📄 নু'মানের বংশসূত্র, হাযর সম্পর্কিত আলোচনা ও আদীর কবিতা
হাযরের বাদশাহর কাহিনী
নু‘মানের বংশসূত্র , হাযর সম্পর্কিত আলোচনা ও আদীর কবিতা
ইব্ন হিশাম বলেন : ‘ জান্নাদ ' - এর সূত্রে অথবা বংশসূত্রবিদ্যা বিশারদ , কৃষ্ণাবাসী জনৈক আলিমের সূত্রে খাল্লাদ ইব্ন কুররা ইব্ন খালিদ সাদৃসী আমাকে এ তথ্য শুনিয়েছেন যে , নু'মান ইব্ন মুনযির ছিলেন হাযরের বাদশাহ সাতিরূনের বংশধর । ‘ হাযর ' হচ্ছে ফুরাত নদীর তীরে শহরতুল্য বিশাল এক দুর্গ । এ দুর্গের কথাই আদী ইব্ন যায়দ তার কবিতার উল্লেখ করেছেন : “ হাযরবাসীরা যখন এ দুর্গটি নির্মাণ করেছিল , দিজলাহ ও খাবুর নদীর পানি তার কাছে এসে আছড়ে পড়ত ।
“ মর্মর নির্মিত এ বিশাল কেল্লা চুনার আস্তরে শোভিত ছিল । কিন্তু এখন আর তার চূড়ায় পাখির বাসা ছাড়া কিছুই নেই ।
“ নিয়তির নির্মম পরিহাস , নির্মাতারা সেখানে থাকতে পারেনি । বাদশাহকে ছেড়ে যেতে হল এ সাধের কেল্লা । এখন এর দ্বার পরিত্যক্ত । ”
ইবন হিশাম বলেন : এ পংক্তিগুলো ' আদী ইব্ন যায়দের কবিতার অংশবিশেষ ।
এই হাযরের কথাই বলেছেন আবূ দুআদ ইয়াদী তাঁর এক কাসীদার এই উক্তিতে :
وارى الموت قد تدلى من الحضر على رب
، أصله الساطرون -
“ আমি দেখতে পাচ্ছি , ' হাযর’- অধিপতি সাতিরূনের উপর মৃত্যুর পরোয়ানা ঝুলছে হাযরের ( শাসন ক্ষমতার ) -ই কারণে । ”
📄 সাপুরের হাজর দখল
অনেকের মতে আলোচ্য কবিতা পংক্তি খালাফ আহমারের অথবা ' কাব্য বর্ণনা ' বিশারদ হাম্মাদের ।
সাপুরের হাযর দখল
পারস্য সম্রাট সাপুর ( যুল - আকতাফ ) হাযর অধিপতি সাতিরূনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে দীর্ঘ দু'বছর তাকে অবরুদ্ধ করে রাখলেন । সাতিরূন কন্যা একদিন দুর্গ থেকে রেশমী বস্ত্র পরিহিত এবং মহামূল্যবান রত্ন - মুক্তা খচিত স্বর্ণ মুকুট পরিহিত সুদর্শন সাপুরকে দেখতে পেয়ে তার প্রতি আসক্তা হল এবং এই মর্মে তার নামে বার্তা পাঠাল যে , হাযর দুর্গের দরজা খুলে দিলে তুমি কি আমাকে বিবাহ করবে ? সাপুর তাতে ইতিবাচক সাড়া দিলেন । সন্ধ্যাকালে সাতিরূন যখন মদে চুর হয়ে পড়েছিলেন আর সাতিরূন নেশা অবস্থায়ই ঘুমাতেন — তখন তার কন্যা মাথার নিচে থেকে চাবি হস্তগত করে তার জনৈক সুহৃদের মাধ্যমে দরজা খুলে দিল । সাপুর দুর্গে প্রবেশ করে সাতিরূনকে হত্যা করলেন এবং হাযর দুর্গ ছারখার করে দিলেন । তারপর সাতিরূন কন্যাকে তুলে নিয়ে বিবাহ করলেন ।
📄 সাতিরূন কন্যার পরিণতি
সাতিরূন কন্যার পরিণতি
এক রাত্রে সাতিরূন কন্যা শয্যায় অস্বস্তিবোধ করছিল , নিদ্রা হচ্ছিল না । আলো জ্বেলে দেখা গেল , বিছানায় একটি ফুলের পাতা পড়ে আছে । সাপুর বলল , এজন্যই কি তোমার ঘুম হয়নি ? সে বলল , হ্যাঁ । সাপুর বললেন , তাহলে তোমার পিতা তোমাকে কিভাবে রাখতেন ? সাতিরূন কন্যা বলল , তিনি আমাকে রেশমী শয্যায় শোয়াতেন , রেশমী বস্ত্র পরাতেন , অস্থিমজ্জা খাওয়াতেন আর শরাব পান করাতেন । সাপুর বললেন , তুমি যা করলে তাই কি তোমার পিতার প্রতিদান ! তাহলে আমার সঙ্গে তো তুমি আরো দ্রুত বিশ্বাসঘাতকতা করতে পার ? এরপর সাপুরের আদেশে তার মাথার খোপা ঘোড়ার লেজে বেঁধে ঘোড়া ছুটিয়ে তাকে হত্যা করা হল ।
এ ঘটনারই চিত্র এঁকেছেন আশা ইবন কায়স ইবন সা'লাবাহ । হাযরের কাহিনী সম্পর্কে আশা কায়সের উক্তি :
“ তুমি কি দেখনি হাযরের পরিণতি ? তার অধিবাসীরা আনন্দ - উল্লাসে মেতেছিল । আর আনন্দ - উল্লাস কখনো স্থায়ী হয় না ।
“ সাপুর বাহিনী দীর্ঘ দু'বছর ' হার ' অবরোধ করে তার গোড়ায় শুধু কুড়াল চালিয়ে গেল ।
“ এরপর আপন প্রতিপালকের ডাক পেয়ে তার কাছেই ফিরে গেল । শত্রু থেকে কোন প্রতিশোধ পর্যন্ত নিল না । ”
📄 'আদী ইব্ন যায়দ-এর উক্তি
আদী ইব্ন যায়দ - এর উক্তি
এ প্রসঙ্গে আদী ইব্ন যায়দ বলেন :
“ হাযরের উপর নেমে আসল মহাবিপদ । ভোগ - বিলাসে লালিতা রাজকন্যা পিতাকে মৃত্যুর সময় বাঁচাল না । হাযরের রক্ষাকারীই তা ধ্বংস করে দিল । ”
“ পিতার হাতে সে তুলে দিল ফেনিল মদ । আর মদ তো মদ্যপকে মাতালই করে । রাজরাণী হওয়ার স্বপ্নে সে আপনজনদের বিপদের মুখে ঠেলে দিল । ”
“ ভোর না হতেই ‘ নববধূর ' ভাগ্যে যা জুটল , তা হল ওড়না থেকে প্রবাহিত শোণিতধারা । ”
“ হাযর ' বিরান হলো এবং তথায় গণহত্যা চালান হল । আর অন্তঃপুরে অন্তঃপুরবাসিনীদের বস্ত্র জ্বালান হল । ”
এগুলো আলী ইব্ন যায়দের কবিতায় অংশবিশেষ ।