📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 বাযানের ইসলাম গ্রহণ

📄 বাযানের ইসলাম গ্রহণ


বাযানের ইসলাম গ্রহণ
যুরী বলেন , পারস্য সম্রাটের নিহত হওয়ার সংবাদ যখন বাযানের কাছে পৌঁছল , তখন সে রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -কে তার নিজের এবং তার ইরানী সাথীদের ইসলাম গ্রহণের কথা জানিয়ে দিল । তার দূতেরা রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -কে জিজ্ঞেস করল , ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা:) ! আমরা কাদের সংগে যুক্ত হব ? তিনি বললেন , তোমরা আমাদের তথা আমার পরিবারেরই সাথে যুক্ত হবে । ইবন হিশাম বলেন , আমি যুহরী থেকে জানতে পেরেছি যে , এ কারণেই হযরত সালমান ফারসীকে লক্ষ্য করে রাসূলুল্লাহ্ (সা:) বলেছিলেন : “ সালমান আমার পরিবারেরই একজন । ”
ইবন হিশাম বলেন : রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর আগমন সম্পর্কেই সাতীহ্ এ বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল যে , একজন পুণ্যবান নবী , যাঁর কাছে ঊর্ধ্বাকাশ থেকে ওহী আসবে । " আর শিক বলেছিল : “ একজন নবীর আগমনে এ বিদেশী শাসনের অবসান ঘটবে , যিনি সত্য ও ন্যায় সহকারে আবির্ভূত হবেন । অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ ও গুণবান ব্যক্তি হবেন , তাঁর জাতি কিয়ামত পর্যন্ত রাজত্ব তথা শাসন ক্ষমতা ভোগ করবে । ”

**টিকাঃ**
১. সপ্তম হিজরীর ১০ ই জমাদিউল আউয়াল সোমবার দিবাগত রাতে পারস্য সম্রাট পারভেজ তার ছেলেদের হাতে নিহত হয় । অপরদিকে বাযান ১০ ম হিজরীতে ইয়ামানে ইসলাম গ্রহণ করেন । রাসূলুল্লাহ্ (সা:) সেখানকার ইরানী বংশোদ্ভূত লোকদের এ বছরেই ইসলামের দাওয়াত দেন । এ সময় যারা ইসলাম গ্রহণ করেন , তাদের মাঝে ওয়াহব ইব্‌ন মুনাব্বিহ , ইবন মারহ ইবন যুকরাব , তাউস , যাদাওয়াহ এবং ফীরোয অন্যতম । শেষোক্ত দুই ব্যক্তি ইয়ামানের ভণ্ড নবী আসওয়াদ আনাসীকে হত্যা করেন ।
২. ইতিপূর্বে ফায়মিয়ূন ও ইব্‌ন সামিরের ঘটনা থেকে জানা গেছে যে , হিময়ারীরা ধর্মপ্রাণ ছিল ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 ইয়ামানে পাথরে খোদিত ভবিষ্যদ্বাণী

📄 ইয়ামানে পাথরে খোদিত ভবিষ্যদ্বাণী


ইয়ামানে পাথরে খোদিত ভবিষ্যদ্বাণী
: ইবন ইসহাক বলেন অতি প্রাচীনকালের যবুর গ্রন্থের উক্তি ইয়ামানের একটি পাথরে খোদিত ছিল : “ ইয়ামানের রাজত্ব কার ? ধর্মপ্রাণ হিময়ার গোত্রের ইয়ামানের রাজত্ব কার ? দুর্জন হাবশীদের ? ইয়ামানের রাজত্ব কার ? চির স্বাধীন পারসিকদের । ইয়ামানের রাজত্ব কার ? বণিক কুরায়শ গোত্রের । ”
কবি আশা শিক ও সাতীহের ভবিষ্যদ্বাণী সত্য হওয়া সম্পর্কে তার কবিতায় উল্লেখ করেছেন । তিনি বলেন : ইয়ামামার কবি যারকা যেমন তীক্ষ্ণদৃষ্টির অধিকারী ছিলেন , সাতীহ্ও তেমন ছিল । উল্লেখ্য যে , যারকা তিন মাইল দূর থেকে সকলকে চিনতে পারত ।

**টিকাঃ**
১. ইয়ামানে যুদ্ধ - বিগ্রহ , দাংগা - হাংগামা ও রক্তপাত ঘটানোর জন্যই হাবশীদের দুর্জয় বলা হয়েছে । তারা কা'বা শরীফকেও ধ্বংস করতে উদ্যত হয়েছিল । শেষ যামানায় কুরআন উঠে যাওয়ার পর তারা কা'বাকে ধ্বংস করবে । তখন মানুষের হৃদয় থেকে ঈমানও উঠে যাবে । আবূ দাউদ শরীফে দুর্বল সনদে এ মর্মে একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে যে , রাসূলুল্লাহ্ (সা:) বলেন : হাবশীদের এড়িয়ে চল , যতক্ষণ তারা তোমাদের এড়িয়ে চলে । কেননা কা'বার গুপ্তধন কেবল একজন হাবশীই বের করবে ।
২. চির স্বাধীন পারসিক বলার কারণ এই যে , পৃথিবীতে মানব বসতির সূচনা থেকেই পারস্যে পুরুষানুক্রমিক রাজতন্ত্র চলে আসছে । ইরানীরা দাবি করে যে , জিয়োমিরতের আমল থেকে হযরত মুহাম্মদ (সা:) -এর আবির্ভাবকাল পর্যন্ত তারা কোন বিদেশী রাজার অধীনও হয়নি এবং কোন বিদেশী শাসককে করও দেয়নি ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00