📄 আমিনা বিন্ত ওয়াহবের মাতৃকূলের পরিচয়
আমিনা বিন্ত ওয়াহবের সাথে আবদুল্লাহ্র বিয়ে
আবদুল মুত্তালিব তাকে নিয়ে ওয়াব ইব্ন আবদ মানাফ ইবন যুহরা ইন কিলাব ইন মুররা ইবন কা'ব ইবন লুআই ইব্ন গালিব ইব্ন ফিহর - এর কাছে গেলেন । ইনি বংশ মর্যাদায় বনূ যুহরা গোত্রের প্রধান ছিলেন । এই ওয়াবের কন্যা আমিনার সাথে আবদুল্লাহ্র বিয়ে সম্পন্ন হল । আমিনাও সমগ্র কুরায়শ বংশের সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন ও সম্ভ্রান্ত মহিলা ছিলেন ।
আমিনা বিত ওয়াবের মাতৃকূলের পরিচয়
আমিনার মাতার নাম বাররা বিন্ত আবদুল উযযা ইব্ন উসমান ইব্ন আবদুদ্দার ইন কুসাই ইন কিলাব ইব্ন মুররা ইন্ন কা'ব ইবন লুআই ইব্ন গালিব - ই ফিহর । আর বাররার মাতার নাম উম্মে হাবীব বিন্ত আসাদ ইবন আবদুল উযযা ইব্ন কুসাই ইন কিলাব ইব্ন মুররা ইবন কা'ব ইবন লুআই ইন গালib ইব্ন ফিহর । উম্মে হাবীরের মাতার নাম বাররা বিন্ত আওফ ইব্ন উবায়দ ইব্ন উয়াইজ ইব্ন আদী ইবন কা'ব ইবন লুআই ইবন গালib ইব্ন ফিহর ।
📄 বিয়ে সম্পন্ন হবার পর আমিনার সাথে উপরোক্ত রুকাইয়া বিন্ত নাওফলের কথোপকথন
বিয়ে সম্পন্ন হবার পর আমিনার সাথে উপরোক্ত রুকাইয়া বিনতে নাওফলের কথোপকথন
কথিত আছে যে , আবদুল্লাহ্ আমিনার নিকট নিজের স্থাবর সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তরের পরই তার সাথে মিলিত হন এবং প্রথম মিলনেই রাসূল (সা:) আমিনার গর্ভে আসেন । তারপর আবদুল্লাহ্ বাইরে যান এবং রুকাইয়া বিন্ত নাওফলের সাথে সাক্ষাত করে দেখেন , তার মধ্যে আর আগের মনোভাব নেই । আবদুল্লাহ্ বলেন : “ ব্যাপার কি , এখন যে তুমি আমাকে গতকালকের মত প্রস্তাব দিচ্ছ না ? ” রুকাইয়া বলল : “ এখন আর তোমাকে দিয়ে আমার প্রয়োজন নেই । কাল তোমার ভেতরে যে জ্যোতি ছিল , আজ তা নেই । ” রুকাইয়া স্বীয় ভাই ওয়ারাকার নিকট শুনেছিল যে , এই জাতির মধ্যে একজন নবীর আগমন আসন্ন । ওয়ারাকা খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন এবং ঐশী গ্রন্থে পারদর্শী ছিলেন ।
ইবন ইসহাক বলেন : আবূ ইসহাক ইব্ন ইয়াসারের কাছ থেকে আমি লোকমুখে শুনেছি যে , আমিনা বিনতে ওয়াহবের পাশাপাশি আর একজন স্ত্রীও আবদুল্লাহ্র ছিল এবং তিনি সেই স্ত্রীর কাছেই প্রথম মিলিত হতে গিয়েছিলেন । কিন্তু সেদিন তিনি কাদামাটি সংক্রান্ত কাজ করায় তাঁর গায়ে কিছু কাদামাটি লেগেছিল । তাই ঐ স্ত্রী তাঁর ডাকে ত্বরিত সাড়া দিতে ব্যর্থ হয় । এতে আবদুল্লাহ্ উযূ ও গোসল করে পরিচ্ছন্ন হয়ে আসেন এবং এবার আমিনার কাছে যান । এ সময় পূর্বোক্ত স্ত্রী তাঁকে ডাকলেও তিনি তার ডাক উপেক্ষা করেন এবং আমিনার সাথে মিলিত হন । সেই মিলনের ফলে মুহাম্মদ (সা:) গর্ভে আসেন । তারপর পূর্বোক্ত স্ত্রীর কাছে গেলে সে মিলিত হতে অসম্মতি জানায় এবং বলে : ইতিপূর্বে যখন তুমি আমার কাছ দিয়ে যাচ্ছিলে , তখন তোমার দুই চোখের মাঝখানে একটা উজ্জ্বল জ্যোতি ঝিকমিক করছিল । কিন্তু আমিনার সাথে মিলিত হবার পর তোমার কপালে সেই জ্যোতি আর নেই ।
