📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 হালিমা রাসূল (সা)-কে নিয়ে তাঁর জননীর কাছে গেলেন

📄 হালিমা রাসূল (সা)-কে নিয়ে তাঁর জননীর কাছে গেলেন


হালীমা রাসূল (সা:) -কে নিয়ে তাঁর জননীর কাছে গেলেন
হালিমা ( রা ) বলেন , আমার স্বামী বললেন : আমার মনে হয় , এই ছেলের ওপর কোন কিছুর আছর হয়েছে । সুতরাং কোন ক্ষতি হওয়ার আগেই তাঁকে তাঁর পরিবারের কাছে ' পৌঁছে দাও ।
যথার্থই আমরা তাঁকে তাঁর মায়ের কাছে নিয়ে গেলাম । তাঁর মা বললেন : ‘ ওহে বোন , তুমি তো ওকে নিজের কাছে রাখতে খুবই উদ্গ্রীব ছিলে । হঠাৎ কি হয়েছে যে , ওকে নিয়ে এলে : আমি বললাম : “ আল্লাহ্ আমার ছেলেকে বড় করেছেন এবং আমার যা দায়িত্ব ছিল , তা পালন করেছি । আমি তাঁর ব্যাপারে দুর্ঘটনার আশংকা করছি । তাই আপনার ছেলেকে ভালোয় ভালোয় আপনার হাতে তুলে দিলাম । ” আমিনা বললেন : তুমি যা বলছ তা প্রকৃত ঘটনা নয় ৷ আসল ব্যাপারটা কি , আমাকে সত্য করে বল । এভাবে পুরো ঘটনা খুলে না বলা পর্যন্ত তিনি আমাকে ছাড়লেন না । ঘটনা শুনে আমিনা বললেন : তুমি কি মনে কর ওকে ভূতে ধরেছে ? আমি বললাম , হ্যাঁ । তিনি বললেন : কখনো তা হতে পারে না । আল্লাহ্র কসম , শয়তান ওর ধারে - কাছেও ঘেঁষতে পারে না । আমার ছেলে অসাধারণ মর্যাদার অধিকারী । আমি কি তোমাকে তাঁর শানের কথা বলব : আমি বললাম : হ্যাঁ , বলুন । তিনি বললেন : সে গর্ভে থাকা অবস্থায় · আমি স্বপ্নে দেখি যে , আমার দেহের ভেতর থেকে একটা জ্যোতি বেরিয়ে এলো এবং তার জ্যোতিতে সিরীয় ভূখণ্ডের বুসরার প্রাসাদগুলো আলোকিত হয়ে গেল । এরপর সে গর্ভে বড় হতে লাগল । আল্লাহ্র বসম , এত হালকা ও সহজ গর্ভধারণ আমি আর কখনো দেখিনি । সে যখন ভূমিষ্ঠ হল , তখন মাটিতে দুহাত রাখা ও আকাশের দিকে মাথা তোলা অবস্থায় ভূমিষ্ঠ হল । তুমি ওকে রেখে নির্দ্বিধায় চলে যেতে পার

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 যখন তাঁর পরিচয় জিজ্ঞেস করা হয়, তখন রাসূল (সা) কর্তৃক নিজের পরিচয় প্রদান

