📄 খাদীজার সঙ্গে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর বিয়ে
খাদীজার সঙ্গে রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর বিয়ে
রাসূল (সা:) খাদীজার এই প্রস্তাব স্বীয় চাচাদেরকে জানালেন । চাচা হামযা রাসূল (সা:) -কে সাথে নিয়ে তৎক্ষণাৎ খাদীজার পিতা খুওয়ায়লিদের কাছে চলে গেলেন । তার সাথে দেখা করে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব দিলেন এবং অবিলম্বে বিয়ে সম্পন্ন হল ।
ইবন হিশাম জানান , রাসূল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম খাদীজাকে বিশটি তরুণ উট মোহরানা হিসাবে দিয়েছিলেন । খাদীজাই ছিলেন রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর প্রথমা স্ত্রী এবং তাঁর জীবদ্দশায় তিনি আর কোন বিয়ে করেননি ।
**টিকাঃ**
১ . অন্য মতে আবূ তালিব স্বয়ং হযরত মুহাম্মদ (সা:) -কে সঙ্গে নিয়ে যান ও বিবাহে খুতবা পাঠ করেন । ইবন আব্বাস ও আয়েশা ( রা ) থেকে বর্ণিত যে , আমর ইবন আসাদ খাদীজা ( রা ) -এর বিবাহ দেন । খুয়ায়লিদ ফিজার যুদ্ধের পূর্বেই মারা যান ।
খাদীজার সঙ্গে রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর বিয়ে
রাসূল (সা:) খাদীজার এই প্রস্তাব স্বীয় চাচাদেরকে জানালেন । চাচা হামযা রাসূল (সা:) -কে সাথে নিয়ে তৎক্ষণাৎ খাদীজার পিতা খুওয়ায়লিদের কাছে চলে গেলেন । তার সাথে দেখা করে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব দিলেন এবং অবিলম্বে বিয়ে সম্পন্ন হল ।
ইবন হিশাম জানান , রাসূল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম খাদীজাকে বিশটি তরুণ উট মোহরানা হিসাবে দিয়েছিলেন । খাদীজাই ছিলেন রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর প্রথমা স্ত্রী এবং তাঁর জীবদ্দশায় তিনি আর কোন বিয়ে করেননি ।
**টিকাঃ**
১ . অন্য মতে আবূ তালিব স্বয়ং হযরত মুহাম্মদ (সা:) -কে সঙ্গে নিয়ে যান ও বিবাহে খুতবা পাঠ করেন । ইবন আব্বাস ও আয়েশা ( রা ) থেকে বর্ণিত যে , আমর ইবন আসাদ খাদীজা ( রা ) -এর বিবাহ দেন । খুয়ায়লিদ ফিজার যুদ্ধের পূর্বেই মারা যান ।
📄 খাদীজার (রা)-এর গর্ভে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সন্তান
খাদীজার ( রা ) -এর গর্ভে রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর সন্তান
ইবন ইসহাক বলেন : খাদীজার গর্ভে রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর কাসিম , তাহির , তায়্যিব , যয়নব , রুকায়্যা , উম্মে কুলসুম ও ফাতিমা এই কয়জন সন্তান জন্মগ্রহণ করেন । একমাত্র ইবরাহীম ছাড়া তাঁর আর সকল সন্তানই খাদীজার গর্ভে জন্মগ্রহণ করে । কাসিমের নামানুসারে রাসূলুল্লাহ্ (সা:) আবুল কাসিম ( কাসিমের পিতা ) নামেও খ্যাত হন । কাসিম , তায়্যিব ও তাহির জাহিলিয়াতের যুগেই মারা যান । কিন্তু মেয়েরা সবাই ইসলামের আবির্ভাব প্রত্যক্ষ করেন এবং সবাই ইসলাম গ্রহণ করে পিতার সঙ্গে হিজরত করেন ।
