📄 আবূ ওয়াহবের ঘটনা
কা'বা শরীফ সংস্কার ও পাথর স্থাপনের প্রশ্নে কুরায়শ নেতৃবৃন্দের বিবাদ মীমাংসায় রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর ফায়সালা
( কুরায়শ কর্তৃক কা'বা সংস্কারের কারণ ) ইন ইসহাক বলেন : রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর বয়স যখন পঁয়ত্রিশ বছর , তখন কুরায়শ বংশের লোকেরা কা'বা সংস্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে । তাদের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ছিল পবিত্র কা'বার ছাদ তৈরি করা । কেননা ছাদ নির্মাণ না করলে দেয়াল ধসে যাওয়ার আশংকা ছিল । আর তাও শুধু পাথরের উপর পাথর সাজিয়ে মানবদেহ থেকে সামান্য উঁচু করে নির্মাণ করা হয়েছিল । কোন গাঁথুনি ছিল না । তারা কা'বার দেয়াল আরো উঁচু করা ও ছাদ নির্মাণ করার উদ্যোগ নিল । এর প্রধান কারণ ছিল এই যে , একদল চোর কা'বা শরীফের অভ্যন্তরের কূপে রক্ষিত মূল্যবান রত্নরাজি চুরি করেছিল । যার কাছে এই চোরাই মাল পাওয়া যায় , সে ছিল খুযাআ গোত্রের বনূ মুলায়হ ইব্ন আমর পরিবারের জনৈক মুক্ত গোলাম । তার নাম দুওয়ায়ক । ইবন হিশাম বলেন , কুরায়শ নেতৃবৃন্দ দুওয়ায়কের হাত কেটে দিল । তবে তাদের ধারণা ছিল যে , প্রকৃতপক্ষে দুওয়ায়ক আসল চোর নয় — যারা চুরি করেছে তারাই দুওয়ায়কের কাছে এ মাল রেখেছিল ।
ঘটনাক্রমে ঐ সময় জনৈক রোমান ব্যবসায়ীর একখানা জাহাজ সমুদ্রের প্রবাহের সাথে ভেসে জেদ্দার উপকূলে এসে আছড়ে পড়ে এবং ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায় । কুরায়শ বংশের লোকেরা এই ভাঙ্গা জাহাজের তক্তাগুলো কিনে নিয়ে যায় এবং পবিত্র কা'বার ছাদ তৈরির কাজে ব্যবহার করার জন্য তা কেটে ঠিকঠাক করে । একই সময় মক্কায় জনৈক মিসরীয় রাজমিস্ত্রীর আবির্ভাব ঘটে । কুরায়শ নেতারা মনে মনে স্থির করে ফেলে যে , পবিত্র কা'বার সংস্কারে তাকে দিয়ে কিছু কাজ নেয়া হোক । তৎকালে কা'বার ভেতরের কূপ থেকে প্রতিদিন একটা সাপ উঠে আসত , এবং কা'বার দেয়ালের ওপর রোদ পোহাত । যে কূপ থেকে সাপটা উঠে আসত তার মধ্যে কা'বার জন্য মানতকৃত জিনিসপত্র নিক্ষেপ করা হত । সাপের কারণে কুরায়শরা আতংকিত ছিল । কেননা সেটি এমন ভয়ংকর ছিল যে , কেউ তার ধারেও যেতে সাহস পেত না । কেউ তার কাছে গেলেই সে ফণা তুলে ফোঁস করে উঠত । এভাবে একদিন সাপটি যখন কা'বার দেয়ালের উপর রোদ পোহাচ্ছিল , তখন আল্লাহ্ সেখানে একটা পাখি পাঠালেন । পাখি সাপটাকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল । তখন কুরায়শরা আশ্বস্ত হয়ে বলল : মনে হচ্ছে আল্লাহ্ আমাদের ইচ্ছায় সম্মতি দিয়েছেন । আজ আমাদের হাতে একজন সুযোগ্য মিস্ত্রী রয়েছে এবং আমাদের কাছে প্রয়োজনীয় কাঠও আছে । আর সাপের হাত থেকেও আল্লাহ্ রেহাই দিয়েছেন ।
আবূ ওয়াহবের ঘটনা
