📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আল্লাহ্ হাতির ঘটনা ও কুরায়শদের ওপর নিজের কৃপার কথা স্মরণ করিয়ে দেন

📄 আল্লাহ্ হাতির ঘটনা ও কুরায়শদের ওপর নিজের কৃপার কথা স্মরণ করিয়ে দেন


আল্লাহ্ হাতির ঘটনা ও কুরায়শদের ওপর নিজের কৃপার কথা স্মরণ করিয়ে দেন
ইবন ইসহাক বলেন : এরপর যখন আল্লাহ্ মুহাম্মদ (সা:) -কে নবুয়ওত দান করেন , তখন তিনি কুরায়শদেরকে স্মরণ করিয়ে দেন যে , আবিসিনীয়দের আগ্রাসন থেকে তাদের রক্ষা করে তিনি তাদের উপর বিরাট করুণা ও অনুগ্রহ করেছেন এবং কুরায়শদের নিজস্ব ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব বহাল রাখতে সাহায্য করেছেন । তিনি বলেন :
b
أَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِأَصْحُبِ الفِيلِ أَلَمْ يَجْعَلْ كَيْدَهُمْ فِي تَضْلِيلٍ * وَأَرْسَلَ عَلَيْهِمْ طَيْرًا آبَابِيلَ " تَرْمِيهِمَ بِحِجَارَةٍ مِّنْ سِجِّيلٍ * فَجَعَلَهُمْ كَعَصْفِ ما كُولٍ *
“ তুমি কি দেখনি , তোমার রব হাতিওয়ালাদের সাথে কেমন আচরণ করেছিলেন ? তিনি কি তাদের কৌশল ব্যর্থ করে দেননি ? তাদের বিরুদ্ধে তিনি ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি প্রেরণ করেন । যারা তাদের উপর পাথরের কংকর নিক্ষেপ করে । তারপর তিনি তাদের ভক্ষিত তৃণের মত করেন । ( ১০৫ : ১-৫ )
আল্লাহ্ আরো বলেন :
الَّذِي أَطْعَمَهُمْ لا يَلْفِ قُرَيْشِ " الْفِهِمْ رِحْلَةَ الشَّتَاءِ وَالصَّيْفِ فَلْيَعْبُدُوا رَبَّ هَذَا الْبَيْتِ ا مَن جُوعٍ " وَأَمَنَهُمْ مِّنْ خَوْفٌ :
“ যেহেতু কুরায়শদের আসক্তি আছে , আসক্তি আছে তাদের শীত ও গ্রীষ্ম সফরের । তারা ইবাদত করুক এ ঘরের রক্ষকের , যিনি তাদের ক্ষুধায় আহার দিয়েছেন এবং ভীতি থেকে তাদের নিরাপদ করেছেন । ” ( ১০৬ : ১-৪ )
অর্থাৎ এই ব্যাপারে নিরাপত্তা দিয়েছেন যে , তারা আগে যে অবস্থায় ছিল , তাতে কোন পরিবর্তন আসবে না । আর এটা করেছেন এ জন্য যে , তাদের জন্য অচিরেই যে কল্যাণের ব্যবস্থা করেছেন , তা যেন তারা ভোগ করতে সক্ষম হয় , যদি তা তারা গ্রহণ করে ( অর্থাৎ নবুয়ওত ও ইসলাম ) ।
ইবন হিশাম বলেন : আবাবীল শব্দের আভিধানিক অর্থ ঝাঁকে ঝাঁকে । এটি বহুবচন । এ শব্দটির একবচন ব্যবহৃত হয় না । আর সিজ্জীল অর্থ মাটি ও পাথর মিশ্রণে যে পাথর তৈরি হয় তার ভীষণ শক্ত রূপ । কোন কোন তাফসীরকার বলেন ফার্সীতে এটি সাহাজ ও জীল দুটি শব্দ , আরবিতে এক শব্দে রূপান্তরিত করা হয়েছে । আবূ উবায়দা বলেন : আসকে উসাফা ও আসীফাও বলা হয় । বনু রবী'আ ইবন মালিক ইবন যায়দ মানাত ইবন তামীমের আলকামা ইবন আবাদা বলেন : “ আসীফা বা পাতার ভারে নতমুখী শাখা পানি সিঞ্চিত করে । ” রাজি তাকে ‘ আস - সিমাকুল ' বা ভক্ষিত তৃণের মত করেছেন । এটি তার একটি কবিতার অংশ । ইবন হিশাম বলেন : নাহু শাস্ত্রে এর ব্যাখ্যা রয়েছে । ‘ ইলাফ ' অর্থ গ্রীষ্মে ও শীতকালের দুই সফরে সিরিয়া যাত্রা । আবু যায়দ আনসারী বলেন : “ আরররা আলিফাত ও ইলাফ একই অর্থে ব্যবহার করেন । “ যুর - রুম্মা বলেন : “ বালুর আকর্ষণ পাথুরে ভূমিতে দুপুরের রোদে উজ্জ্বল বর্ণ ধারণ করে । ” এটি তার এক কবিতার অংশ । মাতরূদ ইবন কা'ব থুযায়ী ইলাফের আরেক অর্থ হলো : নি'আমতপ্রাপ্তরা বলল তারাগুলো পরিবর্তিত হয় এবং পসন্দনীয় সফরের জন্য কাফেলাগুলো যাত্রা করে । বনূ যায়দ ইবন খুযায়মা ইবন মুদরিকা ইবন ইলয়াস ইবন মুযার ইবন নিযার ইবন মা'আদের কুমায়ত ইবন যায়দ বলেন : “ এ বছরেই এক হাজার উটের আগ্রহীরা ( উটের দুর্বলতার জন্য ) পায়ে হেঁটে চলে । কুমায়তের আরেকটি কবিতায় গোত্রের সংখ্যা এক হাজারে উন্নীত হওয়াকে ‘ ইলাফ ' বলেছেন । এটি তার এক অংশবিশেষ । ইলাফের আরেক অর্থ দুটি বস্তুকে একত্রিত করা । এর আরেকটি অর্থ এক লক্ষের চেয়ে কম হওয়া । আর আফ হচ্ছে শস্য বৃক্ষের পাতা , যা কাটা হয়নি । আর ইলাফ অর্থ আসক্ত হওয়া । কারো কারো মতে : ইলাফ অর্থ আল্‌ল্ফ অর্থাৎ হাজার উটের মালিক হওয়া । বিশিষ্ট কবি যুররুম্মা প্রথম অর্থে এবং কুমায়ত ইব্‌ন যায়দ দ্বিতীয় অর্থে এ শব্দ ব্যবহার করেছেন । বইয়া ইবন আজ্জাজ বলেন : “ হাতির বাহিনীর ওপর যা নিক্ষেপ করা হয়েছিল , তাদের প্রতিও তাই নিক্ষেপ করা হয় । তাদের ওপর পাথরের কংকর নিক্ষেপ করা হয় । ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি তাদেরকে নিয়ে খেলছিল । ” এটি তার একটি কবিতার অংশ ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 হাতির মাহুত ও সেনাপতির পরিণতি

