📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 'ওয়াসীলাহ্'

📄 'ওয়াসীলাহ্'


ওয়াসীলাহ - এর পরিচয়
কোন বকরী পরপর পাঁচবার দশটি শুধু মাদী ( একটিও নর নয় ) শাবক প্রসব করলে তারা বলতো ( co , .৩ ) অর্থাৎ পরপর মাদী প্রসব করেছে । ফলে সেই বকরীকে il , বলা হত । পরবর্তীতে এই বকরী যা কিছু প্রসব করত , সেগুলোর মালিকানা হত শুধু পুরুষদের । স্ত্রীলোকেরা তাতে কোন হিস্সা পেত না । অবশ্য কোনটি মরে গেলে নারী - পুরুষ উভয়েই খেত ৷
::: ইবন হিশাম ( র ) বলেন , এমন বর্ণনাও আছে যে , ilo , এর পরবর্তীগুলো শুধু ছেলেদের হত , কন্যাদের নয় ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 'হামী'

📄 'হামী'


' হামী '
ইবন ইসহাক বলেন : ' হামী ' এমন উট যার বীর্য থেকে পরপর দশটি মাদী শাবক ( একটিও নর নয় ) জন্ম নিয়েছে । তাকে আরোহণমুক্ত করা হত , তার লোম আহরণ করা হত না , তাকে উটের পালে ছেড়ে দেয়া হত । ' প্রজনন ' ছাড়া আর কোন কাজ তার দ্বারা নেয়া হত না ।
ইবন হিশাম ( র ) ও ইবন ইসহাক ( র ) -এর মতপার্থক্য
ইবন হিশাম বলেন : ' হামী'র পরিচয় প্রসংগে ইবন ইসহাকের মত ঠিক হলেও অন্যগুলোর ব্যাপারে তাঁর প্রদত্ত পরিচয় কিন্তু সঠিক নয় । কেননা আরবদের মতে ‘ বাহীরাহ্ ’ হল সেই উটনী , যার কান ফেড়ে দেয়া হত । তা বাহনরূপে ব্যবহার করা হত না এবং লোম আহরণ করা হত না । আর মেহমান ছাড়া কেউ আর তার দুধ পান করত না । অথবা তা সাদকা করে দেবদেবীর জন্য ছেড়ে দেয়া হত ।
আর সাইবাহ্ হল , সেই উট বা উটনী যা উদ্দেশ্য সিদ্ধির শর্তে মানত করা হত এবং রোগমুক্তির বা উদ্দেশ্য সিদ্ধির পর দেবদেবীরদের নামে ছেড়ে দেয়া হত । ফলে মুক্তভাবে চরে বেড়াত । এর দ্বারা কোন কাজ নেয়া হত না । ত
ওয়াসীলাহ - এর পরিচয়
কোন উটনী প্রতি গর্ভে দু'টি করে বাচ্চা প্রসব করলে মালিক নরগুলো নিজের জন্য রেখে মাদীগুলো দেবদেবীর নামে ছেড়ে দিত । সেগুলোকেই , বলা হতো । আর একই গর্ভে নর ও মাদী একসাথে জন্ম নিলে তারা এই বলে নরটিকেও ছেড়ে দিত যে , ( Lii & log ) “ সে তার ভাইয়ের সাথে মিলে এসেছে ” এবং ভাইটি দ্বারাও কোন কাজ নিত না ।
ইবন হিশাম বলেন : এ তথ্য আমাকে বর্ণনা করেছেন ইউনূস ইব্‌ন হাবীব নাহবী ও অন্যান্যগণ । তবে প্রত্যেকের বক্তব্যে কিছুটা স্বাতন্ত্র্য রয়েছে ।
ইবন ইসহাক বলেন : হযরত রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহ্ আলায়হি ওয়া সাল্লামের প্রতি আল্লাহ্ তা'আলা এ আয়াত নাযিল করেন :
مَا جَعَلَ اللهُ مِنْ بَحِيرَةٍ وَلا سَائِبَةٍ وَلا وَصِيلَةٍ وَلا حَامِ وَلَكِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا يَفْتَرُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ ، وَأَكْثَرُهُمْ لا يَعْقِلُونَ -
“ আল্লাহ্ ‘ বাহীরাহ্ ’ , ‘ সাইবাহ্ ' ‘ ওয়াসীলাহ্ ' এবং ‘ হামী ’ - কে শরী‘আতসিদ্ধ করেননি । কিন্তু যারা কাফির তারা আল্লাহ্র উপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে । তাদের অধিকাংশের বিবেক - বুদ্ধি নেই । ” ( ৫ : ১০৩ ) ।
