📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আবদুল্লাহ্র নামে তীর বের হওয়া এবং তার পিতা কর্তৃক তাকে যবেহ করতে ইচ্ছা করা ও কুরায়শদের বাধাদান

📄 আবদুল্লাহ্র নামে তীর বের হওয়া এবং তার পিতা কর্তৃক তাকে যবেহ করতে ইচ্ছা করা ও কুরায়শদের বাধাদান


আবদুল্লাহর নামে তীর বের হওয়া এবং তাঁর পিতা কর্তৃক তাঁকে যবেহ করতে ইচ্ছা করা ও কুরায়শদের বাধাদান
ইবন ইসহাক ( র ) বলেন বহুল প্রচলিত ধারণা যে , আবদুল্লাহ্ আবদুল মুত্তালিবের সকলের চেয়ে বেশি স্নেহভাজন সন্তান ছিলেন । তাই তিনি অত্যন্ত আগ্রহের সাথে লক্ষ্য করছিলেন যে , তীর আবদুল্লাহকে পাশ কাটিয়ে যায় কিনা । পাশ কাটিয়ে গেলেই তো আবদুল্লাহ্ বেঁচে যাবেন , যিনি হবেন আল্লাহ্র রাসূল (সা:) -এর পিতা । আর তা না হলে আবদুল্লাহকে যবেহ করা অনিবার্য হয়ে দাঁড়াবে ।
তীর টানা লোকটি যখন তীর টানতে উদ্যত হল , তখন আবুল মুত্তালিব হুবাল দেবতার কাছে দাঁড়িয়ে আল্লাহকে ডাকতে লাগলেন । তারপর তীর টানা হলে দেখা গেল , তীর আবদুল্লাহ্র নামেই বেরিয়েছে । ফলে আবদুল মুত্তালিব তৎক্ষণাৎ এক হাতে আবদুল্লাহকে ও অন্য হাতে বড় একটা ছোরা নিয়ে তাঁকে যবেহ করার উদ্দেশ্যে ইসাফ ও নায়েলা নামক দেব - দেবীর মূর্তির পাশে নিয়ে গেলেন । নিকটেই আসর জমিয়ে বসা কুরায়শ নেতারা তা দেখে উঠে গিয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করল , “ আবদুল মুত্তালিব , আপনি কী করতে চাইছেন ? ” তিনি বললেন , একে যবেহ করব । তখন কুরায়শ নেতৃবৃন্দ ও তাঁর অন্যান্য সন্তানগণ একযোগে বলে উঠলেন : মহান আল্লাহ্র শপথ ! উপযুক্ত কারণ ব্যতীত কিছুতেই যবেহ্ করবেন না । আর যদি আপনি তা করেন , তবে যুগ যুগ ধরে যবেহ চলতে থাকবে । লোকেরা নিজ নিজ সন্তানকে এনে বলি দিতে থাকবে । এভাবে একে একে মানব বংশ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে । আবদুল্লাহ্র মামাদের গোত্রীয় জনৈক মুগীরা ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ ইবন আমর ইবন মাখযূম ইবন ইয়াকাযাহ্ বললেন : একেবারে নিরুপায় না হলে এমন কাজ করো না । যদি ওকে অব্যাহতি দিতে মুক্তিপণের প্রয়োজন হয় , তাহলে আমরা মুক্তিপণ দিয়ে দেব । পক্ষান্তরে কুরায়শ নেতৃবৃন্দ ও আবদুল মুত্তালিবের ছেলেগণ বললেন , ওকে যবেহ করবেন না ; বরং ওকে নিয়ে হিজাযে চলে যান । সেখানে এক মহিলা জ্যোতিষী রয়েছে । তার অধীনে জিন আছে । তাকে জিজ্ঞেস করে জেনে নিন , কাজটা ঠিক হবে কিনা । এরপর আমরা বাধা দেব না । আপনি স্বাধীনভাবে যা ইচ্ছে তাই করবেন । মহিলা যদি যবেহ্ করতে বলে , যবেহ করবেন । আর যদি অন্য কোন উপায় বাতলে দেয় , তবে তা মেনে নেবেন ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 হিজাযের মহিলা জ্যোতিষী এবং আবদুল মুত্তালিবের প্রতি তার পরামর্শ

📄 হিজাযের মহিলা জ্যোতিষী এবং আবদুল মুত্তালিবের প্রতি তার পরামর্শ


হিজাযের মহিলা জ্যোতিষী এবং আবদুল মুত্তালিবের প্রতি তার পরামর্শ
আবদুল মুত্তালিব কুরায়শ নেতাদের এই উপদেশই মেনে নিলেন এবং সহযোগীদের নিয়ে হিজায অভিমুখে রওয়ানা দিলেন । মদীনা শরীফের কাছে খায়বরে গিয়ে তারা সেই মহিলার সাক্ষাত পেলেন । আবদুল মুত্তালib মহিলাকে তাঁর ও তাঁর ছেলের সকল বৃত্তান্ত ও তার সম্পর্কে নিজের মানত খুলে বললেন । মহিলা বলল : তোমরা আজ চলে যাও । আমার অনুগত জিনটা আসুক । তার কাছ থেকে আমি জেনে নিই । সবাই মহিলার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ফিরে এলেন । বিদায় নিয়ে বের হওয়ামাত্রই আবদুল মুত্তালিব আল্লাহ্র নিকট প্রার্থনা করলেন । পরদিন সকালে আবার সবাই মহিলার কাছে উপস্থিত হল । মহিলা বলল : আমি প্রয়োজনীয় তথ্য অবগত হয়েছি । তোমাদের সমাজে মুক্তিপণ কি হারে ধার্য আছে ? তারা জবাব দিলেন , দশটা উট । বাস্তবিকপক্ষে মুক্তি পণের হার এ রকমই ছিল । মহিলা বলল : যাও , তোমরা স্বদেশে ফিরে যাও । তারপর তোমাদের সংশ্লিষ্ট লোকটিকে মূর্তির নিকট হাযির কর ও দশটা উট বলি দাও । তারপর উট ও তোমাদের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভাগ্য নির্ধারণের জন্য তীর টান । যদি তোমাদের সংশ্লিষ্ট লোকটির নামে তীর বেরোয় , তাহলে আরো উট দাও , যতক্ষণ না তোমাদের প্রতিপালক খুশি হন । আর যদি উটের নামে বেরোয় , তা হলে সে উটগুলো তার পরিবর্তে যবেহ্ কর । তবে বুঝতে হবে তোমাদের প্রতিপালক সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তোমাদের সাথী অব্যাহতি পেয়েছে ।

**টিকাঃ**
১ . কেউ কেউ বলেন , এই মহিলার নাম ছিল কুতবা । তবে ইব্‌ন ইসহাক বলেন : তার নাম সাজাহ্ ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00