📄 কুসাই-এর পরে কুরায়শদের মধ্যে মতবিরোধ এবং আতর ব্যবহারকারী ব্যক্তিদের হলফ
কুসাই - এর পরে কুরায়শদের মধ্যে মতবিরোধ এবং আতর ব্যবহারকারী ব্যক্তিদের হলফ ( বনূ আবদুদ্দার ও তাঁর চাচাত ভাইদের মাধে আত্মকলহ
* ইবন ইসহাক বলেন : কুসাই - এর মৃত্যুর পর স্বগোত্রের ও অন্যান্যদের যাবতীয় দায়িত্ব তাঁর ছেলেরা সামাল দিলেন । তারা কুসাই - এর অনুসরণে মক্কাকে চার ভাগে বিভক্ত করে নিলেন । তারা নিজ নিজ অংশ স্ব - গোত্রের মাঝে এবং মিত্রদের মাঝে দান করতেন এবং বিক্রয়ও করতেন । কুরায়শরা পরস্পর এভাবে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করতে থাকে । তারপর আবদে মানাফ ইব্ন কুসাই - এর ছেলেরা অর্থাৎ আবদে শামস , হাশিম , মুত্তালিব ও নাওফাল এ ব্যাপারে একজোট হয় যে , তারা কুসাই - এর পুত্র আবদুদ্দারকে কা'বাঘরের চাবি সংরক্ষণ , হাজীদের যমযমের পানি পান করানো , হাজীদের মেহমানদারী করা , যুদ্ধের ঝাণ্ডা প্রদানের যে কর্তৃত্ব দিয়েছিলেন , তা তাঁর ছেলেদের থেকে ছিনিয়ে নেবে । কেননা তাদের ধারণা তারাই তাদের চাইতে এর অধিক যোগ্য । কাওমের মাঝে বনূ আবদুদ্দারের তুলনায় তাদের প্রভাব - প্রতিপত্তি ছিল অনেক বেশি । তখন কুরায়শরা দু'দলে বিভক্ত হল ; একদল বনূ আবদে মানাফের পক্ষে , আরেক দল বনূ আবদুদ্দারের পক্ষে ।
📄 উভয় দলের সহযোগিগণ
উভয় দলের সহযোগিগণ
বনূ আবদে মানাফের নেতা ছিলেন আবদে শামস ইব্ন আবদে মানাফ । কেননা তিনি তাদের মাঝে বয়সে সবচেয়ে বড় ছিলেন । আর বনূ আবদুদ্দারের নেতা ছিলেন আমির ইবন হাশিম ইব্ন আবদে মানাফ ইব্ন আবদুদ্দার । বনূ আবদে মানাফের সহযোগী ছিলেন ব আসাদ ইবন আবদুল উয্যা ইবন কুসাই , বনূ যুহরা ই কিলাব , বনূ তায়ম ইব্ন মুররা ইবৃন কা'ব ও বনু হারিস ইব্ন ফিহর ইব্ন মালিক ইব্ন নাযার । অন্যদিকে বনূ আবদুদ্দারের সঙ্গে ছিলেন বনূ মাখযূম ইব্ন ইয়াকাযা ইব্ন মুররা , বনূ সাহম ইব্ন আমর ইব্ন হুসায়স ইন কা'ব , বনূ জুমাহ ইবন আমর ইব্ন হুসায়স ইব্ন কা'ব ও বনূ ' আদী ইবন কা'ব । আর আমির ইবন লুআই ও মুহারিব ছিলেন নিরপেক্ষ ।
প্রত্যেক দলের লোকেরা এ মর্মে দৃঢ় শপথ করল যে , যতদিন সাগর পানিশূন্য না হবে , ততদিন আমরা মৈত্রী বন্ধনে আবদ্ধ থাকব — কেউ কাউকে ত্যাগ করব না ।
📄 যারা আতর ব্যবহারকারীদের হলফে শামিল ছিলেন
যারা আতর ব্যবহারকারীদের হলফে শামিল ছিলেন
বনূ আবদে মানাফ আতরের কৌটা বের করলেন । অনেকের মতে বনূ আবদে মানাফের জনৈক মহিলা তাদের জন্য এ কৌটা এনেছিল । যাই হোক , তারা কা'বাঘরের পাশে শপথ করার জন্য কৌটা রেখেছিলেন । তারপর বনূ আবদে মানাফ এবং তাদের মিত্ররা তাতে হাত ভরিয়ে শপথ করলেন , তারপর আতরমাখা হাতে কা'বাঘর স্পর্শ করে এ শপথ আরও দৃঢ় করলেন । এ অঙ্গীকারকারীরা ... ~ ... ( আতরমাখা ) নামে প্রসিদ্ধি লাভ করে । অন্যদিকে বনূ আবদুদ্দার এবং তাদের মিত্ররাও কা'বাঘরের পাশে এসে পরস্পরের সঙ্গ না ছাড়ার দৃঢ় শপথ করলেন । এ অঙ্গীকারকারীদের নাম হল আহলাফ ( ৩ ) । ) বা মৈত্রী সংঘ । তারপর প্রত্যেক গোত্র মুকাবিলার জন্য বিপক্ষ গোত্রকে নির্ধারিত করে নিল । বনূ আবদে মানাফ মুকাবিলা করবে বনূ সাহমের , বনূ আসাদ মুকাবিলা করবে বনূ আবদুদ্দারের , বনূ যুহরা মুকাবিলা করবে ব জুমাহের , বনূ তায়ম মুকাবিলা করবে বনূ মাখযূমের এবং বনূ হারিস ইব্ন ফি মুকাবিলা করবে বনূ আদী ইবন কা'ব - এর । এরপর তারা বলল , প্রত্যেক গোত্রকে তার বিপক্ষ গোত্র নির্মূল করতে হবে ।
📄 সন্ধি এবং এর বিষয়বস্তু
সন্ধি এবং এর বিষয়বস্তু
যুদ্ধের প্রস্তুতি সমাপ্ত হওয়ার পর লোকদের পক্ষ থেকে সন্ধির ডাক উঠল এবং এই শর্তে সন্ধি হল যে , বনূ আবদে মানাফের দায়িত্বে দেয়া হবে— সিকায়া ( যমযমের পানি পান করানো ) ও রিফাদা ( হাজীদের মেহমানদারী করা ) । পক্ষান্তরে চাবি সংরক্ষণ , ঝাণ্ডা উত্তোলন ও পরামর্শ সভা পরিচালনার দায়িত্ব যথারীতি বনূ আবদুদ্দারের কাছেই থাকবে । উভয় পক্ষ সন্ধি করল এবং বর্ণিত চুক্তি মেনে নিল , যুদ্ধ বিরতি হল । আর উভয় পক্ষের মৈত্রী বন্ধন অটুট রইল । অবশেষে ইসলামের আবির্ভাব হল । তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন : “ জাহিলী যুগের যাবতীয় মৈত্রী চুক্তিকে ইসলাম সুদৃঢ়ই করেছে । ”