📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রাসূল (সা)-এর আবির্ভাব সম্পর্কে হাসান ইব্‌ন সাবিতের বর্ণনা

📄 রাসূল (সা)-এর আবির্ভাব সম্পর্কে হাসান ইব্‌ন সাবিতের বর্ণনা


রাসূল (সা:) -এর জন্ম ও দুগ্ধপান
ইবন ইসহাক বলেন : ' আমুল ফীল ' অর্থাৎ হাতি বাহিনী নিয়ে আবরাহার কাবা অভিযানের ঘটনা যে বছর ঘটে , সেই বছরের রবিউল আউয়াল মাসের বার তারিখের রাত্রি অতিবাহিত হবার শুভ মুহূর্তে সোমবারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের আবির্ভাব ঘটে । '
ইবন ইসহাক বলেন : কায়স্ ইব্‌ন মাখরামা বলতেন যে , “ আমি ও রাসূল (সা:) আবরাহার হামলার বছর জন্মগ্রহণ করি । তাই আমরা সমবয়সী । ”
ইবন ইসহাক বলেন : আবদুল মুত্তালিব ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন কায়স ইবন মাখরামা স্বীয় পিতা আবদুল্লাহ্ এবং পিতামহ কায়স ইব্‌ন মাখরামা থেকে বর্ণনা করেন যে , আমি ( কায়স ইবন মাখরামা ) এবং রাসূল (সা:) আবরাহার আক্রমণের বছর জন্মগ্রহণ করেছি । কাজেই আমরা উভয়ে সমবয়সী ।
রাসূল (সা:) -এর আবির্ভাব সম্পর্কে হাসসান ইবন সাবিতের বর্ণনা
ইবন ইসহাক ( র ) বর্ণনা করেন যে , হাসান ইবন সাবিত ( রা ) বলেন , আল্লাহর কসম ! আমি তখন সাত - আট বছরের বালক হলেও বেশ শক্তিশালী ও লম্বা হয়ে উঠেছি । যা শুনতাম তা বুঝার ক্ষমতা আমার হয়েছে । হঠাৎ শুনতে পেলাম জনৈক ইয়াহুদী ইয়াসরিবের একটা দুর্গের ওপর আরোহণ করে উচ্চস্বরে ‘ ওহে ইয়াহুদিগণ ' বলে ডাক দেয় । লোকেরা তার কাছে সমবেত হয়ে বলল , হায় , তোমার কি হল ? সে বলল , “ আজ রাতে আহমদের জন্মের নক্ষত্রটা উদিত হয়েছে । ”
মুহাম্মদ ইব্‌ন ইসহাক বলেন : আমি হাস্সান ইবন সাবিত ( রা ) -এর পৌত্র সাঈদ ইব্‌ন আবদুর রহমানকে জিজ্ঞেস করলাম : রাসূলুল্লাহ্ (সা:) যখন মদীনায় হিজরত করেন , তখন হাসানের বয়স কত ছিল ? তিনি জবাব দিলেন : ষাট বছর । আর রাসূল (সা:) -এর বয়স ছিল তখন তেপ্পান্ন বছর । সুতরাং উপরোক্ত ইয়াহুদীর ডাক শোনার সময় হাসানের বয়স ছিল সাত বছর ।

