📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 কুসাই ইব্‌ন কিলাবের হুব্বা বিন্ত হুলায়লের সাথে বিবাহ

📄 কুসাই ইব্‌ন কিলাবের হুব্বা বিন্ত হুলায়লের সাথে বিবাহ


কুসাই ইবন কিলাবের হুব্বায় বিনতে হুলায়লের সাথে বিবাহ
( কুসাই - এর সন্তান - সন্ততি ) ইব্‌ন ইসহাক বলেন , কুসাই ইব্‌ন কিলাব হুলায়ল ইব্‌ন হুবশিয়্যার কাছে তাঁর কন্যা হুব্বায়ের বিয়ের প্রস্তাব পাঠালে তিনি তা সাদরে গ্রহণ করেন এবং তাঁর কন্যাকে কুসাইয়ের সাথে বিয়ে দেন । হুব্বায়ের গর্ভে ‘ আবদুদ্দার , ' আবদে মানাফ , ‘ আবদুল উয্যা ও ‘ আবদ জন্মগ্রহণ করেন । তারপর কুসাই যখন ধনেজনে প্রচুর প্রতিপত্তি অর্জন করলেন , তখন হুলায়লের মৃত্যু হল ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 কুসাই কর্তৃক বায়তুল্লাহ্র কর্তৃত্ব লাভ এবং এ ব্যাপারে রিযাহের সাহায্য

📄 কুসাই কর্তৃক বায়তুল্লাহ্র কর্তৃত্ব লাভ এবং এ ব্যাপারে রিযাহের সাহায্য


কুসাই কর্তৃক বায়তুল্লাহর কর্তৃত্ব লাভ এবং এ ব্যাপারে রিযাহের সাহায্য
হুলায়লের অবর্তমানে কা'বাঘরের তত্ত্বাবধান ও মক্কার কর্তৃত্বের জন্য কুসাই নিজকে খুযা'আ ও বাকর গোত্রের চেয়ে অধিক যোগ্য মনে করলেন । তাছাড়া কুরায়শরা হলেন ইসমাঈল ইবন ইবরাহীম ( আ ) -এর প্রত্যক্ষ ও শ্রেষ্ঠ বংশধর । তারপর তিনি কুরায়শ ও বনূ কিনানার গণ্যমান্যদের সাথে আলোচনা করে বনূ খুযা'আ ও বনূ বাকরকে মক্কা থেকে বিতাড়নের জন্য তাদেরকে রাযী করলেন । এর পূর্বের ঘটনা হল : ‘ উযরা ইব্‌ন সা'দ ইব্‌ন যায়দ বংশের রাবীআ ইব্‌ন হারাম , কিলাবের মৃত্যুর পর মক্কা এসে ফাতিমা বিনতে সা'দ ইব্‌ন সায়ালকে বিবাহ করেন । তখন ফাতিমার ( পূর্ব স্বামীর পক্ষের ) পুত্র যুরা ছিলেন যুবক এবং কুসাই ছিলেন দুগ্ধপোষ্য শিশু । রাবী'আ , ফাতিমা ও তার দুগ্ধপোষ্য সন্তান কুসাইকে নিয়ে দেশে চলে যান । আর যুহরা মক্কাতেই থেকে যান । নতুন স্বামীর ঔরসে ফাতিমার গর্ভে রিযাহ্ - এর জন্ম হয় । কুসাই যখন যৌবনে পদার্পণ করেন , তখন পুনরায় মক্কায় এসে বসবাস শুরু করেন । যখন কুসাই স্ব - গোত্রীয়দের পক্ষ থেকে অনুকূল সাড়া পেলেন , তখন তিনি তার বৈপিত্রেয় ভাই রিযাহ্ ইবন রাবী‘আকে সাহায্যের আবেদন জানিয়ে পত্র লিখলেন । রিযাহ্ ইবন রাবীআ তার বৈমাত্রেয় ভাই হুন্না ইবন রাবী'আ , মাহমূদ ইবন রাবীআ , যুলহুমা ইবন রাবী‘আসহ বন্ কুযাআর হজ্জযাত্রীদের সাথে নিয়ে মক্কায় আগমন করলেন । এঁরা সকলে কুসাই - এর সাহায্যের ব্যাপারে বদ্ধপরিকর ছিল । কিন্তু বনূ খুযাআর দাবি হল হুলায়ল ইব্‌ন হুবশিয়্যার কন্যার গর্ভ থেকে যখন কুসাই - এর বহু সন্তান জন্ম নিল , তখন হুলায়ল কুসাই - এর অনুকূলে মক্কার কর্তৃত্ব ও কা'বার তত্ত্বাবধানের ওসীয়ত করে বলেছিলেন যে , এ ব্যাপারে বনূ খুযাআর চেয়ে তুমিই অধিক যোগ্য । সে কারণেই কুসাই এ দাবি তুলেছিলেন । কিন্তু এ বর্ণনাটি বনূ খুযাআ ছাড়া অন্য কোন সূত্রে শুনি নি । আল্লাহ্ পাকই ভাল জানেন , কোনটি সঠিক ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 হজ্জ মওসুমে আরাফা থেকে যাত্রা তদারকের দায়িত্বে গাওস ইব্‌ন মুররা

