📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 বাক্কার আভিধানিক অর্থ

📄 বাক্কার আভিধানিক অর্থ


বাক্কার আভিধানিক অর্থ
ইবন হিশাম ( র ) বলেন : আমাকে আবূ উবায়দা এ তথ্য শুনিয়েছেন যে , বাক্কা হল , মক্কার একটি উপত্যকার নাম । কেননা মানুষ সেখানে সমবেত হত , এজন্য তার নাম হয়েছে বাক্কা । এ প্রসঙ্গে তিনি নিম্নোক্ত পংক্তিটি আবৃত্তি করেছেন :
“ যখন পানি পান করানকারী কোন বিপদে পড়ে , তখন তুমি তাকে ছেড়ে দাও , যাতে তার উট পানির কাছে গিয়ে ভিড় জমাতে পারে ।
বায়তুল্লাহ্ ও মসজিদের স্থান হল বাকা । ”
এই পংক্তিটি আমান ইবন কা'ব ইবন আমর ইব্‌ন সা'দ ইব্‌ন যায়দ মানাত ইব্‌ন তামীমের । ইব্‌ন ইসহাক বলেন : আম্র ইবন হারিস ইবন মুযায জুরহুমী কা'বার স্বর্ণ হরিণ ' দু'টো এবং হাজরে আসওয়াদকে যমযমে দাফন করে এবং জুরহুম গোত্রকে সাথে নিয়ে ইয়ামানে চলে যায় । মক্কা থেকে বহিষ্কৃত হওয়া এবং মক্কার কর্তৃত্ব চলে যাওয়ার বেদনায় আমির ইব্‌ন হারিস ( ইব্‌ন আমর ) ইব্‌ মুযায নিম্নের কবিতা আবৃত্তি করেন : ( মুযায আকবার নামে যিনি পরিচিত , ইনি সেই মুযায নন ) ।
“ বহু বিলাপকারীর অবস্থা এই ছিল যে , প্রবল ধারায় তাদের অশ্রু ঝরছিল । কারো চোখে অশ্রু টলমল করছিল ।
“ যেন ‘ হাজুন ’ ও সাফা পাহাড়ের মাঝে আমাদের আপন বলতে কেউ ছিল না । আর মক্কায় কখনো কোন নৈশ গল্পকারী গল্প করেনি ।
“ আমি আমার প্রিয়াকে বললাম , তখন আমার মন এত চঞ্চল ছিল , যেন একে পাখি দু'পাখার মাঝে ঝাপ্টাচ্ছে ।
“ হ্যাঁ , আমরা তো মক্কারই অধিবাসী ছিলাম , কিন্তু কালের আবর্তন ও ভাগ্য বিপর্যয়ের কারণে আমরা বিতাড়িত হয়েছি ।
“ নাবিতের পর আমরাই ছিলাম বায়তুল্লাহর তত্ত্বাবধায়ক । আমরা এ ঘরের তাওয়াফ করতাম , আর কল্যাণই প্রকাশ পেত ।
“ নাবিতের পর মর্যাদার সাথে আমরা বায়তুল্লাহর তত্ত্বাবধান করেছিলাম । সুতরাং আমাদের কাছে সম্পদশালীদের কি মর্যাদা হতে পারে ।
“ আমরা সেখানে রাজত্ব করেছি এবং রাজত্বকে মহিমান্বিত করেছি । আমরা ছাড়া আর কোন গোত্রের এ নিয়ে গর্ব করার কিছু নেই ।
“ তোমরা কি আমার জানামতে শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তি ইসমাঈল ( আ ) -কে কন্যাদান করনি । কাজেই তার সন্তানরা তো আমাদেরই এবং আমরাই তো তার শ্বশুরকুল ।
“ দুনিয়ার পরিস্থিতি আমাদের প্রতিকূল হওয়াটা মোটেই আশ্চর্যের বিষয় নয় । কেননা দুনিয়াটা পরিবর্তনশীল ও সংঘাতময়
“ সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ আমাদেরকে সেখান থেকে বের করেছেন । হে মানুষ ! শোন , এমনই হল ভাগ্যের লীলাখেলা ।
“ মানুষ যখন নিশ্চিন্তে নিদ্রামগ্ন ছিল , তখন আমি বিনিদ্র অবস্থায় ফরিয়াদ করছিলাম । হে আরশের অধিপতি ! সুহায়ল ও ' আমির ' থেকে যেন বিতাড়িত না হই ।
“ তাদের পরিবর্তে দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভিক্ষ এমন কিছু সামনে এসেছে , যেগুলো আমি পসন্দ করি না ।

