📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন সামির ও তাওহীদের দাওয়াত

📄 আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন সামির ও তাওহীদের দাওয়াত


আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন সামির ও তাওহীদের দাওয়াত
এরপর থেকে আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন সামির যখনই নাজরানে প্রবেশ করত , যে কোন রুগ্ন বা বিপন্ন ব্যক্তিকে দেখলেই সে বলত : “ ওহে আল্লাহ্র বান্দা ! তুমি কি আল্লাহ্র একত্ববাদ স্বীকার করতে এবং আমার ধর্মে দীক্ষিত হতে রাযী আছ ? তা হলে , আমি আল্লাহ্র কাছে দু'আ করব । তিনি তোমাকে তোমার বিপদ থেকে মুক্ত করবেন । ” এতে রুগ্ন বা বিপন্ন লোক বলত : হ্যাঁ , আমি প্রস্তুত । তারপর সে আল্লাহ্ একত্ব স্বীকার করত ও ইসলাম গ্রহণ করত । আর আবদুল্লাহ্ তার জন্য দু'আ করত এবং সে ভালো হয়ে যেত । এভাবে নাজরানে কোন বিপন্ন বা রুগ্ন লোক ইসলাম গ্রহণ করতে বাকী থাকল না । প্রত্যেকের জন্য সে দু'আ করল এবং সবাই একে একে আরোগ্য লাভ করল । এভাবে নাজরানের রাজার কাছে আবদুল্লাহ্র কৃতিত্বের খবর পৌঁছলে তিনি তাকে ডেকে বললেন : “ তুমি আমার প্রজাদের বিপথগামী করেছ এবং আমার ও আমার পূর্বপুরুষদের ধর্ম ত্যাগ করেছ । তোমাকে নাক - কান কেটে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেব । ” সে বলল : তুমি তা পারবে না । রাজা তাকে উঁচু পর্বতের চূড়ার ওপর থেকে নীচে ফেলে দিলেন । কিন্তু এতে আবদুল্লাহ্র কিছুই ক্ষতি হল না । তারপর তাকে নাজরানের পার্শ্ববর্তী সমুদ্রে নিক্ষেপ করলেন । কিন্তু সে সেখান থেকেও অক্ষত অবস্থায় বেরিয়ে আসল । এভাবে যখন আবদুল্লাহ্ বিজয়ী হল , তখন সে রাজাকে বলল : তুমি এক আল্লাহ্র আনুগত্য তথা আমার ধর্ম গ্রহণ না করা পর্যন্ত আমাকে হত্যা করতে পারবে না । যদি তুমি ইসলাম গ্রহণ কর , তা হলে তোমাকে আমার ওপর পরাক্রান্ত করা হবে এবং তুমি আমাকে হত্যা করতে সক্ষম হবে ।
এ কথা শুনে রাজা আল্লাহ্র একত্ব স্বীকার করলেন এবং ইবন সামিরের ধর্ম গ্রহণ করলেন । তারপর তিনি লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে সে তাতে যখম হয় এবং মারা যায় । আর রাজাও ঐ সময় ঐ স্থানেই মারা যায় । তখন গোটা নাজরানবাসী হযরত ঈসা ( আ ) -এর দীন গ্রহণ করল । সেই থেকে নাজরানে ঈসায়ী ধর্মের পত্তন হয় ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 যুনুয়াস কর্তৃক নাজরানবাসীদের ইয়াহুদী ধর্মের দিকে দাওয়াত প্রদান

📄 যুনুয়াস কর্তৃক নাজরানবাসীদের ইয়াহুদী ধর্মের দিকে দাওয়াত প্রদান


ধুনুয়াস কর্তৃক নাজরানবাসীদের ইয়াহুদী ধর্মের দিকে দাওয়াত প্রদান
যুনুয়াস তার সমস্ত সৈন্য - সামন্ত নিয়ে নাজরানে চলে গেল এবং নাজরানবাসীদের ইয়াহুদী ধর্ম গ্রহণের জন্য আহবান জানাল । শুধু আহবান জানিয়েই তিনি ক্ষান্ত থাকল না , বরং এই বলে ভীতি প্রদর্শনও করল যে , এ ধর্ম গ্রহণ না করলে সবাইকে হত্যা করা হবে । নাজরানবাসী নিহত হতেও প্রস্তুত হয়ে গেল , কিন্তু ইয়াহুদী ধর্ম গ্রহণ করল না । ফলে , ধুনুয়ার্স একটি দীর্ঘ পরিখা খনন করল । তারপর কতককে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে এবং কতককে তরবারি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করল । অনেককে হত্যা করার পর নাক - কান কেটে তাদের চেহারা বিকৃত করল , এভাবে সে প্রায় বিশ হাজার মানুষকে হত্যা করল । এই যুনুয়াস ও তার সৈন্যদের সম্পর্কে আল্লাহ্ তা'আলা স্বীয় রাসূল মুহাম্মদ (সা:) -এর ওপর সূরা আল - বুরুজের নিম্নোক্ত আয়াতগুলো নাযিল করেন :
“ কুণ্ডের অধিপতিদের হত্যা করা হয়েছিল । ইন্ধনপূর্ণ যে কুণ্ডে ছিল অগ্নি । যখন তারা এর পাশে বসে ছিল এবং তারা মু'মিনদের সাথে যা করছিল , তা প্রত্যক্ষ করছিল । তারা তাদের নির্যাতন করেছিল শুধু এ কারণে যে , তারা বিশ্বাস করত পরাক্রমশালী ও প্রশংসনীয় আল্লাহতে ( ৮৫ : ৪-৮ ) ।
উদুদের ( কুণ্ডের ) ব্যাখ্যা : ইবন হিশাম বলেন : উপদুদের অর্থ দীর্ঘ পরিখা যা খন্দক বা নালার মত । এর বহুবচন আখাদীদ । যুররুম্মা গায়লান ইবন উকবা । তিনি বনু আদী ইবন আবদ মানাফ ইবন উদ ইবন তারিখ ইবন ইলয়াস ইবন নযর - এর সদস্য । তিনি তার একটি কবিতায় বলেন : “ ইরাকী এলাকা থেকে প্রান্তর ও খেজুর গুচ্ছ পর্যন্ত উৎদুদ দীর্ঘ নালা । "

