📄 গালিবের সন্তান-সন্ততি
গালিবের সন্তান - সন্ততি
১১৩
ইবন ইসহাক বলেন : গালিবের দুই ছেলে -লুআঈ ও তায়ম । এদের মা হলেন , সালমা বিন্ত আমর খুযাঈ । আর বনূ তায়মই বনূ আদরাম নামে পরিচিত ।
ইবন হিশাম বলেন : কায়স নামে গালিবের আরেক ছেলে ছিল । তার মা হলেন সালমা বিন্ত কা'ব ইবন আমর খুযাঈ । ইনিই ছিলেন গালিবের অপর দুই ছেলে লুআঈ ও তায়মের মা ।
📄 লুআঈ-এর সন্তান-সন্ততি
লুআঈ - এর সস্তান - সন্ততি
ইবন ইসহাক ( র ) বলেন : লুআঈ ইৰ্ন গালিবের চার ছেলে - কা'ব , আমির , সামাহ ও আওফ ।
কুযা'আ গোত্রের মাবিয়াহ বিনৃত কা'ব ইবন কায়ন ইব্ন জাসর হলেন কা'ব , আমির ও সামাহ - এর মা ।
ইবন হিশাম বলেন : কথিত আছে , হারিস নামে লুআঈর আরেক পুত্র ছিল । লুআঙ্গর এই পুত্রের বংশধররাই হল বনূ জুশাম ইবন হারিস । তারা রবীআহ্ গোত্রের হিয্যান উপগোত্রীয় ।
জারীর বলেন : “ হে বনূ জুশাম তোমরা হিয্যান গোত্রীয় নও । কাজেই লুআঈ - ইন গালিবের ঊর্দ্ধতন মহান ব্যক্তিদের সাথে নিজেদের বংশ সম্পৃক্ত কর আর যাওর ও শুকায়স গোত্রে কন্যা প্রদান করো না । কেননা ' পর ' কখনো ভাল নয় । ”
📄 কা'ব ইব্ন লুআঈ
সা'দ ইব্ন লুআঈ
লুআঈর আরেক ছেলে হল সা'দ । তারা সকলে রবীআহ্ গোত্রে শায়বান ইব্ন সা'লাবাহ্ ইব্ন উকাবাহ্ ইব্ন সা'আব ইব্ন আলী ইব্ন বাকর ইন ওয়ায়ল শাখার বুনানাহ্ গোত্রের সাথে সম্পৃক্ত ।
' বুনানাহ্ ' উক্ত গোত্রের ধাত্রী ও প্রতিপালিকা । তিনি কায়ন ইব্ন জাসর ইব্ন শায়উল্লাহ্ মতান্তরে সায়উল্লাহ্ ইব্ন আসাদ ইবন ওয়ারাহ ইব্ন সা'লাবাহ্ ইব্ন হুওয়ান ইব্ন ইমরান ইব্ন ইলহাফ ইব্ন কুযা'আ গোত্রীয় । মতান্তরে , তিনি ছিলেন আন্ - নামীর ইবন কাসিতের কন্যা । অন্য মতে , জারম ইন রাব্বান ইব্ন হালাওয়ান ইব্ন ইমরান ইব্ন ইলহাফ ইব্ন কুযা'আহ্ - এর কন্যা ।
খুযায়মাহ লুআঈ - এর আরেক ছেলে । তারা সবাই শায়বান ইব্ন সা'লাবাহ্ গোত্রের শাখা ‘ আইযার সাথে সম্পৃক্ত । আইযাহ ইয়ামানের মেয়ে এবং উবায়দা ইবন খুযায়মাহ্ ইব্ন লুআঈ - এর সন্তানদের মা । ‘ আমির ইবন লুআঈ ব্যতীত লুআঈ - এর অন্য সব সন্তানের মা মাবিয়াহ্ বিত কা'ব ই কায়ন ইব্ন জাসর আর আমির ইব্ন লুআঈর মা মাখশিয়াহ্ বিন্ত শায়বান ইব্ন মুহারিব ইন ফির , মতান্তরে লায়লা বিন্ত শায়বান ইবন মুহারিব ইবন - ফির ।
📄 সামাহ ইব্ন লুআঈ
সামাহ ইব্ন লুআঈ
( ভাইয়ের ভয়ে ওমানে পলায়ন ও মৃত্যুবরণ
ইবন ইসহাক বলেন : সামাহ ইব্ন লুআঈ ওমানে গিয়ে বাস করেন । আরবদের ধারণা , পারস্পরিক তিক্ততার কারণে তার ভাই আমির ইব্ন লুআঈ তাকে দেশছাড়া করেছিলেন । একবার ঝগড়ার সময় সামাহ্ আমিরের চোখ ফুঁড়ে দিয়েছিলেন । তখন আমির তাকে চরম হুমকি দিলে তিনি ওমানে চলে যান । কথিত আছে যে , ওমান যাওয়ার পথে সামাহ - এর উটনী চরছিল । এমন সময় এক সাপ তার ঠোঁট কামড়ে দেয় । ফলে উটনী ঢলে পড়ে । তখন সামাহ্ সর্প দংশনে মৃত্যুমুখে পতিত হন ।
আসন্ন মৃত্যু টের পেয়ে সামাহ্ এই কবিতা বলেছিলেন :
“ কাঁদো হে চোখ ! সামাহ্ ইব্ন লুআঈর শোকে কাঁদো । এক ভয়ংকর আক্রমণকারী তাকে আজ পাকড়াও করে ফেলেছে । যেদিন লোকজন এখানে অবতরণ করে , সেদিন উটনীর জন্য মৃত্যুবরণকারী সামাহ্ ইব্ন লুআঈর মত আর কাউকে আমি দেখিনি । আমির ও কা'বকে এ খবর বলো যে , আমার আত্মা তাদের জন্য অধীর । ”
“ ওমান আমার বাসস্থান হলেও আমি গালিবের বংশধর । পেটের তাগিদে আমি ঘরছাড়া হইনি ৷
“ হে লুআঈ সন্তান ! মৃত্যুর ভয়ে এমন কোন পেয়ালা তুমি উপুড় করেছ যা উপুড় করা উচিত ছিল না ।
. “ হে লুআঈ সন্তান ! তুমি মৃত্যুকে প্রতিহত করতে চেয়েছিলে অথচ এমন ইচ্ছা করে কেউ মৃত্যুর কবল থেকে রেহাই পায়নি ।
“ নিরন্তর চেষ্টা ও তীর নিক্ষেপের পর ধীর শান্তগতিতে যাত্রারত উটনীকে তুমি মরণ কামড় দিয়েই বসলে । ”
ইবন হিশাম বলেন : আমি এ মর্মে সংবাদ পেয়েছি যে , সামাহ্ বংশীয় জনৈক ব্যক্তি হযরত রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়া সাল্লামের দরবারে এসে বংশ পরিচয় দিয়ে বলল , আমি সামাহ্ - এর বংশধর । তিনি জিজ্ঞেস করলেন :
“ সেই কবি সামাহ্ ? জনৈক সাহাবী জিজ্ঞেস করলেন , ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ! আপনি কি এই কবিতার কথা বলছেন :
رب كأس هرقت يا ابن لؤ × حذر الموت لم تكن مهراقه
“ হে ইবন লু’আঈ মৃত্যুর ভয়ে তুমি বহু পেয়ালা ঢেলেছ । ”
তিনি বললো , হ্যাঁ ।