📄 যখন তাঁর পরিচয় জিজ্ঞেস করা হয়, তখন রাসূল (সা) কর্তৃক নিজের পরিচয় প্রদান


যখন তাঁর পরিচয় জিজ্ঞেস করা হয় , তখন রাসূল (সা:) কর্তৃক নিজের পরিচয় প্রদান
ইবন ইসহাক বলেন : সাওর ইবন ইয়াযীদ কতিপয় বিদ্বান ব্যক্তির নিকট থেকে ( আমার ধারণা , একমাত্র খালিদ ইব্‌ন মা'দান আল - কালাঈর নিকট থেকেই ) বর্ণনা করেছেন যে , কতিপয় সাহাবী একবার রাসূল (সা:) -কে বলেন : হে আল্লাহ্র রাসূল ! আপনার নিজের সম্পর্কে আমাদেরকে কিছু জানান । তিনি বললেন : তাহলে শোন । আমি আমার পিতা ইবরাহীমের দু'আ ও আমার ভাই ঈসার সু - সংবাদের ফল । আমি গর্ভে আসার পর আমার মা স্বপ্নে দেখলেন যে , তাঁর শরীরের ভেতর থেকে একটা জ্যোতি বেরুল যা দ্বারা সিরিয়ার প্রাসাদসমূহ আলোকিত হয়ে গেল । আর বনূ সা'দ ইব্‌ন বাকর - এর গোত্রের ধাত্রীর কোলে আমি লালিত - পালিত হচ্ছিলাম । এই সময় আমার এক দুধভাই - এর সাথে আমাদের ( ধাত্রীমাতা হালীমার ) বাড়ির পেছনে মেষ চরাতে যাই । তখন সাদা কাপড় পরা দু'জন লোক আমার কাছে এলেন । তাঁদের কাছে একটি সোনার প্লেটভর্তি বরফ ছিল । তারা আমাকে ধরে আমার পেট চিরে ফেললেন । তারপর আমার হৃৎপিণ্ড বের করে তাও চিরলেন এবং তা থেকে একফোঁটা কালো জমাট রক্ত বের করে তা ফেলে দিলেন । তারপর ঐ বরফ দিয়ে আমার পেট ও হৃৎপিণ্ডকে ধুয়ে পরিষ্কার করে দিলেন । তারপর তাদের একজন অপরজনকে বললেন , মুহাম্মদ ( সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম ) -কে তার উম্মতের দশজনের সাথে ওজন কর । তিনি আমাকে ওজন করলেন এবং আমি দশজনের চাইতেও ভারী প্রমাণিত হলাম । তারপর বললেন , তাকে তার উম্মতের একশ ' জনের সাথে ওজন কর । তিনি আমাকে একশ ' জনের সাথে ওজন করলেন । আমি ওযনে একশ ' জনের চেয়েও ভারী হলাম । এরপর তিনি বললেন , তাঁকে তাঁর উম্মতের এক হাজার জনের সাথে ওজন কর । আমাকে এক হাজার জনের সাথে ওজন করলে এবারও আমি এক হাজার জনের চেয়ে ভারী হলাম । তারপর তিনি বললেন , রেখে দাও , আল্লাহ্র কসম , তাঁকে যদি তাঁর সকল উম্মতের সাথে ওজন করা হয় , তাহলেও তিনি তাদের সবার চাইতে ভারী ( অর্থাৎ শ্রেষ্ঠ ) হবেন ।

**টিকাঃ**
১. সিরিয়া বিজিত হওয়া এবং সমগ্র উমাইয়া শাসনকালে সিরিয়ার রাজধানী দামেশক ইসলামী সাম্রাজ্যের রাজধানী থাকার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল এই স্বপ্নে । অনুরূপভাবে বর্ণিত আছে যে , রাসূল (সা:) -এর জন্মের কয়েকদিন আগে সাঈদ ইবনুল আস স্বপ্নে দেখেন যে , যমযম কূপ থেকে একটি আলোকরশ্মি বেরিয়ে এলো এবং সেই আলোকে মদীনার খেজুর বাগানের কাঁটা খেজুর পর্যন্ত পরিদৃষ্ট হল । এ ঘটনা যখন তিনি তার ভাই আমর ইবনুল আসকে জানালেন , তখন তিনি বললেন : যমযম তো আবদুল মুত্তালিবের পুণর্খনন করা কূপ । সুতরাং এই জ্যোতি আবদুল মুত্তালিবের বংশধর থেকেই আবির্ভূত হবে । এ ঘটনার কারণেই সাঈদ ইবনুল আস ইসলাম গ্রহণে আগ্রগামী হতে পেরেছিলেন ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রাসূল (সা) এবং তাঁর পূর্ববর্তী নবীগণ বকরী চরিয়েছেন

📄 রাসূল (সা) এবং তাঁর পূর্ববর্তী নবীগণ বকরী চরিয়েছেন


রাসূল (সা:) এবং তাঁর পূর্ববর্তী নবীগণ বকরী চরিয়েছেন
ইবন ইসহাক বলেন : রাসূল (সা:) বলতেন , প্রত্যেক নবীই বকরী চরিয়েছেন । বলা হল : ইয়া রাসূলাল্লাহ্ , আপনিও ? তিনি বললেন : হ্যাঁ , আমিও । কুরায়শ বংশে জন্মগ্রহণ এবং বনূ সা'দ গোত্রে লালিত হওয়ায় রাসূলুল্লাহ (সা:) গর্ববোধ করতেন । ইবন ইসহাক বলেন , রাসূলুল্লাহ (সা:) তাঁর সাহাবিগণকে বলতেন , আমি তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ আরবীভাষী । কেননা একে তো আমি কুরায়শ বংশোদ্ভূত , তদুপরি আমি বনু সা'দ গোত্রের ধাত্রীর কোলে লালিত হয়েছি ।