**টিকাঃ**
১. কাবার জন্য প্রেরিত উপঢৌকন সামগ্রীর মধ্যে স্বর্ণের তৈরি দুটো হরিণও ছিল ।
২. মক্কার দু'টি পাহাড় ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 খুযাআ গোত্রের দখলে কা'বাঘরের কর্তৃত্ব

📄 খুযাআ গোত্রের দখলে কা'বাঘরের কর্তৃত্ব


“ এখন আমরা বিগত কাহিনীতে পরিণত হয়েছি , অথচ এক সময় আমরা ছিলাম ঈর্ষণীয় । আসলে এই ঈর্ষণীয় অবস্থার কারণেই অতীত আমাদের জন্য ধ্বংস ডেকে এনেছে ।
“ সেই পবিত্র ভূমির স্মরণে আমার চোখ থেকে অশ্রু ঝরে , যেখানে আছে শান্তির ‘ হারাম ’ হজ্জের পবিত্র স্মৃতিসমূহ ।
“ সেই পবিত্র ঘরের জন্য আমার মন কাঁদে , যেখানে কবুতর ও চড়ুই পাখিকে কষ্ট দেয়া হয় না , বরং তারা সেখানে নিরাপদে বাস করে । এমনকি সেখানকার বন্য পশুদেরও শিকার করা হয় না । মানুষের সাথে তাদের এমন নিবিড় সম্পর্ক যে , যদি তারা সেখান থেকে বের হয় , তাহলে আবার ফিরে আসে , বিশ্বাস ভঙ্গ করে না । ”
ইবন হিশাম বলেন : কবির কথা “ কাজেই তার সন্তানরা তো আমাদেরই ” আমর ও বনূ জুরহুমের এ বক্তব্যটি ইবন ইসহাক ব্যতীত অন্যের বর্ণনার মধ্যে আছে ।
ইবন ইসহাক বলেন : বাকর , গুবশান ও জুরহুম গোত্রের লোকদের চলে যাওয়ার পর মক্কার অবশিষ্ট লোকদের উদ্দেশ্যে আমর ইব্‌ন হারিস বলেন :
“ হে লোক সকল ! তোমরা সময় থাকতে চলে যাও । কেননা ভোরে হামলা হলে তোমরা তোমাদের দালান - কোঠা ছেড়ে পালাবার সুযোগ পাবে না ।
“ তোমরা মৃত্যু আসার আগে তোমাদের বাহন নিয়ে দ্রুত পালাও , আর যা কিছু করার তা তোমরা করে নাও ।
كنا اناسا كما كنتم فغيرنا × دهر فانتم كما كنا تكونونا
“ আমরাও একদিন তোমাদের মত ছিলাম । কিন্তু সময়ের বিবর্তন আমাদের সবকিছু উলট - পালট করে দিয়েছে । তোমাদেরও তাই ঘটবে , যা আমাদের ভাগ্যে ঘটেছে । ”
ইবন হিশাম বলেন : কোন কোন কবিতা বিশারদের মতে এটাই আরবী ভাষায় রচিত প্রথম কবিতা । ইয়ামানের একটি পাথরে খোদাই অবস্থায় তা পাওয়া গিয়েছিল , কিন্তু কবিতাটির বর্ণনাকারী কে , তা জানা যায় নি
খুযাআ গোত্রের দখলে কা'বাঘরের কর্তৃত্ব
ইবন ইসহাক বলেন : তারপর বনূ খুযাআর শাখা গোত্র গুশানের আমর ইব্‌ন হারিস গুবশানী বায়তুল্লাহ্র তত্ত্বাবধায়ক হন ; বনূ বাকর ইব্‌ন আবদে মানাফের কেউ হতে পারেনি । কুরায়শ তখন স্ব - গোত্রীয় বনু কিনানার মাঝে বিভিন্ন দল ও পরিবার আকারে শতধা বিভক্ত ছিল । বায়তুল্লাহ্র তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব ‘ খুযাআ গোত্রে উত্তরাধিকার সূত্রে বংশ পরম্পরায় চলে আসছিল । সর্বশেষ তত্ত্বাবধায়ক হলেন , হুলায়ল ইব্‌ন হাবাশিয়্যাহ্ ইব্‌ন সালূল ইন কা'ব ইন আমর খুযাই ।
ইবন হিশাম বলেন : অনেকে হুলায়ল ইব্‌ন হাবাশিয়্যাকে হুলায়ল ইব্‌ন হুশিয়্যা বলেছেন ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 কুসাই ইব্‌ন কিলাবের হুব্বা বিন্ত হুলায়লের সাথে বিবাহ