ইবন হিশাম বলেন : রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর জ্যেষ্ঠ পুত্র হলেন কাসিম । তারপর ক্রমান্বয়ে তায়্যিব , তাহির , তারপর কন্যা রুকাইয়্যা , যয়নব , উম্মে কুলসুম ও সর্বশেষে ফাতিমা জন্মগ্রহণ করেন ।
রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর অপর সন্তান ছিলেন ইবরাহীম । ইনি রাসূলুল্লাহ (সা:) -এর দাসী মারিয়্যার গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন । মিসরের খ্রিস্টান শাসক মুকাওকিস মারিয়্যাকে দাসীরূপে উপঢৌকন হিসাবে প্রেরণ করেন ।
**টিকাঃ**
১. ভিন্নমতে তাহির ও তায়্যিব কাসিমেরই উপনাম । দুধপানের সময় পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই তিনি ইনতিকাল করেন । তাঁর মৃত্যুতে খাদীজাকে কান্নারত দেখে রাসূলুল্লাহ (সা:) সুসংবাদ দেন । জান্নাতে কাসিমের দুধপানের সময় পর্যন্ত এক ধাত্রী নিয়োজিত রয়েছেন । ( মুসনাদে ফিরয়াবী )
খাদীজার ( রা ) -এর গর্ভে রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর সন্তান
ইবন ইসহাক বলেন : খাদীজার গর্ভে রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর কাসিম , তাহির , তায়্যিব , যয়নব , রুকায়্যা , উম্মে কুলসুম ও ফাতিমা এই কয়জন সন্তান জন্মগ্রহণ করেন । একমাত্র ইবরাহীম ছাড়া তাঁর আর সকল সন্তানই খাদীজার গর্ভে জন্মগ্রহণ করে । কাসিমের নামানুসারে রাসূলুল্লাহ্ (সা:) আবুল কাসিম ( কাসিমের পিতা ) নামেও খ্যাত হন । কাসিম , তায়্যিব ও তাহির জাহিলিয়াতের যুগেই মারা যান । কিন্তু মেয়েরা সবাই ইসলামের আবির্ভাব প্রত্যক্ষ করেন এবং সবাই ইসলাম গ্রহণ করে পিতার সঙ্গে হিজরত করেন ।
ইবন হিশাম বলেন : রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর জ্যেষ্ঠ পুত্র হলেন কাসিম । তারপর ক্রমান্বয়ে তায়্যিব , তাহির , তারপর কন্যা রুকাইয়্যা , যয়নব , উম্মে কুলসুম ও সর্বশেষে ফাতিমা জন্মগ্রহণ করেন ।
রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর অপর সন্তান ছিলেন ইবরাহীম । ইনি রাসূলুল্লাহ (সা:) -এর দাসী মারিয়্যার গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন । মিসরের খ্রিস্টান শাসক মুকাওকিস মারিয়্যাকে দাসীরূপে উপঢৌকন হিসাবে প্রেরণ করেন ।
**টিকাঃ**
১. ভিন্নমতে তাহির ও তায়্যিব কাসিমেরই উপনাম । দুধপানের সময় পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই তিনি ইনতিকাল করেন । তাঁর মৃত্যুতে খাদীজাকে কান্নারত দেখে রাসূলুল্লাহ (সা:) সুসংবাদ দেন । জান্নাতে কাসিমের দুধপানের সময় পর্যন্ত এক ধাত্রী নিয়োজিত রয়েছেন । ( মুসনাদে ফিরয়াবী )
📄 ওয়ারাকার সংগে হযরত খাদীজা (রা)-এর আলোচনা ও রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নবুয়াতের সত্যতা সম্পর্কে ওয়ারাবা ইবন নাওফলের ভবিষ্যদ্বাণী
ওয়ারাকার সঙ্গে হযরত খাদীজা ( রা ) -এর আলোচনা ও রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর নবুয়তের সত্যতা সম্পর্কে ওয়ারাকা ইবন নাওফলের ভবিষ্যদ্বাণী
