📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 খাদীজার পক্ষে বাণিজ্য করতে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর সিরিয়া যাত্রা-ও বহীরার ঘটনা

📄 খাদীজার পক্ষে বাণিজ্য করতে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর সিরিয়া যাত্রা-ও বহীরার ঘটনা


খাদীজা ( রা ) -এর সঙ্গে রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর বিয়ের বিবরণ
[ এই বিয়ের সময় রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর বয়স ] ইবন হিশাম বলেন : রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর বয়স যখন পঁচিশ বছর হল , তখন খাদীজা বিন্ত খুয়ায়লিদ ইব্‌ন আসাদ ইব্‌ন আবদুল উয্যা ইব্‌ন কুসাই ইব্‌ন মুররা ইবন কা'ব ইবন লুআই ইব্‌ন গালিব - এর সঙ্গে তাঁর বিয়ে সম্পন্ন হয় । আবূ আমর মাদানী থেকে একাধিক আলিম আমার কাছে এ রিওয়ায়াত বর্ণনা করেছেন ।
খাদীজার পক্ষে বাণিজ্য করতে রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর সিরিয়া যাত্রা ও বহীরার ঘটনা
ইবন ইসহাক বলেন : খাদীজা অত্যন্ত সম্ভ্রান্ত ও ধনাঢ্য মহিলা ছিলেন । তিনি বেতনভুক কর্মচারী রেখে ও অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বাণিজ্য পরিচালনা করতেন । বস্তুতপক্ষে গোটা কুরায়শ বংশই ছিল ব্যবসাজীবী । রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর সত্যবাদিতা , বিশ্বস্ততা ও চারিত্রিক মহত্ত্বের সুখ্যাতি অন্যদের ন্যায় খাদীজারও গোচরীভূত হয় । তাই তিনি তাঁর কাছে লোক পাঠিয়ে তাঁর পণ্য সামগ্রী নিয়ে সিরিয়ায় যাওয়ার প্রস্তাব দেন । তিনি তাঁকে এও জানান যে , এ কাজের জন্য তিনি অন্যদেরকে যা দিয়ে থাকেন তার চেয়ে উত্তম সম্মানী তাঁকে দেবেন । হযরত খাদীজা তাঁর গোলাম মাইসারাকেও রাসূল (সা:) -এর সাহায্যের জন্য তাঁর সঙ্গে দিতে চাইলেন । রাসূলুল্লাহ্ (সা:) এই প্রস্তাব গ্রহণ করলেন এবং খাদীজার পণ্য সামগ্রী নিয়ে ভৃত্য মাইসারাসহ সিরিয়া অভিমুখে যাত্রা করলেন ।
সিরিয়ায় পৌঁছে তিনি জনৈক ধর্মযাজকের গির্জার নিকটবর্তী এক গাছের ছায়ার নিচে বিশ্রাম গ্রহণ করলেন । এক সময় সেই ধর্মযাজক মাইসারাকে নিভৃতে জিজ্ঞেস করলেন : এই গাছের নিচে বিশ্রামরত ভদ্রলোকটি কে ? সে বলল : “ তিনি কা'বা শরীফের কাছেই বসবাসকারী জনৈক কুরায়শী । ” ধর্মযাজক বললেন : “ এই গাছের নিচে নবী ছাড়া আর কেউ কখনো বিশ্রাম নেয়নি । ” ১

**টিকাঃ**
১. অর্থাৎ এ মুহূর্তে সেখানে একজন নবীই বিশ্রাম নিচ্ছেন । তাঁর পূর্বে ৫৭০ বছরের মধ্যে কোন নবী ছিল না । একটা গাছের বয়স সাধারণত এত দীর্ঘ হয় না , তাই ' কখনো নবী ছাড়া কোন লোক এর পূর্বে এ গাছের নিচে অবস্থান করেননি ' বলাটা যথার্থ ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে বিয়ে করতে খাদীজার আগ্রহ

📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে বিয়ে করতে খাদীজার আগ্রহ


রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -কে বিয়ে করতে খাদীজার আগ্রহ
এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা:) তাঁর আনীত পণ্য সামগ্রী বিক্রি করে দিলেন এবং যা যা কিনতে চেয়েছিলেন তাও কিনলেন । তারপর মাইসারাকে সাথে নিয়ে তিনি মক্কা অভিমুখে রওয়ানা হলেন । পথে যেখানেই দুপুর হয় এবং প্রচণ্ড রোদ ওঠে , মাইসারা দেখতে পায় যে , দু'জন ফেরেশতা মুহাম্মদ (সা:) -কে ছায়া দিয়ে রৌদ্র থেকে রক্ষা করে চলেছেন , আর তিনি উটের পিঠে সওয়ার হয়ে গন্তব্য পথে এগিয়ে চলছেন । মক্কায় পৌঁছে তিনি খাদীজাকে তাঁর ক্রয় করা মালপত্র বুঝিয়ে দিলেন । খাদীজা ঐ মাল বিক্রয় করে দ্বিগুণ মুনাফা অর্জন করলেন । ওদিকে মাইসারাকে যাজক যা যা বলেছিল এবং পথিমধ্যে নবীকে দুই ফেরেশতা কর্তৃক ছায়াদানের যে দৃশ্য মাইসারা স্বচক্ষে দেখেছিল , তা সে খাদীজার নিকট হুবহু বিবৃত করল ।
খাদীজা ছিলেন দৃঢ়চেতা অনমনীয় ব্যক্তিত্বসম্পন্ন , প্রখর বুদ্ধিমতী ও আত্মমর্যাদাসম্পন্না মহিলা । নবীর মহত্ত্ব ও সততার সাথে পরিচিত হওয়া তাঁর জন্য একটা অতিরিক্ত সৌভাগ্য হয়ে দেখা দিল । বলা বাহুল্য , এটা ছিল আল্লাহ্র ইচ্ছা ও অনুগ্রহের ফল । মাইসারার উক্ত অলৌকিক ঘটনার বিবরণ শুনে খাদীজা এত অভিভূত হলেন যে , তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর কাছে নিম্নরূপ বার্তা পাঠালেন : “ হে চাচাতো ভাই ! আপনার গোত্রের মধ্যে আপনার যে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান , যে আত্মীয়তার বন্ধন এবং সর্বোপরি আপনার বিশ্বস্ততা , চরিত্র - মাধুর্যও সত্যবাদিতার যে সুনাম রয়েছে , তাতে আমি মুগ্ধ ও অভিভূত । ” এই বলে খাদীজা তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন । কুরায়শদের মধ্যে তখন খাদীজা ছিলেন ধনে - মানে , মর্যাদায় ও বংশীয় আভিজাত্যে সর্বশ্রেষ্ঠ মহিলা । তাঁর গোত্রে এমন কোন পুরুষ ছিল না যে তাঁকে সাধ্যে কুলালে বিয়ে করার অভিলাষ পোষণ করত না । খাদীজার পিতার নাম খুওয়ায়লিদ এবং মাতার নাম ফাতিমা । ( পিতামাতা উভয়েই পূর্বে পুরুষ লুআইতে গিয়ে একই প্রজন্মে মিলিতে হয়েছে ) ।

রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -কে বিয়ে করতে খাদীজার আগ্রহ
এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা:) তাঁর আনীত পণ্য সামগ্রী বিক্রি করে দিলেন এবং যা যা কিনতে চেয়েছিলেন তাও কিনলেন । তারপর মাইসারাকে সাথে নিয়ে তিনি মক্কা অভিমুখে রওয়ানা হলেন । পথে যেখানেই দুপুর হয় এবং প্রচণ্ড রোদ ওঠে , মাইসারা দেখতে পায় যে , দু'জন ফেরেশতা মুহাম্মদ (সা:) -কে ছায়া দিয়ে রৌদ্র থেকে রক্ষা করে চলেছেন , আর তিনি উটের পিঠে সওয়ার হয়ে গন্তব্য পথে এগিয়ে চলছেন । মক্কায় পৌঁছে তিনি খাদীজাকে তাঁর ক্রয় করা মালপত্র বুঝিয়ে দিলেন । খাদীজা ঐ মাল বিক্রয় করে দ্বিগুণ মুনাফা অর্জন করলেন । ওদিকে মাইসারাকে যাজক যা যা বলেছিল এবং পথিমধ্যে নবীকে দুই ফেরেশতা কর্তৃক ছায়াদানের যে দৃশ্য মাইসারা স্বচক্ষে দেখেছিল , তা সে খাদীজার নিকট হুবহু বিবৃত করল ।
খাদীজা ছিলেন দৃঢ়চেতা অনমনীয় ব্যক্তিত্বসম্পন্ন , প্রখর বুদ্ধিমতী ও আত্মমর্যাদাসম্পন্না মহিলা । নবীর মহত্ত্ব ও সততার সাথে পরিচিত হওয়া তাঁর জন্য একটা অতিরিক্ত সৌভাগ্য হয়ে দেখা দিল । বলা বাহুল্য , এটা ছিল আল্লাহ্র ইচ্ছা ও অনুগ্রহের ফল । মাইসারার উক্ত অলৌকিক ঘটনার বিবরণ শুনে খাদীজা এত অভিভূত হলেন যে , তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর কাছে নিম্নরূপ বার্তা পাঠালেন : “ হে চাচাতো ভাই ! আপনার গোত্রের মধ্যে আপনার যে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান , যে আত্মীয়তার বন্ধন এবং সর্বোপরি আপনার বিশ্বস্ততা , চরিত্র - মাধুর্যও সত্যবাদিতার যে সুনাম রয়েছে , তাতে আমি মুগ্ধ ও অভিভূত । ” এই বলে খাদীজা তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন । কুরায়শদের মধ্যে তখন খাদীজা ছিলেন ধনে - মানে , মর্যাদায় ও বংশীয় আভিজাত্যে সর্বশ্রেষ্ঠ মহিলা । তাঁর গোত্রে এমন কোন পুরুষ ছিল না যে তাঁকে সাধ্যে কুলালে বিয়ে করার অভিলাষ পোষণ করত না । খাদীজার পিতার নাম খুওয়ায়লিদ এবং মাতার নাম ফাতিমা । ( পিতামাতা উভয়েই পূর্বে পুরুষ লুআইতে গিয়ে একই প্রজন্মে মিলিতে হয়েছে ) ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 খাদীজার বংশ পরিচিতি

📄 খাদীজার বংশ পরিচিতি


খাদীজার বংশ পরিচিতি
পিতার দিকে থেকে খাদীজা বিন্ত খুওয়ায়লিদ ইবন আসাদ ইব্‌ন আবদুল উযযা ইব্‌ন কুসাই ইন কিলাব ইবন মুররা ইবন কা'ব ইব্‌ন লুআই ইব্‌ন গালিব ইব্‌ন ফিহর । আর মাতার দিকে থেকে খাদীজা বিন্ত ফাতিমা বিন্ত যাইদা ইবনুল আসাম্ম ইব্‌ন রওয়াহা ইব্‌ন হাজার ইব্‌ন আবদ ইব্‌ন মাঈ ইবন আমির ইবন লুআই ইব্‌ন গালিব ইন ফিহর । ফাতিমার মাতা হালা বিন্ত আবদে মানাফ ইবন হারিস ইব্‌ন আমর ইব্‌ন মুফিয ইবন আমর ইব্‌ন মাঈদ ইব্‌ন আমির ইব্‌ন লুআই ইব্‌ন গালিব ইব্‌ন ফিহর । হালার মাতা - কিলাবা বিন্ত সুয়ায়দ ইব্‌ন সা'দ ইব্‌ন সাহম ইব্‌ন আমর ইব্‌ন হুসায়স ইবন কা'ব ইবন লুআই ইব্‌ন গালিব ইব্‌ন ফিহর ।