📄 হজ্জ মওসুমে আরাফা থেকে যাত্রা তদারকের দায়িত্বে গাওস ইব্‌ন মুররা


হজ্জ মওসুমে আরাফা থেকে যাত্রা তদারকের দায়িত্বে গাওস ইব্‌ন মুররা
আরাফাতে অবস্থানের পর আরাফার ময়দান থেকে যাত্রার তদারকি ও অনুমতি প্রদানের দায়িত্ব ছিল গাওস ইবন মুররা ইব্‌ন উদ্দ ইব্‌ন তাবিখাহ্ ইব্‌ন ইলয়াস ইবন মুযারের এবং পরবর্তীতে তার সন্তানদের । তাকে এবং তার সন্তানদেরকে সূফা ( 3 ) বলা হত । এ সম্মান লাভের প্রেক্ষাপট হল , তাঁর মা জুরহুম গোত্রীয়া জনৈকা মহিলা গর্ভধারণে বিলম্ব হওয়ায় মানত করেছিলেন যে , তাঁর পুত্র সন্তান হলে কা'বাঘরের খিদমত ও ইবাদতের জন্য উৎসর্গ করে দিবেন । এরপর তিনি তার সন্তান গাওসকে প্রসব করেন । প্রথমদিকে তিনি আপন মাতৃকুল জুরহুম গোত্রের সাথে মিলে কা'বাঘরের খিদমত করতেন । কা'বাঘরের সাথে তার বিশেষ সম্পর্কের কারণে হজ্জ মওসুমে আরাফা থেকে যাত্রা তদারকি ও অনুমতি দানের সৌভাগ্য তিনি ও পরবর্তীতে তার সন্তানরা লাভ করেন এবং তাদের ধ্বংসপ্রাপ্তির পূর্ব পর্যন্ত তাদের মাঝে এ সৌভাগ্য বিদ্যমান ছিল । গাওস ইবন মুররা ইব্‌ন উদ্দ তাঁর মাতার নিম্নোক্ত মানত পূর্ণ করা সম্পর্কে বলেন :
“ হে পালনকর্তা ! আমি আমার পুত্রকে পবিত্র কা'বাঘরের খিদমতের জন্য ‘ ওয়াকফ ’ করে দিলাম ।
“ তাকে আমার জন্য সেখানে বরকত দান করুন এবং আমার জন্য তাকে সৃষ্টির সেরা করে দিন । ”
কথিত আছে যে , গাওস ইব্‌ন মুররা লোকদের নিয়ে আরাফা থেকে যাত্রার সময় বলতেন : “ হে আল্লাহ্ ! আমি তো পুরাপুরি আনুগত্য করে যাচ্ছি । যদি কোন গুনাহ্ হয় , তবে তার জন্য কুযা'আ গোত্র দায়ী । ”

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 সূফা ও কংকর নিক্ষেপ

📄 সূফা ও কংকর নিক্ষেপ


সুফা ও কংকর নিক্ষেপ
ইবন ইসহাক বলেন : ইয়াহ্ইয়া ইব্‌ন আব্বাদ ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ ইবন যুবায়র তাঁর পিতা আব্বাদ থেকে বর্ণনা করেন যে , ' সূফা গোত্রের লোকেরা আরাফা থেকে লোকদের যাত্রা করাত এবং মিনা থেকে ( মক্কার দিকে ) যাওয়ার অনুমতি দিত । এমনকি লোকেরা যখন কংকর নিক্ষেপের জন্য সমবেত হত তখন সূফা গোত্রের জনৈক লোক কংকর নিক্ষেপের সূচনা করত , পরে অন্যরা নিক্ষেপ করত । তাদের আগে কেউ নিক্ষেপ করত না । যাদের ব্যস্ততা থাকত , তারা তাঁর কাছে এসে বলত , আপনি উঠুন এবং নিক্ষেপ করুন , যাতে আপনার সাথে আমরা নিক্ষেপ করতে পারি । তিনি বলতেন , না , আল্লাহ্র কসম ! সূর্য ঢলার আগে কংকর নিক্ষেপ করা যাবে না । সূর্য ঢলার পর তিনি উঠে কংকর নিক্ষেপ করতেন , তারপর অন্য লোকেরা কংকর নিক্ষেপ করত ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00