📄 উয্যা ও তার সেবকগণ
উয্যা ও তার সেবকগণ
নাখলাহ নামক এলাকায় কুরায়শ ও বনূ কিনানাহর উয্যা নামক একটি উপাস্য মূর্তি ছিল । বনূ হাশিমের মিত্র সুলায়ম গোত্রের শাখা গোত্র বনূ শায়বান ছিল তার সেবক ও তত্ত্বাবধায়ক ।
ইক্ হিশাম বলেন : তারা ছিল কুরায়শের শুধু বনূ আবূ তালিবের মিত্র । আর সুলায়ম হল মানসূর ইন ইকরাম ইব্ন খাসাফাহ্ ইব্ন কায়স ইব্ন আয়লানের ছেলে ।
ইবন ইসহাক বলেন : এর সম্পর্কেই জনৈক আরব কবি বলেন :
“ আসমার বিবাহের যৌতুক ছিল লাল বর্ণের এক দুর্বল গাভীর মস্তক - গানাম গোত্রীয় জনৈক ব্যক্তি যা বলি দিয়েছিল । ”
**টিকাঃ**
১. গাভীটিকে দেবমূর্তি উয্যার ‘ বলিক্ষেত্রে ’ নিয়ে যাওয়ার সময় তার দৃষ্টির দুর্বলতা পরিলক্ষিত হল । তখন ভাগের গোশত বাড়ানোর জন্য সেটাকেও বলি দেয়া হলো । পশু বলির পর তার গোশত উপস্থিত লোকদের বন্টন করে দেয়াই ছিল তাদের রীতি ।
গাবগাব ( ii ) অর্থ , ‘ বলিক্ষেত্রে ’ ।
ইবন হিশাম বলেন : কবিতার পংক্তি দুটো আবূ খারাশ হুয়ালীর । তার নাম ছিল খুওয়ায়লিদ ইবন মুররাহ্ । ... অর্থ হলো বায়তুল্লাহ্র তত্ত্বাবধায়ক । রুবাহ ইব্ন আল - আজ্জাজ বলেন : “ বায়তুল্লাহ্ সেবকদের গৃহে এবং ‘ বলিক্ষেত্রে রক্ষিত নিরাপদ প্রাণীগুলোর প্রতিপালকের শপথ ! এটা কিছুতেই হবে না । ”
📄 লাত ও তার সেবায়েত
লাভ ও তার সেবায়েত
ইবন ইসহাক বলেন : তায়েফের সাকীফ গোত্রে ' লাত ' নামে একটি মূর্তি ছিল , তার তত্ত্বাবধানে ছিল সাকীফের শাখা গোত্র বনূ মুআত্তাব ।
ইব্ন হিশাম বলেন : লাত প্রসঙ্গ যথাস্থানে ইন্শাআল্লাহ্ আলোচনা করব ।
📄 মানাত ও তার সেবায়েত
মানাত ও তার সেবায়েত
ইবন ইসহাক বলেন : মুশাল্লালের দিকে কৃদায়দ অঞ্চলের সমুদ্র তীরে আওস , খায়রাজ ও তাদের স্বধর্মীয় ইয়াসরিব ( মদীনা ) বাসীদের মানাত নামে একটি উপাস্য মূর্তি ছিল ।
ইবন হিশাম বলেন : বনূ আসাদ ইব্ন খুযায়মাহ্ ইব্ন মুদরিকাহ্ গোত্রের কবি কুমায়ত ইবন যায়দ বলেন :
“ অথচ , কতিপয় গোত্র শপথ করেছিল যে , মানাতের দিকে পিঠও ফিরাবে না । ” এই পংক্তটি তার একটি কবিতার অংশবিশেষ ।
“ ইবন হিশাম বলেন : রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহ্ আলায়হি ওয়া সালাম আবূ সুফয়ান ইব্ন হারব মতান্তরে আলী ইব্ন আবী তালিব ( রা ) -কে পাঠিয়ে মানাত মূর্তিটি শুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন ।
📄 যুলখালাসাহ্ ও তার সেবায়েত
ফুলবালাসাহ ও তার সেবায়েত
ইবন ইসহাক বলেন : তাবালাহ অঞ্চলে দাওস , খাসআম ও বাজীলাহ গোত্রসমূহ এবং স্থানীয় অন্যান্য আরবদের যুলখালাসাহ নামে একটি উপাস্য মূর্তি ছিল ।
ইব্ন হিশাম বলেন : অনেকে ।। ও বলতো । জনৈক আরব কবি বলেন :
“ হে যুলখুলুস ! তুমিও যদি আমার মত মযলূম হতে এবং তোমারও যদি কোন পূর্বসূরি দাফন হত , তাহলে শত্রু হত্যায় লোক দেখানো বাধাও দিতে না । ”
কবি নিহত পিতার প্রতিশোধ গ্রহণের ইচ্ছায় উপাস্য মূর্তি যুলখালাসার কাছে তীর দ্বারা শুভাশুভ জানতে চেয়েছিলেন ; কিন্তু অশুভ ইংগিত পেয়ে ক্ষুণ্ণ কবি এই কবিতা বলেছেন । অনেকের মতে এটা ইমরাউল কায়স ইব্ন হুজর কিন্দীর কবিতা ।
ইবন হিশাম বলেন : রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহ্ আলায়হি ওয়া সাল্লাম জারীর ইবন আবদুল্লাহ্ আল - বাজালীকে সেখানে পাঠান । তিনি সে মূর্তিটি ধ্বংস করে দেন ।