এরপর তারা কা'বার দেয়াল ভেঙ্গে তা নতুন করে নির্মাণের আয়োজন করল । এই সময় বনূ মাখযূমের বিশিষ্ট ব্যক্তি আবূ ওয়াহ্ ইব্ন আমর ইব্ন আইয ইব্ন আবদ ইব্ন ইমরান ইব্ন মাখযূম এবং ইব্ন হিশাম - এর মতে আইয ইব্ন ইমরান ইব্ন মাখযূম উঠে কা'বার একটা পাথর বিচ্ছিন্ন করে হাতে তুলে নিলেন । কিন্তু পাথরটি তৎক্ষণাৎ তার হাত থেকে ছুটে গিয়ে যেখানে ছিল সেখানে গিয়ে আপনা - আপনি পুনঃস্থাপিত হল । এই আশ্চর্য ব্যাপার দেখে তিনি বললেন : “ হে কুরায়শের লোকেরা ! তোমরা এই কা'বা শরীফ নির্মাণে শুধু তোমাদের বৈধভাবে উপার্জিত সম্পদ নিয়োজিত কর । এতে ব্যভিচার , সুদ কিংবা উৎপীড়ন দ্বারা অর্জিত সম্পদ ব্যয় করো না । ” সাধারণ ঐতিহাসিকগণ বলে থাকেন যে , এ উক্তিটি ওয়ালীদ ইবনুল মুগীরা ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইবন উমর ইব্ন মাখযূম বলেছিল । ইবন ইসহাক বলেন , আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবূ নাজীহ আল - মাক্কী আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে , আবদুল্লাহ্ ইব্ন সাফওয়ান ইব্ন উমাইয়া ইব্ন খালাফ ইব্ন ইব্ন ওয়াব হুযাফা ইবন জুমাহ ইবন আমর ইব্ন হুসায়স ইব্ন কা'ব লুআই - এর বরাতে বর্ণনা করা হয়েছে যে , তিনি জাদা ইব্ন হুরায়রা ইব্ন আবূ ওয়া ইন আমরের ছেলেকে কা'বা শরীফ তওয়াফ করতে দেখে জিজ্ঞেস করলেন , এ ছেলেটি কে এ তাকে বলা হল যে , সে জা'দ ইব্ন হুবায়রার ছেলে । আবদুল্লাহ্ ইব্ন সাফওয়ান বলেন , ঠিক এই সময়ে আবূ ওয়াত্ব যিনি কুরায়শ কর্তৃক কা'বাকে ধসিয়ে দেয়ার সংকল্প নেয়ার পর কা'বার একটি পাথর হাতে নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন , পুনরায় অগ্রসর হলেন । কিন্তু পাথরটি তার হাত থেকে লাফ দিয়ে তার নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে পড়ল । তখন আবূ ওয়াত্ব বললেন , হে কুরায়শ বংশের লোকেরা ! কা'বা সংস্কারে তোমরা তোমাদের উপার্জন থেকে পবিত্র অর্থ ছাড়া আর কিছু ব্যয় করো না । ব্যভিচার , সুদ বা যুলুম থেকে অর্জিত অর্থ এতে নিয়োগ করো না ।
কা'বা শরীফ সংস্কার ও পাথর স্থাপনের প্রশ্নে কুরায়শ নেতৃবৃন্দের বিবাদ মীমাংসায় রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর ফায়সালা
( কুরায়শ কর্তৃক কা'বা সংস্কারের কারণ ) ইন ইসহাক বলেন : রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর বয়স যখন পঁয়ত্রিশ বছর , তখন কুরায়শ বংশের লোকেরা কা'বা সংস্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে । তাদের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ছিল পবিত্র কা'বার ছাদ তৈরি করা । কেননা ছাদ নির্মাণ না করলে দেয়াল ধসে যাওয়ার আশংকা ছিল । আর তাও শুধু পাথরের উপর পাথর সাজিয়ে মানবদেহ থেকে সামান্য উঁচু করে নির্মাণ করা হয়েছিল । কোন গাঁথুনি ছিল না । তারা কা'বার