**টিকাঃ**
১. বর্ণিত আছে যে , তিন ব্যক্তি পরিখা খনন করেছিল এবং তাতে অগ্নি প্রজ্জ্বলিত করে লোকদের নিক্ষেপ করেছিল । " এরা হলো : ইয়ামানের রাজা তুব্বান , কান্তান্তীন ইব্‌ন হাল্লানী , ( তার মাতা ) যখন সে খ্রিস্টানদের হযরত ঈসা ( আ ) আনীত আসল একত্ববাদ ও সত্য দীন থেকে লোকদের বিচ্যুত করে ক্রুশ পূজায় বাধ্য করেছিল এবং বাবেলের রাজা বুখতে নাসার , যখন সে নিজেকে সিজদা করার জন্য লোকদের আদেশে দেয় , কিন্তু নবী দানিয়াল ও তাঁর সংগীরা তা মানতে অস্বীকার করেন । তখন সে তাঁদের আগুনে নিক্ষেপ করে । তবে সে আগুন তাদের জন্য শান্তিদায়ক ঠাণ্ডা হয়ে যায় ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন সামিরের হত্যা

📄 আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন সামিরের হত্যা


আবদুল্লাহ ইবন সামিরের হত্যা
ইবন ইসহাক বলেন : যুনুয়াস যে বিশ হাজার নাজরানবাসীকে হত্যা করেছিল , তার মাঝে তাদের নেতা আবদুল্লাহ ইবন সামিরও ছিলেন ।
আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আবূ বকর ইবন মুহাম্মদ ইবন আমর ইবন হাযম থেকে ইবন ইসহাক বর্ণনা করেছেন যে , হযরত উমর ইব্‌ন খাত্তাব ( রা ) -এর আমলে নাজরান প্রদেশের এক ব্যক্তি সেখানকার একটি প্রাচীন ধ্বংসাবশেষের তলদেশে বিশেষ প্রয়োজনে খননকার্য চালায় । এ সময় লোকেরা মাটির নীচে আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন সামিরকে বসা অবস্থায় দেখতে পায় । তারা দেখে যে , আবদুল্লাহ্ তার মাথার একটি যখমকে হাত দিয়ে চেপে ধরে রেখেছেন । তাঁর হাত সে ক্ষতস্থান থেকে সরিয়ে নিলে অমনি তা থেকে রক্ত বেরিয়ে আসে । আর হাত ছেড়ে দিলে তা আপনা থেকেই ক্ষতস্থানের ওপর চলে যায় এবং চেপে ধরে রক্ত থামায় । তারা আরো দেখল যে , তার হাতে একটি সীল রয়েছে । তাতে লেখা রয়েছে I অর্থাৎ আমার রব আল্লাহ্ । খননকারী একটি চিঠি দ্বারা হযরত উমর ( রা ) -কে ঘটনা অবহিত করলে তিনি মৃত ব্যক্তিকে যেভাবে ছিল সেভাবে রাখতে এবং তার কবর ঠিক করে দিতে আদেশ দিলেন । যথাসময়ে খলীফার আদেশ বাস্তবায়িত হয় ।
যুনুয়াসের কাছ থেকে দাওস যু - সা'লামানের পলায়ন ও রোম ' সম্রাটের কাছে আশ্রয় প্রার্থনা

**টিকাঃ**
১. পবিত্র কুরআনের আয়াত : “ যারা আল্লাহ্র পথে নিহত হয়েছে , তাদের কখনো মৃত মনে করো না ; বরং তারা জীবিত এবং তাদের রবের কাছে থেকে তারা জীবিকাপ্রাপ্ত । ” ( ৩ : ১৬৯ ) । এ ঘটনার সত্যতা প্রমাণ করে । বর্ণিত আছে যে , উহুদের শহীদ এবং অন্যান্য অনেককে এভাবে পাওয়া গেছে । বহুকাল অতিবাহিত হওয়ার পরও তাদের দেহ বিকৃত হয়নি । হযরত মুআবিয়ার শাসনকালে খাল খনন করতে গিয়ে হযরত হামযার লাশ একই রকম তরতাজা অবস্থায় পাওয়া যায় । কোদালের আঘাত লেগে তাঁর আঙ্গুল থেকে রক্ত বের হয় । অনুরূপভাবে আবূ জাবির আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন হারাম এবং আমর ইব্‌ন জামূহের লাশও অবিকৃত পাওয়া যায় । তালহা ইবন উবায়দুল্লাহর মেয়ে আয়েশা স্বপ্নের আদিষ্ট হয়ে পিতার লাশ স্থানান্তরিত করতে গিয়ে দেখেন , ত্রিশ বছর পরও তা তরতাজা ও অবিকৃত রয়েছে । শোনা যায় , ফিলিস্তীন যুদ্ধে শাহাদাত লাভকারী অনেকের লাশ বহু বছর পর অবিকৃত অবস্থায় পাওয়া যায় ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00