**টিকাঃ**
২. ইবন ইসহাক বকরী চরানো দ্বারা বনূ সা'দে থাকা অবস্থায় দুধভাইয়ের সাথে চরানোর কথা বুঝিয়েছেন বুখারীতে মক্কায় কুরায়শের বকরী কয়েক কীরাতের বিনিময়ে চরিয়েছেন বলেও উল্লেখ আছে ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 হালিমা রাসূল (সা)-কে মক্কা শরীফ নিয়ে আসার সময় হারিয়ে ফেলেন এবং ওয়ারাকা ইবন নাওফল তাঁকে উদ্ধার করেন

📄 হালিমা রাসূল (সা)-কে মক্কা শরীফ নিয়ে আসার সময় হারিয়ে ফেলেন এবং ওয়ারাকা ইবন নাওফল তাঁকে উদ্ধার করেন


হালিমা রাসূল (সা:) -কে মক্কা শরীফ নিয়ে আসার সময় হারিয়ে ফেলেন এবং ওয়ারাকা ইব্‌ন নাওফল তাঁকে উদ্ধার করেন
ইবন ইসহাক বলেন : এই মর্মে জনশ্রুতি রয়েছে যে , হaliমা যখন রাসূল (সা:) -কে তাঁর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে মক্কায় এলেন , তখন শহরে ভিড়ের মধ্যে মুহাম্মদ (সা:) -কে হারিয়ে ফেলেন । অনেক খোঁজাখুঁজি করেও যখন তাঁকে পেলেন না , তখন আবদুল মুত্তালিবের কাছে গেলেন এবং বললেন : আমি আজ মুহাম্মদ (সা:) -কে নিয়ে মক্কায় এসেছি । কিন্তু মক্কার উঁচু এলাকায় তাকে হারিয়ে ফেলেছি । আমি জানি না এখন সে কোথায় আছে । তৎক্ষণাৎ আবদুল মুত্তালিব কা'বা শরীফের কাছে এসে আল্লাহ্র কাছে দু'আ করলেন যেন তাঁকে ফিরিয়ে দেন । কথিত আছে যে , ওয়ারাকা ইবন নাওফল ইব্‌ন আসাদ এবং কুরায়শের অপর এক ব্যক্তি তাঁকে উদ্ধার করেন এবং তাঁকে আবদুল মুত্তালিবের কাছে নিয়ে আসেন । আবদুল মুত্তালিবও তাঁকে পেয়ে ঘাড়ে তুলে কা'বার চারপাশে কয়েক চক্কর তওয়াফ করলেন এবং আল্লাহ্র কাছে তাঁর নিরাপত্তা চেয়ে দু'আ করলেন । এরপর তাঁকে তাঁর মা আমিনার কাছে পাঠিয়ে দিলেন ।
ইবন ইসহাক বলেন : আমার কাছে কোন কোন আলিম বর্ণনা করেছেন যে , হালিমা কর্তৃক মুহাম্মদ (সা:) -কে তাঁর মায়ের কাছে ফেরত দিতে আসার আরো একটি কারণ এই যে , দুধ ছাড়ানোর পর যখন হালিমা আমিনার কাছে নিয়ে যাওয়ার পর তাঁকে পুনরায় নিজের কাছে নিয়ে এলেন , তখন আবিসিনীয় খ্রিস্টানদের একটি দল রাসূলুল্লাহ (সা:) -কে তাঁর আপাদমস্তক নিরীক্ষণ করার পর হালীমাকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করে । তারপর তারা মুহাম্মদ (সা:) -কে একটি অসাধারণ শিশু বলে অভিহিত করে এবং তাঁকে নিজেদের দেশে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করে । সেই থেকে হালিমা তাঁকে ঐ লোকদের চোখের আড়াল করে রাখেন ।

**টিকাঃ**
১. হালিমা মুহাম্মদ (সা:) -কে পাঁচ বছর এক মাস বয়সে তাঁর মাতা আমিনার কাছে ফিরিয়ে দেন । এরপর হযরত খাদীজার সাথে বিয়ে হবার পর একবার এবং হুনায়ন যুদ্ধের পর একবার — এই দুইবার ছাড়া রাসূলুল্লাহ (সা:) -এর সাথে হালীমার আর দেখা হয়নি । বিবি খাদীজার সাথে বিয়ের পর হালিমা তাঁর সাথে দেখা করে অভাবের কথা জানান । তখন খাদীজা তাঁকে বিশটি ভেড়া ও ছাগল দান করেন ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00