**টিকাঃ**
১. রাসূল (সা:) -এর জন্ম সম্পর্কে সাধারণত প্রসিদ্ধ উক্ত এই যে , তিনি রবিউল আউয়াল মাসে আবির্ভূত । তবে যুবায়র বলেছেন , তিনি রমযান মাসে জন্মগ্রহণ করেন । কারো কারো মতে আমিনা গর্ভধারণ করেন আইয়ামে তাশরীকে অর্থাৎ যিলহজ্জ মাসের মাঝামাঝি সময়ে । এ উক্তি সঠিক হলে রাসূল (সা:) -এর রমযানে জন্মগ্রহণের অভিমত সঠিক । সংখ্যাগুরু ঐতিহাসিকের বক্তব্য এই যে , হাতি বাহিনী মক্কা শরীফে এসেছিল মুহাররম মাসে এবং এর পঞ্চাশ দিন পর তিনি আবির্ভূত হন । এ মতটিই অধিক প্রচলিত এবং সর্বাধিক প্রসিদ্ধ । জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে , সৌর হিসাবে তাঁর জন্ম তারিখ ২০ শে সেপ্টেম্বর । তিনি জন্মগ্রহণ করেন মক্কা শরীফের পাহাড়ের উপত্যকায় অবস্থিত বাড়িতে । কারো কারো মতে সাফা পর্বতের নিকট অবস্থিত বাড়িতে । পরে হারুনুর রশীদের স্ত্রী যুবায়দা এটিকে মসজিদে পরিণত করেন । ( রওযুল উনুফ , ইব্‌ন সা'দকৃত তাবাকাতুল কুবরা , তাবারী ) ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর দাদাকে তাঁর আম্মা কর্তৃক তাঁর জন্মের সুসংবাদ দান

📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর দাদাকে তাঁর আম্মা কর্তৃক তাঁর জন্মের সুসংবাদ দান


রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর দাদাকে তাঁর আম্মা কর্তৃক তাঁর জন্মের সুসংবাদ দান
ইবন ইসহাক বলেন : রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম যখন মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হলেন , তখন তাঁর আম্মাজান তাঁর দাদা আবদুল মুত্তালিবকে খবর পাঠালেন যে , আপনার এক পৌত্র হয়েছে । আসুন দেখে যান । আবদুল মুত্তালিব এলেন ও তাঁকে দেখলেন । এই সময় আমিনা তাঁর গর্ভকালীন সময়ে দেখা স্বপ্নের কথা , নবজাতক সম্পর্কে তাকে যা যা বলা হয়েছে এবং তার যে নাম রাখতে বলা হয়েছে , তা সব জানালেন ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 তাঁর দাদার আনন্দ প্রকাশ এবং দুধমা তালাশ

📄 তাঁর দাদার আনন্দ প্রকাশ এবং দুধমা তালাশ


তাঁর দাদার আনন্দ প্রকাশ এবং দুধমা তালাশ
তারপর কথিত আছে যে , আবদুল মুত্তালিব তাঁকে কোলে নিয়ে কা'বা শরীফে প্রবেশ করলেন । সেখানে তিনি পৌত্রের জন্মের কারণে আল্লাহ্ শোকর আদায় করলেন । '
তারপর তিনি কা'বা শরীফ থেকে বের হন এবং তাঁকে তাঁর মায়ের কাছে অর্পণ করেন । তারপর দুধমায়ের সন্ধানে বের হন ।
ইবন হিশাম বলেন : পবিত্র কুরআনে হযরত মূসার ঘটনা বর্ণনা প্রসঙ্গেও দুধমায়ের উল্লেখ আছে । আল্লাহ্ বলেন : “ আমি মূসার জন্য সকল দুধমাকে হারাম করে দিয়েছিলাম । ”

