📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 মুররাহ্ বংশ

📄 মুররাহ্ বংশ


মুররাহ্ বংশ
ইবন ইসহাক বলেন : মুররাহ্ হল গাতফান বংশোদ্ভূত । যেমন , মুররাহ্ ইবন আওফ ইন সা'দ ইব্‌ন যুবয়ান ইব্‌ন বাগীয় ( ii ) ইন রায়স ইন গাতফান । যখন তাদের কাছে এ বংশনামা আলোচনা করা হত , তখন তারা বলত , আমরা এ বংশ পরিচয় অমান্য এবং অস্বীকার করি না , বরং এটা আমাদের কাছে প্রিয়তম বংশ পরিচয় ।
হারিস ইব্‌ন যালিম ইব্‌ন জাযীমা ইব্‌ন ইয়ারবূ ( ইবন হিশামের মতে তিনি হলেন বনূ মুররা ইব্‌ন ‘ আওফ - এর একজন ) যখন নু'মান ইব্‌ন মুনযিরের ভয়ে পালিয়ে কুরায়শে আশ্রয় নিয়েছিলেন , তখন এ কবিতা বলেছিলেন :
“ আমার গোত্র সা'লাবাহ্ ইব্‌ন সা'দ নয় , নয় বনূ ফাযারা ; যাদের ঘাড়ে রয়েছে প্রচুর লোম ( অর্থাৎ যারা সিংহের মত কঠোর ও শক্তিশালী ) ।
“ তুমি জানতে চাইলে শুনে নাও , বনূ লুআঈ হল আমার গোত্র , যারা মক্কাতে বনূ মুযারকে অসি চালনা শিক্ষা দিয়েছিল ।
“ আমরা কতই না নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দিয়েছি বনূ বাগীযের অনুসরণ করে এবং আমদের নিকটাত্মীয়দের থেকে বংশ পরিচয় ছিন্ন করে ।
“ এ যেন সেই নির্বুদ্ধিতা যে নিজের কাছে রাখা পানি ফেলে দিয়ে মরীচিকার পেছনে ছুটে যায় ।
“ তোমার জীবনের শপথ , আমি তাদের অনুগত হয়ে থাকলে অজীবন তাদের মাঝেই থাকতে পারি , ঘাস পানির সন্ধানে অন্য কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন হবে না ।
“ রাওয়াহা কুরায়শী বিনিময় ছাড়াই আমার বাহনরূপে নিজের তেজস্বী উটনী সাজিয়ে দিয়েছে । ”
ইবন হিশাম বলেন : আবূ উবায়দা আমাকে এ কবিতা থেকে শুনিয়েছিলেন ।
ইব্‌ন ইসহাক বলেন : হুসায়ন ইব্‌ন হুমাম আল - মুী গাফ্ফান বংশভুক্ত হওয়ার দাবিদার বনূ সাহম ইব্‌ন মুররা গোত্রের একজন হারিস ইবন যালিমের বক্তব্য খন্ডন করে বলেছেন :
“ জেনে রাখ , তোমরা আমাদের থেকে নও এবং আমরাও তোমাদের থেকে নই । লুআঈ ইবন গালিবের সাথে বংশ সম্পর্কের ব্যাপারে আমরা তোমাদের থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ।
“ আমরা ছিলাম হিজাযের উঁচু এলকায় , আর তোমরা ছিলে পাহাড়ের মাঝে বালুকাময় নিচু উপত্যকার কষ্টদায়ক স্থানে । ”
এখানে কুরায়শ বংশই হলো কবির লক্ষ্য । তারপর হুসায়ন হারিস ইবন যালিমের কথা বুঝতে পেরে লজ্জিত হয় এবং কুরায়শ বংশভুক্ত হওয়ার কথা মেনে নিয়ে নিজের ভুল স্বীকার করে বলে :
“ আমি ইতিপূর্বে যা বলেছিলাম , তাতে আমি লজ্জিত । নিঃসন্দেহে আমার আগের বক্তব্য ছিলো মিথ্যা-
“ হায় ! যদি আমার জিহ্বা দু'টুকরা হয়ে যেত যার এক টুকরা বোবা হয়ে থাকত এবং অপর টুকরা কুরায়শের প্রশংসায় তারকালোকে পৌঁছে যেত ( তবে কতই না ভাল হতো ) !
“ আমাদের পূর্বপুরুষ কিনানা বংশেরই ছিলেন , যার কবর ছিলো মক্কা শরীফের দু'পাহাড়ের মাঝে বালুকাময় উপত্যকায় কষ্টদায়ক স্থানে ।
“ ওয়ারিস সূত্রে বায়তুল হারামের এক - চতুর্থাংশ এবং ই হাতিবের বাড়ির কাছে বালুকাময় উপত্যকার এক -চতুর্থাংশ আমাদের । ”
লুআঈ - এর চার ছেলে ছিল - কা‘আব , আমির ও সামাহ্ এবং আওফ ।
ইব্‌ন ইসহাক বলেন : তাদের থেকে নির্ভরযোগ্য এক ব্যক্তি আমাকে এ তথ্য দিয়েছেন যে , হযরত উমর ইব্‌ন খাত্তাব ( রা ) বনূ মুররার কতক লোককে বলেছিলেন , যদি তোমরা চাও , তবে তোমাদের নিজেদের বংশের দিকে ফিরে যেতে পার ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 মুররাহ্ বংশের নেতৃবৃন্দ

