📄 ইলয়াসের সন্তানগণ
ইয়াসের সন্তানগণ
ইবন ইসহাক ( র ) বলেন : ইলয়াস ইব্ন মযারের তিন পুত্র মুদরিকাহ , তাবিখাহ্ ও কামাআহ্ । ইয়ামানের খিনদফ নাম্নী জনৈক মহিলা হলেন এদের মা । ইবন হিশাম বলেন , তিনি ইমরান ইব্ন ইহাফ ইব্ন কুযা'আহ্ কন্যা ছিলেন ।
ইবন ইসহাক বলেন : মুদরিকার নাম আমির আর তাবিখার নাম উম্র বা আমর । প্রচলিত ধারণামতে এরা দু'জন নিজেদের উটপাল চরাত এবং সেখানেই থাকত । একদিন তারা শিকার করে । শিকারের গোশ্ত রান্না করার সময় তাদের উট চুরি হয়ে গেল ।
আমির তখন আমরকে বলল : উটের খোঁজে যাবে , না রান্না নিয়েই বসে থাকবে ? আমর বলল , আমি রান্নাই করব । আমির তখন নিজেই উট খুঁজে আনল ।
বিকালে তারা পিতার কাছে এসে তাদের ঘটনা বলল । ঘটনা শুনে পিতা আমিরকে বলল , তুমি হলে মুদরিকা - সন্ধান লাভকারী আর আমরকে বলল , তুমি তাবিখা - রন্ধনকারী ।
কামা'আহ্ সম্পর্কে মুযারের বংশ বিশারদরা মনে করেন যে , খুযাআহ্ হলো আমর ইব্ন লুহাই ইব্ন কামআহ ইব্ন ইয়াস - এর সন্তান
📄 আমর ইব্ন লুহাই ও আরবের প্রতিমার বর্ণনা
আমর ইব্ন লুহাই ও আরবের প্রতিমার বর্ণনা
আমর ইব্ন লুহাই তার নাড়িভুঁড়ি জাহান্নামে হেঁচড়াচ্ছে ।
ইব্ন ইস্হাক বলেন : আমাকে আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবূ বাকর ইব্ন মুহাম্মদ ইব্ন আমর ইব্ন হাম তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন । তিনি বলেন যে , আমার কাছে বর্ণনা করা হয়েছে যে , রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : আমি আমর ইবন লুহাইকে তার নাড়িভুঁড়ি জাহান্নামে হেঁচড়াতে দেখেছি । আমি তাকে আমার ও তার মাঝের বিগত লোকদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম । সে বলল , তারা সব ধ্বংস হয়ে গেছে ।
ইবন ইসহাক বলেন : আমাকে মুহাম্মদ ইব্ন ইবরাহীম ইব্ন হারিস তায়মী বলেছেন , তাঁকে বলেছেন আবূ সালিহ সাম্মান , তিনি হযরত আবূ হুরায়রা ( রা ) -কে বলতে শুনেছেন , ইব্ন হিশাম বলেন : আবূ হুরায়রা ( রা ) -এর আসল নাম ছিলো আবদুল্লাহ্ ইব্ন আমির । মতান্তরে আবদুর রহমান ইব্ন সাখার । তিনি [ আবূ হুরায়রা ( রা ) ] বলেন , আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহ্ আলায়হি ওয়া সাল্লামকে আকসাম ইব্ন জাওন খুযাঈকে লক্ষ্য করে বলতে শুনেছি :
“ হে আসাম ! আমি আমর ইব্ন লুহাই ইব্ন কামআহ্ ইব্ন খিনদফকে জাহান্নামে তার নাড়িভুঁড়ি হেঁচড়াতে দেখেছি । আর তার সাথে তোমার এবং তোমার সাথে তার যে অদ্ভুত সাদৃশ্য , তা আর কোন দুইজনের মাঝে আমি দেখিনি । ”
হযরত আকসাম ( রা ) বলেন : ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ! এ সাদৃশ্য আমার জন্য ক্ষতির কারণ হবে না তো ?
