📄 সামাহ ইব্ন লুআঈ
সামাহ ইব্ন লুআঈ
( ভাইয়ের ভয়ে ওমানে পলায়ন ও মৃত্যুবরণ
ইবন ইসহাক বলেন : সামাহ ইব্ন লুআঈ ওমানে গিয়ে বাস করেন । আরবদের ধারণা , পারস্পরিক তিক্ততার কারণে তার ভাই আমির ইব্ন লুআঈ তাকে দেশছাড়া করেছিলেন । একবার ঝগড়ার সময় সামাহ্ আমিরের চোখ ফুঁড়ে দিয়েছিলেন । তখন আমির তাকে চরম হুমকি দিলে তিনি ওমানে চলে যান । কথিত আছে যে , ওমান যাওয়ার পথে সামাহ - এর উটনী চরছিল । এমন সময় এক সাপ তার ঠোঁট কামড়ে দেয় । ফলে উটনী ঢলে পড়ে । তখন সামাহ্ সর্প দংশনে মৃত্যুমুখে পতিত হন ।
আসন্ন মৃত্যু টের পেয়ে সামাহ্ এই কবিতা বলেছিলেন :
“ কাঁদো হে চোখ ! সামাহ্ ইব্ন লুআঈর শোকে কাঁদো । এক ভয়ংকর আক্রমণকারী তাকে আজ পাকড়াও করে ফেলেছে । যেদিন লোকজন এখানে অবতরণ করে , সেদিন উটনীর জন্য মৃত্যুবরণকারী সামাহ্ ইব্ন লুআঈর মত আর কাউকে আমি দেখিনি । আমির ও কা'বকে এ খবর বলো যে , আমার আত্মা তাদের জন্য অধীর । ”
“ ওমান আমার বাসস্থান হলেও আমি গালিবের বংশধর । পেটের তাগিদে আমি ঘরছাড়া হইনি ৷
“ হে লুআঈ সন্তান ! মৃত্যুর ভয়ে এমন কোন পেয়ালা তুমি উপুড় করেছ যা উপুড় করা উচিত ছিল না ।
. “ হে লুআঈ সন্তান ! তুমি মৃত্যুকে প্রতিহত করতে চেয়েছিলে অথচ এমন ইচ্ছা করে কেউ মৃত্যুর কবল থেকে রেহাই পায়নি ।
“ নিরন্তর চেষ্টা ও তীর নিক্ষেপের পর ধীর শান্তগতিতে যাত্রারত উটনীকে তুমি মরণ কামড় দিয়েই বসলে । ”
ইবন হিশাম বলেন : আমি এ মর্মে সংবাদ পেয়েছি যে , সামাহ্ বংশীয় জনৈক ব্যক্তি হযরত রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়া সাল্লামের দরবারে এসে বংশ পরিচয় দিয়ে বলল , আমি সামাহ্ - এর বংশধর । তিনি জিজ্ঞেস করলেন :
“ সেই কবি সামাহ্ ? জনৈক সাহাবী জিজ্ঞেস করলেন , ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ! আপনি কি এই কবিতার কথা বলছেন :
رب كأس هرقت يا ابن لؤ × حذر الموت لم تكن مهراقه
“ হে ইবন লু’আঈ মৃত্যুর ভয়ে তুমি বহু পেয়ালা ঢেলেছ । ”
তিনি বললো , হ্যাঁ ।
📄 আওফ ইব্ন লুআঈ ও তার বিদেশ ভ্রমণ
আওফ ইব্ন লুআঈ ও তার বিদেশ ভ্রমণ
( গাতফান গোত্রের সাথে তার অন্তর্ভুক্তির কারণ ) )
ইবন ইসহাক বলেন : আরবদের ধারণামতে আওফ ইব্ন লুআঈ কুরায়শের এক কাফেলার সাথে সফরে গেল । কিন্তু গাফ্ফান ইব্ন সা'দ ইব্ন কায়স ইব্ন আয়লান - এর এলাকায় এসে সে কাফেলার পিছনে পড়ে গেল । ফলে তার স্বগোত্রীয় সাথীরা তাকে ফেলে চলে গেল । তারপর সালাবাহ্ ইব্ন সা'দ তার কাছে আসে । এবং সে হল বংশ সূত্রে যুবয়ান গোত্রের ভাই অর্থাৎ সা'লাবাহ্ ইব্ন সা'দ ইব্ন যুবয়ান ইব্ন বাগীয় ইব্ন রায়স ইব্ন গাফ্ফান । আর এদিকে ' আওফ ইব্ন সা'দ ইব্ন যুবয়ান ইব্ন বাগয ইব্ন রায়স ইন গাফ্ফান ।
যা হোক , সা'লাবাহ্ এসে তাকে আটকে রাখল এবং সেখানেই তার বিয়ে দিল এবং তাকে আপন বংশভুক্ত ও ভ্রাতৃভুক্ত করে নিল । এখানে থেকেই আওফের যুবয়ানী বংশ পরিচয় ছড়িয়ে পড়ে । তাদের ধারণা যে , আওফের বংশীয় লোকেরা যখন তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল , তখন সা'লাবাহই তাকে লক্ষ্য করে বলেছিল :
“ হে লু‘আঈ পুত্র ! তোমার উট আমার কাছেই বেঁধে রাখ । কেননা গোত্রের লোকেরা তো তোমাকে ছেড়ে গিয়েছে , তোমার তো আর কোন ঠাঁই নেই । ”