আল্লাহ্ তা'আলা আরও নাযিল করেন :
وَقَالُوا مَا فِي بُطُونِ هَذِهِ الْأَنْعَامِ خَالِصَةٌ لذُكُورِنَا وَمُحَرَّمُ عَلى أَزْوَاجِنَا ، وَإِنْ يُكُن مِّيْتَةً فَهُم كا ، سَيَجْزِيهِمْ وَصَفَهُمْ إِنَّهُ حَكِيمٌ عَلِيمٌ - فيه شركاء س
“ আর তারা বলে , এ সব গবাদি পশুর গর্ভে যা আছে , তা বিশেষভাবে আমাদের পুরুষদের জন্য এবং আমাদের মহিলাদের জন্য তা হারাম । যদি তা মৃত হয় , তবে তার প্রাপক হিসাবে সবাই সমান । অচিরেই তিনি তাদেরকে তাদের এরূপ বর্ণনার জন্য শাস্তি দিবেন । তিনি প্রজ্ঞাময় , মহাজ্ঞানী । ” ( ৬ : ১৩৯ ) ।
তিনি তাঁর প্রতি আরও নাযিল করেন :
قُلْ أَرَأَيْتُمْ ما أَنْزَلَ اللهُ لَكُمْ مِّن رِّزْقُ فَجَعَلْتُمْ مِّنْهُ حَرَامًا وَحَلَالَا قُلْ اللَّهُ أَذِنَ لَكُمْ أَمْ عَلَى اللهِ تَفْتَرُونَ -
- “ ( হে রাসূল । ) আপনি বলুন , তোমরা কি ভেবে দেখেছ যা কিছু আল্লাহ্ তোমাদের জন্য রিযিক হিসাবে অবতীর্ণ করেছেন , তোমরা যে সেগুলোর মধ্য থেকে কোনটাকে হারাম আর কোনটাকে হালাল সাব্যস্ত করেছ ? ( হে রাসূল ! ) আপনি বলুন , তোমাদেরকে কি আল্লাহ্ তার নির্দেশ দিয়েছেন , না কি তোমরা আল্লাহ্ উপর অপবাদ আরোপ করছ ” ? ( ১০ : ৫৭ ) ।
তিনি তাঁর প্রতি আরও নাযিল করেন :
ثَمُنِيَةَ أَزْوَاجِ مِنَ الضَّانِ اثْنَيْنِ وَمِنَ الْمَعْرِ اثْنَيْنِ قُل : الذكَرَيْنِ حَرَّمَ أَمِ الْأَنْشَلَيْنِ – أَمَّا اشْتَمَلَتْ عَلَيْهِ أَرْحَامُ الْأَنْثيين " نَبِّئُونِي بِعِلم إِن كُنتُمْ صَدِقِينَ – وَمِنَ الْإِبِلِ اثْنَيْنِ وَمِنَ الْبَقَرِ اثْنَيْنِ قُلْ الَّذِكَرَيْنَ حَرَّمَ امِ الْأَنْثَيَيْنِ أَمَّا اسْتَمَلَتْ عَلَيْهِ أَرْحَامُ الْأَنْثَيَيْنِ أَمْ كُنتُمْ شُهَدَاءَ
إِذَ وَضُكُمُ اللهُ بِهذا - فَمَنْ أَظْلَمُ مِّمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللهِ كَذِبًا لَيُضِلَّ النَّاسَ بِغَيْرِ عِلْمٍ أَنَّ اللَّهَ لا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّلِمِينَ -
“ ( তিনি ) আট জোড়া ( সৃষ্টি করেছেন ) । ভেড়ার দু'টি , আর ছাগলের দু'টি । ( হে রাসূল ! ) আপনি জিজ্ঞেস করুন । তিনি কি উভয় নর হারাম করেছেন না উভয় মাদীকে , নাকি যা উভয় মাদীর গর্ভে আছে ? তোমরা আমাকে প্রমাণসহ বল , যদি তোমরা সত্যবাদী হও । ( তিনি সৃষ্টি করেছেন ) উটের দু'টি এবং গরুর দু'টি ( হে রাসূল ! ) আপনি জিজ্ঞেস করুন , তিনি কি উভয় নর হারাম করেছেন , না উভয় মাদীকে , নাকি যা উভয় মাদীর গর্ভে আছে ? তোমরা কি উপস্থিত ছিলে যখন আল্লাহ্ এ নির্দেশ দিয়েছিলেন ? কাজেই , সে ব্যক্তি অপেক্ষা বেশি অত্যাচারী কে , যে ব্যক্তি আল্লাহ্ পাক সম্পর্কে মিথ্যা রচনা করে মানুষকে অজ্ঞানতার কারণে পথভ্রষ্ট করে , নিশ্চয়ই আল্লাহ্ অত্যাচারী সম্প্রদায়কে পথ প্রদর্শন করেন না । ” ( ৬ : ১৪৩-১৪৪ ) ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 ইবন হিশাম (র) ও ইবন ইসহাক (র)-এর মতপার্থক্য