দেয়াল আরো উঁচু করা ও ছাদ নির্মাণ করার উদ্যোগ নিল । এর প্রধান কারণ ছিল এই যে , একদল চোর কা'বা শরীফের অভ্যন্তরের কূপে রক্ষিত মূল্যবান রত্নরাজি চুরি করেছিল । যার কাছে এই চোরাই মাল পাওয়া যায় , সে ছিল খুযাআ গোত্রের বনূ মুলায়হ ইব্ন আমর পরিবারের জনৈক মুক্ত গোলাম । তার নাম দুওয়ায়ক । ইবন হিশাম বলেন , কুরায়শ নেতৃবৃন্দ দুওয়ায়কের হাত কেটে দিল । তবে তাদের ধারণা ছিল যে , প্রকৃতপক্ষে দুওয়ায়ক আসল চোর নয় — যারা চুরি করেছে তারাই দুওয়ায়কের কাছে এ মাল রেখেছিল ।
ঘটনাক্রমে ঐ সময় জনৈক রোমান ব্যবসায়ীর একখানা জাহাজ সমুদ্রের প্রবাহের সাথে ভেসে জেদ্দার উপকূলে এসে আছড়ে পড়ে এবং ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায় । কুরায়শ বংশের লোকেরা এই ভাঙ্গা জাহাজের তক্তাগুলো কিনে নিয়ে যায় এবং পবিত্র কা'বার ছাদ তৈরির কাজে ব্যবহার করার জন্য তা কেটে ঠিকঠাক করে । একই সময় মক্কায় জনৈক মিসরীয় রাজমিস্ত্রীর আবির্ভাব ঘটে । কুরায়শ নেতারা মনে মনে স্থির করে ফেলে যে , পবিত্র কা'বার সংস্কারে তাকে দিয়ে কিছু কাজ নেয়া হোক । তৎকালে কা'বার ভেতরের কূপ থেকে প্রতিদিন একটা সাপ উঠে আসত , এবং কা'বার দেয়ালের ওপর রোদ পোহাত । যে কূপ থেকে সাপটা উঠে আসত তার মধ্যে কা'বার জন্য মানতকৃত জিনিসপত্র নিক্ষেপ করা হত । সাপের কারণে কুরায়শরা আতংকিত ছিল । কেননা সেটি এমন ভয়ংকর ছিল যে , কেউ তার ধারেও যেতে সাহস পেত না । কেউ তার কাছে গেলেই সে ফণা তুলে ফোঁস করে উঠত । এভাবে একদিন সাপটি যখন কা'বার দেয়ালের উপর রোদ পোহাচ্ছিল , তখন আল্লাহ্ সেখানে একটা পাখি পাঠালেন । পাখি সাপটাকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল । তখন কুরায়শরা আশ্বস্ত হয়ে বলল : মনে হচ্ছে আল্লাহ্ আমাদের ইচ্ছায় সম্মতি দিয়েছেন । আজ আমাদের হাতে একজন সুযোগ্য মিস্ত্রী রয়েছে এবং আমাদের কাছে প্রয়োজনীয় কাঠও আছে । আর সাপের হাত থেকেও আল্লাহ্ রেহাই দিয়েছেন ।
আবূ ওয়াহবের ঘটনা
এরপর তারা কা'বার দেয়াল ভেঙ্গে তা নতুন করে নির্মাণের আয়োজন করল । এই সময় বনূ মাখযূমের বিশিষ্ট ব্যক্তি আবূ ওয়াহ্ ইব্ন আমর ইব্ন আইয ইব্ন আবদ ইব্ন ইমরান ইব্ন মাখযূম এবং ইব্ন হিশাম - এর মতে আইয ইব্ন ইমরান ইব্ন মাখযূম উঠে কা'বার একটা পাথর বিচ্ছিন্ন করে হাতে তুলে নিলেন । কিন্তু পাথরটি তৎক্ষণাৎ তার হাত থেকে ছুটে গিয়ে যেখানে ছিল সেখানে গিয়ে আপনা - আপনি পুনঃস্থাপিত হল । এই আশ্চর্য ব্যাপার দেখে তিনি বললেন : “ হে কুরায়শের লোকেরা ! তোমরা এই কা'বা শরীফ নির্মাণে শুধু তোমাদের বৈধভাবে উপার্জিত সম্পদ নিয়োজিত কর । এতে ব্যভিচার , সুদ কিংবা উৎপীড়ন দ্বারা অর্জিত সম্পদ ব্যয় করো না । ” সাধারণ ঐতিহাসিকগণ বলে থাকেন যে , এ উক্তিটি ওয়ালীদ ইবনুল মুগীরা ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইবন উমর ইব্ন মাখযূম বলেছিল । ইবন ইসহাক বলেন , আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবূ নাজীহ আল - মাক্কী আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে , আবদুল্লাহ্ ইব্ন সাফওয়ান ইব্ন উমাইয়া ইব্ন খালাফ ইব্ন ইব্ন ওয়াব হুযাফা ইবন জুমাহ ইবন আমর ইব্ন হুসায়স ইব্ন কা'ব লুআই - এর বরাতে বর্ণনা করা হয়েছে যে , তিনি জাদা ইব্ন হুরায়রা ইব্ন আবূ ওয়া ইন আমরের ছেলেকে কা'বা শরীফ তওয়াফ করতে দেখে জিজ্ঞেস করলেন , এ ছেলেটি কে এ তাকে বলা হল যে , সে জা'দ ইব্ন হুবায়রার ছেলে । আবদুল্লাহ্ ইব্ন সাফওয়ান বলেন , ঠিক এই সময়ে আবূ ওয়াত্ব যিনি কুরায়শ কর্তৃক কা'বাকে ধসিয়ে দেয়ার সংকল্প নেয়ার পর কা'বার একটি পাথর হাতে নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন , পুনরায় অগ্রসর হলেন । কিন্তু পাথরটি তার হাত থেকে লাফ দিয়ে তার নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে পড়ল । তখন আবূ ওয়াত্ব বললেন , হে কুরায়শ বংশের লোকেরা ! কা'বা সংস্কারে তোমরা তোমাদের উপার্জন থেকে পবিত্র অর্থ ছাড়া আর কিছু ব্যয় করো না । ব্যভিচার , সুদ বা যুলুম থেকে অর্জিত অর্থ এতে নিয়োগ করো না ।
📄 আবু ওয়াহবের সাথে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সম্পর্ক
আবু ওয়াহবের সাথে রাসুলুল্লাহ্ (সা:) -এর সম্পর্ক
ইবন ইসহাক বলেন উল্লিখিত আৰু ওয়াহর রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর পিতার মামা ছিলেন । তিনি ছিলেন । একজন মর্যাদাবান ব্যক্তি । তার সম্পর্কে আরবের জনৈক কবি বলেন :
“ আবূ ওয়াহবের সম্মানার্থে যদি আমার উটনী পাঠিয়ে দেই , তাহলে তার মজলিস থেকে তার ( উটনীর ) হাওদা বিফল ও খালি যাবে না । তার বংশ লতিকা পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে , তা ' লুআই ' ইবন গালিবের উভয় শাখার সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল ধারা । আবূ ওয়াহব অন্যায়ের প্রতিশোধ নেয়ার জন্য দরবার ডাকেন , তার পিতামহ ও মাতামহ শ্রেষ্ঠ পূর্বপুরুষদের মধ্যমণি । আবূ ওয়াবের উনুনে সব সময় রান্নার কাজ চলত এবং তার পাত্রগুলো সব সময় রুটিতে পরিপূর্ণ থাকত । পাত্রগুলোর ওপর চর্বির পরত লেগে থাকত ।
আবু ওয়াহবের সাথে রাসুলুল্লাহ্ (সা:) -এর সম্পর্ক
ইবন ইসহাক বলেন উল্লিখিত আৰু ওয়াহর রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর পিতার মামা ছিলেন । তিনি ছিলেন । একজন মর্যাদাবান ব্যক্তি । তার সম্পর্কে আরবের জনৈক কবি বলেন :