ইবন ইসহাক বলেন : আমাকে মুহাম্মদ ইব্ন জা'ফর ইব্ন যুবায়র অথবা মুহাম্মদ ইব্ন আবদুর রহমান ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইব্ন হুসায়ন বলেছেন যে , হযরত উমর ইব্ন খাত্তাব ( রা ) বলেন , আমি যদি আরবের কোন গোত্রের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার অথবা কোন গোত্রকে নিজের সাথে সম্পৃক্ত করার দাবিদার হতাম , তবে আমি বনূ মুররাহ্ ইব্ন আওফের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার দাবি করতাম । কেননা আমরা তাদের মাঝে বহু মিল খুঁজে পাই । তাছাড়া ' আওফ ইব্ন লুআঈ কোথায় কি অবস্থায় গিয়ে পড়েছে , তা আমরা জানি না ।
📄 মুররাহ্ বংশ
মুররাহ্ বংশ
ইবন ইসহাক বলেন : মুররাহ্ হল গাতফান বংশোদ্ভূত । যেমন , মুররাহ্ ইবন আওফ ইন সা'দ ইব্ন যুবয়ান ইব্ন বাগীয় ( ii ) ইন রায়স ইন গাতফান । যখন তাদের কাছে এ বংশনামা আলোচনা করা হত , তখন তারা বলত , আমরা এ বংশ পরিচয় অমান্য এবং অস্বীকার করি না , বরং এটা আমাদের কাছে প্রিয়তম বংশ পরিচয় ।
হারিস ইব্ন যালিম ইব্ন জাযীমা ইব্ন ইয়ারবূ ( ইবন হিশামের মতে তিনি হলেন বনূ মুররা ইব্ন ‘ আওফ - এর একজন ) যখন নু'মান ইব্ন মুনযিরের ভয়ে পালিয়ে কুরায়শে আশ্রয় নিয়েছিলেন , তখন এ কবিতা বলেছিলেন :
“ আমার গোত্র সা'লাবাহ্ ইব্ন সা'দ নয় , নয় বনূ ফাযারা ; যাদের ঘাড়ে রয়েছে প্রচুর লোম ( অর্থাৎ যারা সিংহের মত কঠোর ও শক্তিশালী ) ।
“ তুমি জানতে চাইলে শুনে নাও , বনূ লুআঈ হল আমার গোত্র , যারা মক্কাতে বনূ মুযারকে অসি চালনা শিক্ষা দিয়েছিল ।
“ আমরা কতই না নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দিয়েছি বনূ বাগীযের অনুসরণ করে এবং আমদের নিকটাত্মীয়দের থেকে বংশ পরিচয় ছিন্ন করে ।
“ এ যেন সেই নির্বুদ্ধিতা যে নিজের কাছে রাখা পানি ফেলে দিয়ে মরীচিকার পেছনে ছুটে যায় ।
“ তোমার জীবনের শপথ , আমি তাদের অনুগত হয়ে থাকলে অজীবন তাদের মাঝেই থাকতে পারি , ঘাস পানির সন্ধানে অন্য কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন হবে না ।
“ রাওয়াহা কুরায়শী বিনিময় ছাড়াই আমার বাহনরূপে নিজের তেজস্বী উটনী সাজিয়ে দিয়েছে । ”
ইবন হিশাম বলেন : আবূ উবায়দা আমাকে এ কবিতা থেকে শুনিয়েছিলেন ।
ইব্ন ইসহাক বলেন : হুসায়ন ইব্ন হুমাম আল - মুী গাফ্ফান বংশভুক্ত হওয়ার দাবিদার বনূ সাহম ইব্ন মুররা গোত্রের একজন হারিস ইবন যালিমের বক্তব্য খন্ডন করে বলেছেন :
“ জেনে রাখ , তোমরা আমাদের থেকে নও এবং আমরাও তোমাদের থেকে নই । লুআঈ ইবন গালিবের সাথে বংশ সম্পর্কের ব্যাপারে আমরা তোমাদের থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ।
“ আমরা ছিলাম হিজাযের উঁচু এলকায় , আর তোমরা ছিলে পাহাড়ের মাঝে বালুকাময় নিচু উপত্যকার কষ্টদায়ক স্থানে । ”
এখানে কুরায়শ বংশই হলো কবির লক্ষ্য । তারপর হুসায়ন হারিস ইবন যালিমের কথা বুঝতে পেরে লজ্জিত হয় এবং কুরায়শ বংশভুক্ত হওয়ার কথা মেনে নিয়ে নিজের ভুল স্বীকার করে বলে :
“ আমি ইতিপূর্বে যা বলেছিলাম , তাতে আমি লজ্জিত । নিঃসন্দেহে আমার আগের বক্তব্য ছিলো মিথ্যা-
“ হায় ! যদি আমার জিহ্বা দু'টুকরা হয়ে যেত যার এক টুকরা বোবা হয়ে থাকত এবং অপর টুকরা কুরায়শের প্রশংসায় তারকালোকে পৌঁছে যেত ( তবে কতই না ভাল হতো ) !
