📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আবদুল্লাহকে স্বামী হিসাবে গ্রহণ করতে আগ্রহী এক মহিলার বিবরণ এবং আবদুল্লাহ্ কর্তৃক তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান

📄 আবদুল্লাহকে স্বামী হিসাবে গ্রহণ করতে আগ্রহী এক মহিলার বিবরণ এবং আবদুল্লাহ্ কর্তৃক তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান


যবেহ থেকে আবদুল্লাহর মুক্তি
এরপর সবাই মক্কা চলে গেলেন । তারপর যখন তারা মহিলা জ্যোতিষীর কথা অনুযায়ী মূর্তির নিকট গিয়ে কর্তব্য সমাধায় প্রস্তুত হলেন , তখন আবদুল মুত্তালিব দাঁড়িয়ে আল্লাহ্র নিকট প্রার্থনা করতে লাগলেন । তারপর আবদুল্লাহকে ও সেই সাথে দশটা উটকে হাযির করা হল । আবদুল মুত্তলিব হুবালের নিকট দাঁড়িয়ে আল্লাহ্র কাছে দু'আ করতে লাগলেন । তারপর তীর টানা হল । তীর আবদুল্লাহর নামেই বেরুল । তারা আরো দশটা উট বাড়িয়ে দিল । ফলে বলির উটের সংখ্যা দাঁড়ালো বিশ । আবদুল মুত্তালিব আবার আল্লাহর কাছে দু'আ করতে লাগলেন । পুনরায় তীর টানা হল । এবারও আবদুল্লাহ্র নামে তীর বেরুল । ফলে আরো দশটা উট বাড়িয়ে ত্রিশ করা হল । আবদুল মুত্তালib আল্লাহ্র কাছে দু'আ করতে লাগলেন । এবারও তীর টানা হলে আবদুল্লাহ্র নামে তীর বেরুল । পুনরায় আরো দশটা উট বাড়িয়ে চল্লিশ করা হল । আর আবদুল মুত্তালিব আল্লাহ্র কাছে দু'আ করতে লাগলেন । এবারও তীর টানা হল এবং তা যথারীতি আবদুল্লাহ্র নামে তীর বেরুল । তারপর আরো দশটা উট বাড়িয়ে পঞ্চাশ করা হল এবং আবদুল মুত্তালিব আল্লাহ্র কাছে দু'আ করতে লাগলেন । এবারও তীর টানা হল এবং তা যথারীতি আবদুল্লাহ্র নামে তীর বেরুল । তারপর আরো দশটা উট বাড়িয়ে উটের সংখ্যা ষাট করা হলে একই প্রক্রিয়ায় তীর টানা হল । এবারও আবদুল্লাহ্র নামে বেরুল । আবার দশটা উট বাড়িয়ে উটের সংখ্যা সত্তরে উন্নীত করার পর একই নিয়মে তীর টানা হলে আবারো আবদুল্লাহর নামে বেরুল । তারপর আরো দশটা উট বৃদ্ধি করে উটের সংখ্যা আশ্বিতে উঠলে তীর টানা হলে এবারও আবদুল্লাহ্ নাম বেরুল । পুনরায় আরো দশটি উট বৃদ্ধি করে নব্বইতে উন্নীত করে আবদুল মুত্তালিব আল্লাহ্র কাছে দু'আ করতে লাগলেন । এবারও তীর টানা হলে আবদুল্লাহ্র নামে বেরুল । এরপর আরো দশটি উট বাড়িয়ে একশো পূর্ণ করে আবদুল মুত্তালিব আল্লাহ্র কাছে দু'আ করতে লাগলেন । এবার তীর টানা হলে দেখা গেল উটের নামে তীর বেরিয়েছে । এতে সমবেত কুরায়শ নেতারা ও অন্যরা সোল্লাসে বলে উঠল , “ হে আবদুল মুগুলিব , তোমার প্রভু এবার তোমার ওপর পুরোপুরি সন্তুষ্ট হয়েছেন । "
অনেকের মতে আবদুল মুত্তালিব এরপর বলেন : আমি আরো তিনবার তীর না টেনে ছাড়ব না । তারপর আবদুল্লাহ্ ও উটের নামে তীর টেনে আবদুল মুত্তালib আল্লাহ্র কাছে দু'আ করতে লাগলেন । দেখা গেল , ভীর উটের নামে বেরিয়েছে । দ্বিতীয়বার তাঁর টেনেও আবদুল মুত্তালিব আল্লাহর কাছে দু'আ করলেন । এবারও উটের নামে বেরুল । তৃতীয়বার তাঁর টেনেও আবদুল মুত্তালিব আল্লাহ্র কাছে দু'আ করতে লাগলেন । এবারও উটের নামে বেরুল । অবশেষে ঐ একশ উট কুরবানী করা হল । তারপর কুরবানীর পশুগুলোকে এমনভাবে ফেলে রাখা হল যাতে কোন মানুষকেই ওগুলোর কাছে যেতে বাধা দেয়া না হয় ।
ইব্‌ন হিশাম বলেন : মানুষ তো দূরের কথা , কোন হিংস্র জন্তুকেও তার কাছে যেতে বাধা দেয়া হয়নি ।
ইব্‌ন হিশাম আরো বলেন যে , এ কাহিনীর মাঝে মাঝে কিছু কিছু কবিতা বর্ণিত হয়েছে । কিন্তু সেগুলোর নির্ভরযোগ্য ভিত্তি নেই বলে আমি বাদ দিয়েছি ।
আবদুল্লাহকে স্বামী হিসাবে গ্রহণ করতে আগ্রহী এক মহিলার বিবরণ এবং আবদুল্লাহ কর্তৃক তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান
ইবন ইসহাক বলেন : এরপর আবদুল মুত্তালিব আবদুল্লাহ্র হাত ধরে কা'বা শরীফ থেকে বেরুলেন এবং চলার পথে বনূ আসাদ ইবন আবদুল উযযা ইব্‌ন কুসাই ইবন কিলাব ইবন মুররা ইবন কা'ব ইবন লুআই ইবন গালিব ইবন ফিরে গোত্রের এক মহিলার কাছ দিয়ে অতিক্রম করলেন । বলা বাহুল্য , বনূ আসাদ কুরায়শ বংশেরই একটি গোত্র । এই মহিলা ওয়ারাকা ইবন নাওফল ইব্‌ন আবদুল উয্যার বোন । সে কা'বার নিকটেই ছিল । আবদুল্লাহ্র দিকে নযর পড়তেই মহিলাটি বলল : “ ওহে আবদুল্লাহ্ ! তুমি কোথায় যাচ্ছো ? ” আবদুল্লাহ্ বললেন : পিতার সঙ্গে যাচ্ছি । সে বলল : তোমার নামে এইমাত্র যে একশ উট কুরবানী দেয়া হয়েছে আমি তেমনি আরো একশ উট তোমাকে দেব । তুমি এই মুহূর্তেই আমাকে বিয়ে কর । তিনি বললেন : আমি আমার পিতার সঙ্গে রয়েছি , তাঁর অমতে কিছু করতে কিংবা তাঁর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে আমি পারব না ।

