📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 হিলফুল ফুযুল সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর হাদীস

📄 হিলফুল ফুযুল সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর হাদীস


হিলফুল ফুযুল সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর হাদীস
ইবন ইসহাক বলেন : আমার নিকট মুহাম্মদ ইব্‌ন যায়দ ইব্‌ন মুহাজির ইন কুনফু তায়মী বর্ণনা করেন যে , তিনি তালহা ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ ইবন আওফ যুহরীকে বলতে শুনেছেন , রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
لقد شهدت في دار عبد الله بن جدعان حلنا ما أحب ان لي به حمر النعم ولوأدعى به
في الاسلام لاجبت -
“ আমি ‘ আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন জুদ'আন - এর ঘরে সম্পাদিত অঙ্গীকারের সময় উপস্থিত ছিলাম । এর বদলে অনেকগুলো লাল উট অর্জন করাও আমি পসন্দ করব না । ইসলামেও যদি এ জাতীয় কোন অঙ্গীকারে আমাকে ডাকা হয় তবে অবশ্যই তাতে আমি সাড়া দেব । ”

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 হুসায়ন ও ওয়ালীদের মাঝে বিরোধ

📄 হুসায়ন ও ওয়ালীদের মাঝে বিরোধ


হুসায়ন ও ওয়ালীদের মাঝে বিরোধ
ইবন ইসহাক বলেন : আমার নিকট ইয়াযীদ ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন উসামা ইব্‌ন হাদী লায়সী বলেছেন যে , মুহাম্মদ ইব্‌ন ইবরাহীম ইব্‌ন হারিস তায়মী তাঁর কাছে বর্ণনা করেছেন যে , হুসায়ন ইব্‌ন আলী ইব্‌ন আবূ তালিব ( রা ) এবং মুআবিয়া ইব্‌ন আবূ সুফিয়ান কর্তৃক নিয়োজিত মদীনার তৎকালীন প্রশাসক ওয়ালীদ ইব্‌ন উত্সা ইব্‌ন আবূ সুফিয়ান - এর মাঝে যুল - মারওয়াহ নামক স্থানে অবস্থিত একটি সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ ছিল । ক্ষমতার কারণে ওয়ালীদ হুসায়নের সাথে বাড়াবাড়ি শুরু করলেন । তখন হুসায়ন ( রা ) তাকে বললেন : ' আল্লাহ্র কসম ! তোমাকে অবশ্যই আমার হকের ব্যাপারে ইনসাফ করতে হবে , অন্যথায় আমি তরবারি হাতে মসজিদে নববীতে দাঁড়াব এবং হিলফুল ফুযুলের দোহাই দিয়ে সাহায্যের জন্য ডাক দিব । ”
তখন উপস্থিত আবদুল্লাহ্ ইবন যুবায়র ( রা ) বললেন : “ আল্লাহ্র কসম , আমিও তরবারি নিয়ে তাঁর ডাকে সাড়া দেব এবং আমাদের একজনও বেঁচে থাকতে তার উপর অবিচার হতে দেব না । বর্ণনাকারী বলেন , মিসওয়ার ইবন মাখরামা ইবন নাওফল যুহরী এবং আবদুর রহমান ইব্‌ন উসমান ইব্‌ন উবায়দুল্লাহ্ তায়মী এ সংবাদ পেয়ে একই উক্তি করলেন । ওয়ালীদ ইবন উতবা অবস্থা আঁচ করতে পেরে হুসায়ন ( রা ) -এর হকের ব্যাপারে ইনসাফ করলেন । ফলে তিনি রাযী হয়ে গেলেন ।

**টিকাঃ**
২ , যুল - মারওয়াহ - ওয়াদিল কুরার একটি গ্রামের নাম ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 বনূ আবদে শামস্ ও বনূ নাওফলের হিলফুল ফুযূল ত্যাগ