“ আমাদের পূর্বপুরুষ কিনানা বংশেরই ছিলেন , যার কবর ছিলো মক্কা শরীফের দু'পাহাড়ের মাঝে বালুকাময় উপত্যকায় কষ্টদায়ক স্থানে ।
“ ওয়ারিস সূত্রে বায়তুল হারামের এক - চতুর্থাংশ এবং ই হাতিবের বাড়ির কাছে বালুকাময় উপত্যকার এক -চতুর্থাংশ আমাদের । ”
লুআঈ - এর চার ছেলে ছিল - কা‘আব , আমির ও সামাহ্ এবং আওফ ।
ইব্ন ইসহাক বলেন : তাদের থেকে নির্ভরযোগ্য এক ব্যক্তি আমাকে এ তথ্য দিয়েছেন যে , হযরত উমর ইব্ন খাত্তাব ( রা ) বনূ মুররার কতক লোককে বলেছিলেন , যদি তোমরা চাও , তবে তোমাদের নিজেদের বংশের দিকে ফিরে যেতে পার ।
📄 মুররাহ্ বংশের নেতৃবৃন্দ
মুররাহ্ বংশের নেতৃবৃন্দ
ইবন ইসহাক বলেন : এরা ছিল বনূ গাতফানের নেতৃস্থানীয় । তাদের মধ্যেই ছিলেন হারাম ইবন সিনান ইব্ন আবূ হারিসাহ্ , খারিজাহ্ ইব্ন সিনান ইব্ন আবূ হারিসাহ্ , হারিস ইব্ন আওফ , হুসায়ন ইব্ন আল - হুমাম এবং হাশিম ইব্ন হারমালাহ্ , যার সম্পর্কে কবি বলেন :
“ হাবাআত ও ইয়ামালাহ্ যুদ্ধের দিন হাশিম ইব্ন হারমালাহ্ তার পিতৃনাম স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন ।
“ তুমি দেখবে রাজা - বাদশাহ সবাই তার সামনে জড়সড় । অপরাধী ও নিরপরাধ সবাইকে সে কতল করে ।
“ এবং তার বল্লম মাকে সন্তান শোকে কাতর করে ছাড়ে । ”
তার কাছে আমি আরও শুনেছি যে , হাশিম একবার আমিরকে বলেছিল , কোন উৎকৃষ্ট কবিতায় তুমি আমার প্রশংসা কর । যার বিনিময়ে তুমি পুরস্কৃত হবে । তখন আমির তাকে একে একে তিনটি পংক্তি শুনাল কিন্তু কোটিই তার পসন্দ হল না । চতুর্থবারে যখন সে বলল :
করল ।
“ সে অপরাধী ও নিরপরাধ সবাইকে কতল করে ” তখন সে খুশি হয়ে তাকে পুরস্কৃত
ইবন হিশাম বলেন : এদিকে ইংগিত করেই কবি কুমায়ত ই যায়দ বলেছেন : “ মুররাহ বংশীয় হাশিম সেই বীরশ্রেষ্ঠ , যার হাতে অপরাধী ও নিরপরাধ সবাই কতল হয় । ” আর আমিরের কবিতায় শব্দটি আবূ উবায়দাহ্ ছাড়া ভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত হয়েছে ।