“ আবূ ওয়াহবের সম্মানার্থে যদি আমার উটনী পাঠিয়ে দেই , তাহলে তার মজলিস থেকে তার ( উটনীর ) হাওদা বিফল ও খালি যাবে না । তার বংশ লতিকা পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে , তা ' লুআই ' ইবন গালিবের উভয় শাখার সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল ধারা । আবূ ওয়াহব অন্যায়ের প্রতিশোধ নেয়ার জন্য দরবার ডাকেন , তার পিতামহ ও মাতামহ শ্রেষ্ঠ পূর্বপুরুষদের মধ্যমণি । আবূ ওয়াবের উনুনে সব সময় রান্নার কাজ চলত এবং তার পাত্রগুলো সব সময় রুটিতে পরিপূর্ণ থাকত । পাত্রগুলোর ওপর চর্বির পরত লেগে থাকত ।
📄 কা'বা সংস্কারের কাজ কুরায়শ কর্তৃক নিজেদের মধ্যে বণ্টন
কা'বা সংস্কারের কাজ কুরায়শ কর্তৃক নিজেদের মধ্যে বন্টন
তারপর কুরায়শ কা'বাগৃহ সংস্কারের কাজ নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিল । দরজার দিকের অংশ সংস্কারের ভার পড়ল বনূ আবদ মানাফ ও বনূ যুহরা নামক কুরায়শ গোত্রদ্বয়ের ওপর । রুকনে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানীর মধ্যবর্তী অংশ বনূ মাখযূম গোত্রের ওপর এবং তাদের সাথে আরো কয়েকটি কুরায়শী গোত্র যুক্ত হল । কা'বার ছাদ পড়ল বনূ জুমাহ ও বনূ সাহমের ভাগে । এ দু'টি গোত্র হল আমর ইবন হুসায়স ইবন কা'ব ইবন লুআই - এর বংশধর । হিজরের অংশ সংস্কারের দায়িত্ব অর্পিত হল বনু আবদুদদার ইবন কুসাই , বনূ আসাদ ইবন আবদুল উয্যা ইব্ন কুসাই ও বনূ আদী ইবন কা'ব ইব্ন লুআই - এর ওপর । এ অংশটিকেই হাতীম বলা হয় । '
**টিকাঃ**
১. হাতীমের শব্দার্থ ধ্বংসপ্রাপ্ত । এরূপ নামকরণের কারণ এই যে , এই স্থানটিতে লোকেরা এত বেশি ভিড় জমাত যে , একে অপরের দ্বারা মারা যাওয়ার উপক্রম হত । কারো কারো মতে এর কারণ এই যে , জাহিলী যুগে এই স্থানে এসে লোকেরা পরিধেয় বস্ত্র খুলে নগ্ন হয়ে যেত । ( শারহুস সীরাহ — আবূ যর )
কা'বা সংস্কারের কাজ কুরায়শ কর্তৃক নিজেদের মধ্যে বন্টন
তারপর কুরায়শ কা'বাগৃহ সংস্কারের কাজ নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিল । দরজার দিকের অংশ সংস্কারের ভার পড়ল বনূ আবদ মানাফ ও বনূ যুহরা নামক কুরায়শ গোত্রদ্বয়ের ওপর । রুকনে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানীর মধ্যবর্তী অংশ বনূ মাখযূম গোত্রের ওপর এবং তাদের সাথে আরো কয়েকটি কুরায়শী গোত্র যুক্ত হল । কা'বার ছাদ পড়ল বনূ জুমাহ ও বনূ সাহমের ভাগে । এ দু'টি গোত্র হল আমর ইবন হুসায়স ইবন কা'ব ইবন লুআই - এর বংশধর । হিজরের অংশ সংস্কারের দায়িত্ব অর্পিত হল বনু আবদুদদার ইবন কুসাই , বনূ আসাদ ইবন আবদুল উয্যা ইব্ন কুসাই ও বনূ আদী ইবন কা'ব ইব্ন লুআই - এর ওপর । এ অংশটিকেই হাতীম বলা হয় । '
**টিকাঃ**
১. হাতীমের শব্দার্থ ধ্বংসপ্রাপ্ত । এরূপ নামকরণের কারণ এই যে , এই স্থানটিতে লোকেরা এত বেশি ভিড় জমাত যে , একে অপরের দ্বারা মারা যাওয়ার উপক্রম হত । কারো কারো মতে এর কারণ এই যে , জাহিলী যুগে এই স্থানে এসে লোকেরা পরিধেয় বস্ত্র খুলে নগ্ন হয়ে যেত । ( শারহুস সীরাহ — আবূ যর )
📄 ওয়ালীদ ইব্ন মুগীরা, কা'বাঘর ভাগ ও ভাগ অংশের নীচে প্রাপ্ত বস্তুসমূহ