ইবন ইসহাক বলেন : খাদীজা বিন্ত খুওয়ায়লিদ ( রা ) -এর চাচাতো ভাই ওয়ারাকা ইবন নাওফল ইব্ন আসাদ ইব্ন আবদুল উযযা ছিলেন পূর্বতন আসমানী কিতাবসমূহের ব্যাপারে পারদর্শী একজন খ্রিস্টান বিদ্বান ব্যক্তি । এছাড়া পার্থিব জ্ঞানেও তিনি যথেষ্ট ব্যুৎপত্তিসম্পন্ন ছিলেন । হযরত খাদীজা ( রা ) মাইসারার নিকট থেকে সিরীয় ধর্মযাজকের যে মন্তব্য শুনেছিলেন এবং মাইসারা নিজ চোখে দু'জন ফেরেশতা কর্তৃক নবী (সা:) -কে ছায়াদানের যে দৃশ্য অবলোকন করেছিল , তা ওয়ারাকাকে সবিস্তার জানালেন । ওয়ারাকা বললেন , “ খাদীজা ! এসব ঘটনা যদি সত্যই ঘটে থাকে , তাহলে নিশ্চিতভাবে জেনে রাখো যে , মুহাম্মদ (সা:) এ উম্মতের নবী । আমি জানতাম , তিনিই হবেন এ উম্মতের প্রতীক্ষিত নবী । এটা সে নবীরই যুগ । ” এ কথা বলে ওয়ারাকা প্রতীক্ষিত নবীর আগমন এত বিলম্বিত হওয়ায় আক্ষেপ করতে লাগলেন আর বলতে লাগলেন , “ আর কত দেরী । ” তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে নিম্নের স্বরচিত কবিতাটি আবৃত্তি করেন :
“ আমি অত্যন্ত ঔৎসুক্যের সাথে এমন একটি জিনিসকে স্মরণ করে চলছি , যা দীর্ঘদিন যাবত অনেককে কাঁদিয়ে আসছে । সে জিনিসটির অনেক বিবরণের পর নতুন করে খাদীজার কাছ থেকেও বিবরণ পাওয়া গেল । বস্তুত হে খাদীজা , আমার প্রতীক্ষা অনেক দীর্ঘ হয়েছে । আমার প্রত্যাশা , মক্কার উচ্চভূমি ও নিম্নভূমির মাঝখান থেকে যেন তোমার কথার বাস্তবরূপ প্রতিভাত হতে দেখতে পাই , যে কথা তুমি ঈসায়ী ধর্মযাজকের বরাত দিয়ে জানালে । বস্তুত ধর্মযাজকের কথা হেরফের হোক , তা আমি পসন্দ করি না । সে প্রতীক্ষিত ব্যাপারটি এই যে , মুহাম্মদ অচিরেই আমাদের নেতা ও সরদার হবেন এবং তাঁর বিরুদ্ধবাদীদেরকে পরাজিত করবেন । দেশের সর্বত্র তিনি এমন আলো ছড়াবেন , যা দ্বারা সমগ্র সৃষ্টিজগতকে তিনি উদ্ভাসিত করে দেবেন । যারা তাঁর সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হবে , তারা পর্যুদস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে । আর যারা তাঁর সঙ্গে শান্তি ও সম্প্রীতি অন্বেষণ করবে , তারা হবে স্থিতিশীল ও বিজয়ী । আফসোস ! যখন এসব ঘটনা ঘটবে , তখন যদি আমি উপস্থিত থাকতাম , তাহলে তোমাদের সবার আগে আমিই তাঁর দলভুক্ত হতাম । আমি সেই দলের অন্তর্ভুক্ত হতাম , যাকে কুরায়শ খুবই অপসন্দ করত । যদিও তারা নিজেদের মক্কা নগরীতে তাঁর বিরুদ্ধে চিৎকার করে আকাশ - বাতাস মুখরিত করে তুলত । যে জিনিসকে তারা সবাই অপসন্দ করত , আমার প্রত্যাশা এই যে , তা আরশের অধিপতির নিকট পৌঁছে যাবে — যদিও তারা অধঃপতিত হবে । সুউচ্চ প্রাসাদের ওপর আরোহণ- কারীকে যারা গ্রহণ করে তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করা ছাড়া এই অধঃপতনের আর কোন কারণ নেই । কুরায়শরা যদি বেঁচে থাকে আর আমি যদি মারা যাই , তাহলে প্রত্যেক যুবক প্রত্যক্ষ করবে যে , শাশ্বত ধ্যান - ধারণা ও মূল্যবোধের সাংঘাতিক ঘাটতি দেখা দিয়েছে । ”
ওয়ারাকার সঙ্গে হযরত খাদীজা ( রা ) -এর আলোচনা ও রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর নবুয়তের সত্যতা সম্পর্কে ওয়ারাকা ইবন নাওফলের ভবিষ্যদ্বাণী
