📄 মাতরূদ আল-খুযাঈর শোকগাথা
মাতরূদ আল - খুযাইর শোকগাথা
ইবন ইসহাক বলেন : মাতরুদ ইবন কা'ব আল - খুযাই আবদুল মুত্তালিবের গুণ গেয়ে যে শোকগাথা রচনা করেন তা নিম্নরূপ :
“ হে ভিন্ন পথের যাত্রী ! আবদে মানাফের বংশের খোঁজ নিয়েছ কি ? তোমার মা তোমাকে নির্বোধ করে রেখেছে । অথচ তুমি যদি তাদের ঘরে অবতরণ করতে তবে অপরাধ ও অসম্মান থেকে মুক্তি লাভ করতে পারতে । তাদের ধনবানরা দরিদ্রদেরকে নিজেদের সাথে মিলিত করে নেন বলে তাদের দরিদ্ররাও সচ্ছল হয়ে যায় । নক্ষত্রগুলো যখন পরিবর্তিত হয়ে যেত , তখন ধনবানরা , শুভেচ্ছা সফরে যারা ইচ্ছুক তারা এবং সূর্য সমুদ্রে ডুবে যাওয়া পর্যন্ত যখন বাতাস চলাচল করে , তখনও যারা মানুষকে খাওয়ায় তারা সকলেই ( একাকার হয়ে যেত তোমার মুক্তির চেষ্টায় ) । হে কর্মবীর পুরুষ , ভূমি মারা গেলেও তোমার মত ব্যক্তিকে কোন মহৎ ব্যক্তিই অতিক্রম করতে পারত না । শুধুমাত্র তোমার পিতা ছাড়া , যিনি বহু গুণে গুণান্বিত , দানশীল ও অতিথিপরায়ণ , যার নাম মুত্তালিব । ”
📄 যমযমের পানি পান করানোর জন্য আব্বাসের অভিভাবকত্ব লাভ
যমযমের পানি পান করানোর জন্য আব্বাসের অভিভাবকত্ব লাভ
ইবন ইসহাক বলেন : আবদুল মুত্তালিবের ইন্তিকালের পর যমযম কূপের তদারকীর দায়িত্ব ন্যস্ত হয় তাঁর পুত্র আব্বাসের ওপর । আব্বাস ছিলেন সে সময় তার ভাইদের মধ্যে বয়সে তরুণ । তিনি ইসলামের অভ্যুদয়কাল পর্যন্ত এই দায়িত্বে বহাল থাকেন । রাসূল ( রা ) তাকে ঐ দায়িত্বে বহাল রাখেন । এখনো আব্বাসের বংশধররাই এই কূপের তদারকীতে নিয়োজিত আছেন ।
📄 চাচা আবু তালিবের অভিভাবকত্বে রাসূলুল্লাহ (সা)
চাচা আবূ তালিবের অভিভাবকত্বে রাসূলুল্লাহ (সা)
আবদুল মুত্তালিবের ইন্তিকালের পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম স্বীয় চাচা আবূ তালিবের কাছে লালিত - পালিত হতে লাগলেন । কথিত আছে যে , আবদুল মুত্তালিব এ ব্যাপারে আবূ তালিবকে ওসীয়ত করে গিয়েছিলেন । কারণ রাসূল (সা:) -এর পিতা আবদুল্লাহ্ এবং ' আবূ তালিব সহোদর ভ্রাতা ছিলেন এবং তাদের উভয়ের মা ছিলেন ফাতিমা বিন্ত আমর ইব্ন আইয ইব্ন আবদ ইব্ন ইমরান ইব্ন মাখযূম । ইবন হিশামের মতে আইয ইব্ন ইমরান ইব্ন মাখযূম ।
📄 লাহাব গোত্রের জনৈক ব্যক্তি কর্তৃক রাসূল (সা)-এর নবুওয়াত সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী
লাহাব গোত্রের জনৈক ব্যক্তি কর্তৃক রাসূল (সা:) -এর নবুওয়াত সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী
ইবন ইসহাক বর্ণনা করেন যে , লাহাব গোত্রের এক ব্যক্তি মানুষের ভাগ্য গণনা করত । সে যখনই মক্কায় আসত , কুরায়শ বংশের লোকেরা তাদের শিশুদের নিয়ে তার কাছে হাযির হত এবং সে তাদের মুখমণ্ডলের ওপর দৃষ্টি দিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করত । আবূ তালিবও রাসূল (সা:) -কে সাথে নিয়ে তার কাছে এলেন । সে সময় সেখানে আরো অনেক শিশু - কিশোর ছিল । গণকটি রাসূল (সা:) -কে প্রথমে একনযর দেখেই কি এক চিন্তায় মগ্ন হল । তারপর সে বলল : বালককে আমার কাছে নিয়ে এস । আবূ তালিবের রাসূল (সা:) -এর প্রতি তার এই অস্বাভাবিক আগ্রহ দেখে তাকে লুকিয়ে ফেললেন । লোকটি কেবলই বলতে লাগল : “ তোমাদের কি হলো ! বালকটিকে আমার কাছে আন । আল্লাহ্র কসম , সে একটি অসাধারণ সম্ভাবনাময় ছেলে । ” এরপর আবূ তালিব সেখান থেকে প্রস্থান করলেন ।