📄 বনূ আবদে শামস্ ও বনূ নাওফলের হিলফুল ফুযূল ত্যাগ


বনূ আবদে শামস্ ও বনূ নাওফলের হিলফুল ফুযূল ত্যাগ
ইবন ইসহাক বলেন : আমার নিকট ইয়াযীদ ইব্‌ন আবদুল্লাহ ইব্‌ন উসামা ইব্‌ন হাদী লায়সী - মুহাম্মদ ইব্‌ন ইবরাহীম ইবন হারিস তায়মী থেকে বর্ণনা করেছেন যে , আবদুল মালিক ইবন যুবায়র ( রা ) -কে হত্যা করার পর লোকেরা যখন তার কাছে সমবেত হল , তখন কুরায়শের শ্রেষ্ঠতম আলিম মুহাম্মদ ইব্‌ন জুবায়র ইব্‌ন মুতইম ইব্‌ন আদী ইব্‌ন নাওফল ইব্‌ন আবদে মানাফ আবদুল মালিকের দরবারে উপস্থিত হলেন । তখন আবদুল মালিক তাকে বললেন : হে আবূ সাঈদ ! আমরা ও আপনারা অর্থাৎ বনূ আবদে শামস্ ইব্‌ন আবদে মানাফ আর বনূ নাওফল ইব্‌ন আবদে মানাফ কি হিলফুল ফুযুলে শামিল নই ? তিনি বললেন , আপনিই ভাল জানেন । তখন আবদুল মালিক বললেন : হে আবূ সাঈদ ! এ ব্যাপারে আপনাকে অবশ্যই আমাকে সঠিক তথ্য দিতে হবে । তিনি বললেন : আল্লাহ্র কসম ! আমরা ও আপনারা উভয়ই নিজেদের চুক্তি ভংগ করেছি । তখন আবদুল মালিক বললেন : “ আপনার কথাই সত্য । ”

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 হজ্জের মওসূমে হাশিমের আপ্যায়ন ও পানি পান করানোর দায়িত্ব

📄 হজ্জের মওসূমে হাশিমের আপ্যায়ন ও পানি পান করানোর দায়িত্ব


হজ্জের মওসূমে হাশিমের হাজীদের আপ্যায়ন ও পানি পান করানোর দায়িত্ব
ইবন ইসহাক বলেন : রিফাদা ও সিকায়া - এর দায়িত্ব হাশিম ইব্‌ন আবদে মানাফ - এর উপর ন্যস্ত ছিল । কেননা আবদে শামস সাধারণত সফরেই থাকতেন এবং খুব কম সময়ই মক্কাতে থাকতেন । তাঁর আয় ছিল সীমিত , অথচ পোষ্যসংখ্যা ছিল অধিক । পক্ষান্তরে হাশিম ছিলেন বিত্তবান । কথিত আছে যে , হজ্জ মওসুমে হাশিম কুরায়শদের মাঝে দাঁড়িয়ে বলতেন , হে কুরায়শরা ! তোমরা আল্লাহ্র পড়শী , তাঁর ঘরের তত্ত্বাবধায়ক । হজ্জের মওসুমে তোমাদের কাছে বায়তুল্লাহ্র যিয়ারতে হাজীগণ এসে থাকেন । তাঁরা আল্লাহ্র মেহমান , সুতরাং সকল মেহমানের মাঝে তারাই অধিক সম্মান পাওয়ার যোগ্য । কাজেই এখানে অবস্থানকালে তাদের আপ্যায়নের জন্য চাঁদা জমা কর । আল্লাহ্র কসম ! সামর্থ্য থাকলে আমি একাই সব ইন্তেজাম করে নিতাম । আমি এ ব্যাপারে তোমাদের কষ্ট দিতাম না । তাঁর কথায় কুরায়শরা সাধ্যনুযায়ী নিজ নিজ আয়ের একটি অংশ পেশ করতেন । আর তা থেকেই দেশে ফিরে যাওয়া পর্যন্ত হাজীদের মেহমানদারীর ব্যবস্থা করতেন । কথিত আছে যে , হাশিমই সর্ব প্রথম কুরায়শদের জন্য শীত ও গ্রীষ্মকালীন দু'টি বাণিজ্য সফরের প্রচলন করেন এবং তিনিই প্রথম মক্কায় হাজীদেরকে সারীদ দ্বারা আপ্যায়ন করেন । তাঁর নাম ছিল আমর ( উমর ) । রুটি গুঁড়ো করে মক্কাতে তাঁর কাওমের আপ্যায়ন করার কারণেই তিনি হাশিম নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেন ।
জনৈক কুরায়শী বা আরব কবি বলেন :
“ আমর ( হাশিম ) -ই মক্কায় দুর্ভিক্ষে তার জীর্ণশীর্ণ জাতিকে রুটি গুড়ো করে সারীদ তৈরি করে আপ্যায়ন করেছিলেন এবং শীত ও গ্রীষ্মের দুই বাণিজ্যিক সফরও তিনিই চালু করেছিলেন । ”

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00