ওয়ালীদ ইবন মুগীরা , কা'বাঘর ভাঙা ও ভাঙা অংশের নিচে প্রাপ্ত বস্তুসমূহ
কা'বাঘর ভাঙতে গিয়ে লোকদের মধ্যে আতংকের সঞ্চার হল । এই অবস্থা দেখে ওয়ালীদ ইবন মুগীরা ঘোষণা করল : “ কা'বাঘর ভাঙার কাজের উদ্বোধন আমিই করছি । ” এই বলেই সে কোদাল হাতে নিয়ে কা'বাঘরের ওপর গিয়ে দাঁড়াল এবং বলতে লাগল । “ হে আল্লাহ্ ! আমরা যেন ভয় - ভীতির শিকার না হই । হে আল্লাহ্ ! আমরা শুধু কল্যাণের উদ্দেশ্যেই এ কাজ করছি । ” ইবন হিশাম বলেন : কারো কারো মতে , সে বলেছিল : “ হে আল্লাহ্ ! আমরা যেন বিপথগামী না হই । ” তারপর সে রুকনে ইয়ামানী ও হাজরে আসওয়াদের কোণ থেকে খানিকটা ভেঙে ফেলল । সেই রাতটি লোকেরা অপেক্ষা করল এবং মনে মনে বলল , দেখা যাক , এর ফলে যদি ওয়ালীদের কোন ক্ষতি হয় , তাহলে আর না ভেঙে আগে যে অবস্থায় ছিল সেই অবস্থায় পুনর্বহাল করে নেব । আর যদি কোন বিপদাপদ না ঘটে , তাহলে মনে করব যে , আল্লাহ্ আমাদের কাজে সন্তুষ্ট । তারপর আরো ভাঙব । পরদিন সকালে ওয়ালীদ আবার তার কাজে ফিরে এল । সে এবং তার সাথে জনতাও কা'বাঘর ভাঙতে লাগল । এভাবে ইবরাহীম আলায়হিস সাল্লামের ভিত্ পর্যন্ত গিয়ে থামল । তারপর তারা সবাই উটের পিঠের উঁচু হাড় সদৃশ একটি দুর্লভ সবুজ পাথর পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছল , যার একটি আর একটি সাথে যুক্ত ছিল ।
ইবন ইসহাক বলেন : এই ঘটনার বর্ণনাকারীদের একজন আমাকে বলেছেন যে , ভাঙার কাজে নিয়োজিত জনৈক কুরায়শী ভিত ভাঙবার জন্য দুটো পাথরের মাঝখান দিয়ে যেই শাবল ঢুকিয়েছে , যাতে তার একটা উঠে আসে , অমনি একটি পাথর নড়ে ওঠার সাথে সাথে গোটা মক্কা নগরী কেঁপে উঠল । এর ফলে সঙ্গে সঙ্গে সকলে ভিত ভাঙার কাজ বন্ধ করল ।
**টিকাঃ**
১. মা'মার ইবন রাশিদ যুহরী থেকে বর্ণনা করেছেন যে , কা'বা পুনঃনির্মাণের সময় কুরায়শীরা তার ভেতর তিনটি পিঠবিশিষ্ট একটি পাথর পায় । তার একপিঠে লেখা ছিল : “ আমি বাক্কার অধিপতি আল্লাহ্ । যেদিন সূর্য ও চন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা করি , সেইদিন বাক্কা তৈরিরও পরিকল্পনা করি । ” বাদ বাকী অংশ ইবন ইসহাক উধৃত বাণীর সমার্থক । দ্বিতীয় পিঠে লেখা ছিল : “ আমি বাক্কার অধিপতি আল্লাহ্ । আমিই রাহেম ( জরায়ু ) সৃষ্টি করেছি এবং এর সাথে মিলিয়ে নিজের একটি নাম রেখেছি ( অর্থাৎ রহীম ) । যে ব্যক্তি জরায়ুর সম্পর্ক ( অর্থাৎ আত্মীয়তার বন্ধন ) ছিন্ন করবে , তার সাথে আমিও সম্পর্ক ছিন্ন করব আর যে জরায়ুর সম্পর্ক রক্ষা করবে , আমিও তার সাথে সম্পর্ক রক্ষা করব । তৃতীয় পিঠে লেখা ছিল : “ আমি বাক্কার অধিপতি আল্লাহ্ । কল্যাণ ও অকল্যাণের স্রষ্টা আমি । যার দ্বারা মানুষের উপকার হয় , তার জন্য সুসংবাদ । আর যার দ্বারা মানুষের ক্ষতি হয় , তার জন্য দুঃসংবাদ । ” ( জামে যুহরী - সীরাতে ইবন হিশামের টীকা দ্র . ) ।
