📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 হালিমা ও তার পিতার বংশ পরিচয়

📄 হালিমা ও তার পিতার বংশ পরিচয়


হালিমা ও তার পিতার বংশ পরিচয়
ইবন ইসহাক বলেন : বনু সা'দ ইবন বাকরের জনৈকা মহিলা হালিমা বিনত আবূ যুয়ায় রাসূল (সা:) -কে দুধপান করানোর আগ্রহ প্রকাশ করলেন । হালিমার পিতা আবূ যুয়ায়বের বংশ পরিচয় এরূপ : আবূ যুয়ায়ব আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন হারিস ইব্‌ন শিজনা ইব্‌ন জাবির ইব্‌ন রিযাম ইব্‌ন নাসিরা ইব্‌ন ফুসাইয়া ইব্‌ন নাসর ইব্‌ন সা'দ ইব্‌ন বাকর ইব্‌ন হাওয়াযিন ইব্‌ন মানসূর ইবন ইকরামা ইব্‌ন খাসাফাহ ইব্‌ন ক্কায়স ইব্‌ন আয়লান ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রাসূল (সা)-এর দুধ পিতার বংশ পরিচয়

📄 রাসূল (সা)-এর দুধ পিতার বংশ পরিচয়


রাসূল (সা:) -এর দুধ - পিতার বংশ পরিচয়
রাসূল (সা:) -এর দুধ - পিতার ( অর্থাৎ হালিমার স্বামীর ) নাম ও বংশ পরিচয় হল : হারিস ' ইব্‌ন আবদুল উযযা ইব্‌ন রিফাআ ইব্‌ন মালান ইব্‌ন নাসিরা ইব্‌ন ফুসাইয়া ইব্‌ন নাসর ইন সা'দ ইব্‌ন বাকর ইব্‌ন হাওয়াযিন । ইব্‌ন হিশাম বলেন , মালান নয় , হিলাল ইব্‌ন নাসিরা ।

**টিকাঃ**
S. এই ভদ্রলোক ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন কিনা জানা যায় না । তবে বনূ সা'দ গোত্রের বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে ইউনুস ইব্‌ন বুকায়র বলেন , রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর দুধপিতা হারিস একবার মক্কায় এসেছিলেন । তখন কুরআন নাযিল হওয়া শুরু হয়েছে । কুরায়শ নেতারা তাকে বলল : ওহে হারূ , তোমার এই ছেলে কি বলে জান ? তিনি বললেন , কি বলে ? তারা বলল : সে বলে , আল্লাহ্ নাকি মৃত্যুর পর মানুষকে পুনরুজ্জীবিত করবেন । আল্লাহ্র নাকি দুটো জায়গা রয়েছে , তার একটিতে যারা তাঁর কথামত চলে তাদেরকে সম্মান ও আদর - আপ্যায়ন করা হয় এবং অপরটিতে অবাধ্য লোকদেরকে শাস্তি দেওয়া হয় । সে এই নতুন বুলি আউড়িয়ে আমাদের মধ্যে ভাংগন ধরিয়েছে । হারিস রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -কে ব্যাপারটা সত্য নাকি জিজ্ঞেস করলেন । রাসূল (সা:) বললেন , সত্যিই আমি এ কথা বলি । এরপর তিনি তাকে ইসলামের দাওয়াত দিলে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন । তারপর হারিস নাকি বলতেন , মুহাম্মদ আমার হাত ধরে আমাকে বেহেশতে নিয়ে যাবে বলে ওয়াদা করেছে ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 হযরত রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর দুধ ভাইবোন

📄 হযরত রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর দুধ ভাইবোন


হযরত রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর দুধ ভাইবোন
ইবন ইসহাক বলেন : রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর দুধ ভাইবোনদের নাম নিম্নরূপ : আবদুল্লাহ্ ইবনুল হারিস , উনায়সা বিনতুল হারিস , হুযাফাহ বিনতুল হারিস ডাকনাম শায়মা । এই ডাকনামই তার আসল নামের ওপর প্রাধান্য লাভ করেছে এবং স্বীয় গোত্রে তিনি এই নামেই পরিচিত । এরা সবাই রাসূল (সা:) -এর দুধমাতা হালিমার আপন পুত্র - কন্যা । শায়মা শিশু মুহাম্মদ (সা:) -কে লালন - পালনে তার মায়ের সহযোগিতা করতেন ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রাসূল (সা)-কে গ্রহণের পর তাঁর মধ্যে পরিলক্ষিত শুভ লক্ষণসমূহ সম্পর্কে হালিমার বিবরণ

📄 রাসূল (সা)-কে গ্রহণের পর তাঁর মধ্যে পরিলক্ষিত শুভ লক্ষণসমূহ সম্পর্কে হালিমার বিবরণ