ইবন ইসহাক - এর মতে এই মহিলা আবদুল্লাহর কপালে ঘোড়ার কপালের সাদা চিহ্নের মত একটা সাদা চিহ্ন দেখেছিল , যা আমিনার সাথে মিলিত হবার পর অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল । যা হোক , শেষ পর্যন্ত আমিনার গর্ভেই পিতামাতা উভয় দিকের বংশীয় আভিজাত্য ও গৌরব নিয়ে রাসূল (সা:) জন্মগ্রহণ করেছিলেন ।
📄 রাসূল (সা)-কে গর্ভে ধারণের পর আমিনার স্বপ্ন দর্শন
রাসূল (সা:) -কে গর্ভে ধারণের পর আমিনার স্বপ্ন দর্শন
রাসূল (সা:) -কে গর্ভে ধারণ
রাসূল (সা:) -এর আম্মাজান আমিনা বিনৃত ওয়াহব বলতেন করার পর আমি নানা রকমের স্বপ্ন দেখতে আরম্ভ করি । একবার স্বপ্নে আমাকে কে যেন বলল : মানবজাতির মহানায়ককে তুমি গর্ভে ধারণ করেছ । তিনি যখন ভূমিষ্ঠ হবেন , তখন তুমি বলবে আমি আমার এই সন্তানকে সকল হিংসুকের অনিষ্ট থেকে এক আল্লাহর আশ্রয়ে সমর্পণ করছি । তারপর তার নাম রেখো মুহাম্মদ । তিনি গর্ভে থাকাকালে আমিনা আরো স্বপ্ন দেখেন যে , তার দেহের ভেতর থেকে এমন একটা আলোকরশ্মি বেরুল , যা দিয়ে তিনি সুদূর সিরীয় ভূখণ্ডের বুসরার প্রাসাদসমূহ পর্যন্ত দেখতে পেলেন ।
**টিকাঃ**
১. সমগ্র আরব জাতির ইতিহাসে ইতিপূর্বে মাত্র তিনজনের এই নাম রাখা হয়েছে । যথা :
১. কবি ফারাযদাকের দাদার দাদা মুহাম্মদ ইব্ন সুফইয়ান , ২. মুহাম্মদ ইব্ন উহায়হা ইব্ন জিলাহ , ৩. মুহাম্মদ ইবন হিমরান ইব্ন রবীআহ । এ তিনজনের প্রত্যেকের পিতা জানতে পেরেছিলেন যে , আল্লাহ্র এক রাসূলের আবির্ভাবের সময় প্রায় সমাগত এবং তিনি হিজাযে আবির্ভূত হতে যাচ্ছেন । এ কথা শুনে তাদের প্রত্যেকের আকাঙ্ক্ষা জন্মে যে , তিনি যেন এই রাসূলের পিতা হবার গৌরব লাভ করেন । কথিত আছে যে , আসমানী কিতাবের জ্ঞান রাখেন এমন এক বাদশাহ্র দরবারে গিয়ে তারা এ কথা শুনতে পান । বাদশাহ্ তাদেরকে এও জানান যে , উক্ত নবীর নাম হবে মুহাম্মদ । ঐ সময় তাদের প্রত্যেকের স্ত্রী গর্ভবর্তী ছিল । তাই তারা তাদের পুত্র সন্তান হলে তার নাম মুহাম্মদ রাখার সিদ্ধান্ত নেন এবং তদনুসারে নাম রাখেন । ( ইবন ফুরক কৃত রওযুল উফ )
📄 আবদুল্লাহ্র তিরোধান
আবদুল্লাহ্ তিরোধান
তিনি মাতৃগর্ভে থাকতেই তাঁর পিতা আবদুল্লাহ ইন্তিকাল করেন ।
**টিকাঃ**
অধিকাংশ আলিমের মতে রাসূল (সা:) মাত্র দুই মাস বা ততোধিক বয়সে দোলনায় থাকাকালেই আবদুল্লাহ্ মৃত্যু হয় । আবার কেউ কেউ বলেন , রাসূল (সা:) -এর যখন আটাশ মাস , তখন আবদুল্লাহ্ বন্ নাজ্জার গোত্রভুক্ত স্বীয় মামা বাড়িতে মারা যান । কথিত আছে যে , আবদুল্লাহকে তাঁর মামা বাড়ির সবচেয়ে ক্ষুদ্র কুটীর , নাবেগার কুটীরে সমাহিত করা হয়েছিল । ( তাবারী , রওযুল উফ দৃষ্টব্য ) ।