ওয়ালীদ ইবন মুগীরা , কা'বাঘর ভাঙা ও ভাঙা অংশের নিচে প্রাপ্ত বস্তুসমূহ
কা'বাঘর ভাঙতে গিয়ে লোকদের মধ্যে আতংকের সঞ্চার হল । এই অবস্থা দেখে ওয়ালীদ ইবন মুগীরা ঘোষণা করল : “ কা'বাঘর ভাঙার কাজের উদ্বোধন আমিই করছি । ” এই বলেই সে কোদাল হাতে নিয়ে কা'বাঘরের ওপর গিয়ে দাঁড়াল এবং বলতে লাগল । “ হে আল্লাহ্ ! আমরা যেন ভয় - ভীতির শিকার না হই । হে আল্লাহ্ ! আমরা শুধু কল্যাণের উদ্দেশ্যেই এ কাজ করছি । ” ইবন হিশাম বলেন : কারো কারো মতে , সে বলেছিল : “ হে আল্লাহ্ ! আমরা যেন বিপথগামী না হই । ” তারপর সে রুকনে ইয়ামানী ও হাজরে আসওয়াদের কোণ থেকে খানিকটা ভেঙে ফেলল । সেই রাতটি লোকেরা অপেক্ষা করল এবং মনে মনে বলল , দেখা যাক , এর ফলে যদি ওয়ালীদের কোন ক্ষতি হয় , তাহলে আর না ভেঙে আগে যে অবস্থায় ছিল সেই অবস্থায় পুনর্বহাল করে নেব । আর যদি কোন বিপদাপদ না ঘটে , তাহলে মনে করব যে , আল্লাহ্ আমাদের কাজে সন্তুষ্ট । তারপর আরো ভাঙব । পরদিন সকালে ওয়ালীদ আবার তার কাজে ফিরে এল । সে এবং তার সাথে জনতাও কা'বাঘর ভাঙতে লাগল । এভাবে ইবরাহীম আলায়হিস সাল্লামের ভিত্ পর্যন্ত গিয়ে থামল । তারপর তারা সবাই উটের পিঠের উঁচু হাড় সদৃশ একটি দুর্লভ সবুজ পাথর পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছল , যার একটি আর একটি সাথে যুক্ত ছিল ।
ইবন ইসহাক বলেন : এই ঘটনার বর্ণনাকারীদের একজন আমাকে বলেছেন যে , ভাঙার কাজে নিয়োজিত জনৈক কুরায়শী ভিত ভাঙবার জন্য দুটো পাথরের মাঝখান দিয়ে যেই শাবল ঢুকিয়েছে , যাতে তার একটা উঠে আসে , অমনি একটি পাথর নড়ে ওঠার সাথে সাথে গোটা মক্কা নগরী কেঁপে উঠল । এর ফলে সঙ্গে সঙ্গে সকলে ভিত ভাঙার কাজ বন্ধ করল ।
**টিকাঃ**
১. মা'মার ইবন রাশিদ যুহরী থেকে বর্ণনা করেছেন যে , কা'বা পুনঃনির্মাণের সময় কুরায়শীরা তার ভেতর তিনটি পিঠবিশিষ্ট একটি পাথর পায় । তার একপিঠে লেখা ছিল : “ আমি বাক্কার অধিপতি আল্লাহ্ । যেদিন সূর্য ও চন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা করি , সেইদিন বাক্কা তৈরিরও পরিকল্পনা করি । ” বাদ বাকী অংশ ইবন ইসহাক উধৃত বাণীর সমার্থক । দ্বিতীয় পিঠে লেখা ছিল : “ আমি বাক্কার অধিপতি আল্লাহ্ । আমিই রাহেম ( জরায়ু ) সৃষ্টি করেছি এবং এর সাথে মিলিয়ে নিজের একটি নাম রেখেছি ( অর্থাৎ রহীম ) । যে ব্যক্তি জরায়ুর সম্পর্ক ( অর্থাৎ আত্মীয়তার বন্ধন ) ছিন্ন করবে , তার সাথে আমিও সম্পর্ক ছিন্ন করব আর যে জরায়ুর সম্পর্ক রক্ষা করবে , আমিও তার সাথে সম্পর্ক রক্ষা করব । তৃতীয় পিঠে লেখা ছিল : “ আমি বাক্কার অধিপতি আল্লাহ্ । কল্যাণ ও অকল্যাণের স্রষ্টা আমি । যার দ্বারা মানুষের উপকার হয় , তার জন্য সুসংবাদ । আর যার দ্বারা মানুষের ক্ষতি হয় , তার জন্য দুঃসংবাদ । ” ( জামে যুহরী - সীরাতে ইবন হিশামের টীকা দ্র . ) ।