📄 কুসাই ইব্‌ন কিলাবের হুব্বা বিন্ত হুলায়লের সাথে বিবাহ


কুসাই ইবন কিলাবের হুব্বায় বিনতে হুলায়লের সাথে বিবাহ
( কুসাই - এর সন্তান - সন্ততি ) ইব্‌ন ইসহাক বলেন , কুসাই ইব্‌ন কিলাব হুলায়ল ইব্‌ন হুবশিয়্যার কাছে তাঁর কন্যা হুব্বায়ের বিয়ের প্রস্তাব পাঠালে তিনি তা সাদরে গ্রহণ করেন এবং তাঁর কন্যাকে কুসাইয়ের সাথে বিয়ে দেন । হুব্বায়ের গর্ভে ‘ আবদুদ্দার , ' আবদে মানাফ , ‘ আবদুল উয্যা ও ‘ আবদ জন্মগ্রহণ করেন । তারপর কুসাই যখন ধনেজনে প্রচুর প্রতিপত্তি অর্জন করলেন , তখন হুলায়লের মৃত্যু হল ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 কুসাই কর্তৃক বায়তুল্লাহ্র কর্তৃত্ব লাভ এবং এ ব্যাপারে রিযাহের সাহায্য

📄 কুসাই কর্তৃক বায়তুল্লাহ্র কর্তৃত্ব লাভ এবং এ ব্যাপারে রিযাহের সাহায্য


কুসাই কর্তৃক বায়তুল্লাহর কর্তৃত্ব লাভ এবং এ ব্যাপারে রিযাহের সাহায্য
হুলায়লের অবর্তমানে কা'বাঘরের তত্ত্বাবধান ও মক্কার কর্তৃত্বের জন্য কুসাই নিজকে খুযা'আ ও বাকর গোত্রের চেয়ে অধিক যোগ্য মনে করলেন । তাছাড়া কুরায়শরা হলেন ইসমাঈল ইবন ইবরাহীম ( আ ) -এর প্রত্যক্ষ ও শ্রেষ্ঠ বংশধর । তারপর তিনি কুরায়শ ও বনূ কিনানার গণ্যমান্যদের সাথে আলোচনা করে বনূ খুযা'আ ও বনূ বাকরকে মক্কা থেকে বিতাড়নের জন্য তাদেরকে রাযী করলেন । এর পূর্বের ঘটনা হল : ‘ উযরা ইব্‌ন সা'দ ইব্‌ন যায়দ বংশের রাবীআ ইব্‌ন হারাম , কিলাবের মৃত্যুর পর মক্কা এসে ফাতিমা বিনতে সা'দ ইব্‌ন সায়ালকে বিবাহ করেন । তখন ফাতিমার ( পূর্ব স্বামীর পক্ষের ) পুত্র যুরা ছিলেন যুবক এবং কুসাই ছিলেন দুগ্ধপোষ্য শিশু । রাবী'আ , ফাতিমা ও তার দুগ্ধপোষ্য সন্তান কুসাইকে নিয়ে দেশে চলে যান । আর যুহরা মক্কাতেই থেকে যান । নতুন স্বামীর ঔরসে ফাতিমার গর্ভে রিযাহ্ - এর জন্ম হয় । কুসাই যখন যৌবনে পদার্পণ করেন , তখন পুনরায় মক্কায় এসে বসবাস শুরু করেন । যখন কুসাই স্ব - গোত্রীয়দের পক্ষ থেকে অনুকূল সাড়া পেলেন , তখন তিনি তার বৈপিত্রেয় ভাই রিযাহ্ ইবন রাবী‘আকে সাহায্যের আবেদন জানিয়ে পত্র লিখলেন । রিযাহ্ ইবন রাবীআ তার বৈমাত্রেয় ভাই হুন্না ইবন রাবী'আ , মাহমূদ ইবন রাবীআ , যুলহুমা ইবন রাবী‘আসহ বন্ কুযাআর হজ্জযাত্রীদের সাথে নিয়ে মক্কায় আগমন করলেন । এঁরা সকলে কুসাই - এর সাহায্যের ব্যাপারে বদ্ধপরিকর ছিল । কিন্তু বনূ খুযাআর দাবি হল হুলায়ল ইব্‌ন হুবশিয়্যার কন্যার গর্ভ থেকে যখন কুসাই - এর বহু সন্তান জন্ম নিল , তখন হুলায়ল কুসাই - এর অনুকূলে মক্কার কর্তৃত্ব ও কা'বার তত্ত্বাবধানের ওসীয়ত করে বলেছিলেন যে , এ ব্যাপারে বনূ খুযাআর চেয়ে তুমিই অধিক যোগ্য । সে কারণেই কুসাই এ দাবি তুলেছিলেন । কিন্তু এ বর্ণনাটি বনূ খুযাআ ছাড়া অন্য কোন সূত্রে শুনি নি । আল্লাহ্ পাকই ভাল জানেন , কোনটি সঠিক ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00