📄 নাসী প্রথার প্রথম প্রবর্তনকারী
নাসী প্রথার প্রথম প্রবর্তনকারী
ইবন ইসহাক বলেন : আবূ শা‘সা কালাম্মাস ওরফে আজাজ ওরফে হুযায়ফা ইব্ন আবদ ইবন ফুকায়ম ইব্ন আলী ইবন আমির ইবন সা'লাবা ইবন হারিস ইবন মালিক ইবন কিনানা ইব্ন খুযায়মা হচ্ছে হারাম মাসকে হালাল করার উক্ত প্রথার প্রথম প্রবর্তক । তার পরে তার বংশধরেরা এটিকে চালু রাখে । সর্বশেষ ব্যক্তি এই বংশেরই আবূ সুমামা জুনাদা ইব্ন আওফ । এ ব্যক্তির জীবদ্দশাতেই ইসলামের অভ্যুদয় ঘটে । আরবরা ইজ্জশেষে এ ব্যক্তির কাছে সমবেত হত । তারপর যিলকদ , যিলহজ্জ , মুহাররম ও রজব এ চার মাসকে প্রথমে হারাম বলে ঘোষণা করত । তারপর এ ব্যক্তি যদি কোন মাসকে হালাল করতে চাইত , তবে মুহাররমকে হালাল করত এবং তার পরিবর্তে সফর মাসকে হারাম ঘোষণা করত । সমবেত জনতাও তার এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানাত । তারপর হাজীরা যখন ঘরে ফেরার ইচ্ছা করত । তখন সবাইকে একত্র করে বলত :
“ হে আল্লাহ্ ! আমি তোমার জন্য দু'টি সফর মাসের একটিকে হালাল করলাম এবং অপরটিকে পরবর্তী বছরে পিছিয়ে দিলাম । ”
এ সময়ে বনূ ফিরাস ইবন গানামের উমায়র ইবন কায়য় ওরফে জত্ - তা'আন নাসী সম্পর্কে গর্ব প্রকাশ করে কবিতা আবৃত্তি করেন । এর কয়েকটি পংক্তি নিম্নরূপ :
“ বনু মা'দ জানে যে , আমার গোত্র খুবই সম্ভ্রান্ত ও উদারমনা ,
, এমন কে আছে , যাকে আমরা অসহায় ছেড়ে দিয়েছি ?
এমন কে আছে , যে আমাদের সাহচর্য পায়নি ?
মা'আদ গোত্রকে কি আমরা হারাম মাস পিছিয়ে দিয়ে সাহায্য করিনি ?
তাদের জন্য কি হারাম মাসকে হালাল করিনি ? ”
ইব্ন হিশাম বলেন : প্রথম নিষিদ্ধ মাস হল মুহাররম ।
**টিকাঃ**
১. সুহায়লী বর্ণনা করেন যে , আবূ সুমামা ইসলাম গ্রহণ করেছিল । হযরত উমর ( রা ) -এর আমলে সে হজ্জে হাযির হয় । সে সমবেত হাজীদের সম্বোধন করে বলল : ওহে হাজীগণ ! আমি তোমাদের কাছে এ মাস ভাড়া দিয়েছি ( অর্থাৎ সে এ মাসে রক্তপাত বৈধ মনে করত এবং এজন্য হাজীদের কাছ থেকে ভাড়া তথা এক ধরনের চাঁদা আদায় করতে চাইছিল ) । তখন হযরত উমর ( রা ) তাকে এক থাপ্পড় দিয়ে বললেন : চুপ কর ব্যাটা ! আল্লাহ্ এসব জাহিলী কাজকর্ম বাতিল করে দিয়েছেন ।
২. জাহিলী যুগে এ হারাম মাস পেছানোর প্রক্রিয়া ছিল দু'রকমের : একটি হলো- যেটি এখানে ইবন ইসহাক উল্লেখ করেছেন । অর্থাৎ মুহাররম মাসকে সফরে পিছিয়ে দেয়া । কারণ লুটপাট করা ও খুনের প্রতিশোধ নিতে তারা এতদিন অপেক্ষা করতে চাইত না । অপরটি হলো — হজ্জকেই তারা নির্দিষ্ট সময় থেকে পিছিয়ে দিত । তারা এটা করত সৌর বছরের হিসাবের নিরিখে । প্রতি বছর ভারা এগার দিন বা তার সামান্য বেশি সময় পেছাত । এভাবে তেত্রিশ বছরে সমস্ত বছর ঘুরে আসত এবং তেত্রিশ বছর পর হজ্জ আগের সময়ে অনুষ্ঠিত হত । এজন্য রাসূল (সা:) বিদায় হজ্জে বলেন : “ আল্লাহ্ তা'আলা যেদিন আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছিলেন , সেদিন সময় যেভাবে চলছিল , এখন আবার সেই অবস্থায় ফিরে এসেছে । বিদায় হজ্জের বছর হজ্জ একচক্র ঘুরে আগের সময়ে এসেছিল । রাসূল (সা:) মদীনা থেকে মক্কায় গিয়ে ঐ হজ্জ ছাড়া আর কোন হজ্জ করেননি । কেননা মক্কা বিজিত হওয়ার আগে কাফিরদের নিয়ন্ত্রণাধীন হজ্জ নির্দিষ্ট সময়ের পরে অনুষ্ঠিত হত এবং উলঙ্গ হয়ে তওয়াফ করত ।