**টিকাঃ**
১. ইব্‌ন হিশাম ব্যতীত অন্যান্যের বর্ণনায় জানা যায় যে , আবদুল মুত্তালিব এই সময় শিশু মুহাম্মদ (সা:) -কে আল্লাহ্ হিফাযতে ন্যস্ত করে বলেন : সেই আল্লাহ্ জন্যে সকল প্রশংসা , যিনি আমাকে এই পবিত্র শিশু দান করেছেন । এ শিশু দোলনায় অবস্থানকারী সকল শিশুর সরদার । তাকে এই পবিত্র ঘরের আশ্রয়ে ন্যস্ত করছি । সকল হিংসুকের ও শত্রুর আক্রোশ থেকে তার নিরাপত্তা কামনা করছি । ( রওযুল উফ দ্র . )
২. তৎকালীন আরবের অভিজাত পরিবারের দুধমায়ের কাছে শিশু সন্তানকে লালন - পালনের দায়িত্ব অর্পণের যে প্রথা চালু ছিল , তার পেছনে ঐতিহাসিকগণ একাধিক কারণ বর্ণনা করেছেন । প্রথমত , এতে স্ত্রীগণ তাদের স্বামীদের জন্য অধিকতর নিবেদিত হতে পারত । উদাহরণ স্বরূপ , হযরত আম্মার ইবন ইয়াসিরের একটি উক্তি উল্লেখ করা হয়ে থাকে । তিনি স্বীয় দুধবোন উম্মুল মুমিনীর হযরত উম্মে সালামার কাছে থেকে তাঁর কন্যা যয়নবকে এই বলে নিয়ে যান যে , এই পোড়া কপালী মেয়েটার জন্য তুমি আল্লাহ্র রাসূলকে অনেক কষ্ট দিয়েছ । কাজেই ওকে বিদায় কর ( এবং কোন দুধমায়ের কাছে সমর্পণ কর ) । দ্বিতীয়ত , এতে শিশু শহরের বাইরের বেদুঈনদের সাথে থেকে বিশুদ্ধ ভাষা শিখতে পারবে এবং সুঠাম দেহ -ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হওয়ার সুযোগ পাবে । বর্ণিত আছে যে , হযরত উমর ( রা ) সবল দেহ অর্জনের জন্য শহরের বাইরে অবস্থানের উপদেশ দিতেন । আর রাসূল (সা:) -কে যখন হযরত আবূ বকর ( রা ) অত্যন্ত শুদ্ধভাষী বলে প্রশংসা করেন , তখন তিনি বলেন : একে তো আমি কুরায়শ বংশের সন্তান , তদুপরি বনূ সা'দ গোত্রে দুধ খেয়ে লালিত - পালিত হয়েছি । কাজেই আমার শুদ্ধভাষী হতে বাধা কোথায় ? ইতিহাসে আরো উল্লেখ আছে যে , উমাইয়া শাসক আবদুল মালিক ইব্‌ন মারওয়ান স্বীয় পুত্র সুলায়মানের শুদ্ধভাষী হওয়ার জন্য গর্ববোধ ও ওয়ালীদের অশুদ্ধভাষী হওয়ার জন্য আফসোস করতেন এবং বলতেন , ওয়ালীদকে বেশি স্নেহ করে মায়ের কাছে রেখে তার ক্ষতি করেছি । অথচ তার অন্যান্য ভাই সুলায়মান প্রমুখ গ্রামে বাস করে শুদ্ধ আরবী ও উত্তম চালচলন রপ্ত করেছিল । ( রওযুল উফ ও শরহে মাওয়াহিব

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 হালিমা ও তার পিতার বংশ পরিচয়

📄 হালিমা ও তার পিতার বংশ পরিচয়


হালিমা ও তার পিতার বংশ পরিচয়
ইবন ইসহাক বলেন : বনু সা'দ ইবন বাকরের জনৈকা মহিলা হালিমা বিনত আবূ যুয়ায় রাসূল (সা:) -কে দুধপান করানোর আগ্রহ প্রকাশ করলেন । হালিমার পিতা আবূ যুয়ায়বের বংশ পরিচয় এরূপ : আবূ যুয়ায়ব আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন হারিস ইব্‌ন শিজনা ইব্‌ন জাবির ইব্‌ন রিযাম ইব্‌ন নাসিরা ইব্‌ন ফুসাইয়া ইব্‌ন নাসর ইব্‌ন সা'দ ইব্‌ন বাকর ইব্‌ন হাওয়াযিন ইব্‌ন মানসূর ইবন ইকরামা ইব্‌ন খাসাফাহ ইব্‌ন ক্কায়স ইব্‌ন আয়লান ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00