📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 'রিযাহ', 'নাহদ' ও 'হাওতিকা'র ঘটনা এবং কুসাই-এর কবিতা

📄 'রিযাহ', 'নাহদ' ও 'হাওতিকা'র ঘটনা এবং কুসাই-এর কবিতা


“ রিযাহ ' ' নাহদ ' ও ' হাওতিকা'র ঘটনা এবং কুসাই - এর কবিতা
তারপর রিযাহ ইবন রাবী'আ নিজ এলাকায় গিয়ে বসবাস করতে লাগলেন । আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর এবং হুন্ন - এর সন্তান - সন্ততি বেশ ছড়িয়ে দিলেন । এদের সন্তানরাই হল বন্‌ উযরার দুই গোত্র । রিযাহ দেশে ফিরে আসার পর , তার সাথে কুযা'আ বংশের দুই গোত্রের বন্ নাহদ ইব্‌ন যায়দ এবং বনূ হাওতিকা ইব্‌ন আসলুম - এর সাথে কিছুটা মতবিরোধ সৃষ্টি হয় , রিযাহ তাদেরকে হুমকি দিলে তারা এদেশ ছেড়ে ইয়ামানে চলে যায় । আজও তারা ইয়ামানেই আছে । কুসাই ইন কিলাবের যেহেতু বনূ কুযা'আর সাথে হৃদ্যতা ছিল , তাই তাঁর কামনা ছিল , তারা নিজ এলাকাতেই থেকে উন্নতি লাভ করুক । কিন্তু রিযার - এ আচরণে কুসাই সন্তুষ্ট হতে পারেননি । অন্যদিকে আবার রিযাহের সঙ্গে তাঁর ছিল আত্মীয়তার সম্পর্ক এবং তিনি ছিলেন তাঁর বিপদের বন্ধু । কারণ যখন তিনি ডেকেছিলেন , তখন রিযাহ সাড়া দিয়েছিলেন । তাই তিনি বলেন :
“ কে আছে যে আমার এ বার্তা রিযাহকে পৌঁছে দেবে । দু'টি কারণে আমি তোমাকে তিরস্কার করছি । প্রথমত বনূ নাহদ ইব্‌ন যায়দের ব্যাপারে তোমাকে তিরস্কার করছি , কেননা তুমি তাদের এবং আমার মাঝে বিচ্ছেদ ঘটিয়েছ । দ্বিতীয়ত আর ভর্ৎসনা করছি বনূ হাওতিকা ইব্‌ন আসলুমের ব্যাপারে । তাদের সাথে মন্দ আচরণ করা মানে আমার সাথেই মন্দ আচরণ করা । ”
ইবন হিশাম বলেন : অনেকের মতে কবিতাগুলো যুহায়র ইব্‌ন জানাব কালবীর ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 কুসাই-এর বার্ধক্য

📄 কুসাই-এর বার্ধক্য


কুসাই - এর বার্ধক্য
ইবন ইসহাক বলেন : কুসাই - এর প্রথম সন্তান ছিল আবদুদ্দার । কিন্তু ' আবদে মানাফ পিতার আমলেই মর্যাদায় ও সর্ব অভিজ্ঞতায় শীর্ষস্থান লাভ করেছিলেন । আবদুল উয্যা ও আবদ নামে তার আরও দু'ছেলে ছিল । কুসাই বার্ধক্যে উপনীত হলে তিনি আবদুদ্দারকে বললেন : বৎস , আল্লাহর শপথ , তারা তোমাদের থেকে যতই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করুক না কেন , আমি তোমাকে তাদের পিছনে থাকতে দেব না । তুমি দরজা খুলে না দিলে তাদের কেউ কা'বাঘরে প্রবেশ করতে পারবে না । কুরায়শের কোন যুদ্ধের ঝাণ্ডা অর্পণ করা হবে না , যতক্ষণ না তুমি তা নিজ হাতে কারো হাতে তুলে দাও । মক্কাতে তোমার পাত্র ছাড়া কেউ যমযমের পানি পান করবে না । হাজীদের কেউ তোমার যিয়াফত ছাড়া অন্য কারো যিয়াফত খাবে না । কুরায়শদের কোন সমস্যার মীমাংসা তোমার ঘর ছাড়া অন্য কোথাও হবে না ।
কুসাই নিজের ' দারুন নাদওয়া ' নামের ঘরটি তাকে প্রদান করলেন । সেখানেই কুরায়শরা তাদের নিজেরদের যাবতীয় বিয়য়ের ফয়সালা করত । কাবাঘরের চাবি সংরক্ষণ , হাজীদের যমযমের পানি পান করানো , মেহমানদারী , পরামর্শ সভা , যুদ্ধের ঝাণ্ডা প্রদান ইত্যাদির সব কর্তৃত্ব তিনি তাঁর হাতে সঁপে দিলেন ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রিফাদা

