📄 আবদুল মুত্তালিব ইব্ন হাশিমের সন্তানগণ
আবদুল মুত্তালিব ইব্ন হাশিমের সন্তানগণ
( তাদের সংখ্যা ও মাতাগণ ) ইবন হিশাম বলেন : ' আবদুল মুত্তালিব ইব্ন হাশিমের দশ ছেলে এবং ছয় মেয়ে । ছেলেরা হলেন : আব্বাস , হামযা , ' আবদুল্লাহ , আবূ তালিব ওরফে আবদে মানাফ , যুবায়র , হারিস , জাহল , হাজল ভিন্নমতে মুকাব্বম , যিরারা , আবূ লাহাব ওরফে আবদুল উয্যা । আর মেয়েরা হলেন : সফিয়্যা , উম্মে হাকীম বায়যা , ' আতিকা , উমায়মা , আরওয়া এবং বাররাহ্ ।
আব্বাস ও যিরারের মা হলেন নুতায়লা বিন্ত জানাব ইব্ন কুলায়ব ইব্ন মালিক ইব্ন আমর ইবন আমির ইব্ন যায়দ মানাত ইব্ন আমির । তার উপাধি ছিল যাহ্ইয়ান ইব্ন সা'দ ইব্ন খাযরাজ ইব্ন তায়ম লাত ইব্ন নামির ইব্ন কাসিত ইব্ন হিব ইব্ন আফসা ইব্ন জাদীলা ইবন আসাদ ইবন রবীআ ইব্ন নিযার ।
অনেকের মতে আফসা হলেন দু'মী ইব্ন জাদীলার ছেলে ।
হামযা , মুকাব্বম , জাহল ও সাফিয়্যার মা হলেন হালা বিন্ত উহায়ব ইব্ন আব্দ মানাত ইবন যুরা ইন কিলাব ইব্ন মুরা ইব্ন কাবি ইব্ন লুআই ।
অধিক পুণ্যবান ও ধনবান হওয়ার কারণে হাজলকে গায়দাক ( সম্মানের অধিকারী ) উপাধি দেওয়া হয়েছিল ।
আবদুল্লাহ্ , আবূ তালিব , যুবায়র এবং সফিয়্যা ছাড়া সকল মেয়ের মা ছিলেন ফাতিমা বিন্ত ‘ আমর ইব্ন আইয ইন ইমরান ইব্ন মাখযূম ইব্ন ইয়াকাযা ইব্ন মুরা ইব্ন কা'ব ইব্ন লুআই ইব্ন গালিব ইন ফি ইবন মালিক্ ইব্ন নযর ।
ফাতিমার মা হলেন , সাখরা বিন্ত আব্দ ইব্ন ইমরান ইব্ন মাখযূম ইব্ন ইয়াকাযা ইব্ন মুররা ইবন কা'ব ইবন লুআই ইব্ন গালিব ইব্ন ফি ইন মালিক ইন নর ৷
সাখরার মা হলেন : তাখমূর বিন্ত আবদ ইব্ন কুসাই ইন কিলাব ইব্ন মুররা ইবন কা'ব ইবন লুআই ইব্ন গালিব ইব্ন ফিহর ইব্ন মালিক ইবন নযর ।
হারিস ইব্ন আবদুল মুত্তালিবের মা হলেন : সামরা বিন্ত জুন্দুব ইব্ন জুহায়র ইব্ন রিআব ইব্ন হাবীব ইব্ন সুওয়াআ ইবন আমির ইব্ন সা'সা'আ ইব্ন মুআবিয়া ইন বাক্ ইন হাওয়াযিন ইব্ন মানসূর ইন ইকরামা ।
আর আবূ লাহাবের মা হলেন , লুবনা বিনতে হাজির ইব্ন ‘ আবদে মানাফ ইব্ন যাতির ইব্ন হুবশিয়্যা ইব্ন সালুল ইব্ন কা'ব ইবন ' আমর খুযা'ঈ ।
📄 রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর মাতা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর মাতা
ইবন হিশাম বলেন : আবদুল্লাহ ইব্ন আবদুল মুত্তালিবের পুত্র হলেন মানবকুল শিরোমণি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম ( p , as all abo ) মুহাম্মাদ ইব্ন ‘ আবদুল্লাহ ইবন ' আবদুল মুত্তালিব ।
