📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 ওয়ারাকার সংগে হযরত খাদীজা (রা)-এর আলোচনা ও রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নবুয়াতের সত্যতা সম্পর্কে ওয়ারাবা ইবন নাওফলের ভবিষ্যদ্বাণী

📄 ওয়ারাকার সংগে হযরত খাদীজা (রা)-এর আলোচনা ও রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নবুয়াতের সত্যতা সম্পর্কে ওয়ারাবা ইবন নাওফলের ভবিষ্যদ্বাণী


ওয়ারাকার সঙ্গে হযরত খাদীজা ( রা ) -এর আলোচনা ও রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর নবুয়তের সত্যতা সম্পর্কে ওয়ারাকা ইবন নাওফলের ভবিষ্যদ্বাণী
ইবন ইসহাক বলেন : খাদীজা বিন্ত খুওয়ায়লিদ ( রা ) -এর চাচাতো ভাই ওয়ারাকা ইবন নাওফল ইব্‌ন আসাদ ইব্‌ন আবদুল উযযা ছিলেন পূর্বতন আসমানী কিতাবসমূহের ব্যাপারে পারদর্শী একজন খ্রিস্টান বিদ্বান ব্যক্তি । এছাড়া পার্থিব জ্ঞানেও তিনি যথেষ্ট ব্যুৎপত্তিসম্পন্ন ছিলেন । হযরত খাদীজা ( রা ) মাইসারার নিকট থেকে সিরীয় ধর্মযাজকের যে মন্তব্য শুনেছিলেন এবং মাইসারা নিজ চোখে দু'জন ফেরেশতা কর্তৃক নবী (সা:) -কে ছায়াদানের যে দৃশ্য অবলোকন করেছিল , তা ওয়ারাকাকে সবিস্তার জানালেন । ওয়ারাকা বললেন , “ খাদীজা ! এসব ঘটনা যদি সত্যই ঘটে থাকে , তাহলে নিশ্চিতভাবে জেনে রাখো যে , মুহাম্মদ (সা:) এ উম্মতের নবী । আমি জানতাম , তিনিই হবেন এ উম্মতের প্রতীক্ষিত নবী । এটা সে নবীরই যুগ । ” এ কথা বলে ওয়ারাকা প্রতীক্ষিত নবীর আগমন এত বিলম্বিত হওয়ায় আক্ষেপ করতে লাগলেন আর বলতে লাগলেন , “ আর কত দেরী । ” তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে নিম্নের স্বরচিত কবিতাটি আবৃত্তি করেন :
“ আমি অত্যন্ত ঔৎসুক্যের সাথে এমন একটি জিনিসকে স্মরণ করে চলছি , যা দীর্ঘদিন যাবত অনেককে কাঁদিয়ে আসছে । সে জিনিসটির অনেক বিবরণের পর নতুন করে খাদীজার কাছ থেকেও বিবরণ পাওয়া গেল । বস্তুত হে খাদীজা , আমার প্রতীক্ষা অনেক দীর্ঘ হয়েছে । আমার প্রত্যাশা , মক্কার উচ্চভূমি ও নিম্নভূমির মাঝখান থেকে যেন তোমার কথার বাস্তবরূপ প্রতিভাত হতে দেখতে পাই , যে কথা তুমি ঈসায়ী ধর্মযাজকের বরাত দিয়ে জানালে । বস্তুত ধর্মযাজকের কথা হেরফের হোক , তা আমি পসন্দ করি না । সে প্রতীক্ষিত ব্যাপারটি এই যে , মুহাম্মদ অচিরেই আমাদের নেতা ও সরদার হবেন এবং তাঁর বিরুদ্ধবাদীদেরকে পরাজিত করবেন । দেশের সর্বত্র তিনি এমন আলো ছড়াবেন , যা দ্বারা সমগ্র সৃষ্টিজগতকে তিনি উদ্ভাসিত করে দেবেন । যারা তাঁর সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হবে , তারা পর্যুদস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে । আর যারা তাঁর সঙ্গে শান্তি ও সম্প্রীতি অন্বেষণ করবে , তারা হবে স্থিতিশীল ও বিজয়ী । আফসোস ! যখন এসব ঘটনা ঘটবে , তখন যদি আমি উপস্থিত থাকতাম , তাহলে তোমাদের সবার আগে আমিই তাঁর দলভুক্ত হতাম । আমি সেই দলের অন্তর্ভুক্ত হতাম , যাকে কুরায়শ খুবই অপসন্দ করত । যদিও তারা নিজেদের মক্কা নগরীতে তাঁর বিরুদ্ধে চিৎকার করে আকাশ - বাতাস মুখরিত করে তুলত । যে জিনিসকে তারা সবাই অপসন্দ করত , আমার প্রত্যাশা এই যে , তা আরশের অধিপতির নিকট পৌঁছে যাবে — যদিও তারা অধঃপতিত হবে । সুউচ্চ প্রাসাদের ওপর আরোহণ- কারীকে যারা গ্রহণ করে তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করা ছাড়া এই অধঃপতনের আর কোন কারণ নেই । কুরায়শরা যদি বেঁচে থাকে আর আমি যদি মারা যাই , তাহলে প্রত্যেক যুবক প্রত্যক্ষ করবে যে , শাশ্বত ধ্যান - ধারণা ও মূল্যবোধের সাংঘাতিক ঘাটতি দেখা দিয়েছে । ”