📄 রিফাদা


রিফাদা
রিফাদা হল কুরায়শদের উপর ধার্যকৃত এক প্রকার চাঁদা , যা তারা হজ্জের সময় কুসাই ইবন কিলাবের হাতে দিত । তা দিয়ে তিনি অসহায় ও দরিদ্র হাজীদের জন্য খানা তৈরি করতেন । কুসাই কুরায়শের উপর এ চাঁদা ধার্য করতে গিয়ে বলেছিলেন : হে কুরায়শ সম্প্রদায় ! তোমরা আল্লাহ্র প্রতিবেশী , আল্লাহ্র ঘর এবং তাঁর হারামের কাছে বসবাস করার সৌভাগ্য লাভকারী । আর হাজীরা হল আল্লাহ্র মেহমান এবং তারা আল্লাহর ঘর যিয়ারতকারী শ্রেষ্ঠ মেহমান । কাজেই হজ্জের সময় তাদের ফিরে যাওয়া পর্যন্ত তোমরা তাদের জন্য খাদ্য সামগ্রী প্রস্তুত রাখবে । সুতরাং কুরায়শ তাঁর কথা অনুসারে প্রতিবছর অর্থ সম্পদ সংগ্রহ করে কুসাই - এর হাতে দিত । তিনি মিনায় অবস্থানকালে হাজীদের খাবার প্রস্তুত করতেন । তাঁর এ নির্দেশ জাহিলী যুগ থেকে নিয়ে ইসলাম আবির্ভূত হওয়ার পূর্বযুগ পর্যন্ত বলবৎ ছিল । ইসলামের যুগেও আজ পর্যন্ত সে প্রথা জারী রয়েছে । বাদশাহ বর্তৃক মিনার দিন থেকে হজ্জের শেষ পর্যন্ত যে খাবার প্রস্তুত করা হয় , এটা সে খাবার ।
ইবন ইসহাক বলেন : কুসাই ইন কিলাব প্রসঙ্গে এবং যাবতীয় কর্তৃত্ব আবদুদ্দারকে প্রদানকালে তার বক্তব্য , আমার পিতা ইসহাক ইবন ইয়াসার আমাকে শুনিয়েছেন । তিনি শুনেছেন হাসান ইব্‌ন মুহাম্মদ ইব্‌ন আলী ইব্‌ন আবূ তালিবের কাছে ।
ইসহাক বলেন : আমি হাসান ইব্‌ন মুহাম্মদকে বনূ আবদুদ্দারের জনৈক ব্যক্তি নুবায়হ্ ইব্‌ন ওয়াহব ইব্‌ন ‘ আমির ইব্‌ন ইকরামা ইবন আমির ইব্‌ন হাশিম ইব্‌ন আবদে মানাফ ইব্‌ন আবদুদ্দার ইব্‌ন কুসাইকে লক্ষ্য করে বলতে শুনেছি । হাসান ( রা ) বলেন : কুসাই তার যাবতীয় কর্তৃত্ব আবদুদ্দারকে প্রদান করেন । আর কুসাই - এর কোন ব্যাপারে কেউ মতবিরোধ করত না ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 কুসাই-এর পরে কুরায়শদের মধ্যে মতবিরোধ এবং আতর ব্যবহারকারী ব্যক্তিদের হলফ

📄 কুসাই-এর পরে কুরায়শদের মধ্যে মতবিরোধ এবং আতর ব্যবহারকারী ব্যক্তিদের হলফ


কুসাই - এর পরে কুরায়শদের মধ্যে মতবিরোধ এবং আতর ব্যবহারকারী ব্যক্তিদের হলফ ( বনূ আবদুদ্দার ও তাঁর চাচাত ভাইদের মাধে আত্মকলহ
* ইবন ইসহাক বলেন : কুসাই - এর মৃত্যুর পর স্বগোত্রের ও অন্যান্যদের যাবতীয় দায়িত্ব তাঁর ছেলেরা সামাল দিলেন । তারা কুসাই - এর অনুসরণে মক্কাকে চার ভাগে বিভক্ত করে নিলেন । তারা নিজ নিজ অংশ স্ব - গোত্রের মাঝে এবং মিত্রদের মাঝে দান করতেন এবং বিক্রয়ও করতেন । কুরায়শরা পরস্পর এভাবে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করতে থাকে । তারপর আবদে মানাফ ইব্‌ন কুসাই - এর ছেলেরা অর্থাৎ আবদে শামস , হাশিম , মুত্তালিব ও নাওফাল এ ব্যাপারে একজোট হয় যে , তারা কুসাই - এর পুত্র আবদুদ্দারকে কা'বাঘরের চাবি সংরক্ষণ , হাজীদের যমযমের পানি পান করানো , হাজীদের মেহমানদারী করা , যুদ্ধের ঝাণ্ডা প্রদানের যে কর্তৃত্ব দিয়েছিলেন , তা তাঁর ছেলেদের থেকে ছিনিয়ে নেবে । কেননা তাদের ধারণা তারাই তাদের চাইতে এর অধিক যোগ্য । কাওমের মাঝে বনূ আবদুদ্দারের তুলনায় তাদের প্রভাব - প্রতিপত্তি ছিল অনেক বেশি । তখন কুরায়শরা দু'দলে বিভক্ত হল ; একদল বনূ আবদে মানাফের পক্ষে , আরেক দল বনূ আবদুদ্দারের পক্ষে ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00