📄 আবদুল্লাহ্ ইব্ন সামিরের হত্যা
আবদুল্লাহ ইবন সামিরের হত্যা
ইবন ইসহাক বলেন : যুনুয়াস যে বিশ হাজার নাজরানবাসীকে হত্যা করেছিল , তার মাঝে তাদের নেতা আবদুল্লাহ ইবন সামিরও ছিলেন ।
আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবূ বকর ইবন মুহাম্মদ ইবন আমর ইবন হাযম থেকে ইবন ইসহাক বর্ণনা করেছেন যে , হযরত উমর ইব্ন খাত্তাব ( রা ) -এর আমলে নাজরান প্রদেশের এক ব্যক্তি সেখানকার একটি প্রাচীন ধ্বংসাবশেষের তলদেশে বিশেষ প্রয়োজনে খননকার্য চালায় । এ সময় লোকেরা মাটির নীচে আবদুল্লাহ্ ইব্ন সামিরকে বসা অবস্থায় দেখতে পায় । তারা দেখে যে , আবদুল্লাহ্ তার মাথার একটি যখমকে হাত দিয়ে চেপে ধরে রেখেছেন । তাঁর হাত সে ক্ষতস্থান থেকে সরিয়ে নিলে অমনি তা থেকে রক্ত বেরিয়ে আসে । আর হাত ছেড়ে দিলে তা আপনা থেকেই ক্ষতস্থানের ওপর চলে যায় এবং চেপে ধরে রক্ত থামায় । তারা আরো দেখল যে , তার হাতে একটি সীল রয়েছে । তাতে লেখা রয়েছে I অর্থাৎ আমার রব আল্লাহ্ । খননকারী একটি চিঠি দ্বারা হযরত উমর ( রা ) -কে ঘটনা অবহিত করলে তিনি মৃত ব্যক্তিকে যেভাবে ছিল সেভাবে রাখতে এবং তার কবর ঠিক করে দিতে আদেশ দিলেন । যথাসময়ে খলীফার আদেশ বাস্তবায়িত হয় ।
যুনুয়াসের কাছ থেকে দাওস যু - সা'লামানের পলায়ন ও রোম ' সম্রাটের কাছে আশ্রয় প্রার্থনা
**টিকাঃ**
১. পবিত্র কুরআনের আয়াত : “ যারা আল্লাহ্র পথে নিহত হয়েছে , তাদের কখনো মৃত মনে করো না ; বরং তারা জীবিত এবং তাদের রবের কাছে থেকে তারা জীবিকাপ্রাপ্ত । ” ( ৩ : ১৬৯ ) । এ ঘটনার সত্যতা প্রমাণ করে । বর্ণিত আছে যে , উহুদের শহীদ এবং অন্যান্য অনেককে এভাবে পাওয়া গেছে । বহুকাল অতিবাহিত হওয়ার পরও তাদের দেহ বিকৃত হয়নি । হযরত মুআবিয়ার শাসনকালে খাল খনন করতে গিয়ে হযরত হামযার লাশ একই রকম তরতাজা অবস্থায় পাওয়া যায় । কোদালের আঘাত লেগে তাঁর আঙ্গুল থেকে রক্ত বের হয় । অনুরূপভাবে আবূ জাবির আবদুল্লাহ্ ইব্ন হারাম এবং আমর ইব্ন জামূহের লাশও অবিকৃত পাওয়া যায় । তালহা ইবন উবায়দুল্লাহর মেয়ে আয়েশা স্বপ্নের আদিষ্ট হয়ে পিতার লাশ স্থানান্তরিত করতে গিয়ে দেখেন , ত্রিশ বছর পরও তা তরতাজা ও অবিকৃত রয়েছে । শোনা যায় , ফিলিস্তীন যুদ্ধে শাহাদাত লাভকারী অনেকের লাশ বহু বছর পর অবিকৃত অবস্থায় পাওয়া যায় ।