**টিকাঃ**
১. এখান থেকে জানা যায় যে , এ ঘটনার পূর্বে রক্তপণ দশটি উট দ্বারাই দেয়া হত । রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর পিতা আবদুল্লাহ্র জন্যই সর্বপ্রথম একশ উট দ্বারা রুক্তপণ দেয়া হয় ।
১. এই মহিলার নাম রুকাইয়া বিন্‌ত নাওফাল ওরফে উম্মে কিতাল । কথিত আছে যে , এই সময় আবদুল্লাহ্ নিম্নের কবিতা আবৃত্তি করেন : "মৃত্যুও হারাম শরীফের তুলনায় নগণ্য জিনিস , আর হারাম শরীফের বাইরেও আমি কোন মুক্ত স্থান খুঁজে পাই না । সুতরাং ওহে নারী , তুমি যা চাও তা কিভাবে সম্ভব ? সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি তার সম্ভ্রম ও ধর্ম রক্ষা করে থাকে । ”
আরো শোনা যায় যে , আবদুল্লাহ্ স্বীয় পিতার সঙ্গে যাওয়ার সময় যে মহিলার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন তার নাম ফাতিমা বিন্ত মুররা এবং সে আরবের সেরা সুন্দরী ও সতী রমণী ছিল । সে আবদুল্লাহ্ মুখমণ্ডলে নবুওয়তের জ্যোতি দেখতে পেয়ে নবীর জননী হবার আশায় ব্যাকুল হয়ে তাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিয়েছিল , যা তিনি তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেন । তখন সে নিম্নের কবিতা আবৃত্তি করে :
“ আমি একটি অপূর্ব ভাবমূর্তি দেখেছিলাম , যা দিগন্তে জন্ম নিয়েছিল এবং ঝিকমিক করেছিল । আল্লাহ্র কসম , বনু যুরার কোন মহিলা তোমার অজান্তে তোমার কাছ থেকে তা ছিনিয়ে নিয়েছে । " কারো কারো মতে এই মহিলা ছিল বনূ আদী গোত্রের লায়লা ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00