📄 ফিজারের যুদ্ধও এর কারণ
ফিজার যুদ্ধ
ফিজারের যুদ্ধ এর কারণ
ইবন হিশাম বলেন : রাসূল (সা:) -এর বয়স যখন চৌদ্দ বা মতান্তরে পনের বছর , তখন ফিজারের যুদ্ধ সংঘটিত হয় । এই যুদ্ধ বাঁধে যে দুই পক্ষের মধ্যে , তার একদিকে ছিল কুরায়শ এবং কিনানা এবং অপরদিকে কায়স আয়লান গোত্র ।
ফিজার যুদ্ধের কারণ ছিল এই যে , উরওয়াতুর রাহহাল ইবন উতবা ইবন জাফর ইবন কিলাব ইবন রাবী'আ ইবন আমির ইবন মাস'আ ইবন মু'আবিয়া ইবন হাওয়াযিন জনৈক গোত্র নেতা নু'মান ইব্ন মুনযিরের একটি বাণিজ্যিক কাফেলাকে আশ্রয় দেন । এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বন্ কিনানা গোত্রের বনূ যামরা শাখার জনৈক বার্ায ইবন কায়স তাকে বলল : “ তোমার এত স্পর্ধা যে বনূ কিনানার ওপর টেক্কা দিয়ে তুমি তাকে আশ্রয় দিতে গেলে ? ” ( অর্থাৎ কাউকে আশ্রয় দিতে হলে বনূ কিনানাই দেবে , অন্য কারো সে অধিকার নেই ) । উরওয়া বললেন , অবশ্যই । কিনানা কেন , গোটা দেশবাসীর ওপর টেক্কা দিয়ে আমি আশ্রয় দিয়েছি । এরপর উরওয়া ও বার্রাযের মধ্যে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে । অবশেষে তায়মা নামক এলাকায় উরওয়া একটু অসাবধান হওয়ামাত্রই বার্রায তার ওপর হামলা করে তাকে হত্যা করে । এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটে নিষিদ্ধ মাসে । এজন্যই তাকে ফিজার যুদ্ধ বলে ।
📄 ফিজার যুদ্ধ সম্পর্কে বাররায বলেন
ফিজার যুদ্ধ সম্পর্কে বার্রায বলে
“ আমার আগে অনেক ভয়াবহ যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে , যা মানুষকে উদ্বিগ্ন করত । আমি তাতে দৃঢ়ভাবে বনূ বাকরের পক্ষ নিয়েছিলাম । তাদেরকে সাথে নিয়ে বনূ কিলাবের ঘরবাড়ি ধ্বংস করেছি । আর তাদের মিত্রদেরকে চরম অবমাননা ও লাঞ্ছনার শিকার করেছিলাম । যূ - তিল্লালে অর ওপর যেই হাত তুলেছি , অমনি নিহত পশু শাবকের মত কাঁপতে কাঁপতে ঢলে পড়ল । ”
📄 লাবীদ ইব্ন রবীআ ইবন মালিক ইব্ন জা'ফর ইন কিলাব বলেন
লাবীদ ইব্ন রবী'আ ইব্ন মালিক ইব্ন জা'ফর ইব্ন কিলাব বলে
“ বনূ কিলাবের সাথে , তাদের মিত্র বনূ আমির ও বনূ খুতুবের সাথে এবং বনূ নুমায়র ও নিহত বনূ হিলালের মাতুলদের সাথে দেখা হলে বলে দিও যে , হামলাকারী রাহ্হাল তাইমান যূ - তিল্লালের কাছে এসে স্থায়ী অধিবাসী হয়ে গেছে । ”
উপরোক্ত পংক্তিগুলো ইব্ন হিশাম কর্তৃক উধৃত কবিতায় অংশবিশেষ ।
📄 কুরায়শ ও হাওয়াযিন-এর মধ্যে যুদ্ধ
কুরায়শ ও হাওয়াযিন - এর মধ্যে যুদ্ধ
ইবন হিশাম বলেন : কুরায়শদের কাছে একজন দূত এলো । সে বলল : বার্রা উরওয়াকে হত্যা করেছে । এ সময় কুরায়শীরা ছিল উকাযের মেলায় এবং মাসটা ছিল নিষিদ্ধ মাস । এ সংবাদ পেয়ে কুরায়শীরা রওয়ানা হল । হাওয়াযিন গোত্র এ সম্পর্কে অবহিত ছিল না । খবর পেয়ে তারা কুরায়শদের অনুসরণ করল এবং হত্যাকারীদের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ল । হত্যাকারীরা হারাম শরীফে প্রবেশের আগেই তাদেরকে ধরে ফেলে এবং উভয় পক্ষে তুমুল যুদ্ধ বেঁধে যায় । রাত হয়ে গেলে হত্যাকারীরা হারাম শরীফে ঢুকে পড়ে এবং হাওয়াযিনের লোকেরা যুদ্ধ থেকে বিরত থাকে । এরপর বেশ কয়েক দিন যুদ্ধ হয় । আরবরা দুই পক্ষে বিভক্ত হয়ে নিজ নিজ পক্ষকে সমর্থন দিতে থাকে । কুরায়শ ও কিনানার পক্ষে তাদের সেনাপতি এবং কায়স পক্ষে তাদের সেনাপতি যুদ্ধে নেতৃত্ব দেয় ।