তাঁর মা হলেন : আমিনা বিন্ত ওয়াহব ইব্ন আবদে মানাফ ইবন যুরা ইব্ন কিলাব ইন মুররা ইবন কা'ব ইবন লুআই ইব্ন গালিব ইব্ন ফিহর ইবন মালিক ইবন নর । আমিনার মা হলেন : বার্রা বিন্ত ' আবদুল উযযা ইব্ন উসমান ইব্ন ' আবদুদ্দার ইব্ন কুসাই ইব্ন কিলাব ইবন মুররা ইবন কা'ব ইবন লুআই ইব্ন গালib ইব্ন ফিহর ইব্ন মালিক ইবন নর । বাররার মা হলেন : উম্মু হাবীব বিনত আসাদ ইব্ন আবদুল উযযা ইব্ন কুসাই ইন কিলাব ইন মুররা ইবন কা'ব ইবন লুআই ইব্ন গালিব ইবন ফিহর ইব্ন মালিক ইব্ নযর । উম্মু হাবীবের মা হলেন : বার্রা বিন্ত ‘ আওফ ইব্ন উবায়দ ইব্ন উওয়ায়জ ইব্ন আদী ইব্ন কা'ব ইব্ন লুআই ইব্ন গালিব ইব্ন ফিহর ইবন মালিক ইবন নয় ।
ইবন হিশাম বলেন : রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম পিতামাতা উভয় দিক থেকে মানবকুলে শ্রেষ্ঠ বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান ছিলেন ।
📄 যমযম খনন প্রসংগে
যমযম খনন প্রসঙ্গে
( যমযম সম্পর্কে কিছু কথা ) মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক মুত্তালিবী বলেন : আবদুল মুত্তালিব ইব্ন হাশিম একবার কা'বা সংলগ্ন হাতীমে ঘুমিয়েছিলেন । তখন স্বপ্নে তিনি যমযম খননের নির্দেশ পেলেন । যমযম কুরায়শদের দু'টি মূর্তি ইসাফ ও নায়েলার মধ্যবর্তী স্থানে , তাদের পশুবলির জায়গায় মাটিচাপা অবস্থায় ছিল । জুরহুম গোত্র মক্কা থেকে বিদায়কালে এটা মাটির নিচে চাপা দিয়ে যায় । এ কুয়াটি ছিল মূলত ইসমাঈল ইবন ইবরাহীম ( আ ) -এর । ছোটবেলায় যখন তিনি তৃষ্ণার্ত হন , তখন আল্লাহ্ তাঁকে এই কুয়ার পানি পান করান । ঘটনার বিবরণ এই :
তিনি যখন তৃষ্ণার্ত হলেন , তখন তার মা হাজেরা বহু খোঁজাখুজি করে পানি না পেয়ে প্রথমে ' সাফা ' পাহাড়ে তারপর ‘ মারওয়া ’ পাহাড়ে চড়ে আল্লাহ্ তা'আলার কাছে ইসমাঈলের জন্য বৃষ্টির ফরিয়াদ করলেন । তখন আল্লাহ্ তা'আলা জিবরাঈল ( আ ) -কে পাঠালেন । তিনি যমীনে পায়ের গোড়ালি দিয়ে আঘাত করলে সেখান থেকে পানি বের হতে লাগল । এমন সময় হযরত ইসমাঈল ( আ ) -এর মা হিংস্র জন্তুর আওয়াজ শুনে পুত্রের জীবনাশংকায় তার দিকে দৌড়ে আসলেন । দেখতে পেলেন তার গন্ডদেশের নীচ থেকে পানি প্রবাহিত হচ্ছে , আর তিনি হাতে পানি পান করছেন । হযরত ইসমাঈল ( আ ) -এর মা সেখানে একটি ছোট গর্ত তৈরি করে নিলেন ।
**টিকাঃ**
১. হাতীম হল কা'বাঘরের দক্ষিণদিকের দেয়াল ঘেরা অতিরিক্ত অংশ , রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নবূয়াতপ্রাপ্তির পাঁচ বছর পূর্বে কুরায়শরা যখন কা'বাঘর পুনঃনির্মাণ করেছিল , তখন তারা অর্থ সংকটের কারণে এ অংশটুকু ছেড়ে দিয়েছিল । চিহ্নিত করার জন্য এ অংশটুকু বর্তমানে দেয়াল দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে ।