📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আরওয়ার শোকগাথা

📄 আরওয়ার শোকগাথা


আরওয়ার শোকগাথা
“ সেই অমায়িক স্বভাবের মানুষটি জন্য , যিনি মক্কার নিম্ন সমতল ভূমিতে বসবাসকারী কুরায়শীদের অন্যতম মহৎ ও মর্যাদাশালী ব্যক্তি । সেই মহানুভব দানশীল তুলনাহীন কল্যাণময় বৃদ্ধ পিতার জন্য , যিনি অসাধারণ উদারচিত্ত , সুভাষী , সুনামখ্যাত , উজ্জ্বল ও সরলমনা ছিলেন । যিনি অত্যন্ত সুঠামদেহী , সুদর্শন , গৌরবময় ব্যক্তি ছিলেন । সেই সুদর্শন সহৃদয় পুরুষটি কখনো কারো ক্ষতি করেনি । তিনি ঐতিহ্যময় গৌরব ও মর্যাদার অধিকারী এবং এতে কোন গোপনীয় কিছু নেই । তিনি মালিক ও ফিহরের বংশধরের রক্তপণ পরিশোধকারী এবং ঝগড়া - বিবাদের মীমাংসাকারী । দুর্যোগ ও রক্তপাতের সময় তিনি ছিলেন দানশীল ও মহানুভব যুবক । বড় বড় বীর পুরুষেরা যখন মৃত্যুর ভয়ে কাঁপত , তখন তিনি সাহসের সাথে এগিয়ে যেতেন । ”
ইবন ইসহাক বর্ণনা করেন যে , এরপর আবদুল মুত্তালিবের বাকশক্তি রহিত হয়ে যায় এবং তিনি কন্যাদের মর্সিয়া শুনে মাথা নেড়ে ইশারা করে বলেন , ঠিক আছে , এভাবেই বিলাপ ও শোক প্রকাশ করো ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 মুসায়্যেব ইবন হাযনের বংশ পরিচয়

📄 মুসায়্যেব ইবন হাযনের বংশ পরিচয়


মুসায়্যেব ইবন হাযনের বংশ পরিচয়
ইবন হিশাম বলেন মুসায়্যেব ইবন হাযন ইবন আবি ওহাব ইবন আমর ইবন আয়িয ইবন ইমরান ইবন মাখযূম ।
এ ছাড়া বনূ আদী গোত্রের আর এক কবি হুযায়ফা গানিম আবদুল মুত্তালিবের শোকে দীর্ঘ কবিতা রচনা করেন । এই ব্যক্তি বনূ হাশিম গোত্রের কাছে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ ও অনুরক্ত ছিলেন ।
“ হে আমার নয়ন যুগল , অশ্রু উজাড় করে বুক ভাসিয়ে দাও , তোমরা বৃষ্টির ফোঁটার মত অশ্রু বর্ষণ করতে কুণ্ঠিত হয়ো না । অবারিত ধারায় অশ্রু বর্ষণ কর প্রতি সুর্যোদয়কালে , সেই মহান ব্যক্তির জন্য কাঁদো , যাকে কোন বিপদেই বিপথগামী করতে পারে নি । কুরায়শ বংশের সেই লজ্জাশীল শালীন সাহসী , প্রবল আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন শক্তিমান , সদ্‌গুণসম্পন্ন ব্যক্তিটির জন্য জীবনভর বিলাপ কর , যিনি কখনো হীনতা ও নীচাশয়তার প্রশ্রয় দেননি , অর্থহীন বাজে কথা বলেননি । যিনি গৌরবান্বিত গোত্রপতি , উদারচিত্ত অতিশয় বিজ্ঞ , লুআই - এর বংশধরের মধ্যে যিনি বিপদে - আপদে , অভাবে - দুর্ভিক্ষে বসন্তের মত প্রফুল্ল । মা'আদ ও নাঈল - এর বংশধরের মধ্যে শ্রেষ্ঠ অতিথিপরায়ণ , জনসেবক , মহৎ স্বভাব ও সম্ভ্রান্ত । তাদের সকলের মধ্যে তিনি শ্রেষ্ঠ পুর্বপুরুষ ও শ্রেষ্ঠ উত্তর পুরুষ এবং শ্রেষ্ঠ গুণবান ও সুনামখ্যাত । মর্যাদা , সহিষ্ণুতা , বিচক্ষণতা এবং দুর্যোগে ও দুর্ভিক্ষে দানশীলতায় তিনি তাদের সকলের শ্রেষ্ঠ । সেই শুভ্রকেশী প্রশংসনীয় বৃদ্ধের জন্য কাঁদো , যার মুখমণ্ডল অন্ধকার রাতকে আলোকিত করত পূর্ণিমার চাঁদের মত । তিনি ছিলেন হাজীদের পানি সরবরাহকারী ও সেবক । হাশিম , আবদে মানাফ ও ফিহরের সন্তানদের নেতা , তিনি যমযম পুনঃখনন করেন মাকামে ইব্রাহীমের কাছে , ফলে তার পানি পান করানোর কৃতিত্ব আর সকলের কৃতিত্বকে ম্লান করে দিল । যে কোন দুর্দশাগ্রস্ত ব্যক্তির তাঁর জন্য বিলাপ করা উচিত । কুসাইয়ের বংশধরের প্রত্যেক ধনী ও গরীবের উচিত তাঁর জন্য কাঁদা । তার সন্তানরা যুবক - বৃদ্ধ নির্বিশেষে সকলেই নেতৃস্থানীয় । তাদের জন্য ঈগল পাখি ডিম ফুটায় ( অর্থাৎ সমাজে সচ্ছলতা আসে ) । কুসাই - এর বংশধর যদিও সমগ্র কিনানা গোত্রের সাথে শত্রুতা পোষণ করেছে , তারা সর্বাবস্থায় আল্লাহ্র ঘরের সংরক্ষণ করেছে । মৃত্যু ও তার আনাগোনার দরুন যদি তিনি অন্তর্হিত হয়ে থাকেন , তবে ( তাতে কোন ক্ষতি নেই , কারণ ) তিনি পরম পবিত্র আত্মা ও সফল কার্যকলাপ সহকারে জীবন যাপন করে গেছেন ।
“ নেতৃস্থানীয় লোকদেরকে বাঁচিয়ে রেখেছে বাদামী রং - এর বর্ণার ন্যায় বীর পুরুষগণ । আবূ উতবা উচ্চ মর্যাদাশালী ব্যক্তি যিনি আমার প্রতি অনেক অনুগ্রহ করেছেন । তার কীর্তি অতি উজ্জ্বল ও গৌরবময় । আর হামযা পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় আপন পারিষদ নিয়ে গর্বিত , সকল কলুষ কালিমা ও কলংক থেকে মুক্ত । আবদে মানাফ অত্যন্ত মহান , আত্মমর্যাদাশীল , আত্মীয় - স্বজনের প্রতি কৃপাশীল ও সহানুভূতিশীল । তাদের মধ্যে যারা প্রৌঢ় তারা শ্রেষ্ঠ প্রৌঢ় । আর তাদের বংশধর রাজপুত্রদের ন্যায় , কখনো ধ্বংস হয় না বা ম্লান হয় না । যখনই তাদের সাথে তোমার সাক্ষাত হবে , দেখবে তারা তোমার প্রতি প্রফুল্ল মুখ নিয়ে তাকিয়ে আছে । মক্কার সমগ্র সমতল ভূমিকে তারা মহত্ত্ব ও সম্মান দিয়ে পূর্ণ করে রেখেছে , যখন সৎকর্মের প্রতিযোগিতা ছিল অতীতের ঐতিহ্য । তাদের ভেতরে রয়েছে নির্মাতা । আর আবদে মানাফ তাদের সেই পিতামহ , যিনি সকল দুঃখ - দুর্দশা মোচনকারী । আওফের সাথে নিজ কন্যাকে বিয়ে দেন যাতে আমাদেরকে আমাদের শত্রুদের কবল থেকে উদ্ধার করতে পারেন আর বনূ ফিহর আমাদেরকে নিরাপত্তা দেন । ফলে আমরা আরবের নিম্ন ও উঁচু সকল এলাকায় শান্তির পরিবেশে চলাফেরা করতে সক্ষম হয়েছি , এমনকি সমুদ্রেও কাফেলা নিরাপদে চলেছে । তারা যখন লোকালয়ে অবস্থান করেছে , তখন তাদের ভয়ে সাধারণ মানুষ গ্রাম অঞ্চলে চলে গেছে । ফলে , সেখানে বনূ হাশিমের নেতারা ছাড়া আর কেউ ছিল না । তারা সেখানে ( আরবে ) লোকালয় ও জনবসতি গড়ে তুলেছে এবং সমুদ্রের তলদেশ থেকে পানি এনেছে কূপ খনন করে । যাতে হাজীরা এবং অন্যরা তা থেকে পানি পান করতে পারে । যখন তারা কুরবানীর পরের দিন ভোরে তার সন্ধান করে । তিন দিন হাজীদের কাফেলা মক্কার আশপাশের পাহাড়ের মধ্যে খীমায় অবস্থান করে । অতি প্রাচীনকালেই আমাদের পানির প্রাচুর্য ছিল । তবে খুম্ম ও হাফর ছাড়া আর কুয়া থেকে পানি পান করতে পেতাম না । তারা অপরাধ ক্ষমা করে থাকে , অথচ তার চেয়ে ক্ষুদ্র অপরাধেরও প্রতিশোধ নেয়া হয় । আর অনেক আজেবাজে ও অশালীন কথাবার্তা তারা মাফ করে দেয় । তারা জাবালে হাবশীর নিকটে শপথ গ্রহণকারী সকল মিত্রকে একত্র করেছে । আর বনূ বকরের পাষণ্ডদেরকে শাস্তি দিয়ে আমাদেরকে রক্ষা করেছে । তাদেরকে দিক - বিদিকে তাড়িয়ে দিয়েছে অথবা ধ্বংস করে দিয়েছে । কাজেই তাদের কাছে আজীবন কৃতজ্ঞ থাক । আর ইবন লুবনা যে উপকার করেছে তা ভুলে যেয়ো না । কেননা সে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের মত উপকারই করেছে । আর তুমি কুসাই বংশের লুবনার পুত্র । তুমি উত্তম গুণাবলীর অধিকারী হয়েছ এবং সেগুলোকে সঞ্চয় করে মর্যাদার কেন্দ্রে পৌঁছেছ এবং তুমি হলে দৃঢ় প্রত্যয়ী । তুমি মহত্ত্ব ও বদান্যতার দিক থেকে সকল গোত্রকে অতিক্রম করেছ এবং শিশুকাল থেকেই সকল নেতা থেকে তুমি শীর্ষস্থানে রয়েছ । তোমার মাতা খুযাআ গোত্রের এক অমূল্য রত্ন , যদি কখনো ঐতিহাসিকরা বংশ পরিচয় পর্যালোচনা করে । সকল ঐতিহ্যবাহী সমাজ নায়করা সবার সাথে সম্পৃক্ত । অতএব সবাইকে সম্মান প্রদর্শন কর । তাদের ভেতরে রয়েছে শামিরের পিতা মালিক ও আমর ইব্‌ন মালিক । আরো রয়েছে যুজাদান ও আবুল জা আসআদ , যিনি কুড়িটি হচ্ছে লোকের নেতৃত্ব দিয়েছেন , এ কারণে তিনি ঐ অঞ্চলে বিজয় লাভ করেছেন । ”
ইবন হিশাম ( র ) বলেন : Libbl অর্থাৎ আবু লাহাব , তার মা লুবনা বিনত হাজার খুযাই ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 মাতরূদ আল-খুযাঈর শোকগাথা

📄 মাতরূদ আল-খুযাঈর শোকগাথা


মাতরূদ আল - খুযাইর শোকগাথা
ইবন ইসহাক বলেন : মাতরুদ ইবন কা'ব আল - খুযাই আবদুল মুত্তালিবের গুণ গেয়ে যে শোকগাথা রচনা করেন তা নিম্নরূপ :
“ হে ভিন্ন পথের যাত্রী ! আবদে মানাফের বংশের খোঁজ নিয়েছ কি ? তোমার মা তোমাকে নির্বোধ করে রেখেছে । অথচ তুমি যদি তাদের ঘরে অবতরণ করতে তবে অপরাধ ও অসম্মান থেকে মুক্তি লাভ করতে পারতে । তাদের ধনবানরা দরিদ্রদেরকে নিজেদের সাথে মিলিত করে নেন বলে তাদের দরিদ্ররাও সচ্ছল হয়ে যায় । নক্ষত্রগুলো যখন পরিবর্তিত হয়ে যেত , তখন ধনবানরা , শুভেচ্ছা সফরে যারা ইচ্ছুক তারা এবং সূর্য সমুদ্রে ডুবে যাওয়া পর্যন্ত যখন বাতাস চলাচল করে , তখনও যারা মানুষকে খাওয়ায় তারা সকলেই ( একাকার হয়ে যেত তোমার মুক্তির চেষ্টায় ) । হে কর্মবীর পুরুষ , ভূমি মারা গেলেও তোমার মত ব্যক্তিকে কোন মহৎ ব্যক্তিই অতিক্রম করতে পারত না । শুধুমাত্র তোমার পিতা ছাড়া , যিনি বহু গুণে গুণান্বিত , দানশীল ও অতিথিপরায়ণ , যার নাম মুত্তালিব । ”

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 যমযমের পানি পান করানোর জন্য আব্বাসের অভিভাবকত্ব লাভ

📄 যমযমের পানি পান করানোর জন্য আব্বাসের অভিভাবকত্ব লাভ


যমযমের পানি পান করানোর জন্য আব্বাসের অভিভাবকত্ব লাভ
ইবন ইসহাক বলেন : আবদুল মুত্তালিবের ইন্তিকালের পর যমযম কূপের তদারকীর দায়িত্ব ন্যস্ত হয় তাঁর পুত্র আব্বাসের ওপর । আব্বাস ছিলেন সে সময় তার ভাইদের মধ্যে বয়সে তরুণ । তিনি ইসলামের অভ্যুদয়কাল পর্যন্ত এই দায়িত্বে বহাল থাকেন । রাসূল ( রা ) তাকে ঐ দায়িত্বে বহাল রাখেন । এখনো আব্বাসের বংশধররাই এই কূপের তদারকীতে নিয়োজিত আছেন ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00