খাদীজার বংশ পরিচিতি
পিতার দিকে থেকে খাদীজা বিন্ত খুওয়ায়লিদ ইবন আসাদ ইব্‌ন আবদুল উযযা ইব্‌ন কুসাই ইন কিলাব ইবন মুররা ইবন কা'ব ইব্‌ন লুআই ইব্‌ন গালিব ইব্‌ন ফিহর । আর মাতার দিকে থেকে খাদীজা বিন্ত ফাতিমা বিন্ত যাইদা ইবনুল আসাম্ম ইব্‌ন রওয়াহা ইব্‌ন হাজার ইব্‌ন আবদ ইব্‌ন মাঈ ইবন আমির ইবন লুআই ইব্‌ন গালিব ইন ফিহর । ফাতিমার মাতা হালা বিন্ত আবদে মানাফ ইবন হারিস ইব্‌ন আমর ইব্‌ন মুফিয ইবন আমর ইব্‌ন মাঈদ ইব্‌ন আমির ইব্‌ন লুআই ইব্‌ন গালিব ইব্‌ন ফিহর । হালার মাতা - কিলাবা বিন্ত সুয়ায়দ ইব্‌ন সা'দ ইব্‌ন সাহম ইব্‌ন আমর ইব্‌ন হুসায়স ইবন কা'ব ইবন লুআই ইব্‌ন গালিব ইব্‌ন ফিহর ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 খাদীজার সঙ্গে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর বিয়ে

📄 খাদীজার সঙ্গে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর বিয়ে


খাদীজার সঙ্গে রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর বিয়ে
রাসূল (সা:) খাদীজার এই প্রস্তাব স্বীয় চাচাদেরকে জানালেন । চাচা হামযা রাসূল (সা:) -কে সাথে নিয়ে তৎক্ষণাৎ খাদীজার পিতা খুওয়ায়লিদের কাছে চলে গেলেন । তার সাথে দেখা করে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব দিলেন এবং অবিলম্বে বিয়ে সম্পন্ন হল ।
ইবন হিশাম জানান , রাসূল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম খাদীজাকে বিশটি তরুণ উট মোহরানা হিসাবে দিয়েছিলেন । খাদীজাই ছিলেন রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর প্রথমা স্ত্রী এবং তাঁর জীবদ্দশায় তিনি আর কোন বিয়ে করেননি ।

**টিকাঃ**
১ . অন্য মতে আবূ তালিব স্বয়ং হযরত মুহাম্মদ (সা:) -কে সঙ্গে নিয়ে যান ও বিবাহে খুতবা পাঠ করেন । ইবন আব্বাস ও আয়েশা ( রা ) থেকে বর্ণিত যে , আমর ইবন আসাদ খাদীজা ( রা ) -এর বিবাহ দেন । খুয়ায়লিদ ফিজার যুদ্ধের পূর্বেই মারা যান ।

খাদীজার সঙ্গে রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর বিয়ে
রাসূল (সা:) খাদীজার এই প্রস্তাব স্বীয় চাচাদেরকে জানালেন । চাচা হামযা রাসূল (সা:) -কে সাথে নিয়ে তৎক্ষণাৎ খাদীজার পিতা খুওয়ায়লিদের কাছে চলে গেলেন । তার সাথে দেখা করে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব দিলেন এবং অবিলম্বে বিয়ে সম্পন্ন হল ।
ইবন হিশাম জানান , রাসূল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম খাদীজাকে বিশটি তরুণ উট মোহরানা হিসাবে দিয়েছিলেন । খাদীজাই ছিলেন রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর প্রথমা স্ত্রী এবং তাঁর জীবদ্দশায় তিনি আর কোন বিয়ে করেননি ।

**টিকাঃ**
১ . অন্য মতে আবূ তালিব স্বয়ং হযরত মুহাম্মদ (সা:) -কে সঙ্গে নিয়ে যান ও বিবাহে খুতবা পাঠ করেন । ইবন আব্বাস ও আয়েশা ( রা ) থেকে বর্ণিত যে , আমর ইবন আসাদ খাদীজা ( রা ) -এর বিবাহ দেন । খুয়ায়লিদ ফিজার যুদ্ধের পূর্বেই মারা যান ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00