১. উমায়র অত্যন্ত দীর্ঘকায় ব্যক্তি ছিল । যুদ্ধে অবিচল থাকার জন্য তাকে জযলুত তাআন বলা হত ।
২- অন্যদের মতে প্রথম নিষিদ্ধ মাস যিলকদ । কেননা রাসূল (সা:) হারাম মাসের নাম উল্লেখ করতে গিয়ে যিলকদ মাস দিয়ে শুরু করেছেন । মুহাররমকে প্রথম নিষিদ্ধ মাস বলার যুক্তি এই যে , ওটা বছরের প্রথম মাস । এ দ্বিমতের ফল দেখা দেবে এভাবে যে , যখন কেউ নিষিদ্ধ মাসে রোযা থাকার মানত করবে , তখন মুহাররমকে যারা প্রথম নিষিদ্ধ মাস বলেন , তাদের মতে মানতের রোযা মুহাররম থেকে শুরু এবং যিলহজ্জে শেষ করতে হবে । আর যিলকদকে প্রথম নিষিদ্ধ মাস ধরে নিলে যিলকদ থেকে শুরু এবং পরের বছর রজবে শেষ করতে হবে ।
📄 বিক্ষুব্ধ কিনানী কুলায়স গীর্জায় পায়খানা করল
বিক্ষুব্ধ কিনানী কুলায়স গীর্জায় পায়খানা করল
ইবন ইসহাক বলেন : বনূ কিনানার সেই বিক্ষুব্ধ লোকটি সন্তর্পণে বেরিয়ে পড়ল এবং কুলায়স গীর্জায় গিয়ে পায়খানা করে দিল । তারপর নিজ বাসস্থানে ফিরে গেল । আবরাহা এ খবর জানতে পেরে সকলকে জিজ্ঞেস করল , এ কাজটি কে করেছে ? তাকে জানানো হল যে , আপনি হজ্জ অনুষ্ঠানকে মক্কার কা'বাঘর থেকে এখানে নিয়ে আসবেন বলে যে ঘোষণা দিয়েছিলেন , তা শুনে মক্কার কাবাঘরের নিকট বসবাসকারী জনৈক আরব রাগান্বিত হয়েছে এবং এ কাজটি করে সে বুঝাতে চেয়েছে যে , এ ঘর হজ্জের উপযুক্ত নয় ।
📄 কা'বা ধ্বংস করতে আবরাহার অভিযান
কা'বা ধ্বংস করতে আবরাহার অভিযান
আবরাহা একথা শুনে ক্রোধে অধীর হয়ে শপথ করল যে , কাবাঘরে আক্রমণ চালিয়ে তাকে ধ্বংস না করে সে ছাড়বে না । তারপর সে আবিসিনীয় সৈন্যদের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিল । তারা প্রস্তুতি নিল এবং একপাল হাতি নিয়ে তারা রওয়ানা দিল । আরবরা এ খবর শুনে এটিকে গুরুতর বিপদ মনে করল এবং আতংকিত হয়ে পড়ল । তারা যখন শুনল যে , আবরাহা আল্লাহ্র ঘর মহাপবিত্র ও মহাসম্মানিত কা'বা ধ্বংস করতে সংকল্পবদ্ধ , তখন এর রক্ষার জন্য জিহাদ করাকে তারা জরুরী মনে করল ।
📄 ইয়ামানের প্রভাবশালী লোকদের পক্ষ থেকে প্রতিরোধের চেষ্টা
ইয়ামানের প্রভাবশালী লোকদের পক্ষ থেকে প্রতিরোধের চেষ্টা
যু - নাফর নামক জনৈক প্রভাবশালী ও রাজ বংশোদ্ভূত ইয়ামানবাসী আবরাহাকে রুখে দাঁড়াল । সে ইয়ামনসহ সমগ্র আরবের সচেতন লোকদের আবরাহার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা ও তাকে আল্লাহ্র ঘর কা'বার ওপর হামলা চালানো ও তা ধ্বংস করা থেকে প্রতিহত করার ডাক দিল । কিছু লোক তার ডাকে সাড়া দিল এবং ইয়ামান ভূখণ্ডেই আবরাহার বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হলো । কিন্তু যু - নফর ও তার সৈন্য - সামন্ত পরাজিত হল । যু - নাফরকে গ্রেফতার করে আবরাহার কাছে আনা হল , সে তাকে হত্যা করতে চাইল । যু - নাফর তাকে বলল : হে রাজা ! আমাকে হত্যা করবেন না । আমাকে হত্যা করার চেয়ে আপনার সাথে নিয়ে যাওয়া অধিকতর উপকারী হতে পারে । আবরাহা তাকে হত্যা না করে বেঁধে নিজের সাথে রেখে দিল । আবরাহা সহনশীল স্বভাবের লোক ছিল ।