রাসূল (সা:) -কে গ্রহণের পর তাঁর মধ্যে পরিলক্ষিত শুভ লক্ষণসমূহ সম্পর্কে হালিমার বিবরণ
ইবন ইসহাক বলেন : হারিস ইব্‌ন হাতিব আল - জুমাহীর মুক্ত গোলাম আবূ জাহমের ছেলে জাহম আবূ তালিবের পৌত্র আবদুল্লাহ্ ইব্‌ জা'ফর ইব্‌ন আবূ তালিব - এর কাছ থেকে জেনে আমাকে বলেছেন যে , রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর ধাত্রীমাতা হালিমা বিন্ত আবূ যুয়ায়ব সাদিয়া বলতেন : তিনি তার স্বামী ও দুগ্ধপোষ্য ছেলেকে সাথে নিয়ে বনূ সা'দ গোত্রের একদল মহিলার সাথে দুধ - শিশুর সন্ধানে বের হলেন । ঐ মহিলারাও নাকি একই উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিল । বছরটি ছিল ঘোর অজন্মার । আমরা একেবারেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছিলাম । হালিমা বলেন : আমি একটা সাদা গাধার পিঠে সওয়ার হয়ে বেরিয়ে পড়লাম । আমাদের সাথে একটি বয়স্ক উষ্ট্রীও ছিল । সেটি একফোঁটাও দুধ দিচ্ছিল না । আমাদের যে শিশু সন্তানটি সাথে ছিল , সে ক্ষুধার জ্বালায় এত কাঁদছিল যে , তার দরুন আমরা সবাই বিনিদ্র রজনী কাটাচ্ছিলাম । তার ক্ষুধা নিবৃত্ত করার মত দুধ আমার স্তনেও ছিল না , উষ্ট্রীর পালানেও ছিল না । তবে আমরা বৃষ্টি ও স্বাচ্ছন্দ্য লাভের আশায় প্রহর গুণছিলাম । এ অবস্থায় আমি নিজের গাধাটার পিঠে চড়ে রওয়ানা হলাম । পথ ছিল দীর্ঘ । এক নাগাড়ে চলতে চলতে আমাদের গোটা কাফেলা ক্লান্ত হয়ে পড়ল । অবশেষে আমরা মক্কায় পৌঁছে দুধ - শিশু খুঁজতে লেগে গেলাম । আমাদের মধ্যকার প্রত্যেক মহিলাকেই রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -কে গ্রহণ করতে অনুরোধ করা হল । কিন্তু তিনি ইয়াতীম- -এ কথা শুনে কেউ তাঁকে নিতে রাযী হল না । কারণ প্রত্যেক ধাত্রীই শিশুর পিতার কাছ থেকে উত্তম পারিতোষিক পাওয়ার আশা করত । আমরা সবাই বলাবলি করছিলাম : পিতৃহীন শিশু ! ওর মা আর দাদা কিইবা পারিতোষিক দিতে পারবে ? এ কারণে আমরা সবাই তাঁকে নেয়া অপসন্দ করছিলাম । ইতোমধ্যে আমার সাথে আগত সকল মহিলাই একটা না একটা দুধ - শিশু পেয়ে গেল কিন্তু আমি একটিও পেলাম না । খালি হাতেই ফিরে যাব বলে স্থির করে ফেলেছিলাম । সহসা মত পাল্টে আমার স্বামীকে বললাম , আল্লাহর কসম , এতগুলো সহযাত্রীর সাথে শূন্য হাতে বাড়ি ফিরে যেতে আমার খুব খারাপ লাগছে । আমি ঐ ইয়াতীম শিশুটার কাছে যাবই এবং ওকেই নেব । আমার স্বামী বললেন : কোন আপত্তি নেই । নিতে পার । বলা যায় কি , হয়তো আল্লাহ্ তাঁর ভেতরেই আমাদের জন্যে কল্যাণ রেখেছেন । হালিমা বলেন : "এরপর আমি সেই ইয়াতীম শিশুর কাছে গেলাম এবং শুধু আর কোন শিশু না পাওয়ার কারণেই তাঁকে নিয়ে গেলাম । ”

**টিকাঃ**
১. হালিমার আগে রাসূল (সা:) -কে আবূ লাহাবের দাসী সুয়ায়বা দুধ খাইয়েছিল । সে রাসূল (সা:) ছাড়া তাঁর চাচা হামযাকে এবং আবদুল্লাহ্ ইবন জাহশকেও দুধ খাইয়েছে । সুয়ায়বার দুধ খাওয়ার কথা রাসূলুল্লাহ্ (সা:) জানতেন এবং মদীনায় থাকাকালে তার সাথে যোগাযোগ রাখতেন এবং উপঢৌকনাদি পাঠাতেন । মক্কা বিজয়ের পর খোঁজ নিয়ে জানতে পারলেন যে , সুয়ায়বা , তার ছেলে মাসরূহ কিংবা অন্য কোন আত্মীয় - স্বজন বেঁচে নেই ।
২. দুধ খাওয়ানো ধাত্রীরা এ কাজের জন্য পারিশ্রমিক চাওয়া পসন্দ করত না । শুধু পারিতোষিক প্রত্যাশা করত । হালিমা বনূ সা'দ গোত্রের সবচেয়ে সম্মানিতা মহিলা ছিলেন । সম্ভবত এজন্যই আল্লাহ্ স্বীয় নবীর ধাত্রী হিসাবে তাঁকে মনোনীত করেছিলেন । ধাত্রীর স্বভাব - চরিত্র দুধ খাওয়া শিশুকে প্রভাবিত করে । কথিত আছে যে , রাসূলুল্লাহ্ (সা:) কখনো উভয় স্তন থেকে পান করতেন না । শুধু একটি থেকে পান করতেন । অপরটি থেকে পান করতে দিলেও করতেন না । তাঁর দুধ - ভাই - এর জন্য হয়তো ওটা রাখতেন । তিনি ছিলেন আজন্ম ন্যায়বিচারক ও সমমর্মী ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00