বললেন , না , তুমি হলে মু'মিন আর সে ছিল কাফির । সেই প্রথম ব্যক্তি যে দীনে ইসমাঈলীকে বিকৃত করেছিল এবং দেবদেবীর মূর্তি স্থাপন করছিল । বাহীরাহ , সায়েবাহ , ওয়াসীলাহ ও হামী ( ইত্যাদি বিভিন্ন নামের উট মানতের ) প্রথা চালু করেছিল ।
📄 সিরিয়া থেকে মক্কায় দেবদেবীর আমদানী
সিরিয়া থেকে মক্কায় দেবদেবীর আমদানী
ইবন হিশাম বলেন : কতিপয় আলিম আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে , আমর ইব্ন লুহাই একবার তার কোন প্রয়োজনে মক্কা থেকে সিরিয়ার দিকে হয় । সে যখন বাল্কা অঞ্চলের মা'আব নামক স্থানে পৌঁছল তখন সেখানে আমালীক সম্প্রদায়ের বসবাস ছিল এরা ছিল ইমলাকের বংশধর । মতান্তরে আমলীক ইব্ন লাবিয ইব্ন সাম ইব্ নূহ্ । সে তাদের দেবদেবীর পূজা করতে দেখল । সে তাদের বলল , আমি তোমাদের যে দেবদেবীর পূজা করতে দেখছি , এগুলো কি ? তারা তাকে বলল , আমরা এসব দেবদেবীর উপাসনা করে থাকি , এদের কাছে বৃষ্টি প্রার্থনা করি । তারা আমাদের জন্য বৃষ্টি বর্ষণ করে । আর আমরা তাদের কাছে সাহায্য চাই এবং তারা আমাদের সাহায্য করে । এরপর সে তাদের বলল , তোমরা এ থেকে আমাকে একটি মূর্তি দেবে কি , যা নিয়ে আমি আরবে যাব এবং তারা এর উপাসনা করবে ! তখন তারা তাকে ‘ হুবাল ' নামক একটি মূর্তি দিল । সে সেটি মক্কায় এনে স্থাপন করল এবং লোকদের তার উপাসনা ও সম্মান করার নির্দেশ দিল ।
📄 বনূ ইসমাঈলে পাথর পূজার সূচনা
বনূ ইসমাঈলে পাথর পূজার সূচনা
ইবন ইসহাক বলেন : আরবদের ধারণামতে ইসমাঈলীয়দের মধ্যে পাথর পূজার সূচনা হয় এভাবে , মক্কাবাসীরা অর্থিক সংকটের কারণে যখন সচ্ছলতার সন্ধানে কোন দেশে যাওয়ার ইচ্ছা করত , তখন তারা হারাম শরীফের প্রতি শ্রদ্ধাবশত সেখানে থেকে একখণ্ড পাথর সাথে নিয়ে যেত এবং যেখানে তারা অবতরণ করত , পাথরখণ্ডটি সেখানে সেখানে রেখে তারা কা'বা শরীফের তাওয়াফের ন্যায় সেটির তাওয়াফ করত । এমনকি তাদের তা এমন পর্যায়ে পৌঁছাল যে , তারা যে কোন সুন্দর ও আকর্ষণীয় পাথর পেলেই তার পূজা আরম্ভ করত ।
এভাবে অনেক যুগ পেরিয়ে গেল এবং তারা তাদের আসল ধর্ম বিস্মৃত হল এবং ইবরাহীম ( আ ) ও ইসমাঈল ( আ ) -এর দীনের পরিবর্তে অন্য দীন প্রবর্তন করল এবং দেবদেবীর পূজা শুরু করল আর পূর্ববর্তী জাতির ন্যায় তারা পথভ্রষ্ট হয়ে গেল । তবে বায়তুল্লাহ্ সম্মান , তার তওয়াফ , হজ্জ , উমরাহ্ , মুযদালিফায় অবস্থান , কুরবানী , হজ্জ ও উমরার ইহরাম- ইবরাহীমী যুগের কিছু রীতিনীতি চলে আসছিল । তবে তারা এতে অনেক বিকৃতি ঘটিয়েছিল । সুতরাং কিনানা ও কুরায়শ গোত্রের লোকেরা ইরামের তালবিয়াহ এভাবে পাঠ করত :
لبيك اللهم لبيك ، لبيك لا شريك لك الا شريك هولك تملكه وماملك
“ আমরা আপনার সামনে উপস্থিত হে আল্লাহ্ ! আমরা আপনার সামনে উপস্থিত ! আমরা আপনার সামনে উপস্থিত । আপনার কোন শরীক নেই । সেই শরীক ছাড়া , যে আপনারই অধীন , আপনি তার ও তার সম্পদের মালিক , আর সে মালিক নয় । ”
মোটকথা , তালবিয়াতে আল্লাহ্র একত্ববাদ স্বীকার করা সত্ত্বেও তারা তাঁর সংগে দেবদেবীর শরীকানা মেনে নিত । তবে তাদের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা আল্লাহ্র হাতেই মনে করত । তাই আল্লাহ্ তা'আলা মুহাম্মাদ (সা:) -কে লক্ষ্য করে ইরশাদ করছেন :
وَمَايُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللَّهِ إِلَّا وَهُمْ مُشْرِ
“ তাদের অধিকাংশ আল্লাহকে বিশ্বাস করে , কিন্তু তারা তাঁর শরীক করে । ” ( ১২ : ১০৬ ) । অর্থাৎ আমার পরিচয় জেনে আমার একত্ববাদ স্বীকার করা সত্ত্বে তারা আমার সৃষ্টি থেকে আমার সংগে আমার শরীক স্থাপন করে ।