📄 বিক্ষুব্ধ কিনানী কুলায়স গীর্জায় পায়খানা করল
বিক্ষুব্ধ কিনানী কুলায়স গীর্জায় পায়খানা করল
ইবন ইসহাক বলেন : বনূ কিনানার সেই বিক্ষুব্ধ লোকটি সন্তর্পণে বেরিয়ে পড়ল এবং কুলায়স গীর্জায় গিয়ে পায়খানা করে দিল । তারপর নিজ বাসস্থানে ফিরে গেল । আবরাহা এ খবর জানতে পেরে সকলকে জিজ্ঞেস করল , এ কাজটি কে করেছে ? তাকে জানানো হল যে , আপনি হজ্জ অনুষ্ঠানকে মক্কার কা'বাঘর থেকে এখানে নিয়ে আসবেন বলে যে ঘোষণা দিয়েছিলেন , তা শুনে মক্কার কাবাঘরের নিকট বসবাসকারী জনৈক আরব রাগান্বিত হয়েছে এবং এ কাজটি করে সে বুঝাতে চেয়েছে যে , এ ঘর হজ্জের উপযুক্ত নয় ।
📄 কা'বা ধ্বংস করতে আবরাহার অভিযান
কা'বা ধ্বংস করতে আবরাহার অভিযান
আবরাহা একথা শুনে ক্রোধে অধীর হয়ে শপথ করল যে , কাবাঘরে আক্রমণ চালিয়ে তাকে ধ্বংস না করে সে ছাড়বে না । তারপর সে আবিসিনীয় সৈন্যদের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিল । তারা প্রস্তুতি নিল এবং একপাল হাতি নিয়ে তারা রওয়ানা দিল । আরবরা এ খবর শুনে এটিকে গুরুতর বিপদ মনে করল এবং আতংকিত হয়ে পড়ল । তারা যখন শুনল যে , আবরাহা আল্লাহ্র ঘর মহাপবিত্র ও মহাসম্মানিত কা'বা ধ্বংস করতে সংকল্পবদ্ধ , তখন এর রক্ষার জন্য জিহাদ করাকে তারা জরুরী মনে করল ।
📄 ইয়ামানের প্রভাবশালী লোকদের পক্ষ থেকে প্রতিরোধের চেষ্টা
ইয়ামানের প্রভাবশালী লোকদের পক্ষ থেকে প্রতিরোধের চেষ্টা
যু - নাফর নামক জনৈক প্রভাবশালী ও রাজ বংশোদ্ভূত ইয়ামানবাসী আবরাহাকে রুখে দাঁড়াল । সে ইয়ামনসহ সমগ্র আরবের সচেতন লোকদের আবরাহার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা ও তাকে আল্লাহ্র ঘর কা'বার ওপর হামলা চালানো ও তা ধ্বংস করা থেকে প্রতিহত করার ডাক দিল । কিছু লোক তার ডাকে সাড়া দিল এবং ইয়ামান ভূখণ্ডেই আবরাহার বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হলো । কিন্তু যু - নফর ও তার সৈন্য - সামন্ত পরাজিত হল । যু - নাফরকে গ্রেফতার করে আবরাহার কাছে আনা হল , সে তাকে হত্যা করতে চাইল । যু - নাফর তাকে বলল : হে রাজা ! আমাকে হত্যা করবেন না । আমাকে হত্যা করার চেয়ে আপনার সাথে নিয়ে যাওয়া অধিকতর উপকারী হতে পারে । আবরাহা তাকে হত্যা না করে বেঁধে নিজের সাথে রেখে দিল । আবরাহা সহনশীল স্বভাবের লোক ছিল ।
📄 আবরাহার বিরুদ্ধে খাসআমের যুদ্ধ
আবরাহার বিরুদ্ধে খাসআমের যুদ্ধ
যু - নাফরের বাহিনীকে পরাজিত করে আবরাহা তার বাহিনী নিয়ে মক্কার দিকে রওয়ানা হল । এখানে খাসআম ' গোত্রের দু'টি শাখা বনু শাহরান ও বনু নাহিস নুফায়ল ইবন হাবীব খাসআমীর নেতৃত্বে আবরাহাকে রুখে দাঁড়াল । তাদের সাথে আরবের অন্যান্য গোত্রের লোকেরাও যোগ দিল । আবরাহা তাদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয় এবং তাদের পরাজিত করে । নুফায়লকে গ্রেফতার করে হত্যা করতে উদ্যত হলে সে বলল : হে রাজা ! আমাকে হত্যা করবেন না । আরব ভূমিতে আমি আপনার পথ প্রদর্শক হব । আর আমার ডান হাত ও বাম হাত স্বরূপ খাসআম গোত্রের এই দু'টি শাখা আপনার অনুগত থাকবে । এ কথা শুনে আবরাহা তাকে মুক্তি দিল ।
নুফায়ল আবরাহার সাথে সাথে তাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে চলল । তায়েফের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় বনু সাকীফ গোত্রের মাসউদ ইবন মুআত্তব ইবন মালিক ইবন কা'ব ইবন আমর ইবন সা'দ ইবন আওফ ইব্ন সাকীফ - এর নেতৃত্বে কিছু লোক তার সাথে দেখা করতে গেল ।
**টিকাঃ**
১. খাসআম একটি পাহাড়ের নাম । বনূ ইফরিস ইবন খালফ ইব্ন আফতাল ইব্ন আম্মার এই পাহাড়ের পাদেেশ বাস করত বলে তাদের নাম হয়েছে খasআম । কারো কারো মতে খাসআম অর্থ রক্তপাত । এই গোত্রটি নিজেদের ভেতরে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করার সময়ে রক্তপাতে লিপ্ত হয় বলে এ নামকরণ হয়েছে । আবার কারো কারো মতে খাসআমের তিনটি শাখা । তৃতীয়টির নাম আকলাব ।