাজ ইবন ইউসুফ ।
**টিকাঃ**
২. কুবাতা হল , মিসরে তৈরি এক ধরনের সাদা কাপড় ।
৩. বুরূদ হল , ইয়ামানে তৈরি এক প্রকার কাপড় ।
📄 হুমসের বর্ণনা
হুমসের বর্ণনা ( কুরায়শদের মাঝে হুমস প্রথা )
ইবন ইসহাক বলেন কুরায়শরা ' ইমস ' নামক একটি মতবাদ উদ্ভাবন করেছিল । এটি তারা আবরাহার কা'বা অভিযানের আগে করেছিল না পরে , তা আমার জানা নেই । এ মতবাদটি তারা ব্যাপকভাবে প্রচারও করে । এ মতবাদের সারকথা হল , তারা দাবি করত যে , “ আমরা ইবরাহীমের বংশধর হিসাবে যাবতীয় মর্যাদা ও সম্মানের অধিকারী । আমরা কা'বা শরীফের তত্ত্বাবধায়ক , মক্কার অধিবাসী ও নেতা । সুতরাং আমাদের মর্যাদা ও অধিকার আরবের অন্য সকলের চেয়ে বেশি । আমাদের মত ব্যাপক খ্যাতি ও পরিচিতি আর কারো নেই । হারাম শরীফের ন্যায় মর্যাদা , হারাম শরীফ বহির্ভূত এলাকার নেই । তা যদি থাকে , তাহলে আরব জাতির ওপর কুরায়শের কোন শ্রেষ্ঠত্ব থাকবে না । ” তারা আরো বলত , আরবরা হারাম শরীফ ও তার বাইরের এলাকার মর্যাদা সমান করে ফেলেছে । সেজন্য আরাফাত ময়দানে অবস্থান এবং সেখান থেকে কা'বার দিকে যাত্রা করা তারা পরিত্যাগ করেছে । অথচ তারা জানে যে , এ কাজটা হজ্জ ও ইবরাহীম ( আ ) আনীত দীনের অন্তর্ভুক্ত । কুরায়শরা মনে করত , আরাফাত ময়দানে অবস্থান ও সেখান থেকে কা'বা অভিমুখে আসা অন্যান্য আরবদের দায়িত্ব , তাদের নয় । তারা মনে করত যে , “ আমরা হারাম শরীফের অধিবাসী । কাজেই আমাদের এখান থেকে বের হওয়া এবং হারাম শরীফের বহির্ভূত কোন স্থানকে হারাম শরীফের মত সম্মান দেয়া আমাদের কর্তব্য নয় । ” এরপর এ বৈষম্যমূলক ধ্যান - ধারণা তারা হারামবাসীর বংশধর এবং অ - হারামবাসীর বংশধরের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করে , নিছক জন্মের সূত্র ধরে । হারামবাসীর বংশধরের জন্য যেমন কিছু কাজ বৈধ ও কিছু কাজ অবৈধ সাব্যস্ত হতে থাকে , তেমনি হারাম শরীফ বহির্ভূতদের বংশধরদের জন্যও কিছু কাজ বৈধ ও কিছু কাজ অবৈধ বলে চিহ্নিত হতে থাকে ।
📄 কুরায়শদের এ মতবাদে অন্যান্য গোত্রের সম্মতি
কুরায়শদের এ মতবাদে অন্যান্য গোত্রের সম্মতি
পরবর্তীকালে বনূ কিনানাও কুরায়শদের এ মতবাদ মেনে নেয় ।
উল্লিখিত বনূ আমির ইব্ন সা'সা'আ - এর সাথে বনূ হানযালা ইবন মালিক গোত্রের এক সংঘর্ষ ঘটে জাবালা নামক স্থানে এবং তাতে বনূ আমির বনু হানযালার ওপর জয়লাভ করে ।
ইন হিশাম বলেন : আবূ উবায়দা নাবী আমাকে জানিয়েছেন যে , বনূ আমির , ইন সা‘সা'আ ইব্ন মুআবিয়া ইবন বকর ইব্ন হাওয়াযিন পরবর্তীকালে এ মতবাদ মেনে নেয় । আবূ উবায়দা আমাকে আমর ইব্ন মা'দীকারিবের একটি কবিতা শোনান :
“ ওহে আব্বাস ইবন মিরদাস সুলামী ! আমাদের ঘোড়াগুলো যদি মোটাতাজা হত , তাহলে তাসলীসে তুমি বনূ আমির ইব্ন সা'সা আর সাথে যুদ্ধ লিপ্ত হতে না । এ উদ্দেশ্যে যে , উক্ত আব্বাস তাসলীস নামক স্থানে বনূ যুবায়দের ওপর হামলা চালিয়েছিল । ”
আর আবূ উবায়দা আমাকে লাকীত ইবন যারারা দারিমীর জাবালা যুদ্ধ সম্পর্কে কবিতা ( যা ইসলামের আবির্ভাবের চল্লিশ বছর আগে অনুষ্ঠিত হয় এবং এ যুদ্ধ ছিল রাসূলের জন্মের বছর শোনান : “ সাবধান , বনূ আস হচ্ছে হুমস মতবাদে বিশ্বাসীদের মধ্যে বিশেষ মর্যাদাবান গোষ্ঠী । কারণ জাবালার যুদ্ধে বনূ আস বনূ আমির ইব্ন সার্সা আর মিত্র ছিল । ”
আর সেদিন লাকীত ইবন যুরারা ইব্ন উদুস ( মতান্তরে আদাস ) নিহত এবং হাযিব ইন যুরারা ইব্ন উদুস , আমর ইবন আমর ইব্ন উদুস ইব্ন যায়দ ইব্ন আবদুল্লাহ ইব্ন দারিম ইব্ন মালিক ইব্ন হানযালা বন্দী হয় । এ সম্পর্কে কবি ফারাযদাকের কবিতা নিম্নরূপ :
“ তুমি বোধ হয় লাকীত , হাজিব ও আমর ইব্ন আমরকে দেখনি । যখন তারা দারিমকে ডেকেছিল । ” এটা ফারাযদাকের দীর্ঘ কবিতার অংশবিশেষ ।