📄 হাতির মাহুত ও সেনাপতির পরিণতি


হাতির মাহুত ও সেনাপতির পরিণতি
ইবন ইসহাক বলেন : হযরত আয়েশা ( রা ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেছেন , আবরাহার হাতির মাহুত ও হাতিবাহিনীর সেনাপতি এ দু'জনকে আমি অন্ধ ও পঙ্গু অবস্থায় মক্কায় মানুষের কাছ থেকে খাবার চেয়ে চেয়ে খেতে দেখেছি ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 হাতির ঘটনা সম্পর্কে আরব কবিদের কবিতাসমূহ

📄 হাতির ঘটনা সম্পর্কে আরব কবিদের কবিতাসমূহ


হাতির ঘটনা সম্পর্কে আরব কবিদের কবিতাসমূহ
ইবন ইসহাক বলেন : আল্লাহ্ তা'আলা যখন আবিসিনীয় সৈন্যদের মক্কা থেকে বিতাড়িত করলেন এবং তাদের কাছ থেকে প্রতিশোধ নিলেন , তখন সমগ্র আরব জাতির চোখে কুরায়শদের মর্যাদা বেড়ে গেল । তারা বলাবলি করতে লাগল যে , কুরায়শ গোত্র আল্লাহ্র প্রিয় । আল্লাহ্ স্বয়ং তাদের পক্ষ থেকে যুদ্ধ করেছেন এবং শত্রুদের থেকে তাদের রক্ষা করেছেন । এ ব্যাপারে আরব কবিরা বহু কবিতা রচনা করেছেন , যার প্রধান বক্তব্য ছিল , আবিসিনীয়দের ওপর আল্লাহ্র শাস্তি অবতরণ এবং কুরায়শ গোত্রের বিরুদ্ধে তাদের সকল দুরভিসন্ধি নস্যাৎ হয়ে যাওয়া ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 কবি আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন যাবআরীর কবিতার কয়েকটি পংক্তির অনুবাদ

📄 কবি আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন যাবআরীর কবিতার কয়েকটি পংক্তির অনুবাদ


কবি আবদুল্লাহ ইব্‌ন যাবআরীর কবিতার কয়েকটি পংক্তির অনুবাদ
“ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ আল্লাহ্র ঘরের দুশমনরা বিতাড়িত হয়েছে । কারণ প্রাচীনকাল থেকেই মক্কার অধিবাসীদেরকে কেউ পদানত করতে পারেনি । নিষিদ্ধ রাতগুলোতে শে — রা নক্ষত্র সৃষ্টি হয়নি । কেননা ঐ সব নিষিদ্ধ রাতকে সৃষ্টিজগতের কোন পরাক্রান্ত সত্তাই করায়ত্ত করতে পারে না । সেনাপতি ( আবরাহা ) -কে জিজ্ঞেস কর , সে কি দেখেছে ? যারা জানে , তারা অজ্ঞলোকদের জানাবে । ষাট হাজার হানাদার ( আবরাহার সৈন্য ) স্বদেশে ফিরে যেতে পারেনি , আর যে রুগ্ন লোকটি ( অর্থাৎ আবরাহা নিজে ) , সেও বাঁচতে পারেনি । এ ভূখণ্ডে ইতিপূর্বে ‘ আদ ও জুরহুম বাস করেছে । সকল বান্দার উপরে থেকে আল্লাহ্ এ ভূখণ্ডকে দেখাশুনা করেন । ”
ইবন ইসহাক বলেন : উল্লিখিত কবিতায় ' রুগ্ন ব্যক্তি ' বলে আবরাহাকে বুঝানো হয়েছে । সে পাখির পাথরে আহত হয় এবং সৈন্যরা তাকে সানায় নিয়ে গেলে সেখানে সে মারা যায় ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00