📄 আতিকা রচিত শোকগাথা তাঁর পিতা আবদুল মুত্তালিব-এর উদ্দেশ্যে
আতিকা রচিত শোকগাথা তাঁর পিতা আবদুল মুত্তালিব - এর উদ্দেশ্যে
আতিকা বিন্ত আবদুল মুত্তালিব তার পিতার শোকে কাঁদতে কাঁদতে বলেন :
“ হে আমার চক্ষুদ্বয় ! লোকেরা যখন ঘুমিয়ে পড়ে , তখন তোমরা যত পার অশ্রু বর্ষণ কর এবং এ ব্যাপারে কার্পণ্য করো না ।
হে আমার চক্ষুদ্বয় ! তোমরা প্রচুর অশ্রু বর্ষণ কর এবং বিলাপ সহকারে কাঁদতে থাক , হে আমার চক্ষুদ্বয় ! তোমরা কান্নায় ডুবে যাও সেই অসাধারণ পুরুষের ওপর , যিনি কোন দিক থেকেই দুর্বল ছিলেন না । যিনি সকল বিপদ - আপদে সাহায্যকারী এবং সমাধানে তৎপর এবং অঙ্গীকার পূরণকারী , তোমরা কাঁদতে থাক শায়বাতুল হামদের ওপর , যিনি দানবীর , সত্যবাদী , দৃঢ় মনোবলের অধিকারী এবং যুদ্ধের সময় খোলা তরবারি এবং শত্রু বিনাশকারী , নম্রস্বভাব ; উদারহস্ত , ওয়াদা পূরণকারী , বিশাল ব্যক্তিত্বের অধিকারী এবং পুণ্যবান । তাঁর গৃহ মর্যাদার কেন্দ্র , তিনি উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন দৃঢ় প্রত্যয়ী ব্যক্তিত্ব । ”
📄 উম্মে হাকীমের শোকগাথা
উম্মে হাকীম বায়যা বলেন : “ ওহে আমার চোখ , অশ্রু বর্ষণ কর এবং বিলাপ কর , আর সকল সম্মানিত ও দানবীর লোকেেক কাঁদিয়ে তোল । হে আমার চোখ ! তুমি প্রচুর অশ্রুবর্ষণে আমাকে সহযোগিতা কর । তোমার সেই সর্বশ্রেষ্ঠ ঘোড়সওয়ার পিতার জন্য কাঁদো , যিনি কল্যাণের আধার ছিলেন এবং সুপেয় পানির পুষ্করিণী ( স্বরূপ ) ছিলেন । যিনি ছিলেন উদার ও মুক্তহস্ত , মর্যাদাশালী , মহৎ গুণসম্পন্ন ও প্রশংসনীয়ভাবে দানশীল শুভ্রকেশী বৃদ্ধ । আত্মীয় - স্বজনের প্রতি মহানুভব , পরম সুঠামদেহী সুপুরুষ , প্রজ্ঞাময় এবং দুর্ভিক্ষের সময় জনসেবাব্রতী । যখন তুমুল লড়াই বাধত , তখন ছিলেন তিনি এমন বীর শার্দুল যে , সকলেই তাঁকে দেখে বিমোহিত হয়ে যেত । তিনি বনূ কিনানার বংশধরের মধ্যে অতীব বিচক্ষণ , বুদ্ধিমান ও আশ্বস্তকারী ব্যক্তি , যখন তারা অত্যন্ত অবাঞ্ছিত দুর্যোগ ও দুর্ভোগে আক্রান্ত হত । আর যখন যুদ্ধ বাধত কিংবা কঠিন সমস্যা দেখা দিত , তখন তিনি ছিলেন তাদের আশ্রয় ও সহায় । কাজেই তাঁর জন্য কাঁদো , মনে দুঃখ পুষে রেখ না , ক্রন্দসীরা যতদিন বেঁচে থাক তাঁর জন্য কাঁদতে থাক । ”
📄 উমায়মার শোকগাথা
উমায়মা বললেন : “ অতুলনীয় গুণের অধিকারী গোত্রপতি মারা গেলেন , যিনি ছিলেন হাজীদের তত্ত্বাবধায়ক , যিনি প্রতিটি প্রবাসী অতিথির মেহমানদারী করতেন ........। প্রবাসী অতিথিকে সাদরে বাড়িতে অভ্যর্থনা জানাতেন ( তিনি ছাড়া ) আর কে ? যখন গোটা মানব সমাজ কেবল কার্পণ্য দেখাত , হে শুভ্রকেশী প্রশংসনীয় বৃদ্ধ ! তুমি শিশুকাল থেকেই এত সুনাম ও সুখ্যাতি অর্জন করেছ , যা যে কোন যুবকের জন্য সর্বোত্তম কৃতিত্ব । সে কৃতিত্ব ( বয়সের সাথে সাথে ) কেবল বেড়েই চলেছে । মহাদানশীল আবুল হারিস ( আবদুল মুত্তালিবের ডাক নাম ) নিজ স্থান শূন্য করে চলে গেছে । ( মৃত্যুর পর ) কেউ দূরে যায় না ; বরং প্রত্যেক জীবন্ত লোকই দূরে যায় । আমি যতদিন বেঁচে থাকব কাঁদব এবং ব্যথিত হব । এর জন্য তিনি বাস্তবিকই উপযুক্ত । কেননা তার জন্য আমার প্রচণ্ড আবেগ বহাল থাকবে । মানুষের অভিভাবক চলে গেছেন দানের বৃষ্টি বর্ষণ করে , তাই তিনি কবরে থাকলেও আমি তার জন্য কাঁদব । গোটা গোত্রের জন্য তিনি ছিলেন ভূষণ স্বরূপ । যেখানেই প্রশংসা হত সেখানে তিনি প্রশংসিত হতেন । ”
📄 আরওয়ার শোকগাথা
আরওয়ার শোকগাথা
“ সেই অমায়িক স্বভাবের মানুষটি জন্য , যিনি মক্কার নিম্ন সমতল ভূমিতে বসবাসকারী কুরায়শীদের অন্যতম মহৎ ও মর্যাদাশালী ব্যক্তি । সেই মহানুভব দানশীল তুলনাহীন কল্যাণময় বৃদ্ধ পিতার জন্য , যিনি অসাধারণ উদারচিত্ত , সুভাষী , সুনামখ্যাত , উজ্জ্বল ও সরলমনা ছিলেন । যিনি অত্যন্ত সুঠামদেহী , সুদর্শন , গৌরবময় ব্যক্তি ছিলেন । সেই সুদর্শন সহৃদয় পুরুষটি কখনো কারো ক্ষতি করেনি । তিনি ঐতিহ্যময় গৌরব ও মর্যাদার অধিকারী এবং এতে কোন গোপনীয় কিছু নেই । তিনি মালিক ও ফিহরের বংশধরের রক্তপণ পরিশোধকারী এবং ঝগড়া - বিবাদের মীমাংসাকারী । দুর্যোগ ও রক্তপাতের সময় তিনি ছিলেন দানশীল ও মহানুভব যুবক । বড় বড় বীর পুরুষেরা যখন মৃত্যুর ভয়ে কাঁপত , তখন তিনি সাহসের সাথে এগিয়ে যেতেন । ”
ইবন ইসহাক বর্ণনা করেন যে , এরপর আবদুল মুত্তালিবের বাকশক্তি রহিত হয়ে যায় এবং তিনি কন্যাদের মর্সিয়া শুনে মাথা নেড়ে ইশারা করে বলেন , ঠিক আছে , এভাবেই বিলাপ ও শোক প্রকাশ করো ।