📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর দাদাকে তাঁর আম্মা কর্তৃক তাঁর জন্মের সুসংবাদ দান
রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর দাদাকে তাঁর আম্মা কর্তৃক তাঁর জন্মের সুসংবাদ দান
ইবন ইসহাক বলেন : রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম যখন মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হলেন , তখন তাঁর আম্মাজান তাঁর দাদা আবদুল মুত্তালিবকে খবর পাঠালেন যে , আপনার এক পৌত্র হয়েছে । আসুন দেখে যান । আবদুল মুত্তালিব এলেন ও তাঁকে দেখলেন । এই সময় আমিনা তাঁর গর্ভকালীন সময়ে দেখা স্বপ্নের কথা , নবজাতক সম্পর্কে তাকে যা যা বলা হয়েছে এবং তার যে নাম রাখতে বলা হয়েছে , তা সব জানালেন ।
📄 তাঁর দাদার আনন্দ প্রকাশ এবং দুধমা তালাশ
তাঁর দাদার আনন্দ প্রকাশ এবং দুধমা তালাশ
তারপর কথিত আছে যে , আবদুল মুত্তালিব তাঁকে কোলে নিয়ে কা'বা শরীফে প্রবেশ করলেন । সেখানে তিনি পৌত্রের জন্মের কারণে আল্লাহ্ শোকর আদায় করলেন । '
তারপর তিনি কা'বা শরীফ থেকে বের হন এবং তাঁকে তাঁর মায়ের কাছে অর্পণ করেন । তারপর দুধমায়ের সন্ধানে বের হন ।
ইবন হিশাম বলেন : পবিত্র কুরআনে হযরত মূসার ঘটনা বর্ণনা প্রসঙ্গেও দুধমায়ের উল্লেখ আছে । আল্লাহ্ বলেন : “ আমি মূসার জন্য সকল দুধমাকে হারাম করে দিয়েছিলাম । ”
**টিকাঃ**
১. ইব্ন হিশাম ব্যতীত অন্যান্যের বর্ণনায় জানা যায় যে , আবদুল মুত্তালিব এই সময় শিশু মুহাম্মদ (সা:) -কে আল্লাহ্ হিফাযতে ন্যস্ত করে বলেন : সেই আল্লাহ্ জন্যে সকল প্রশংসা , যিনি আমাকে এই পবিত্র শিশু দান করেছেন । এ শিশু দোলনায় অবস্থানকারী সকল শিশুর সরদার । তাকে এই পবিত্র ঘরের আশ্রয়ে ন্যস্ত করছি । সকল হিংসুকের ও শত্রুর আক্রোশ থেকে তার নিরাপত্তা কামনা করছি । ( রওযুল উফ দ্র . )
২. তৎকালীন আরবের অভিজাত পরিবারের দুধমায়ের কাছে শিশু সন্তানকে লালন - পালনের দায়িত্ব অর্পণের যে প্রথা চালু ছিল , তার পেছনে ঐতিহাসিকগণ একাধিক কারণ বর্ণনা করেছেন । প্রথমত , এতে স্ত্রীগণ তাদের স্বামীদের জন্য অধিকতর নিবেদিত হতে পারত । উদাহরণ স্বরূপ , হযরত আম্মার ইবন ইয়াসিরের একটি উক্তি উল্লেখ করা হয়ে থাকে । তিনি স্বীয় দুধবোন উম্মুল মুমিনীর হযরত উম্মে সালামার কাছে থেকে তাঁর কন্যা যয়নবকে এই বলে নিয়ে যান যে , এই পোড়া কপালী মেয়েটার জন্য তুমি আল্লাহ্র রাসূলকে অনেক কষ্ট দিয়েছ । কাজেই ওকে বিদায় কর ( এবং কোন দুধমায়ের কাছে সমর্পণ কর ) । দ্বিতীয়ত , এতে শিশু শহরের বাইরের বেদুঈনদের সাথে থেকে বিশুদ্ধ ভাষা শিখতে পারবে এবং সুঠাম দেহ -ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হওয়ার সুযোগ পাবে । বর্ণিত আছে যে , হযরত উমর ( রা ) সবল দেহ অর্জনের জন্য শহরের বাইরে অবস্থানের উপদেশ দিতেন । আর রাসূল (সা:) -কে যখন হযরত আবূ বকর ( রা ) অত্যন্ত শুদ্ধভাষী বলে প্রশংসা করেন , তখন তিনি বলেন : একে তো আমি কুরায়শ বংশের সন্তান , তদুপরি বনূ সা'দ গোত্রে দুধ খেয়ে লালিত - পালিত হয়েছি । কাজেই আমার শুদ্ধভাষী হতে বাধা কোথায় ? ইতিহাসে আরো উল্লেখ আছে যে , উমাইয়া শাসক আবদুল মালিক ইব্ন মারওয়ান স্বীয় পুত্র সুলায়মানের শুদ্ধভাষী হওয়ার জন্য গর্ববোধ ও ওয়ালীদের অশুদ্ধভাষী হওয়ার জন্য আফসোস করতেন এবং বলতেন , ওয়ালীদকে বেশি স্নেহ করে মায়ের কাছে রেখে তার ক্ষতি করেছি । অথচ তার অন্যান্য ভাই সুলায়মান প্রমুখ গ্রামে বাস করে শুদ্ধ আরবী ও উত্তম চালচলন রপ্ত করেছিল । ( রওযুল উফ ও শরহে মাওয়াহিব
📄 হালিমা ও তার পিতার বংশ পরিচয়
হালিমা ও তার পিতার বংশ পরিচয়
ইবন ইসহাক বলেন : বনু সা'দ ইবন বাকরের জনৈকা মহিলা হালিমা বিনত আবূ যুয়ায় রাসূল (সা:) -কে দুধপান করানোর আগ্রহ প্রকাশ করলেন । হালিমার পিতা আবূ যুয়ায়বের বংশ পরিচয় এরূপ : আবূ যুয়ায়ব আবদুল্লাহ্ ইব্ন হারিস ইব্ন শিজনা ইব্ন জাবির ইব্ন রিযাম ইব্ন নাসিরা ইব্ন ফুসাইয়া ইব্ন নাসর ইব্ন সা'দ ইব্ন বাকর ইব্ন হাওয়াযিন ইব্ন মানসূর ইবন ইকরামা ইব্ন খাসাফাহ ইব্ন ক্কায়স ইব্ন আয়লান ।
📄 রাসূল (সা)-এর দুধ পিতার বংশ পরিচয়
রাসূল (সা:) -এর দুধ - পিতার বংশ পরিচয়
রাসূল (সা:) -এর দুধ - পিতার ( অর্থাৎ হালিমার স্বামীর ) নাম ও বংশ পরিচয় হল : হারিস ' ইব্ন আবদুল উযযা ইব্ন রিফাআ ইব্ন মালান ইব্ন নাসিরা ইব্ন ফুসাইয়া ইব্ন নাসর ইন সা'দ ইব্ন বাকর ইব্ন হাওয়াযিন । ইব্ন হিশাম বলেন , মালান নয় , হিলাল ইব্ন নাসিরা ।
**টিকাঃ**
S. এই ভদ্রলোক ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন কিনা জানা যায় না । তবে বনূ সা'দ গোত্রের বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে ইউনুস ইব্ন বুকায়র বলেন , রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর দুধপিতা হারিস একবার মক্কায় এসেছিলেন । তখন কুরআন নাযিল হওয়া শুরু হয়েছে । কুরায়শ নেতারা তাকে বলল : ওহে হারূ , তোমার এই ছেলে কি বলে জান ? তিনি বললেন , কি বলে ? তারা বলল : সে বলে , আল্লাহ্ নাকি মৃত্যুর পর মানুষকে পুনরুজ্জীবিত করবেন । আল্লাহ্র নাকি দুটো জায়গা রয়েছে , তার একটিতে যারা তাঁর কথামত চলে তাদেরকে সম্মান ও আদর - আপ্যায়ন করা হয় এবং অপরটিতে অবাধ্য লোকদেরকে শাস্তি দেওয়া হয় । সে এই নতুন বুলি আউড়িয়ে আমাদের মধ্যে ভাংগন ধরিয়েছে । হারিস রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -কে ব্যাপারটা সত্য নাকি জিজ্ঞেস করলেন । রাসূল (সা:) বললেন , সত্যিই আমি এ কথা বলি । এরপর তিনি তাকে ইসলামের দাওয়াত দিলে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন । তারপর হারিস নাকি বলতেন , মুহাম্মদ আমার হাত ধরে আমাকে বেহেশতে নিয়ে যাবে বলে ওয়াদা করেছে ।