📄 আনমারের সন্তানগণ
আনমারের সন্তানগণ
ইবন ইসহাক বলেন : আনমার হলো আবূ খাসআম ও বাজীলা গোত্র ।
জারীর ইবন আবদুল্লাহ্ বাজালী বলেন , আর তিনি ছিলেন বাজীলার নেতা এবং তাঁর সম্পর্কে জনৈক কবি বলেছেন :
লولا جرير هلكت بجيلة x نعم الفتى وبئست القبيلة
“ জারীর না হলে বাজীলাহ্ ধ্বংস হয়ে যেত । কতই না উত্তম যুবক আর কতই না মন্দ গোত্র । ”
এই জারীর আকরা— ইব্ন হাবিস আত্ - তামীম - এর কাছে “ ফুরাফিসাহ্ আল - কালবীর বিচার চেয়ে বলেন , হে আকারা ' ই হাবিস ! তুমি তোমার ভাইকে পরাজিত করলে তুমিও পরাজিত হবে । তিনি আরও বলেন :
হে নিযারের পুত্রদ্বয় ! আপন ভাইয়ের সাহায্য কর । আমরা তো একই পূর্বপুরুষের সন্তান যে ভাই তোমাদেরকে ভালবেসেছে সে আজ কিছুতেই পরাজিত হবে না ।
আনমারের বংশধররা ইয়ামানে গিয়ে সেখানেই বসতি স্থাপন করে স্থানীয় হয়ে গিয়েছিল ।
📄 মুযারের সন্তানগণ
ইবন হিশাম বলেন : ইয়ামানবাসীর মতে বাজীলার বংশসূত্র হলো : আনমার ইবন ইরাশ ইব্ন লিয়ান ইব্ন ‘ আমর ইবনুল গাওস ইব্ন নাবৃত ইব্ন মালিক ইব্ন যায়দ ইব্ন কাহলান ইব্ন সাবা । মতান্তরে ইরাশ ইবন আমর ইব্ন লিয়ান ইবনুল গাওস । বাজীলাহ্ ও খাসআম বংশীয়রা ইয়ামানের অধিবাসী ।
মুযারের সন্তানগণ
ইন ইস্হাক বলেন : মুযার ইন নিযারের দুই পুত্র : ইয়াস্ ও আয়লান । ইবন হিশাম বলেন , এদের মা ছিলেন জুরহুম বংশীয় ।
📄 ইলয়াসের সন্তানগণ
ইয়াসের সন্তানগণ
ইবন ইসহাক ( র ) বলেন : ইলয়াস ইব্ন মযারের তিন পুত্র মুদরিকাহ , তাবিখাহ্ ও কামাআহ্ । ইয়ামানের খিনদফ নাম্নী জনৈক মহিলা হলেন এদের মা । ইবন হিশাম বলেন , তিনি ইমরান ইব্ন ইহাফ ইব্ন কুযা'আহ্ কন্যা ছিলেন ।
ইবন ইসহাক বলেন : মুদরিকার নাম আমির আর তাবিখার নাম উম্র বা আমর । প্রচলিত ধারণামতে এরা দু'জন নিজেদের উটপাল চরাত এবং সেখানেই থাকত । একদিন তারা শিকার করে । শিকারের গোশ্ত রান্না করার সময় তাদের উট চুরি হয়ে গেল ।
আমির তখন আমরকে বলল : উটের খোঁজে যাবে , না রান্না নিয়েই বসে থাকবে ? আমর বলল , আমি রান্নাই করব । আমির তখন নিজেই উট খুঁজে আনল ।
বিকালে তারা পিতার কাছে এসে তাদের ঘটনা বলল । ঘটনা শুনে পিতা আমিরকে বলল , তুমি হলে মুদরিকা - সন্ধান লাভকারী আর আমরকে বলল , তুমি তাবিখা - রন্ধনকারী ।
কামা'আহ্ সম্পর্কে মুযারের বংশ বিশারদরা মনে করেন যে , খুযাআহ্ হলো আমর ইব্ন লুহাই ইব্ন কামআহ ইব্ন ইয়াস - এর সন্তান
📄 আমর ইব্ন লুহাই ও আরবের প্রতিমার বর্ণনা
আমর ইব্ন লুহাই ও আরবের প্রতিমার বর্ণনা
আমর ইব্ন লুহাই তার নাড়িভুঁড়ি জাহান্নামে হেঁচড়াচ্ছে ।
ইব্ন ইস্হাক বলেন : আমাকে আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবূ বাকর ইব্ন মুহাম্মদ ইব্ন আমর ইব্ন হাম তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন । তিনি বলেন যে , আমার কাছে বর্ণনা করা হয়েছে যে , রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : আমি আমর ইবন লুহাইকে তার নাড়িভুঁড়ি জাহান্নামে হেঁচড়াতে দেখেছি । আমি তাকে আমার ও তার মাঝের বিগত লোকদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম । সে বলল , তারা সব ধ্বংস হয়ে গেছে ।
ইবন ইসহাক বলেন : আমাকে মুহাম্মদ ইব্ন ইবরাহীম ইব্ন হারিস তায়মী বলেছেন , তাঁকে বলেছেন আবূ সালিহ সাম্মান , তিনি হযরত আবূ হুরায়রা ( রা ) -কে বলতে শুনেছেন , ইব্ন হিশাম বলেন : আবূ হুরায়রা ( রা ) -এর আসল নাম ছিলো আবদুল্লাহ্ ইব্ন আমির । মতান্তরে আবদুর রহমান ইব্ন সাখার । তিনি [ আবূ হুরায়রা ( রা ) ] বলেন , আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহ্ আলায়হি ওয়া সাল্লামকে আকসাম ইব্ন জাওন খুযাঈকে লক্ষ্য করে বলতে শুনেছি :
“ হে আসাম ! আমি আমর ইব্ন লুহাই ইব্ন কামআহ্ ইব্ন খিনদফকে জাহান্নামে তার নাড়িভুঁড়ি হেঁচড়াতে দেখেছি । আর তার সাথে তোমার এবং তোমার সাথে তার যে অদ্ভুত সাদৃশ্য , তা আর কোন দুইজনের মাঝে আমি দেখিনি । ”
হযরত আকসাম ( রা ) বলেন : ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ! এ সাদৃশ্য আমার জন্য ক্ষতির কারণ হবে না তো ?
বললেন , না , তুমি হলে মু'মিন আর সে ছিল কাফির । সেই প্রথম ব্যক্তি যে দীনে ইসমাঈলীকে বিকৃত করেছিল এবং দেবদেবীর মূর্তি স্থাপন করছিল । বাহীরাহ , সায়েবাহ , ওয়াসীলাহ ও হামী ( ইত্যাদি বিভিন্ন নামের উট মানতের ) প্রথা চালু করেছিল ।