ওয়ারাকার সঙ্গে হযরত খাদীজা ( রা ) -এর আলোচনা ও রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর নবুয়তের সত্যতা সম্পর্কে ওয়ারাকা ইবন নাওফলের ভবিষ্যদ্বাণী
ইবন ইসহাক বলেন : খাদীজা বিন্ত খুওয়ায়লিদ ( রা ) -এর চাচাতো ভাই ওয়ারাকা ইবন নাওফল ইব্‌ন আসাদ ইব্‌ন আবদুল উযযা ছিলেন পূর্বতন আসমানী কিতাবসমূহের ব্যাপারে পারদর্শী একজন খ্রিস্টান বিদ্বান ব্যক্তি । এছাড়া পার্থিব জ্ঞানেও তিনি যথেষ্ট ব্যুৎপত্তিসম্পন্ন ছিলেন । হযরত খাদীজা ( রা ) মাইসারার নিকট থেকে সিরীয় ধর্মযাজকের যে মন্তব্য শুনেছিলেন এবং মাইসারা নিজ চোখে দু'জন ফেরেশতা কর্তৃক নবী (সা:) -কে ছায়াদানের যে দৃশ্য অবলোকন করেছিল , তা ওয়ারাকাকে সবিস্তার জানালেন । ওয়ারাকা বললেন , “ খাদীজা ! এসব ঘটনা যদি সত্যই ঘটে থাকে , তাহলে নিশ্চিতভাবে জেনে রাখো যে , মুহাম্মদ (সা:) এ উম্মতের নবী । আমি জানতাম , তিনিই হবেন এ উম্মতের প্রতীক্ষিত নবী । এটা সে নবীরই যুগ । ” এ কথা বলে ওয়ারাকা প্রতীক্ষিত নবীর আগমন এত বিলম্বিত হওয়ায় আক্ষেপ করতে লাগলেন আর বলতে লাগলেন , “ আর কত দেরী । ” তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে নিম্নের স্বরচিত কবিতাটি আবৃত্তি করেন :
“ আমি অত্যন্ত ঔৎসুক্যের সাথে এমন একটি জিনিসকে স্মরণ করে চলছি , যা দীর্ঘদিন যাবত অনেককে কাঁদিয়ে আসছে । সে জিনিসটির অনেক বিবরণের পর নতুন করে খাদীজার কাছ থেকেও বিবরণ পাওয়া গেল । বস্তুত হে খাদীজা , আমার প্রতীক্ষা অনেক দীর্ঘ হয়েছে । আমার প্রত্যাশা , মক্কার উচ্চভূমি ও নিম্নভূমির মাঝখান থেকে যেন তোমার কথার বাস্তবরূপ প্রতিভাত হতে দেখতে পাই , যে কথা তুমি ঈসায়ী ধর্মযাজকের বরাত দিয়ে জানালে । বস্তুত ধর্মযাজকের কথা হেরফের হোক , তা আমি পসন্দ করি না । সে প্রতীক্ষিত ব্যাপারটি এই যে , মুহাম্মদ অচিরেই আমাদের নেতা ও সরদার হবেন এবং তাঁর বিরুদ্ধবাদীদেরকে পরাজিত করবেন । দেশের সর্বত্র তিনি এমন আলো ছড়াবেন , যা দ্বারা সমগ্র সৃষ্টিজগতকে তিনি উদ্ভাসিত করে দেবেন । যারা তাঁর সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হবে , তারা পর্যুদস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে । আর যারা তাঁর সঙ্গে শান্তি ও সম্প্রীতি অন্বেষণ করবে , তারা হবে স্থিতিশীল ও বিজয়ী । আফসোস ! যখন এসব ঘটনা ঘটবে , তখন যদি আমি উপস্থিত থাকতাম , তাহলে তোমাদের সবার আগে আমিই তাঁর দলভুক্ত হতাম । আমি সেই দলের অন্তর্ভুক্ত হতাম , যাকে কুরায়শ খুবই অপসন্দ করত । যদিও তারা নিজেদের মক্কা নগরীতে তাঁর বিরুদ্ধে চিৎকার করে আকাশ - বাতাস মুখরিত করে তুলত । যে জিনিসকে তারা সবাই অপসন্দ করত , আমার প্রত্যাশা এই যে , তা আরশের অধিপতির নিকট পৌঁছে যাবে — যদিও তারা অধঃপতিত হবে । সুউচ্চ প্রাসাদের ওপর আরোহণ- কারীকে যারা গ্রহণ করে তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করা ছাড়া এই অধঃপতনের আর কোন কারণ নেই । কুরায়শরা যদি বেঁচে থাকে আর আমি যদি মারা যাই , তাহলে প্রত্যেক যুবক প্রত্যক্ষ করবে যে , শাশ্বত ধ্যান - ধারণা ও মূল্যবোধের সাংঘাতিক ঘাটতি দেখা দিয়েছে । ”

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00