📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 হজ্জের মওসূমে হাশিমের আপ্যায়ন ও পানি পান করানোর দায়িত্ব

📄 হজ্জের মওসূমে হাশিমের আপ্যায়ন ও পানি পান করানোর দায়িত্ব


হজ্জের মওসূমে হাশিমের হাজীদের আপ্যায়ন ও পানি পান করানোর দায়িত্ব
ইবন ইসহাক বলেন : রিফাদা ও সিকায়া - এর দায়িত্ব হাশিম ইব্‌ন আবদে মানাফ - এর উপর ন্যস্ত ছিল । কেননা আবদে শামস সাধারণত সফরেই থাকতেন এবং খুব কম সময়ই মক্কাতে থাকতেন । তাঁর আয় ছিল সীমিত , অথচ পোষ্যসংখ্যা ছিল অধিক । পক্ষান্তরে হাশিম ছিলেন বিত্তবান । কথিত আছে যে , হজ্জ মওসুমে হাশিম কুরায়শদের মাঝে দাঁড়িয়ে বলতেন , হে কুরায়শরা ! তোমরা আল্লাহ্র পড়শী , তাঁর ঘরের তত্ত্বাবধায়ক । হজ্জের মওসুমে তোমাদের কাছে বায়তুল্লাহ্র যিয়ারতে হাজীগণ এসে থাকেন । তাঁরা আল্লাহ্র মেহমান , সুতরাং সকল মেহমানের মাঝে তারাই অধিক সম্মান পাওয়ার যোগ্য । কাজেই এখানে অবস্থানকালে তাদের আপ্যায়নের জন্য চাঁদা জমা কর । আল্লাহ্র কসম ! সামর্থ্য থাকলে আমি একাই সব ইন্তেজাম করে নিতাম । আমি এ ব্যাপারে তোমাদের কষ্ট দিতাম না । তাঁর কথায় কুরায়শরা সাধ্যনুযায়ী নিজ নিজ আয়ের একটি অংশ পেশ করতেন । আর তা থেকেই দেশে ফিরে যাওয়া পর্যন্ত হাজীদের মেহমানদারীর ব্যবস্থা করতেন । কথিত আছে যে , হাশিমই সর্ব প্রথম কুরায়শদের জন্য শীত ও গ্রীষ্মকালীন দু'টি বাণিজ্য সফরের প্রচলন করেন এবং তিনিই প্রথম মক্কায় হাজীদেরকে সারীদ দ্বারা আপ্যায়ন করেন । তাঁর নাম ছিল আমর ( উমর ) । রুটি গুঁড়ো করে মক্কাতে তাঁর কাওমের আপ্যায়ন করার কারণেই তিনি হাশিম নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেন ।
জনৈক কুরায়শী বা আরব কবি বলেন :
“ আমর ( হাশিম ) -ই মক্কায় দুর্ভিক্ষে তার জীর্ণশীর্ণ জাতিকে রুটি গুড়ো করে সারীদ তৈরি করে আপ্যায়ন করেছিলেন এবং শীত ও গ্রীষ্মের দুই বাণিজ্যিক সফরও তিনিই চালু করেছিলেন । ”

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 'রিফাদা' ও'সিকায়া'-এর দায়িত্বে মুত্তালিব

📄 'রিফাদা' ও'সিকায়া'-এর দায়িত্বে মুত্তালিব


রিফাদা ও সিকায়া - এর দায়িত্বে মুত্তালিব
ইব্‌ন ইসহাক বলেন : হাশিম এক বাণিজ্যিক সফরে সিরিয়ার গায্যা অঞ্চলে মৃত্যুবরণ করেন । এরপর সিকায়া ও রিফাদা আবদে শামস ও হাশিমের ছোট ভাই মুত্তালিব ইব্‌ন আবদে মানাফের উপর অর্পিত হয় । তিনি সমাজে অত্যন্ত শ্রদ্ধার পাত্র ছিল । তাঁর বদান্যতাও ছিল সুপ্রসিদ্ধ , যার কারণে কুরায়শরা তাঁকে ফায়য় নামে ডাকতেন ৷

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 হাশিমের বিয়ে

📄 হাশিমের বিয়ে


হাশিমের বিয়ে
হাশিম ইব্‌ন আবদে মানাফ মদীনায় এসে আদী ইব্‌ন নাজ্জার বংশীয় আমরের কন্যা সালমাকে বিয়ে করেন । তিনি এর আগে উহায়হা ইব্‌ন জুল্লাহ্ ইব্‌ন হারীশ - এর স্ত্রী ছিলেন । ইবন হিশাম বলেন : হারীশকে কেউ কেউ হারীসও বলেছেন । তিনি হল , জাহজাবী ইব্‌ন কুলফা ইব্‌ন আউফ ইব্‌ন আমর ইব্‌ন আউফ ইব্‌ন মালিক ইব্‌ন আওস । এ স্ত্রীর গর্ভে আমর ইবন উহায়হা নামে তার এক পুত্র সন্তান জন্ম নিয়েছিল । স্বগোত্রে এই নারীর এতটা মর্যাদা ছিল যে , তিনি বিবাহ বিচ্ছেদের পূর্ণ অধিকার লাভের শর্তেই শুধু কোন পুরুষকে স্বামীরূপে গ্রহণ করতেন , যাতে অপসন্দ হলে সাথে সাথে তাকে ত্যাগ করতে পারতেন ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আবদুল মুত্তালিবের জন্ম এবং তাঁর এরূপ নামকরণের কারণ

📄 আবদুল মুত্তালিবের জন্ম এবং তাঁর এরূপ নামকরণের কারণ


আবদুল মুত্তালিবের জন্ম এবং তাঁর এরূপ নামকরণের কারণ
এ মহিলার গর্ভে হাশিমের পুত্র আবদুল মুত্তালিবের জন্ম হয় । সালমা তার নাম রাখেন শায়বা । হাশিম ছেলেকে সাবালক হওয়া পর্যন্ত তার মার কাছেই রাখেন । হাশিমের তিরোধানের পর ছেলের চাচা মুত্তালিব ছেলেকে নেয়ার জন্য মদীনায় আগমন করেন । তখন সালমা বলেন , আমি কখনই একে আপনার সঙ্গে পাঠাব না । এতে মুত্তালিব বলেন , এ আমার সাবালক ভাতিজা । সমাজে সম্ভ্রান্ত ও নেতৃস্থানীয় পরিবারের ছেলে । এখন নিজ গোত্র ছেড়ে প্রবাসে ভিন্ন গোত্রে পড়ে থাকা তার জন্য মোটেই সমীচীন নয় । কাজেই তাকে না নিয়ে আমি ফিরব না ।
লোকে বলে , শায়বা চাচা মুত্তালিবকে বলেছিলেন , মায়ের অনুমতি ছাড়া আমি যাব না । এরপর মায়ের অনুমতিক্রমে ছেলেকে নিয়ে মুত্তালিব মক্কার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলেন এবং তাকে উটের উপর নিজের পেছনে বসিয়ে নিলেন । এভাবেই তিনি মক্কায় প্রবেশ করলেন । তখন কুরায়শরা বললেন , একে মুত্তালিব দাস হিসাবে কিনে এনেছেন । সেখান থেকেই তার নাম আবদুল মুত্তালিব হয় । মুত্তালib বললেন , হে অপদার্থের দল । এতো আমার ভাই হাশিমের ছেলে । আমি তো একে মদীনা থেকে নিয়ে এসেছি ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00