ইবন ইসহাক বলেন : খাদীজা বিন্ত খুওয়ায়লিদ ( রা ) -এর চাচাতো ভাই ওয়ারাকা ইবন নাওফল ইব্ন আসাদ ইব্ন আবদুল উযযা ছিলেন পূর্বতন আসমানী কিতাবসমূহের ব্যাপারে পারদর্শী একজন খ্রিস্টান বিদ্বান ব্যক্তি । এছাড়া পার্থিব জ্ঞানেও তিনি যথেষ্ট ব্যুৎপত্তিসম্পন্ন ছিলেন । হযরত খাদীজা ( রা ) মাইসারার নিকট থেকে সিরীয় ধর্মযাজকের যে মন্তব্য শুনেছিলেন এবং মাইসারা নিজ চোখে দু'জন ফেরেশতা কর্তৃক নবী (সা:) -কে ছায়াদানের যে দৃশ্য অবলোকন করেছিল , তা ওয়ারাকাকে সবিস্তার জানালেন । ওয়ারাকা বললেন , “ খাদীজা ! এসব ঘটনা যদি সত্যই ঘটে থাকে , তাহলে নিশ্চিতভাবে জেনে রাখো যে , মুহাম্মদ (সা:) এ উম্মতের নবী । আমি জানতাম , তিনিই হবেন এ উম্মতের প্রতীক্ষিত নবী । এটা সে নবীরই যুগ । ” এ কথা বলে ওয়ারাকা প্রতীক্ষিত নবীর আগমন এত বিলম্বিত হওয়ায় আক্ষেপ করতে লাগলেন আর বলতে লাগলেন , “ আর কত দেরী । ” তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে নিম্নের স্বরচিত কবিতাটি আবৃত্তি করেন :
“ আমি অত্যন্ত ঔৎসুক্যের সাথে এমন একটি জিনিসকে স্মরণ করে চলছি , যা দীর্ঘদিন যাবত অনেককে কাঁদিয়ে আসছে । সে জিনিসটির অনেক বিবরণের পর নতুন করে খাদীজার কাছ থেকেও বিবরণ পাওয়া গেল । বস্তুত হে খাদীজা , আমার প্রতীক্ষা অনেক দীর্ঘ হয়েছে । আমার প্রত্যাশা , মক্কার উচ্চভূমি ও নিম্নভূমির মাঝখান থেকে যেন তোমার কথার বাস্তবরূপ প্রতিভাত হতে দেখতে পাই , যে কথা তুমি ঈসায়ী ধর্মযাজকের বরাত দিয়ে জানালে । বস্তুত ধর্মযাজকের কথা হেরফের হোক , তা আমি পসন্দ করি না । সে প্রতীক্ষিত ব্যাপারটি এই যে , মুহাম্মদ অচিরেই আমাদের নেতা ও সরদার হবেন এবং তাঁর বিরুদ্ধবাদীদেরকে পরাজিত করবেন । দেশের সর্বত্র তিনি এমন আলো ছড়াবেন , যা দ্বারা সমগ্র সৃষ্টিজগতকে তিনি উদ্ভাসিত করে দেবেন । যারা তাঁর সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হবে , তারা পর্যুদস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে । আর যারা তাঁর সঙ্গে শান্তি ও সম্প্রীতি অন্বেষণ করবে , তারা হবে স্থিতিশীল ও বিজয়ী । আফসোস ! যখন এসব ঘটনা ঘটবে , তখন যদি আমি উপস্থিত থাকতাম , তাহলে তোমাদের সবার আগে আমিই তাঁর দলভুক্ত হতাম । আমি সেই দলের অন্তর্ভুক্ত হতাম , যাকে কুরায়শ খুবই অপসন্দ করত । যদিও তারা নিজেদের মক্কা নগরীতে তাঁর বিরুদ্ধে চিৎকার করে আকাশ - বাতাস মুখরিত করে তুলত । যে জিনিসকে তারা সবাই অপসন্দ করত , আমার প্রত্যাশা এই যে , তা আরশের অধিপতির নিকট পৌঁছে যাবে — যদিও তারা অধঃপতিত হবে । সুউচ্চ প্রাসাদের ওপর আরোহণ- কারীকে যারা গ্রহণ করে তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করা ছাড়া এই অধঃপতনের আর কোন কারণ নেই । কুরায়শরা যদি বেঁচে থাকে আর আমি যদি মারা যাই , তাহলে প্রত্যেক যুবক প্রত্যক্ষ করবে যে , শাশ্বত ধ্যান - ধারণা ও মূল্যবোধের সাংঘাতিক ঘাটতি দেখা দিয়েছে । ”