📄 মুররাহ্ বংশের নেতৃবৃন্দ


মুররাহ্ বংশের নেতৃবৃন্দ
ইবন ইসহাক বলেন : এরা ছিল বনূ গাতফানের নেতৃস্থানীয় । তাদের মধ্যেই ছিলেন হারাম ইবন সিনান ইব্‌ন আবূ হারিসাহ্ , খারিজাহ্ ইব্‌ন সিনান ইব্‌ন আবূ হারিসাহ্ , হারিস ইব্‌ন আওফ , হুসায়ন ইব্‌ন আল - হুমাম এবং হাশিম ইব্‌ন হারমালাহ্ , যার সম্পর্কে কবি বলেন :
“ হাবাআত ও ইয়ামালাহ্ যুদ্ধের দিন হাশিম ইব্‌ন হারমালাহ্ তার পিতৃনাম স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন ।
“ তুমি দেখবে রাজা - বাদশাহ সবাই তার সামনে জড়সড় । অপরাধী ও নিরপরাধ সবাইকে সে কতল করে ।
“ এবং তার বল্লম মাকে সন্তান শোকে কাতর করে ছাড়ে । ”
তার কাছে আমি আরও শুনেছি যে , হাশিম একবার আমিরকে বলেছিল , কোন উৎকৃষ্ট কবিতায় তুমি আমার প্রশংসা কর । যার বিনিময়ে তুমি পুরস্কৃত হবে । তখন আমির তাকে একে একে তিনটি পংক্তি শুনাল কিন্তু কোটিই তার পসন্দ হল না । চতুর্থবারে যখন সে বলল :
করল ।
“ সে অপরাধী ও নিরপরাধ সবাইকে কতল করে ” তখন সে খুশি হয়ে তাকে পুরস্কৃত
ইবন হিশাম বলেন : এদিকে ইংগিত করেই কবি কুমায়ত ই যায়দ বলেছেন : “ মুররাহ বংশীয় হাশিম সেই বীরশ্রেষ্ঠ , যার হাতে অপরাধী ও নিরপরাধ সবাই কতল হয় । ” আর আমিরের কবিতায় শব্দটি আবূ উবায়দাহ্ ছাড়া ভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত হয়েছে ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 মুররাহ্ ও বাস্ত্র বংশ

📄 মুররাহ্ ও বাস্ত্র বংশ


মুরাহ ও বাল বংশ
يوم
ইবন ইসহাক বলেন : গাতফান ও কায়স বংশে এদের সুখ্যাতি বিরাজমান ছিল । আর এরা নিজস্ব বংশধারার উপরে সুপ্রতিষ্ঠিত ছিল । এদের মধ্যে ছিল বাল ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 বাস প্রসংগে

📄 বাস প্রসংগে


বাল প্রসংগে
( ' বাল ' - এর পরিচয় এবং কবি যুহায়র - এর বংশ পরিচয় ) : পণ্ডিতদের মতে ‘ বাস্‌ল ’ হল সম্মানিত আটটি মাস । এ মাসগুলো আরবরা সর্বসম্মতভাবেই সম্মান করত । তখন তারা আরবের যে কোন এলাকায়ই ইচ্ছা , নির্ভয়ে যাতায়াত করত । যুহায়র ইব্‌ন আবূ সালমা বন্ মুররাহ্ সম্পর্কে বলেন , ইব্‌ন হিশাম বলেন , যুহায়র হলেন বনূ মুযায়নাহ্ ইব্‌ন উদ্দ ইব্‌ন তাবিখাহ ইব্‌ন ইলিয়াস ইবন মুযার বংশের । মতান্তরে যুহায়র ইব্‌ন আবূ সালমা হলেন গাফ্ফান বংশের । অন্য মতে তিনি ছিলেন গাতফান গোত্রের মিত্র ।
“ ভেবে দেখ , মারাওয়া এলাকা এবং তার বাড়িঘরগুলো কখনো তাদের থেকে শূন্য থাকে না । এগুলো শূন্য হলেও ‘ নাখল ’ এলাকা তাদের থেকে শূন্য হবে না ।
“ আমি যে সব শহরে এদের সাথে অবস্থান করেছি , তাদের সাথে আমার বন্ধুত্ব ছিল , সে সব এলাকায় তারা না থাকলেও ভয়ের কারণ নেই , কেননা তারা সম্মানের অধিকারী ( বাল ) । ” ইবন হিশাম ( র ) বলেন : এই পংক্তি দুটো তার একটি কবিতার অংশবিশেষ ।
ইবন ইসহাক ( র ) বলেন : কায়স ইব্‌ন সা'লাবা গোত্রের কবি আ'শা বলেন :
“ বাল - এর উসীলাতেই তোমরা আশ্রয় পেলে যা আমাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত । আর আমরা আমাদের প্রতিবেশী যাদেরকে আশ্রয় দিয়েছি , তারা তোমাদের জন্য হালাল এবং তাদের স্ত্রীও । “ ইবন হিশাম বলেন , এ পংক্তিটি তার এক কবিতায় অংশবিশেষ । ”

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00