📄 রাসূল (সা) এবং তাঁর পূর্ববর্তী নবীগণ বকরী চরিয়েছেন
রাসূল (সা:) এবং তাঁর পূর্ববর্তী নবীগণ বকরী চরিয়েছেন
ইবন ইসহাক বলেন : রাসূল (সা:) বলতেন , প্রত্যেক নবীই বকরী চরিয়েছেন । বলা হল : ইয়া রাসূলাল্লাহ্ , আপনিও ? তিনি বললেন : হ্যাঁ , আমিও । কুরায়শ বংশে জন্মগ্রহণ এবং বনূ সা'দ গোত্রে লালিত হওয়ায় রাসূলুল্লাহ (সা:) গর্ববোধ করতেন । ইবন ইসহাক বলেন , রাসূলুল্লাহ (সা:) তাঁর সাহাবিগণকে বলতেন , আমি তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ আরবীভাষী । কেননা একে তো আমি কুরায়শ বংশোদ্ভূত , তদুপরি আমি বনু সা'দ গোত্রের ধাত্রীর কোলে লালিত হয়েছি ।
**টিকাঃ**
২. ইবন ইসহাক বকরী চরানো দ্বারা বনূ সা'দে থাকা অবস্থায় দুধভাইয়ের সাথে চরানোর কথা বুঝিয়েছেন বুখারীতে মক্কায় কুরায়শের বকরী কয়েক কীরাতের বিনিময়ে চরিয়েছেন বলেও উল্লেখ আছে ।
📄 হালিমা রাসূল (সা)-কে মক্কা শরীফ নিয়ে আসার সময় হারিয়ে ফেলেন এবং ওয়ারাকা ইবন নাওফল তাঁকে উদ্ধার করেন
হালিমা রাসূল (সা:) -কে মক্কা শরীফ নিয়ে আসার সময় হারিয়ে ফেলেন এবং ওয়ারাকা ইব্ন নাওফল তাঁকে উদ্ধার করেন
ইবন ইসহাক বলেন : এই মর্মে জনশ্রুতি রয়েছে যে , হaliমা যখন রাসূল (সা:) -কে তাঁর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে মক্কায় এলেন , তখন শহরে ভিড়ের মধ্যে মুহাম্মদ (সা:) -কে হারিয়ে ফেলেন । অনেক খোঁজাখুঁজি করেও যখন তাঁকে পেলেন না , তখন আবদুল মুত্তালিবের কাছে গেলেন এবং বললেন : আমি আজ মুহাম্মদ (সা:) -কে নিয়ে মক্কায় এসেছি । কিন্তু মক্কার উঁচু এলাকায় তাকে হারিয়ে ফেলেছি । আমি জানি না এখন সে কোথায় আছে । তৎক্ষণাৎ আবদুল মুত্তালিব কা'বা শরীফের কাছে এসে আল্লাহ্র কাছে দু'আ করলেন যেন তাঁকে ফিরিয়ে দেন । কথিত আছে যে , ওয়ারাকা ইবন নাওফল ইব্ন আসাদ এবং কুরায়শের অপর এক ব্যক্তি তাঁকে উদ্ধার করেন এবং তাঁকে আবদুল মুত্তালিবের কাছে নিয়ে আসেন । আবদুল মুত্তালিবও তাঁকে পেয়ে ঘাড়ে তুলে কা'বার চারপাশে কয়েক চক্কর তওয়াফ করলেন এবং আল্লাহ্র কাছে তাঁর নিরাপত্তা চেয়ে দু'আ করলেন । এরপর তাঁকে তাঁর মা আমিনার কাছে পাঠিয়ে দিলেন ।
ইবন ইসহাক বলেন : আমার কাছে কোন কোন আলিম বর্ণনা করেছেন যে , হালিমা কর্তৃক মুহাম্মদ (সা:) -কে তাঁর মায়ের কাছে ফেরত দিতে আসার আরো একটি কারণ এই যে , দুধ ছাড়ানোর পর যখন হালিমা আমিনার কাছে নিয়ে যাওয়ার পর তাঁকে পুনরায় নিজের কাছে নিয়ে এলেন , তখন আবিসিনীয় খ্রিস্টানদের একটি দল রাসূলুল্লাহ (সা:) -কে তাঁর আপাদমস্তক নিরীক্ষণ করার পর হালীমাকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করে । তারপর তারা মুহাম্মদ (সা:) -কে একটি অসাধারণ শিশু বলে অভিহিত করে এবং তাঁকে নিজেদের দেশে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করে । সেই থেকে হালিমা তাঁকে ঐ লোকদের চোখের আড়াল করে রাখেন ।