📄 ইবন হিশাম (র) ও ইবন ইসহাক (র)-এর মতপার্থক্য


ইবন হিশাম ( র ) ও ইবন ইসহাক ( র ) -এর মতপার্থক্য
ইবন হিশাম বলেন : ' হামী'র পরিচয় প্রসংগে ইবন ইসহাকের মত ঠিক হলেও অন্যগুলোর ব্যাপারে তাঁর প্রদত্ত পরিচয় কিন্তু সঠিক নয় । কেননা আরবদের মতে ‘ বাহীরাহ্ ’ হল সেই উটনী , যার কান ফেড়ে দেয়া হত । তা বাহনরূপে ব্যবহার করা হত না এবং লোম আহরণ করা হত না । আর মেহমান ছাড়া কেউ আর তার দুধ পান করত না । অথবা তা সাদকা করে দেবদেবীর জন্য ছেড়ে দেয়া হত ।
আর সাইবাহ্ হল , সেই উট বা উটনী যা উদ্দেশ্য সিদ্ধির শর্তে মানত করা হত এবং রোগমুক্তির বা উদ্দেশ্য সিদ্ধির পর দেবদেবীরদের নামে ছেড়ে দেয়া হত । ফলে মুক্তভাবে চরে বেড়াত । এর দ্বারা কোন কাজ নেয়া হত না ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 ওয়াসীলাহ-এর পরিচয়

📄 ওয়াসীলাহ-এর পরিচয়


ওয়াসীলাহ - এর পরিচয়
কোন উটনী প্রতি গর্ভে দু'টি করে বাচ্চা প্রসব করলে মালিক নরগুলো নিজের জন্য রেখে মাদীগুলো দেবদেবীর নামে ছেড়ে দিত । সেগুলোকেই , বলা হতো । আর একই গর্ভে নর ও মাদী একসাথে জন্ম নিলে তারা এই বলে নরটিকেও ছেড়ে দিত যে , ( Lii & log ) “ সে তার ভাইয়ের সাথে মিলে এসেছে ” এবং ভাইটি দ্বারাও কোন কাজ নিত না ।
ইবন হিশাম বলেন : এ তথ্য আমাকে বর্ণনা করেছেন ইউনূস ইব্‌ন হাবীব নাহবী ও অন্যান্যগণ । তবে প্রত্যেকের বক্তব্যে কিছুটা স্বাতন্ত্র্য রয়েছে ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00