📄 উভয় দলের সহযোগিগণ
উভয় দলের সহযোগিগণ
বনূ আবদে মানাফের নেতা ছিলেন আবদে শামস ইব্ন আবদে মানাফ । কেননা তিনি তাদের মাঝে বয়সে সবচেয়ে বড় ছিলেন । আর বনূ আবদুদ্দারের নেতা ছিলেন আমির ইবন হাশিম ইব্ন আবদে মানাফ ইব্ন আবদুদ্দার । বনূ আবদে মানাফের সহযোগী ছিলেন ব আসাদ ইবন আবদুল উয্যা ইবন কুসাই , বনূ যুহরা ই কিলাব , বনূ তায়ম ইব্ন মুররা ইবৃন কা'ব ও বনু হারিস ইব্ন ফিহর ইব্ন মালিক ইব্ন নাযার । অন্যদিকে বনূ আবদুদ্দারের সঙ্গে ছিলেন বনূ মাখযূম ইব্ন ইয়াকাযা ইব্ন মুররা , বনূ সাহম ইব্ন আমর ইব্ন হুসায়স ইন কা'ব , বনূ জুমাহ ইবন আমর ইব্ন হুসায়স ইব্ন কা'ব ও বনূ ' আদী ইবন কা'ব । আর আমির ইবন লুআই ও মুহারিব ছিলেন নিরপেক্ষ ।
প্রত্যেক দলের লোকেরা এ মর্মে দৃঢ় শপথ করল যে , যতদিন সাগর পানিশূন্য না হবে , ততদিন আমরা মৈত্রী বন্ধনে আবদ্ধ থাকব — কেউ কাউকে ত্যাগ করব না ।
📄 যারা আতর ব্যবহারকারীদের হলফে শামিল ছিলেন
যারা আতর ব্যবহারকারীদের হলফে শামিল ছিলেন
বনূ আবদে মানাফ আতরের কৌটা বের করলেন । অনেকের মতে বনূ আবদে মানাফের জনৈক মহিলা তাদের জন্য এ কৌটা এনেছিল । যাই হোক , তারা কা'বাঘরের পাশে শপথ করার জন্য কৌটা রেখেছিলেন । তারপর বনূ আবদে মানাফ এবং তাদের মিত্ররা তাতে হাত ভরিয়ে শপথ করলেন , তারপর আতরমাখা হাতে কা'বাঘর স্পর্শ করে এ শপথ আরও দৃঢ় করলেন । এ অঙ্গীকারকারীরা ... ~ ... ( আতরমাখা ) নামে প্রসিদ্ধি লাভ করে । অন্যদিকে বনূ আবদুদ্দার এবং তাদের মিত্ররাও কা'বাঘরের পাশে এসে পরস্পরের সঙ্গ না ছাড়ার দৃঢ় শপথ করলেন । এ অঙ্গীকারকারীদের নাম হল আহলাফ ( ৩ ) । ) বা মৈত্রী সংঘ । তারপর প্রত্যেক গোত্র মুকাবিলার জন্য বিপক্ষ গোত্রকে নির্ধারিত করে নিল । বনূ আবদে মানাফ মুকাবিলা করবে বনূ সাহমের , বনূ আসাদ মুকাবিলা করবে বনূ আবদুদ্দারের , বনূ যুহরা মুকাবিলা করবে ব জুমাহের , বনূ তায়ম মুকাবিলা করবে বনূ মাখযূমের এবং বনূ হারিস ইব্ন ফি মুকাবিলা করবে বনূ আদী ইবন কা'ব - এর । এরপর তারা বলল , প্রত্যেক গোত্রকে তার বিপক্ষ গোত্র নির্মূল করতে হবে ।
📄 সন্ধি এবং এর বিষয়বস্তু
সন্ধি এবং এর বিষয়বস্তু
যুদ্ধের প্রস্তুতি সমাপ্ত হওয়ার পর লোকদের পক্ষ থেকে সন্ধির ডাক উঠল এবং এই শর্তে সন্ধি হল যে , বনূ আবদে মানাফের দায়িত্বে দেয়া হবে— সিকায়া ( যমযমের পানি পান করানো ) ও রিফাদা ( হাজীদের মেহমানদারী করা ) । পক্ষান্তরে চাবি সংরক্ষণ , ঝাণ্ডা উত্তোলন ও পরামর্শ সভা পরিচালনার দায়িত্ব যথারীতি বনূ আবদুদ্দারের কাছেই থাকবে । উভয় পক্ষ সন্ধি করল এবং বর্ণিত চুক্তি মেনে নিল , যুদ্ধ বিরতি হল । আর উভয় পক্ষের মৈত্রী বন্ধন অটুট রইল । অবশেষে ইসলামের আবির্ভাব হল । তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন : “ জাহিলী যুগের যাবতীয় মৈত্রী চুক্তিকে ইসলাম সুদৃঢ়ই করেছে । ”
📄 হিলফুল ফুযুল
হিলফুল ফুযুল ( এরূপ নামকরণের কারণ )
ইবন হিশাম বলেন : হিলফুল ফুযুল সম্পর্কে যিয়াদ ইবন আবদুল্লাহ্ বাক্কায়ী আমার কাছে মুহাম্মদ ইব্ন ইসহাক থেকে বর্ণনা করেন যে , কুরায়শদের কতক গোত্র একে অপরকে একটি ' হিলফ ' তথা সহযোগিতা সংগঠন গঠনের জন্য আহবান করলেন এবং তাঁরা সকলে আবদুল্লাহ ইব্ন জুদ'আন ইব্ন আমর ইবন কা'ব ইবন সা'দ ইব্ন তায়ম ইব্ন মুররা ইবন কা'ব ইবন লুআই - এর ঘরে একত্রিত হলেন । কেননা তিনি ছিলেন বয়োজ্যেষ্ঠ ও সকলের শ্রদ্ধার পাত্র । তাঁর সামনে বনূ হাশিম , বনূ মুত্তালিব , আসাদ ইব্ন আবদুল উয্যা , যুরা ইন কিলাব ও তায়ম ইব্ন মুররাহ্ এ মর্মে হলফ ও অঙ্গীকার করলেন যে , মক্কায় স্থানীয় ও বহিরাগত যে কোন মযলূমকে তাঁরা সাহায্য করবেন । তারা যে - ই যুলুম করবে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবেন এবং মযলূমের হক ফিরিয়ে দেবেন । কুরায়শরা এ অঙ্গীকারের নাম রাখলেন ' হিলফুল ফুযুল ’ । ’
**টিকাঃ**
১. ইবন কুতায়বা বলেন , কুরায়শের পূর্বে জুরহুম গোত্র অনুরূপ শপথ করেছিল , তাদের নাম ছিল ফযল ইবন ফাযালা , ফযল ইবন ওয়াদা ও ফযল ইবন কুযা'আ । ফুল হল ফযলের বহুবচন ।