**টিকাঃ**
১. হালিমা মুহাম্মদ (সা:) -কে পাঁচ বছর এক মাস বয়সে তাঁর মাতা আমিনার কাছে ফিরিয়ে দেন । এরপর হযরত খাদীজার সাথে বিয়ে হবার পর একবার এবং হুনায়ন যুদ্ধের পর একবার — এই দুইবার ছাড়া রাসূলুল্লাহ (সা:) -এর সাথে হালীমার আর দেখা হয়নি । বিবি খাদীজার সাথে বিয়ের পর হালিমা তাঁর সাথে দেখা করে অভাবের কথা জানান । তখন খাদীজা তাঁকে বিশটি ভেড়া ও ছাগল দান করেন ।
📄 আমিনার ইন্তিকাল দাদা আবদুল মুত্তালিবের কাছে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর অবস্থান
মা আমিনার ইন্তিকাল ও দাদা আবদুল মুত্তালিবের কাছে রাসূলুল্লাহ (সা:) -এর অবস্থান
ইবন ইসহাক বলেন : এরপর রাসূলুল্লাহ (সা:) স্বীয় মাতা এবং দাদা আবদুল মুত্তালিব ইব্ন হাশিম - এর সাথে শান্তিতে বাস করতে থাকেন । আল্লাহ্ তাঁকে নিজের তত্ত্বাবধানে নিরাপদে রাখেন এবং তিনি ভালোভাবে বড় হতে থাকেন । রাসূলুল্লাহ (সা:) -এর ছয় বছর বয়সে তাঁর মাতা আমিনা বিন্ত ওয়াহব ইন্তিকাল করেন ।
ইবন ইসহাক বলেন : আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবূ বাকর ইব্ন মুহাম্মদ ইবন আমর ইবন হাযম আমাকে জানিয়েছেন যে , রাসূলুল্লাহ (সা:) -এর বয়স যখন ছয় বছর , তখন তাঁর মাতা আমিনা তাঁকে তাঁর মামাবাড়ি মদীনার বনু আদি গোত্রের কাছে দেখাতে নিয়ে যান । তারপর মক্কায় ফিরে আসার সময় পথিমধ্যে আবওয়া নামক স্থানে বিবি আমিনা ইন্তিকাল করেন ।
**টিকাঃ**
১. কুরতুবীর ‘ তাযকিরা ' নামক গ্রন্থে হযরত আয়েশা ( রা ) থেকে বর্ণিত , রাসূলুল্লাহ্ (সা:) আমাদেরকে সাথে নিয়ে যখন বিদায় হজ্জে গমন করেন , তখন তাঁর মায়ের কবরের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় কাঁদতে থাকেন । তাঁর কান্নায় আমিও যোগ দিই । তারপর তিনি উটের পিঠে থেকে নেমে বললেন : হে হুমায়রা ( আয়েশা ) ! একটু থামো । আমি উটের পিঠে হেলান দিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়ালাম । রাসূলুল্লাহ্ (সা:) দীর্ঘ সময় আমার কাছ থেকে দূরে চিন্তিতভাবে কাটালেন । তারপর হাসিমুখে আমার কাছে ফিরে এলেন । আমি এই হাসির কারণ জানতে চাইলে তিনি বললেন : আমি আমার মা বিবি আমিনার কবরের কাছে যেয়ে আল্লাহ পাকের নিকট মুনাজাত করলাম , তাঁকে জীবিত করুন । তারপর আল্লাহ পাক তাঁকে জীবিত করলেন , জীবিত হয়ে তিনি আমার ওপর ঈমান আনলেন , তারপর আল্লাহ তাঁকে পুনরায় অদৃশ্য করে দিলেন ।
📄 বনূ আদ ইব্ন নাজ্জারকে রাসূল (সা)-এর মাতুল গোত্র বলার কারণ
বনূ আদি ইব্ন নাজ্জারকে রাসূল (সা:) -এর মাতুল গোত্র বলার কারণ
ইবন হিশাম বলেন : আবদুল মুত্তালিব ইব্ন হাশিম - এর মা সালমা বিনতে আমরও ছিলেন বন্ আদী ইবন নাজ্জার গোত্রের মেয়ে । এ কারণেই ইবন ইসহাক ( রা ) বনূ নাজ্জারকে রাসূলুল্লাহ (সা:) -এর মাতুল গোত্র বলে অভিহিত করেছেন ।