📄 বনূ সাকীফ গোত্রের পরিচয়
বনূ সাকীফ গোত্রের পরিচয়
বনু সাকীফ গোত্রের প্রধান ছিলেন সাকীফ । তাঁর বংশ পরিচয় হলো : সাকীফ ইবন কাসী ইবন নাবীত ইবন মুনাব্বিহ ইবন মানসুর ইবন ইয়াকদুম ইব্ন আফসা ইবন দু'খী ইন ইয়াদ ইব্ন নিযার ইব্ন মাআদ ইব্ন আদনান ।
কবি উমাইয়া ইব্ন আবুস সাল্ত সাকাফী তার বংশের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন : “ আমার গোত্র ইয়াদের বংশধর , যদি তারা কাছে থাকত ( এবং হিজায পরিত্যাগ করে এ উদ্দেশ্যে ইরাকে না যেত যে , হিজায ভূখণ্ড তাদের পশুদের জন্য যথেষ্ট ছিল না ) ; যদি তারা নিজ দেশে থাকত , চাই তাদের পশু খাদ্যাভাবে দুর্বল ও কৃশ হয়ে যেত - তা হলে কতই না ভাল হত । ”
গোত্রটি এমন যে , তারা সবাই যখন ইরাকে চলে গেল , তখন ইরাকের বিস্তীর্ণ সমতলভূমি এবং কাগজ - কলম ' অর্থাৎ শিক্ষাদীক্ষায় নেতৃত্ব তাদেরই দখলে চলে গেল ।
তিনি আরো বলেন : “ হে লুবায়না ! তুমি যদি আমাকে আমার বংশ পরিচয় জিজ্ঞেস কর , তবে আমি তোমাকে এমন এক সঠিক খবর দেব যে , আমরা হলাম কাসী ইব্ন নাবীত এবং মানসুর ইবন ইয়াকদুমের বংশধর ।
ইবন হিশাম অবশ্য সাকীফ গোত্রের বংশ পরিচয় দেন এভাবে সাকীফ ইবন কাসী ইবন মুনাব্বিহ ইবন বাকর ইবন হাওয়াবিন ইবন মানসুর ইবন ইকরামা ইবন খাসাফা ইবন কায়স ইব্ন আয়লান ইব্ন মুযার ইব্ন নিযার ইব্ন মা'আদ ইব্ন আদনান । উপরোক্ত কবিতাংশ দু'টি উমাইয়া ইবন আবূ সালত রচিত দু'টি দীর্ঘ কবিতা থেকে গৃহীত ।
**টিকাঃ**
সাকীফ গোত্রটির উৎপত্তি নিয়ে মতভেদ আছে । কারো কারো মতে , এরা ইয়াদের বংশধর । আবার কারো কারো মতে কায়সের বংশধর । আবার অন্যদের মতে তারা সামূদ জাতিরই একটি অংশ । মাআমার ইবন রাশিদ কর্তৃক তাঁর জামে ' গ্রন্থে বর্ণিত একটি হাদীসে উল্লেখ আছে যে , আবূ রিগাল নামক যে লোকটি আবরাহার পথ প্রদর্শক হয়ে গিয়েছিল , সে ছিল সামূদ বংশোদ্ভূত ।
১. অভাবের কারণে তারা ইরাকে চলে যায় এবং স্থোনেই বসতি স্থাপন করে ।
অর্থাৎ শিক্ষাদীক্ষা । কুরায়শদেরকে যখন জিজ্ঞেস করা হতো , তোমরা কোথা থেকে লেখাপড়া শিখলে ? তারা বলতো হীরাত থেকে । আর হীরাতবাসী শিখেছিল ইরাকের আম্বার অঞ্চল থেকে ।
📄 আবরাহার সাথে বনূ সাকীফের আঁতাত
আবরাহার সাথে বনু সার্কীফের আঁতাত
ইবন ইসহাক বলেন : মাসউদের নেতৃত্বে বনু সার্কীফের যে দলটি আবরাহার সাথে মিলিত হল , তারা আবরাহাকে বলল : হে রাজা ! আমরা আপনার দাস মাত্র । আমরা আপনার সব কথা শুনব ও মানব । কোন কথার বিরোধিতা করব না । এখানকার এই ' আল্লাত ' আমাদের উপাসনার ঘর তথা লাত দেবীর ঘর তো আপনার লক্ষ্য নয় , আপনি তো চাইছেন মক্কায় উপাসনালয়ে হামলা চালাতে । ঠিক আছে , আমরা আপনার পথপ্রদর্শক হিসাবে একজন লোক সাথে দিচ্ছি । সে আপনাকে কা'বাঘরের পথ দেখাবে । আবরাহা তাদের কথায় সন্তুষ্ট হল এবং তাদের উপর কোন বিরূপ মনোভাব দেখাল না ।
উল্লেখ্য যে , ' আল্লাত ' হচ্ছে তায়েফবাসীর একটি উপাসনালয় । তারা কা'বার মতই এর প্রতি ভক্তি ও সম্মান প্রদর্শন করত ।
ইবন হিশাম বলেন , যিরার ইবন খাত্তাব ফিহরীর কবিতার নিম্নোক্ত পংক্তিটি আমাকে আবৃ উবায়দা নাহভী শুনিয়েছেন ( বংগানুবাদ ) :
“ সাকীফ গোত্র তাদের দেবী লাতের কাছে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আশ্রয় নিল । ”
📄 আবূ রিগাল ও তার কবরে পাথর নিক্ষেপ
আবূ রিগাল ও তার কবরে পাথর নিক্ষেপ
সীরাতুন নবী ( সা . )
ইবন ইসহাক বলেন তারপর বনু সাকীফ আবরাহার সাথে আবূ রিগালকে পাঠাল , যাতে সে মক্কার দিকে তাকে পথ দেখিয়ে নেয় । আবরাহা আবু রিগালকে সাথে নিয়ে অভিযানে এগিয়ে গেল । আবরাহা ও তার দলবল আবূ রিগালের সাথে মুগাম্মাসে এসে যাত্রা বিরতি করল । তখন আবূ রিগাল সেখানে মারা গেল । পরবর্তীকালে আরবরা আবূ রিগালের কবরে পাথর নিক্ষেপ করত এবং আজও মুগাম্মাসে যে কবরটিতে লোকজন পাথর নিক্ষেপ করে থাকে , সেটা আবূ রিগালেরই কবর ।
**টিকাঃ**
১. মুগাম্মাস শব্দটির আভিধানিক অর্থ ' গুপ্ত ' বা গোপন । এটি তায়েফের পথে মক্কার নিকটবর্তী একটি জায়গা । উঁচুনিচু মাটির ঢিবির মাঝে এবং কাঁটাযুক্ত গাছের ঝোঁপঝাড়ের আড়ালে জায়গাটা অবস্থিত বলে সম্ভবত এর এরূপ নামকরণ করা হয়েছে । আলী ইব্ন সাকান থেকে বর্ণিত আছে যে , রাসূল (সা:) মক্কায় অবস্থানকালে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে কখনো কখনো এখানে আসতেন । স্থানটি মক্কা থেকে তিন ফারসাখ দূরে অবস্থিত ।
📄 মক্কায় আসওয়াদ ইব্ন মাকসূদের লুটপাট
মক্কায় আসওয়াদ ইব্ন মাকসূদের লুটপাট
আবরাহা মুগাম্মাসে যাত্রা বিরতি করার সময় আসওয়াদ ইব্ন মাকসূদ নামক জনৈক আবিসিনীয় সৈনিককে কতিপয় ঘোড়সওয়ার সমেত পাঠাল । সে মক্কা পর্যন্ত গিয়ে থামল এবং ফেরার সময় তিহামা উপত্যকার চারণভূমিতে কুরায়শ ও অন্যান্য গোত্রের যে সব গবাদিপশু বিচরণ করছিল , তা ধরে নিয়ে এল । এসব পশুর মধ্যে আবদুল মুত্তালিব ইবন হাশিমের [ রাসূল (সা:) -এর দাদা ] দু'শ উটও ছিল । তিনি ঐ সময় কুরায়শের সবচেয়ে সম্ভ্রান্ত ও শীর্ষস্থানীয় সরদার ছিলেন । গবাদি পশু ধরে নিয়ে আসার ঘটনায় বিক্ষুব্ধ ঐ এলাকার কুরায়শ , কিনানা ও হুযায়ল গোত্র আবরাহার সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হতে চেয়েছিল । কিন্তু নিজেদের অক্ষমতা বুঝতে পেরে তারা সে ইচ্ছা পরিত্যাগ করে ।
**টিকাঃ**
২. আসওয়াদ ইবন মাকসুদ ইবনুল হারিস ইবন মুনাব্বিহ ইবন মালিক ইবন কা'ব ইবন আবূ আমর ইবন ইল্লাহ , মতান্তরে উলাহ ইবন খালিদ ইবন মাসহিদ ।
৩. ১৩ টি হাতি ও একটি বাহিনী সহকারে এই ব্যক্তিকে নাজাশী পাঠিয়েছিলেন । এই ১৩ টি হাতির মধ্যে নাজাশীর নিজস্ব হাতি মাহমূদ ছাড়া আর সবকটি ধ্বংস হয় । মাহমূদকে কোনক্রমেই কা'বা অভিমুখে নেয়া সম্ভব হয়নি ।